প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবন সহজ করলেও এর অতিরিক্ত নির্ভরতা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন স্ট্রিমিং সেবার প্রসারের ফলে মানুষ ঘরে বসে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ব্যয় করছে; কমছে শারীরিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগ। একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের চিন্তা, মনোযোগ ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
উন্নত অর্থনীতিতে শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর কাজ কমে আসার পাশাপাশি অবসরেও মানুষের নিষ্ক্রিয়তা বাড়ছে। এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং ঘাড় ও পিঠের ব্যথার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। এআই-নির্ভরতার ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি রয়েছে, যদি মানুষ নিয়মিত চিন্তা, পড়া ও লেখার কাজ প্রযুক্তির ওপর ছেড়ে দেয়। এমআইটির একটি প্রাথমিক গবেষণায় এআই দিয়ে প্রবন্ধ লেখা শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কে তুলনামূলক দুর্বল ও কম বিস্তৃত সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আরো গবেষণা প্রয়োজন।
পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৯ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় মানসিকভাবে উদ্দীপক অবসর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে উন্নত জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা ও কম ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই শারীরিক ব্যায়ামের মতো মস্তিষ্কেরও নিয়মিত অনুশীলন জরুরি। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব চিন্তা, মনোযোগ ও সামাজিক যোগাযোগের চর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন।
[দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে সংক্ষেপে অনূদিত]
দেবী শ্রীধর: অধ্যাপক ও চেয়ার, গ্লোবাল পাবলিক হেলথ, ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ