সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এশিয়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা বাড়ায় ফসলের পরিমাণের পাশাপাশি গুণমানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ধানসহ নানা শস্যের মান কমছে এবং লাখ লাখ কৃষিশ্রমিকের কার্যক্ষমতা কমে শত শত কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ দুর্বলতার সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় বাড়তি সেচ, খামারে বায়ু চলাচল ও পচনশীল খাদ্য রক্ষায় ব্যাপক কোল্ড স্টোরেজের প্রয়োজন হচ্ছে। ঘরবাড়ি ঠাণ্ডা রাখতে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বহুগুণ বাড়ায় বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোর ওপর তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে।
ভারতের মতো দেশে গ্রীষ্মের রাতে মোট বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশই কুলিং ব্যবস্থার পেছনে খরচ হয়। এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে বায়োফুয়েল নীতি। জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পেট্রলে ইথানল ও উদ্ভিজ্জ তেলের মিশ্রণ বাড়ানো হচ্ছে। এ চাপ থেকে বের হতে এশিয়ার কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি রয়েছে। চীনের সোলার ও ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ বিদ্যুৎ গ্রিড শক্তিশালী করা এবং সৌরভিত্তিক সেচ ও কোল্ড-চেইন গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি খাদ্যশস্যের বদলে কৃষি বর্জ্য ও ব্যবহৃত তেলকে বায়োগ্যাসে রূপান্তর করা উচিত। নীতিগতভাবে বায়োফুয়েল ম্যান্ডেটে স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়ক রাখা প্রয়োজন। নতুন প্রযুক্তির চেয়ে প্রয়োজন কেবল পরবর্তী তাপপ্রবাহ আসার আগেই জলবায়ুবান্ধব ও নমনীয় অবকাঠামো এবং নীতিমালা প্রণয়ন করা।
[নিক্কেই এশিয়া থেকে সংক্ষেপিত]
ইরভান মাওলানা: জাকার্তাভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ইনোভেশন স্টাডিজের (সিইএসইএস) গবেষক