স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম দিকে যেসব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় জাপান তাদের অন্যতম। গত ৫৪ বছরে জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ে দেশের ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নে জাপানের সহায়তা অনেক বেশি দৃশ্যমান। জাপান হলো বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সর্ববৃহৎ সহায়তাকারী দেশ। এককভাবে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি বিনিময়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ জাপানে আরো বেশি পণ্য রফতানি করতে সক্ষম। আবার জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। জাপান পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে থাকে সেসবের মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের রফতানির সুযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
১৯৯১ সালের শেষ দিকে আইন মন্ত্রণালয়ে দুই বাংলাদেশী সহোদরের সঙ্গে আমার দেখা। তারা ওই মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী মীর্জা গোলাম হাফিজের সঙ্গে দেখা করার জন্য। কথা প্রসঙ্গে জানালেন, তারা ব্যবসা উপলক্ষে থাইল্যান্ডে থাকেন। বাংলাদেশে এসেছেন সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত বাঁশ থাইল্যান্ডে রফতানি করার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। তারা এসব বাঁশ দিয়ে চপস্টিক তৈরি করে জাপানে রফতানি করবেন। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম, বাংলাদেশ থেকে চপস্টিক রফতানি করলে জাপানি ক্রেতারা হয়তো তেমন আগ্রহ দেখাবেন না। থাইল্যান্ডে উৎপাদিত চপস্টিকের জাপানে বেশ কদর রয়েছে। বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের তালিকায় তখন বাঁশ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলেন বিশেষ অনুমতি প্রদানের জন্য। মন্ত্রণালয় জানাল, রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তাদের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতামত নেয়া আবশ্যক। কারণ বাঁশ কৃষির আবশ্যক পণ্যের তালিকায় আছে কিনা তা জানা জরুরি। তারা কৃষি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে জানানো হলো, রফতানির সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মতামত জানা জরুরি, কারণ বাঁশ রফতানির ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে কিনা সে বিষয়ে মতামত প্রয়োজন। তারা সপ্তাহখানেক গোলকধাঁধার মধ্যে অতিবাহিত করে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ে এসেছেন আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করার জন্য। গল্পটি বলার উদ্দেশ্য হলো, দেশের বিদ্যমান বিধিবিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মানসিকতা উপলব্ধি করার জন্য। গত ৩৫ বছরে অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে কিনা তা পাঠকরাই নির্ধারণ করবেন। ফলে অংশীজনদের কাছ থেকে পদ্ধতিগত সংস্কারের দাবি ক্রমাগত জোরদার হচ্ছে।
১৯৯৮ সালে জাইকার পক্ষ থেকে ওমোতে সিনিসিরো নামে একজন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। তিনি কাজ করতেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জাপান অধিশাখায়। তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য নতুন প্রকল্প প্রণয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করা। তখন বাংলাদেশে মাত্র ১২-১৩টি জাপানি প্রকল্প চলমান ছিল। ওমোতে বাংলাদেশে আসার আগে থাইল্যান্ডে জাইকার আবাসিক প্রতিনিধি ছিলেন। জানালেন, তার সময়ে থাইল্যান্ডে জাপানি প্রকল্পের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০। কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন, জাপানি বিশেষজ্ঞরা থাইল্যান্ডের বিভিন্ন মন্ত্রণালের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন প্রকল্প প্রণয়নে সহায়তা করতেন। জাপানি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রকল্পগুলো সহজেই জাইকা ও জাপান সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিনিয়োগের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হতো দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে বিদ্যমান অগ্রাধিকারের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো। তখনকার দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে প্রতি অর্থবছরে বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য ৬৫-৭০টি প্রকল্প প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হতো। বাস্তবে জাপান সরকার অর্থায়নের জন্য বিবেচনা করতেন ছয়-সাতটি প্রকল্প।
২০২৩ সালে পালিত হয় জাপান-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর বার্ষিকী। এ উপলক্ষে জাইকা বাংলাদেশের উদ্যোগে বাংলাদেশে জাপানের সহযোগিতার একটি গবেষণাধর্মী জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে ১৯৭৩ সালের মার্চে জাপান সরকার ঢাকায় জাপান ওভারসিজ কো-অপারেশন ভলান্টিয়ার্স রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস স্থাপন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে সহযোগিতার মধ্যে জাপানি স্বেচ্ছাসেবী প্রেরণ, কারিগরি সহযোগিতার অধীনে জাপানি বিশেষজ্ঞ প্রেরণ এবং বাংলাদেশীদের জাপানে প্রশিক্ষণে প্রেরণ, ওডিএ লোন, গ্রান্ট এইড এবং পাবলিক-প্রাইভেট সহযোগিতা অন্যতম। জাপান বাংলাদেশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে যমুনা, পাকশী, রূপসা, গোমতী, মেঘনা সেতু, এমআরটি লাইন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন ও স্টেশন স্থাপন উল্লেখযোগ্য। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অধিকতর জোরদারকরণের লক্ষ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর হয় ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ)। এ চুক্তির মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জাপান বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হওয়া সত্ত্বেও বাণিজ্যের অংশীদারত্বে দৃশ্যমান উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের রফতানির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলো চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাপানে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের অন্যতম হলো তৈরি পোশাক, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল এবং অন্যান্য প্রচলিত পণ্য। জাপান থেকে বাংলাদেশের আমদানির গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হলো শিল্পযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও ইস্পাতজাত পণ্য, যানবাহন ও পরিবহন সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, শিল্পের কাঁচামাল ইত্যাদি। জাপানের ভোক্তারা সাধারণত পণ্যের গুণগতমান, স্থায়িত্ব, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি এবং সময়মতো সরবরাহকে গুরুত্ব প্রদান করে। জাপানে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সম্প্রতি জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেসস্তু কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের একটি প্রতিনিধি দল পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুর-শরীয়তপুর এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে সমাপ্ত প্রস্তাবিত এ সেতু দুটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি এবং জাপানের সুমিমতো করপোরেশন যৌথভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিশেষ অঞ্চলে ১০০টি বিদেশী কোম্পানি প্রায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। আশা করা যাচ্ছে, এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের জন্য জাপানের বাজার অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে জাপানি কোম্পানির উৎপাদিত পণ্য বৈশ্বিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে বেড়ে যাবে। জাপানি কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত পণ্যে গুণগত মান, উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের জন্য সুপরিচিত। দেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়লে এসব প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে। অধিকন্তু, জাপানি বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলো হলো অটোমোবাইল এবং যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, যন্ত্রপাতি এবং প্রকৌশল, ওষুধ শিল্প, রাসায়নিক শিল্প, কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি খাতে জাপানের বিনিয়োগ অর্থবহ হতে পারে।
জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক তা হলো—ক. জাপানি বাজারে যেসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেসব পণ্যের উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেয়া। খ. গুণগত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাতে জাপানি কোম্পানির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা। গ. জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করা। ঘ. বাংলাদেশ-জাপান যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন সেক্টরে কলকারখানা স্থাপন করা। ঙ. জাপানি ভাষা, কারিগরি দক্ষতা এবং শিল্প ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ তৈরি করা।
সাম্প্রতিককালে জাইকার প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদেরকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রথমত. আসিয়ান ও সার্কভুক্ত দেশগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের জন্য যেসব বিষয়ে ছাড় দেয়া হয় বাংলাদেশ তার চেয়েও আকর্ষণীয় প্রস্তাব প্রদান করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য বিদ্যমান আইন-কানুন এবং পদ্ধতির সহজীকরণ আবশ্যক। বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীরা যেখানে দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন সেখানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোন ভরসায় এ দেশে বিনিয়োগ করতে আসবেন। বর্তমান সময়ে অনেক কলকারখানা গ্যাসের অভাবে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারছেন না এবং অনেক কারখানায় শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি দিয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সমস্য্যা সমাধান করতে হবে, অন্যথায় পরামর্শ ও আহ্বানের মাধ্যমে কোনো বৈদেশিক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবে না। বর্তমান সরকার এ বিষয় যত দ্রুত উপলব্ধি করতে পারবে দেশের তত দ্রুত মঙ্গল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশ এজেন্সির প্রেসিডেন্ট গত ১-৬ জুলাই ২০২৬ সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসেন। এ সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা, কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা, জাপানি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে মতবিনিময় করা।
আরেকটি গল্প দিয়ে শেষ করি। ২০০০ সালে জাপানি বিশেষজ্ঞ ইয়োশিকাতশু নাকামুরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে আমি অর্থনৈতিক সম্পর্কে কর্মরত ছিলাম। আমি যেহেতু জাপান থেকে সদ্য জাপানি ভাষা শিখে দেশে ফেরত এলাম। আমাদের মধ্যে উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা হতো। একদিন তাকে প্রস্তাব দিলাম, তাদের আমদানিকারকদের বলে বাংলাদেশ থেকে ফুল আমদানি করার জন্য। তিনি বললেন সম্ভব নয়, কারণ ফুল উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতের পদ্ধতি জাপানি আমদানিকারকের মনঃপূত নাও হতে পারে। আরো বললেন, সময়মতো ফুল সরবরাহ এবং গুণগুত মান রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তিনি পরামর্শ দিলেন এসব পণ্য রফতানি করার আগে বাংলাদেশে রফতানিযোগ্য পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।
ড. আবুল হোসেন: সাবেক সচিব,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার