অনানুষ্ঠানিক খাতের আগেও অনানুষ্ঠানিক খাত ছিল বলা যায়। উদাহরণ হিসেবে প্রসান্ত রায়ের ‘হারিয়ে যাওয়া জীবিকা’ বইটিতে লিপিবদ্ধ জীবিকার উদাহরণ দেয়া যায়। তিনি পশ্চিম বাংলার কিন্নর রায়ের ‘লুপ্ত জীবিকা’ বইয়ের আলোকে বাংলাদেশের ৩০টি হারিয়ে যাওয়া জীবিকা নিয়ে তার বইটি লেখেন। সেদিনের ‘টাইপ রাইটার’ যে আর নেই তা কিছুটা বয়সী মানুষকে অবাকই করবে। ‘পুরনো কাপড়ের বদলে বাসনকোসন’-এর কথাও—যেসব কাজকে আজকে আমরা অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজ হিসেবে জানি তা প্রথমে এ নামে চিহ্নিত হয় আইএলও-ইউএনডিপির কেনিয়া রিপোর্টে যার কথা এরই মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায় ‘অনানুষ্ঠানিক আয়ের সুযোগ’ (ইনফরমাল ইনকাম অপরচুনিটিজ) নামটি প্রথম ব্যবহার করেন কেইথ হার্ট তার ঘানার/আক্রার একটি গবেষণায়। আইএলও চিহ্নিত অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের কাজের উদাহরণ হিসেবে রয়েছে দোকানভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসা; রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে হরেক রকমের জিনিস বিক্রি; দর্জি ও সেলাইয়ের কাজ; জুতা সেলাই ও কালি করা; বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কশপ; গাড়ি ও টেম্পো/লেগুনার মতো যানবাহনের এবং ম্যানুয়ালি চালিত বা নন-মোটরাইজড যানের (যেমন ঠেলাগাড়ি) চালক; কাঠমিস্ত্রি ও নির্মাণ শিল্পে বিভিন্ন দক্ষতা স্তরের শ্রমিক (জোগালি থেকে রাজমিস্ত্রি); স্যানিটারি মিস্ত্রি, প্লামবার ও ইলেকট্রিশিয়ান।
বিপ্লব দাশগুপ্ত তার ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রকাশনায় কলকাতার অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজের শ্রেণীবিন্যাসে যে প্রধান তিন ধরনের কাজের উদাহরণ দেন তা হলো এক. ‘অদক্ষ’ ম্যানুয়াল শ্রমিক যার মধ্যে রয়েছে বাবুর্চি ও গৃহকর্মী, দারোয়ান ও পিয়ন, ঝাড়ুদার ও মেথর, রিকশাচালক ও ঠেলাগাড়ি, কুলি, ধোপা-নাপিত ও মুচি, মালি ও বর্জ্য কাগজ সংগ্রাহক, বিড়ি প্রস্তুতকারী; দুই. দক্ষ ম্যানুয়াল কর্মী যার মধ্যে রয়েছে বিল্ডার, প্লাম্বার, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি; টার্নারস, গ্রাইন্ডারস, মুল্ডারস, স্মেল্টারস, স্মিথস; গাড়িচালক, কুমার, জুয়েলার্স, ঘড়ি মেরামত, বইবাঁধাই, রেডিও মেকানিক ও ইলেকট্রিশিয়ান, দর্জি, ও কারখানা শ্রমিক; তিন. হস্তশিল্পী যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পানীয়, তামাক; টেক্সটাইল তৈরির পেশা; পোশাক তৈরি এবং বস্ত্রবয়ন; চামড়াজাত পণ্য; কাঠ-বেত-বাঁশসংক্রান্ত পেশা; মুদ্রণ ও বাইন্ডিং সংক্রান্ত পেশা; মেটাল বা লৌহসংক্রান্ত পেশা; জাহাজ ও নৌকা তৈরি ইত্যাদি।
আব্দুল্লাহ ফারুক ও মোহাম্মাদ আলির ১৯৭৪ সালে পরিচালিত বাংলাদেশের কঠোর পরিশ্রমী দরিদ্রদের (‘হার্ড ওয়ার্কিং পুওর’, ১৯৭৭) একটি জরিপে যেসব কাজ প্রাধান্য পায় তার মধ্যে শহর-নগরভিত্তিক কাজগুলোর উদাহরণে আসে ব্যবসা-বাণিজ্যে, পরিবহন, কারু শিল্প, গৃহকাজে মজুরি উপার্জনকারী; নগর শ্রমিক (অনিয়মিত বা অস্থায়ী)।
এ লেখকের ১৯৭৮-৭৯ সালের ঢাকার জরিপে সাতটি এলাকা থেকে অবস্থান-নির্দিষ্ট (লোকেশন-স্পেসিফিক) যে ৪ হাজার ৪০০ অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজের তালিকা করা হয় তার মধ্যে পাওয়া যায় ২১৩ ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন রাস্তায় দাঁড়িয়ে, বসে নানা ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি (সদরঘাট, গুলিস্তান, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোডে), সদরঘাট হকার্স মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের মেরামত ও সেলাইয়ের কাজ, বিভিন্ন ধরনের মেটাল ওয়ার্কশপ (নানা ধরনের হ্যান্ডকার্ট ও ঠেলাগাড়ি ইত্যাদি)। আরো নেয়া হয়েছিল রিকশা, টেম্পো ও ঠেলাগাড়ির মতো পরিবহন যান এবং নির্মাণ সাইট থেকে মাটি কাটা, ইটভাঙা ও জোগালির কাজ থেকে বিভিন্ন খাতের এসব কাজের পূর্বসূরির উদাহরণ হতে পারে কামার-কুমার-মুচি-মাঝি-জেলে-মেথর-কুলি-মজুর-কৃষক-শ্রমিক যাদের কথা উঠে আসত মওলানা ভাসানীর মজলুমদের মুক্তির ডাকে। কামাল সিদ্দিকি, রওশান কাদির, সিতারা আলমগীর ও সায়েদুল হক তাদের ১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘সোশাল ফরমেশন ইন ঢাকা সিটি’ গ্রন্থে ঢাকার অনানুষ্ঠানিক খাতের যে পাঁচটি দরিদ্র গোষ্ঠী নিয়ে কাজ করেন সেগুলো হলো ভাসমান (স্কোয়াটার), মহিলাপ্রধান ভাসমান পরিবার, টোকাই, গৃহকর্মী ও রিকশাচালক। এসব পরিবারের প্রধানদের ‘স্বনিযুক্ত’ পেশার মধ্যে রয়েছে রিকশা চালনা, ক্ষুদ্র বিক্রেতা, ঠেলাগাড়ি টানা, পুরনো কাগজ সংগ্রহ, কবিরাজ। এছাড়া মজুরিতে কর্মসংস্থানের মধ্যে পেয়েছে দিনমজুর, বেসরকারি ও আধা সরকারি অফিসের কর্মচারী, গাড়িচালক, শিল্প শ্রমিক ও হোটেল বয়। এছাড়া বেকারের মধ্যে রয়েছে ভিক্ষুক ও বৃদ্ধ। অনানুষ্ঠানিক খাতে মহিলাদের কাজ নিয়ে খালেদা সালাহউদ্দিন ও ইশরাত শামিমের ১৯৯২ সালের বই থেকে দেখা যায়, মহিলাদের মজুরিতে কাজের মধ্যে অন্যতম গৃহকর্ম, মসলা পিষণ, ঝাড়ু দেয়া, ইটভাঙা, পানি আনা, ক্যান্টিনে কাজ, কারখানার নিম্ন স্তরের কাজ, সেলাই করা। কামাল সিদ্দিকি তার সঙ্গে ছয়জন সহলেখক নিয়ে আরো বড় ধরনের কাজের ভিত্তিতে ২০১০ সালে ‘ঢাকার সোশাল ফরমেশন, ১৯৮৫-২০০৫’ বইয়ে ‘অনানুষ্ঠানিক খাতের দরিদ্র’ অধ্যায়ে যে পাঁচটি কাজের চিত্র তুলে ধরেন তা হলো রিকশাচালক, টোকাই, হকার, গৃহকর্মী ও মহিলাদের মধ্যে রয়েছে দর্জি, গৃহকর্মী, ভিক্ষা, কবিরাজি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ইটভাঙা ও আনুষ্ঠানিক খাতের কায়িক শ্রমের কাজ। ‘অনানুষ্ঠানিক খাতের দরিদ্র’ পেশা বা কাজের বিপরীতে তুলনার জন্য ‘আনুষ্ঠানিক খাতের দরিদ্রদের’ পেশা হিসেবে নেয়া হয় মহিলা তৈরি পোশাক শ্রমিক, হাসপাতাল শ্রমিক, বিক্রয়কর্মী, নিরাপত্তারক্ষীদের।
আইএলওর জন্য করা বর্তমান লেখকের (অন্যদের সঙ্গে) ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে করা তিনটি জরিপভিত্তিক গবেষণা থেকে দেখা যায় সাম্প্রতিক কালে হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রিকশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছে পরিবহন, নির্মাণ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও মোটর বা গাড়ি ওয়ার্কশপে কর্মরত শ্রমজীবীর সংখ্যা যাদের প্রায় সবাই অনানুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত। বিড়ি উৎপাদন ও জাহাজ ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগের অনানুষ্ঠানিকতার সঙ্গে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এমনকি তৈরি পোশাক শিল্পেও ৬৮ শতাংশ শ্রমিকের নিয়োগের ধরন, শর্তাবলি এবং কাজের পরিবেশও অনানুষ্ঠানিক খাতের ধরনের বলে অন্য একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। নির্মাণ খাতের কাজটি থেকে দুটি তথ্য এ খাতের শ্রমিকের অরক্ষিত অবস্থা জানতে সহায়ক হবে। মহিলা জোগালিদের মজুরি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর ছিল: ‘হাজিরা’ ১২৫ থেকে ১৫০ টাকা। তারা মজুরি শব্দটার সঙ্গে হয় পরিচিত নয় বা জানলেও যা প্রচলিত তা-ই বলে থাকেন। হাজিরাই মজুরি যা সুস্পষ্ট করে তা হলো হাজির হলে (অর্থাৎ হাজির হওয়ার দিনে দেয় টাকা)। মনে হয়েছিল মজুরি শব্দটির সঙ্গেই তাদের পরিচিতি নেই! এ অবস্থাটা যদিও মহিলা জোগালিদের কিন্তু প্রায় সব ধরনের নির্মাণ শ্রমিকের জন্য প্রযোজ্য হলো তাদের অরক্ষিত অবস্থার মূলে রয়েছে কে এদের নিয়োগকারী! সাব-কন্ট্রাকটিংয়ের চেইনে আটকে পরা এ শ্রমিকদের একেবার সন্নিকটে (অনেকের ক্ষেত্রে যে তাদের নিয়ে আসে) রয়েছে সরদার, এরপর আছে ফোরম্যান—যেহেতু কাজ পর্যবেক্ষণ করে (ওভারসিয়ার), এই চেইনে পরবর্তী বড় ভূমিকা হলো সাব-কন্ট্রাকটর বা উপঠিকাদারের, এই চেইনে এর পরবর্তীরা হলেন ঠিকাদার। ঠিকাদারদের যারা কাজ দেন তারা হলেন কন্ট্রাকটিং পার্টি যারা হতে পারে সরকারি কাজের ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন বিভাগ যথা গণপূর্ত, গৃহায়ন ও রাস্তা এবং মহাসড়ক। বেসরকারি খাতে ঠিকাদার নিয়োগে রয়েছে বিল্ডারস ও ডেভেলপারস বা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো। এর থেকে ধারণা করা যায় একজন নির্মাণ শ্রমিকের নিয়োগকর্তা কতটা প্রত্যক্ষ ও অস্পষ্ট, যার ফলে একজন শ্রমিক তার মজুরিসংক্রান্ত বিষয়ে ও দুর্ঘটনায় পড়লে কার কাছে যাবেন।
এরই মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক বিবর্তন ও উন্নয়নের সঙ্গে যেসব কাজ বর্তমানে প্রধান হয়ে উঠেছে তার মধ্যে রাস্তায় বসে/দাঁড়িয়ে বেচাকেনা, ফেরিওয়ালা, রিকশাওয়ালা, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের (বাস, ট্রাক, গাড়ি, সিএনজি, ‘লেগুনা’ এবং এ ধরনের যানের নতুন নতুন সংস্করণ) চালক ও কন্টাক্টর/হেলপার; নির্মাণ শ্রমিক (মাটি কাটা এবং উত্তোলন, ইটভাঙা—ইটভাঙার কাজ যা অনেকটাই এখন মেশিন দিয়ে বা যান্ত্রিকভাবে হয়, জোগালির কাজ যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মহিলারা করে। রাজমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রি হেলপার, গৃহকর্মী, টোকাই, আবর্জনা/বর্জ্য সংগ্রাহক। এ বিভিন্ন ধরনের জীবিকাকে কী নামে চিহ্নিত করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনার অন্ত নেই। এর ফলে ‘অনানুষ্ঠানিক খাতে’ নামকরণের বিকল্প যেসব নাম ব্যবহার বা প্রস্তাব করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ক্ষুদে ব্যবসা-সেবা, অনানুষ্ঠানিক কাজ করে আয়, গণনায় না আসা অন্তর্বর্তী বা মধ্যবর্তী, অসংগঠিত, পরিবার-শ্রমভিত্তিক, অনিয়মিত, ক্ষুদ্র পণ্য উৎপাদন, নগর অর্থনীতির নিম্ন সার্কিট, সাময়িক ঠিকা শ্রমিক, অপরিকল্পিত কার্যক্রম, অ-পশ্চিমা (উন্নত দেশে নেই এ রকম)। এসব বিকল্প নামকরণ থেকে এ খাতের বৈচিত্র্য ও উপাদান সম্পর্কে জানাটা গভীর হবে বিবেচনায় তা এখানে উল্লেখ করা হলো।
উন্নত দেশে যেসব কাজ বা চাকরি সাম্প্রতিক কালে ‘প্রিক্যারিয়েট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ও যার মূল বৈশিষ্ট্য ‘অনিরাপত্তা ও অস্থায়িতা’—সে ধরনের কাজ বা চাকরি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এসব কাজের আকর্ষণীয় ও অত্যাধুনিক নাম অনিরাপত্তা ও অস্থায়িতার বাস্তবতাকে আড়াল করে। উদাহরণ হিসেবে আধুনিক ট্র্যাভেল ব্লগারস, ফুড ব্লগারস, উবার, পাঠাও (ডেলিভারি সার্ভিস কর্মী), ফ্রিল্যান্সারস, অনলাইন ব্যবসার বিক্রেতা ইত্যাদি। এ ধরনের কাজকে ‘আধুনিক’ অনানুষ্ঠানিক খাতের উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। এসব উদাহরণ থেকে ও গত ৫০ বছরের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে আইএলও পরিচালিত গবেষণাগুলো থেকে ধারণা করা যায় যে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থানের বিশালতা, নতুন চাকরির স্বল্পতা ও চাকরির অনিরাপত্তা ও অস্থায়ীতা এখন জীবন-জীবিকার বড় বাস্তবতা। কিছু কিছু পুরনো জীবিকা ও পেশা ধীরে ধীরে কমে না গিয়ে শুধু একবারে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বা যাবে। কিছু কিছু আবার যুগ যুগ ধরে টিকে আছে যেমন জুতা সেলাই বা কালির কাজ। নতুন রূপে আসা এমন জীবিকা যার মূল বৈশিষ্ট্য অনিরাপত্তা ও অস্থায়ীত্বের। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আজকের ‘পাঠাও’ যেন চলে সুকান্তের ‘রানারের’ থেকেও অধিক অনিরাপত্তা নিয়ে মোটরসাইকেলের বদৌলতে। এর সঙ্গে আছে অস্থায়িতা কতদিন কী আয় নিয়ে থাকবে এ সরবরাহের কাজ। টাইপিস্টের পরিবর্তে এসেছে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের কাজ কিন্তু অনিরাপত্তা ও অস্থায়িতা পিছু ছাড়েনি এসব আধুনিক অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজেও, বরং মাত্রা বেড়েছে এ অর্থে যে পুরনো কাজগুলোয় অনিরাপত্তা ও অস্থায়িতা এতটা প্রকট ছিল না আজকের কাজ, পেশা বা চাকরির মতো। অর্থনীতিতে সরকারের ভূমিকা ও দায়িত্বকে পাশ কাটিয়ে মুনাফা বৃদ্ধির অবারিত দ্বার খুলে দেয়া হয়েছে ফ্লেক্সিবল এন্টারপ্রাইজ ও ফ্লেক্সিবল শ্রমবাজারের নামে। এর সঙ্গে নতুন বাস্তবতা শ্রমজীবী বা কর্মজীবী মানুষের নিজস্ব সংগঠনের অনুপস্থিতি। দাতা দেশের বা উন্নয়নের অংশীদারদের চাপে ট্রেড ইউনিয়নের অনুমতি দিলেও তা সীমিত আকারের। তার থেকেও খারাপ দিক ট্রেড ইউনিয়ন যখন মালিকপক্ষই করে বা পরিচালিত করে। অথচ শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণী সৃষ্টি হওয়ার সময় থেকে সাধারণ জ্ঞান এই যে ‘ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া শ্রমিক শ্রেণীর কিছুই পাওয়ার নেই (‘ওয়ার্কাস হ্যাভ নাথিং উইদাউট এ ট্রেড ইউনিয়ন’।)
ড. এটিএম নুরুল আমিন: ইমেরিটাস প্রফেসর, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি)