বাংলাদেশ যখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি জটিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উপস্থিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন চাহিদা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের প্রয়োজনীয়তার কারণে একটি বড় বাজেট এখন প্রায় অনিবার্য। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ঋণ গ্রহণ ও বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়কালের জন্য মুদ্রানীতি প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করে। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছিল—কীভাবে মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে?
আলোচনায় একটি নীতিগত দ্বিধার বিষয় উঠে আসে। একদিকে মুদ্রাস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কঠোর মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মুদ্রানীতি কঠোর রাখলে অর্থনৈতিক মন্দা আরো গভীর হতে পারে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার বিলম্ব হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরো জানতে চেয়েছে যে মুদ্রানীতির বাইরে কোন পরিপূরক নীতি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে টেকসইভাবে মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সভায় উপস্থিত অনেক অর্থনীতিবিদ বর্তমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু মুদ্রানীতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং পণ্যমূল্যের অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় মূল্যস্ফীতি উচ্চ অবস্থায় থাকতে পারে, এমনকি আরো বাড়তেও পারে। এ পরিস্থিতিতে এমপিএসের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা জোর দেন যে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। কৃষিতে অধিক সহায়তা, উন্নত লজিস্টিকস ব্যবস্থা, কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংক খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লেনদেন ব্যয় হ্রাস এবং সেবার মানোন্নয়ন উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে। বর্তমানে একজন ঋণগ্রহীতাকে সব ফরমালিটিস শেষ করার পরও ঋণ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, অনেক দলিলাদি দিতে হয় যা কোথাও লেখা নেই, এর পরও রয়েছে নানা ধরনের আন-অফিশিয়াল ব্যবস্থাপনা।
আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল খেলাপি ঋণের (এনপিএল) ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখনো বিপুল পরিমাণ অকার্যকর সম্পদের বোঝা বহন করছে, যা বেসরকারি খাতকে ঋণসহায়তা প্রদানের সক্ষমতাকে সীমিত করছে। এটা অবশ্যি সত্যি যে এখন অন্তত সঠিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ জানা যাচ্ছে, আগে এ সুযোগও ছিল না। এ প্রেক্ষাপটে ব্যাংক পুনর্মূলধনীকরণ এবং একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠা একসঙ্গে আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একটি এএমসি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ক্রয় বা পরিচালনা করবে, যার ফলে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে নতুন ঋণ বিতরণে মনোযোগ দিতে পারবে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায় যে স্বচ্ছ, লক্ষ্যভিত্তিক ও বাজারভিত্তিক পদ্ধতিতে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ একটি ব্যতিক্রমধর্মী নীতিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সরকার একটি বড় বাজেটের মাধ্যমে সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি অনুসরণ করছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে। এ সমন্বয় যেমন সুযোগ সৃষ্টি করে, তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করে।
একটি বড় বাজেট সাধারণত উচ্চতর সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভর্তুকি এবং জনসেবা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব ব্যয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য হলো নীতিগত সুদের হার বৃদ্ধি, অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, ঋণপ্রবাহ সীমিতকরণ এবং প্রয়োজনে নগদ সংরক্ষণ হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামষ্টিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা।
যখন এ দুই নীতি একই সময়ে কার্যকর হয়, তখন তারা অনেক ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলে। রাজস্বনীতি চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে, অথচ মুদ্রানীতি তারল্য সংকুচিত করে, ঋণের ব্যয় বাড়িয়ে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য চাহিদা কমানোর চেষ্টা করে।
সাম্প্রতিক আলোচনায় জ্বালানিজনিত মূল্যস্ফীতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। যেখানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে জ্বালানি মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৪ শতাংশের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে। যদিও বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় নিলাম পদ্ধতিতে করা হচ্ছে, তবু এর প্রভাব অভ্যন্তরীণ তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর পড়ছে।
সরকারি ঋণ পরিশোধ ব্যয়ও একটি বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ অর্থবছরে যেখানে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় ছিল প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা, তা ২০২৫ অর্থবছরে বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর বেশির ভাগই স্থানীয় ঋণ। বর্তমানে জাতীয় বাজেটের প্রায় ২১ শতাংশই ঋণ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণনির্ভরতার আর্থিক চাপকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যা সামনে আরো বাড়বে বলে ধারণা করা যায়।
যদি সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণে অতিমাত্রায় ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভর করে, তাহলে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থায় থাকতে পারে, যা বেসরকারি বিনিয়োগকে সংকুচিত (ক্রাউডিং আউট) করবে। বাংলাদেশের মতো দেশে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টেকসই ৭-৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যায়ে বেসরকারি বিনিয়োগ এখনো পৌঁছায়নি। উচ্চ সুদের হার, দীর্ঘ ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়েছে এবং বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে।
উচ্চ সুদের হার শিল্প সম্প্রসারণ, এসএমই অর্থায়ন, আবাসন খাত এবং ভোক্তা ব্যয়কে সীমিত করতে পারে। ফলে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পরও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ সুদের হার সরকারের নিজস্ব ঋণ পরিশোধ ব্যয়ও বাড়িয়ে দেয়। ফলে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয়ের জন্য আর্থিক সুযোগ সংকুচিত হয়।
কঠোর মুদ্রানীতির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, অপ্রয়োজনীয় আমদানি চাহিদা কমাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) চাপে থাকা বাংলাদেশের জন্য এসব সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যধিক কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা অর্থনীতির জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে। এর একটি ইঙ্গিত হলো মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির হ্রাস।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। যদিও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিছু উন্নতি দেখা গেছে, প্রবৃদ্ধি এখনো নেতিবাচক, যা বেসরকারি বিনিয়োগের দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
মূল্যস্ফীতি এখনো পরিবার ও ব্যবসার জন্য অন্যতম বড় উদ্বেগ। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে নিম্নমুখী না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে হতে পারে।
অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ একমত যে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য রাজস্ব ও কাঠামোগত নীতির সমন্বয়ও জরুরি। সরকার এরই মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আমদানির একটি তালিকা নির্ধারণ করেছে। এখন এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে সংশোধন আনা যেতে পারে।
একইভাবে সম্প্রতি ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) স্কিমটি যদি স্বচ্ছ ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং অপব্যবহার রোধ করা যায়, তাহলে এটি উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনতে পারে। রাজস্বনীতির ক্ষেত্রে অনুৎপাদনশীল ব্যয় কমানো, রফতানিমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া, কর আদায় বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি কমানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং মূল্যস্ফীতি কমে এলে ধীরে ধীরে সুদের হার কমের বিষয়টি বিবেচনা করা। কৃষি, এসএমই, রফতানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী শিল্প খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কেবল ভোগব্যয় বাড়ানো নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় একটি বড় বাজেট ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি পরস্পরবিরোধী নয়। তবে যদি সরকারি ঋণ গ্রহণ অত্যধিক বাড়ে এবং মুদ্রানীতি একই সঙ্গে কঠোর থাকে, তাহলে বেসরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে কয়েকটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ নিয়েছে। এনআইটিএ হিসাব চালুর ফলে প্রবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত রাখার সুযোগ পাবেন। ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অন্যান্য উদ্ভাবনী চ্যানেলের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রডাক্ট (ওভিওপি)’ উদ্যোগ এবং অনুরূপ স্থানীয় উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রফতানি বহুমুখীকরণে সহায়ক হতে পারে যদি লক্ষ্য সঠিক রেখে পদক্ষেপ নেয়া যায়, অতীতে অনেক পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি পদ্ধতিগত জটিলতার জন্য পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি কভিডের সময় যেসব পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সেভাবে কাজ করেনি।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা বজায় রেখে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার নিজস্ব নীতিগত লক্ষ্য বিসর্জন দিয়ে সরকারের ঋণ চাহিদা পূরণে বাধ্য করা হয়, তাহলে তার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে, যেমন অতীতে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
কয়েকজন অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন যে যদি অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ উন্নত না হয় এবং সরকারি বিনিয়োগ উৎপাদনশীল খাতে পরিচালিত না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই দেশের নীতিকাঠামোতে রাজস্ব শৃঙ্খলা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে—উৎপাদনশীলতা, রফতানি ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক একটি লক্ষ্যভিত্তিক রাজস্ব সম্প্রসারণ এবং একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ধাপে ধাপে পরিচালিত মুদ্রানীতি। এ নীতির সমন্বয় মূল্যস্থিতি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি—উভয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে এবং এলডিসি-উত্তর সময়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার জন্য অর্থনীতিকে আরো প্রস্তুত করবে।
ফেরদাউস আরা বেগম: সিইও বিল্ড-একটি পাবলিক প্রাইভেট ডায়ালগ প্লাটফর্ম