...এবং যথারীতি বাঙালি করোনা-জ্ঞানী হয়ে উঠেছে। শুধু জ্ঞানার্জনই নয়, গাঁটের টাকায় কেনা এমবি (পড়ুন ইন্টারনেট) ভাঙিয়ে নিজ দায়িত্বে সেই জ্ঞান বিতরণও শুরু করেছেন তারা। ফেসবুককেন্দ্রিক বাঙালি তো ক’টা ধাপ এগিয়ে রীতিমতো; গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ধর্মীয়-চিন্তাবিদ হিসেবে; করোনাকালের ‘ভরসা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে গেছেন। ইউটিউবভিত্তিক তারকাগণ একজন অন্যজনের থেকেও বড় ‘সাংবাদিক’। জাতির বিবেক। আরও আছে; টিকটক। বৈশ্বিক সঙ্কটকালে গোটা দুনিয়ার বাঙালি জাতিকে নির্ভেজাল বিনোদন দেয়ার ‘ঘনমাধ্যম’!
যদিও এনিয়ে সঠিক কোন তথ্য কিংবা গবেষণা সম্পর্কে জানা নেই; তবে ধারণা করি ‘স্বেচ্ছা জ্ঞান-বিতরণ’ এ অঞ্চলের মানুষের মজ্জাগত। এটাও এক ধরনের স্বেচ্ছা শ্রম, সে অর্থে তারা স্বেচ্ছাসেবকও!
সামনে থাকা পাঠক, শ্রোতা, দর্শক সর্বোপরি গ্রহীতা আগ্রহী কিনা; সে প্রশ্ন খুব একটা গুরুত্ব পায় না এই স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে। এমনকি কেউ বিরক্ত হলেও খুব একটা গা’ করেন না এই স্বেচ্ছা জ্ঞান বিতরণকারী বাঙালি প্রজাতি। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন নিষ্ঠার সঙ্গে।
প্রশ্ন হচ্ছে, যদি কেউই তাদের ওই জ্ঞান গ্রহণ না করেন বা করতেন, তবুও কী তারা এই স্বেচ্ছাশ্রম দেবেন বা দিতেন? নিশ্চয়ই দিনের পর দিন তারা সেটা করতেন না। আম-বাঙালির একটা বড় অংশই; এই জ্ঞান গ্রহণ করেন। অনেকে হয়তো বিশ্বাস করেন না, কিন্তু স্বেচ্ছাসেবীদের জ্ঞানটুকু শুনে বা জেনে রাখেন। কখনো-কোথাও চর্চাও একরের। আর এটাই স্বেচ্ছাসেবী বাঙালির শক্তি! তাতে ওই স্বেচ্ছাসেবীদের সাহস বাড়ে, আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ হয়।
এদেশে যেমন স্বেচ্ছা জ্ঞান বিতরণ মজ্জাগত; তেমনি কোন কিছু যাচাই না করে তথ্য, উপাত্ত বা ঘটনা বিশ্বাস করাও আম-ঘটনা। আর সে কারণেই, স্বেচ্ছা জ্ঞান বিতরণকারীদের সংখ্যাটা দিনদিন বাড়ছে। কেননা, তারা জানেন আম-বাঙালি তাদের কথা শোনেন, আর কখনও-সখনও তাদের বক্তব্য বিশ্বাসও করেন।
এই গোষ্ঠি টের পেয়ে যান; তাদের বিতরণ করা ওই জ্ঞান ঠিক। কতজন গ্রহণ করছে।
সে হিসেব ওই ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক’ই জানিয়ে দেয়; ঠিক কতজনে জ্ঞান বিতরণকৃত হলো! ওই হিসেবটুকু টেক-দুনিয়ায় লাইক, কমেন্ট, শেয়ার ইত্যাদি নামে পরিচিত। ব্যস, দ্বিগুন উৎসাহে পরদিন আবার নতুন কোন জ্ঞান নিয়ে হাজির হন আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এতে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা জ্ঞান বিতরণে নয়। সমস্যা হলো; প্রাপ্ত জ্ঞানটুকুর সোর্স বা উৎস; সর্বোপরি বিতরণকৃত জ্ঞানের সত্যতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া তথ্যগুলো কোত্থেকে আসছে বা তারা কোথায় পাচ্ছেন? বেশিরভাগ সময়ই তথ্যগুলো থাকে অসম্পূর্ণ কিংবা অর্ধ-সত্য। কখনও পুরোটাই বানোয়াট, বা ভিত্তিহীন। কিন্তু বিতরণকারীদের উপস্থাপনের সাবলীলভাব ও ভঙ্গির কারণে সেই তথ্যগুলোও হয়ে ওঠে ‘চমকপ্রদ’। টেক-দুনিয়ার স্বেচ্ছাসেবীরা জানেন, ঠিক। কোন তথ্য কখন ছাড়তে হবে, কোন তথ্যের কখন ‘চাহিদা’ আছে। আর সেটাই আকৃষ্ট করে আমাদের আম-বাঙলিকে। তাতে করে লাইক, ভিউ, শেয়ার বাড়তে থাকে আর দ্বিগুন উৎসাহে নতুন তথ্য দিতে থাকেন আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা।
কিন্তু এতে বিপত্তিও বাড়ে, পৌনপুনিক হারে। কারণ, সোজা। এদেশে স্বেচ্ছা জ্ঞান বিতরণকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অপ্রাসঙ্গিক, অপ্রয়োজনীয় তথ্যের বিস্তার। তাতে করে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ‘জ্ঞান-গুজব’। ওই জ্ঞানের উপস্থাপন শৈলীর কারণে কিছু সময়ের জন্য আপনি নিজেও ধন্দে পরে যাবেন।
আগেই বলেছি, ‘টেক দুনিয়া’র এই স্বেচ্ছাসেবীরা বেশ কুশলী এবং কখনও-সখনও বেশ ধূর্ত। তারা নিজেদের লাইক, ভিউ, শেয়ার বাড়াতে রীতিমতো গবেষণা করে কয়েকটি বিষয় রপ্ত করেছেন।
প্রথমত কী ধরনের তথ্যে মানুষের আগ্রহ এবং সেই তথ্য ঠিক। কোন সময়ে সবচেয়েয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে; কোন শ্রেণীর মানুষের জন্য কী ধরনের তথ্য মানানসই ইত্যাদি। এর বাইরে সাধারণ বাঙালির রাজনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক আবেগটুকুর দারুণভাবে ব্যবহার করতে জানেন এই গোষ্ঠি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বাঙালির রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুভূতি আর আবেগ।
ব্যস, ঠিক। সময়ে, ঠিক। তথ্যটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠির জন্য বাজারে ছাড়লেই হলো; গুণিতক হারে বাড়তে থাকে তাদের লাইক, শেয়ার। আর এখানে ‘প্রাপ্তি যোগ’ ঘটে ওই চতুর ও ধূর্ত স্বেচ্ছাসেবীদের। সাধারণ বাঙালি যাদের স্বেচ্ছাসেবী ভাবেন, আদতে তাদের কর্মে স্বার্থ-যোগ আছে। আপনার মতো যত হ্যবেশি আম-বাঙালি তাদের স্বেচ্ছাশ্রমকে গ্রহন করবেন, বাড়তে থাকে ফ্যান-ফলোয়ারের সংখ্যা! আর তাতে করেই ‘টেক দুনিয়ার অর্থ যোগ’ ঘটতে থাকবে তাদের ব্যাংক হিসাবের খাতায়!
২.
একটু উদাহরণ দিলে বোধকরি বিষয়টি পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং চর্চিত বিষয় নিঃসন্দেহে কভিড-১৯ বা ‘করোনা ভাইরাস’ প্রসঙ্গ। এটি এখন শুধুই একটি দেশের কিংবা অঞ্চলের সমস্যা নয় বরং বৈশ্বিক সঙ্কট। সারা দুনিয়ার লাখ মানুষ এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে এই ভাইরাসে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। ঠিক এমন সময়; করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত তথ্যই মানুষ জানতে চাইবে, স্বাভাবিক। আমাদের স্বেচ্ছাসেবী জ্ঞানবিতরণকারীরা ঠিক। এই সময়টাকেই নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন। এটা তাদের জন্য একটা ‘মওকা’।
করোনা ভাইরাস কী, কীভাবে এবং কোত্থেকে ছড়িয়েছে একথা বহুল আলোচিত, পঠিত। এ কথা আমাদের সেই জ্ঞান বিতরণকারী সমাজ জানেন। আর সে কারণেই, তারা বেছে নিয়েছেন ‘চটকদার’ অংশটি; ‘গুজব’।
সেই গুজব এমনভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে যে, মাঝে মাঝে আপনিও বিশ্বাস করতে চাইবেন। এই যেমন; দেশে যখন করোনাভাইরাসের পরীক্ষা কিটের অভাব ছিল এবং সে কারণে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম আসছিল। তখন এই স্বেচ্ছাসেবীরা সুযোগটা নিয়ে বলে দেন; ‘দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।’ আর তাদের গুজবকে ‘অবধারিত সত্য’ প্রমাণ করার জন্য তারা বেছে নেন কিছু পুরনো অথবা অন্য দেশের ফুটেজ। বলে দেন, সরকার কিংবা প্রশাসন হাজার মানুষকে পুড়িয়ে ফেলছে বা একসঙ্গে মাটিচাপা দিয়ে দিচ্ছে!
আম-জনতা সেটা বিশ্বাস করে নেয়। কারণ; দুনিয়াজুড়ে যখন লাখো মানুষ আক্রান্ত আর হাজার মানুষ প্রাণ দিচ্ছে; তখন বাংলাদেশে কী পাঁচশ জনও মারা যায়নি? দেশের সাধারণ মানুষের এই ‘অতি সাধারণ’ জিজ্ঞাসার সুযোগ নিয়ে বহু লাইক-শেয়ার কামিয়ে নেন সুযোগ সন্ধানীরা। আর যখন মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়; তখন অনেকে সেই ফুটেজ সরিয়েও ফেলেন নিজেদের টাইমলাইন থেকে। কিন্তু ততদিনে স্বেচ্ছা তথ্য সরবরাহকারী হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত এবং জনপ্রিয় হয়ে গেছেন সেই তথ্য দাতা।
এমন কিছু গুজব আছে যেগুলোর পেছনে তথ্যদাতার ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে। আবার কিছু গুজব একেবারেই রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এই যেমন শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল; ‘সরকার শুধু বেছে বেছে নিজ দলের আক্রান্ত মানুষদেরই চিকিৎসা করছে, ভিন্ন মতের রোগীদের জন্য জুটছে না হাসপাতালে বেড কিংবা চিকিৎসা!’ কিংবা ‘বাংলাদেশের তেরোজন মন্ত্রীর করোনা হয়েছে তাই তারা মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে তারা অংশ নেননি’ ইত্যাদি। সমস্যা হলো; তথ্যগুলো তারা খুবই যতেœর সঙ্গে, গবেষণা করার পরই পাবলিকের সামনে তুলে ধরেন।
এতো তো গেলো; চটুল উদাহরণ। এবার একটু উচ্চমার্গীয় ভাবনার কথাও শুনুন।
টেক-দুনিয়ায় ঘুরতে থাকা বেশ কিছু ফুটেজ আর পুরোনো ছবি জোড়া লাগিয়ে একটি গোষ্ঠি এটি প্রমাণ করে দিতে চাইলেন; ‘চীনই গোটা দুনিয়ায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে।’ এক্ষেত্রে তাদের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল, করোনাভাইরাসের আঁতুরঘর চীনের উহানের মৃতের সংখ্যা। তারা বলছিলেন, যদি চীন নাই ছড়াবে তবে তাদের দেশে মৃতের সংখ্যা কম হয় কী করে, যেখানে অন্যান্য দেশে চীনের কয়েকগুণ মরছে? এই একটি প্রশ্ন তুলেই গোটা বাঙালি জাতিকে বিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে ভিডিও খাইয়ে দিয়েছেন তারা। অথচ এখন সেই চীনই তাদের মৃতের সংখ্যা ‘রিভাইজ’ করছে। নতুন করে মৃতের খোঁজ মিলছে চীনে, সংখ্যাও বাড়ছে ধেই ধেই করে। এখন কী ওই যুক্তি টিকলো?
কেউ কেউ আবার যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যের দ্বন্দ্বের কারণেই যে করোনার উৎপত্তি সেটারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজেদের মতো করে। আবার একটি অংশের যুক্তি তো আরও কড়া- ‘করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক বিক্রি করে বিলিয়ন ডলার আয়ের পরিকল্পনাই করোনা বা কভিড-১৯ নামের ভাইরাসের জন্ম হয়েছে। তাদের একেকটি যুক্তি অন্যটার থেকে কড়া, অকাট্য।
তথ্য তো বটেই এই গোষ্ঠির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো; কনফিডেন্স। ভুল কিংবা অর্ধ-সত্য তথ্যও তারা কীভাবে এতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লেখেন বা বলেন, সেটা বিস্ময় জাগায়!
তবে টেক-জগতের এই ‘গুজব’ যে শুধুই কিছু ইঁচড়ে-পাকা তরুণ ছড়ান তা কিন্তু নয়। বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কিছু ধর্মীয় নেতাও। বিভিন্ন ধর্মের যে গুরু পর্যায়ের এই মানুষগুলোর প্রতি ধর্মপ্রাণ আম-জনতার বিশ্বাস আছে। সেই সুযোগটিই নিচ্ছে ধর্মগুরুরা। নিজস্ব ধর্মতত্ত্ব ব্যবহার করে এমনভাবে তথ্যগুলো জুড়ে দিচ্ছেন যে; ধর্মপ্রাণ বাঙালিরা সহজে সেটা গ্রহণ করে নিচ্ছেন। এই গুজবে যুক্ত হয়েছেন কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীও। তাদের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য আছে।
এবার প্রশ্ন উঠতে পারে; কী সেই উদ্দেশ্য। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে এদের অনেকেই না বুঝে ভুল তথ্য দেন অথবা তারা নিজেরাও গুজবে বিশ্বাস করে সেই ‘গুজব’ আরও মানুষের কাছে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করেন। দেখা গেছে কেউ কেউ বিদেশী ভাষা থেকে ভুল অনুবাদের কারণে ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগই জেনে ও বুঝেই ভুল তথ্য প্রচার করেন। কেন?
এর ওই একটিই কারণ। একদল চটকদার তথ্যে নিজের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থ আয়ের ধান্দায় থাকেন তো অন্য দল, সমাজে নিজেকে শক্তিশালী ধর্মগুরু হিসেবে পরিচিত করতে ব্যস্ত। তবে সবেচয়ে ক্ষতিকর হলো, শেষ দলটি। যাদের উদ্দেশ্য ‘রাজনৈতিক’। এই দলটি জেনে-বুঝে ভুল ও বিকৃত তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সমাজ কলুষিত করে। কখনও সেই ভুল তথ্য বা গুজবের ‘বড় মূল্য’ও দিতে হয়।
এই ভুল তথ্য কিংবা গুজব গোটা দুনিয়ায় এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে করোনাকালেও খোদ জাতিসংঘ মহাসচিবকে ‘ফেক নিউজ’ নিয়ে বিবৃতি দিতে হয়। তাকে বলতে হয়; করোনার পাশাপাশি গোটা বিশ্বকে এখন লড়তে হচ্ছে গুজবের বিরুদ্ধেও!
দেশকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে জীবনযাপন সহজ করার যে উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার, সেই মাধ্যম ব্যবহার করেই একটি গোষ্ঠি উল্টো সরকারকেই ‘কঠিন সময়’-এর মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তাতে মোটা দাগে ক্ষতির মুখে পড়ছে, মানুষ। বিভ্রান্ত হয়ে কখনও ভুল জ্ঞান আমল করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন দেশের আম-জনতা।
আর সে কারণেই; গুজব ঠেকানো এখন খুব জরুরি। নইলে, কোনো একদিন গুজবও মহামারী হয়ে আমাদের জীবনযাত্রা কঠিনতর করে তুলবে।
অথচ দেখুন, এই জ্ঞান বিতরণকারীরাই কিন্তু দেশের শক্তি হতে পারতো। তাদের অফুরন্ত সময়, এবং স্বেচ্ছা জ্ঞান বিতরণের আগ্রহকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে; করোনায় করণীয় সম্পর্কে আরও আরও মানুষকে সচেতন করা যেতো। তাতে করে সরকারের কাজটাও সহজ হয়ে যেতো অনেকটা।
সে কারণেই স্বেচ্ছা জ্ঞান বিতরণকারীদের কাছে অনুরোধ; আপনাদের সময় আর ইচ্ছে শক্তিটুকু এবার দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করুন। সত্যিকারের জ্ঞান বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিন। দেশের মানুষকে সঠিক তথ্যটুকু জানিয়ে, মানবতার সেবায় যোগ দিন। আম-বাঙালির আপনাদের ওপর অগাধ বিশ্বাস। ‘সত্য সংবাদ’ জানালেও তারা আপনাদের ওপর আস্থা রাখবেন। তাতে করে লাইক-কমেন্টের গতি সামান্য কমলেও মোটাদাগে, সকলের কল্যাণ হবে!
আপনাদের এই সম্মিলিত শক্তিই দেশের মানুষকে সত্যিকারের সচেতন করে তুলতে পারে।
লেখক:গণমাধ্যমকর্মী