বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ২০০৩ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে দিত। পরবর্তী সময়ে এ বিনিময় হার ফ্লোটিং বা ভাসমান করা হয়। বিনিময় হার ফ্লোটিং হলেও তা স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পরোক্ষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমানে ডলারের অভিন্ন বিনিময় হার যৌথভাবে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস বাংলাদেশ (এবিবি)। বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সরকার প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ধারিত ওই বিনিময় হারের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু লক্ষণীয় যে প্রণোদনা সত্ত্বেও প্রবাসীরা বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে আকৃষ্ট হচ্ছেন না। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশানুরূপ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বিবেচনায় বিদেশে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে প্রত্যাবাসন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সরকার ১ জুলাই ২০১৯ হতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ২০১৯ ও ২০২০ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হ্রাস পেলেও বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার ১ জানুয়ারি ২০২২ হতে রেমিট্যান্সের বিপরীতে নগদ প্রণোদনার হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০২২ সালে প্রণোদনার হার ও বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সত্ত্বেও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ফরেন রেমিট্যান্সের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
(রেমিট্যান্সের পরিমাণ কোটি ডলারে)
(তথ্যসূত্র: জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো)
আগস্ট ২০২১-এ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আগস্ট ২০২৩-এ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গ্রস ভিত্তিতে ২ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্দেশিত গাইডলাইন অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ আরো কম, ২ হাজার ৩২৬ কোটি ডলার। রফতানি আয়ের তুলনায় আমাদের আমদানি ব্যয় বেশি। ওয়েজ আর্নারদের প্রেরিত অর্থের একটি অংশ দিয়ে আমদানি-রফতানি ব্যবসার ঘাটতি মেটানো হয় এবং বাকি অংশ রিজার্ভে যুক্ত হয়। সাম্প্রতিককালে তুলনামূলক অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানি সরকার নিরুৎসাহিত করায় আমদানি কমেছে। কিন্তু বিলম্বিত (ডেফার্ড) আমদানি ব্যয় পরিশোধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ আনুষঙ্গিক কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস প্রবাসী আয়। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীর সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬১০। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশে গেছেন ৬ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৬ জন কর্মী। বিদেশে কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রাপ্ত রেমিট্যান্স আশানুরূপ বাড়েনি। কারণ প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ বৈধ পথে দেশে আসছে, বাকিটা হুন্ডিসহ অন্যান্য মাধ্যমে। কার্ব মার্কেটে ডলারের বিনিময় মূল্য বেশি পাওয়ায় হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসীরা আগ্রহী হচ্ছে মর্মে একটি ধারণা বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। আগস্টে দেশে বৈদেশিক রেমিট্যান্স এসেছে ১৬০ কোটি ডলার। আগের মাসেও অর্থাৎ জুলাইয়ে এর পরিমাণ ছিল ১৯৭ কোটি ডলার। গত বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ বৈধ পথে রেমিট্যান্স আহরণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া ওভার-ইনভয়েসিংয়ের পাশাপাশি প্রবাসীদের কাজে লাগিয়ে আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের ফলে সরকার পরোক্ষভাবে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবাসীদের অবদান আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকার ২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া সত্ত্বেও রিজার্ভের ক্রমাবনতি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বৈধ পথে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। তবে ধারণা করা হয়, প্রকৃতপক্ষে প্রবাসীরা এর থেকেও কয়েক গুণ বেশি ডলারের সমমূল্যের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে থাকে। ফলে দেশে প্রবাসী আয়ের একটি বৃহৎ অংশ হুন্ডির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ায় আমরা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকার প্রণোদনার হার কমিয়ে দিলে হুন্ডির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। আবার বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে সরকার চাইলে প্রণোদনার হার ২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে আরো বৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু তাতে সরকারের নগদ ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রণোদনার হার অনেক বেশি বা আকর্ষণীয় হলে প্রবাসীদের কাজে লাগিয়ে এটি অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। অর্থাৎ বৈধ পথে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করতে ডলারের বিনিময় হার ও নগদ প্রণোদনার হার হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উভয় সংকট বিদ্যমান।
এ পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে এমন একটি পথ বেছে নেয়া যেতে পারে যেখানে সরকারের অতিরিক্ত নগদ ভর্তুকি ব্যতিরেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। বর্তমানে সরকার বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ওপর নগদ ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে নগদ প্রণোদনা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ ঠিক রেখে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ বা বিশেষ আকর্ষণের জন্য আরো বেশি হারে নন-ক্যাশ প্রণোদনা প্রদান করা যেতে পারে। নন-ক্যাশ প্রণোদনা এমন হতে হবে যাতে এর সুবিধা শুধু প্রবাসী নিজেই ভোগ করতে পারবে এবং প্রবাসীদের ব্যবহার করে কোনো চক্র নন-ক্যাশ প্রণোদনা বা এর সুবিধা নিতে না পারে। এতে করে একজন প্রবাসী ক্যাশ এবং নন-ক্যাশ দুটোর আশায় কোনোভাবেই হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ করবে না। নন-ক্যাশ প্রণোদনার হার এমন হতে হবে যাতে করে হুন্ডি ব্যবসায়ী কিংবা যেসব ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে বৈধ উপায় বা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ প্রেরণ করে তারাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরুৎসাহিত হবে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বেশি রেট দিতে গিয়ে যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেভাবে নন-ক্যাশ প্রণোদনার হার নির্ধারণ করতে হবে।
বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন শুভেচ্ছা কার্ড/বিভিন্ন চেইন শপের মেম্বারশিপ কার্ড/নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে নগদ সুবিধার বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট পয়েন্ট সরবরাহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাহক ওই পয়েন্ট সরাসরি নগদায়ন করতে না পারলেও নগদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার (Redeem) করতে পারছেন। একইভাবে বিদেশে কর্মরত সব বাংলাদেশীকে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণের বিপরীতে নন-ক্যাশ প্রণোদনা প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ নিবন্ধন/পরিচিতি নম্বর ও কার্ড সরবরাহ করা যেতে পারে। একজন প্রবাসী যখন নিজ নিবন্ধন/পরিচিতি নম্বর ব্যবহার করে দেশে বৈধ পথে/ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাবেন তখন একটি উল্লেখযোগ্য হারে ক্রেডিট পয়েন্ট ওই নিবন্ধন/পরিচিতি নম্বরের ঘরে যোগ হবে। এভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় প্রেরিত অর্থের বিপরীতে প্রবাসীর নিবন্ধন/পরিচিতি নম্বরে পয়েন্ট যোগ হতে থাকবে। এই পয়েন্টের বিপরীতে সরকার কোনো নগদ প্রণোদনা বা ভর্তুকি প্রদান করবে না। তবে দেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন কাজে নগদের বিকল্প হিসেবে এই পয়েন্ট ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। যেমন—
১. প্রবাসীরা সাধারণত দেশে জমি/ফ্ল্যাট ক্রয় করে থাকে। নিজ নামে ক্রয়কৃত এসব জমি/ফ্ল্যাট নিবন্ধনের সময় সরকারি ফি প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে; ২. সম্প্রতি সরকারের চালু করা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কিস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্তৃক তার ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে; ৩. প্রবাসী কর্তৃক সরকারি প্রকল্পে জমি/ফ্ল্যাট ক্রয়ে কিস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহারের (Redeem) সুযোগ দেয়া যেতে পারে; ৪. কোনো প্রবাসী দেশে এসে ব্যাংক ঋণ নিলে তার ক্রেডিট পয়েন্টের ভিত্তিতে সরকার তাকে সুদ ভর্তুকি দিতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণের ক্ষেত্রে সরকার যেভাবে সুদ ভর্তুকি দিয়ে থাকে তেমনি প্রবাসীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ চালু এবং তাদের ক্রেডিট পয়েন্টের ভিত্তিতে সরকার সুদ ভর্তুকি প্রদান করতে পারে; ৫. সঞ্চয়পত্র কিংবা স্থায়ী আমানতের সুদারোপের পর উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রে প্রবাসীর অর্জিত ক্রেডিট পয়েন্ট Redeem করার সুযোগ রাখা যেতে পারে; ৬. নিজ নামে ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রসহ স্থায়ী আমানত, সরকারি যেকোনো বন্ড/ইনস্ট্রুমেন্টের সুদারোপের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ক্রেডিট পয়েন্টের ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা রাখা যেতে পারে; ৭. একজন প্রবাসী নিজ নামে গাড়ি ক্রয় করলে সেটির নিবন্ধন খরচ নির্বাহে ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে; ৮. ভ্যাট, ট্যাক্স, আয়করসহ বিভিন্ন সরকারি ফি প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহারযোগ্য হতে পারে; ৯. বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদের বিকল্প হিসেবে আলোচ্য ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে; ১০. স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের ভর্তির ক্ষেত্রে বৈধ উপায়ে অর্থ প্রেরণকারী প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ কোটা চালু করা যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েদের বেতনাদি পরিশোধেও প্রবাসীদের ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে।
বর্ণিত আর্থিক সুবিধাদি ছাড়াও একজন প্রবাসীকে তার ক্রেডিট পয়েন্টের ভিত্তিতে ভিআইপি, সিআইপির ন্যায় সামাজিক মর্যাদা প্রদান করা যেতে পারে। বিকল্প প্রস্তাবনাটি কার্যকর করা হলে প্রণোদনার হার বৃদ্ধি পেলেও এর বড় অংশ নন-ক্যাশ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বছরে ভর্তুকি বাবদ সরকারের অতিরিক্ত কোনো বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। প্রবাসীরা বিভিন্ন কাজে ওই নন-ক্যাশ প্রণোদনা তথা ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহার করলে সরকারের আয়ের ওপর কিছুটা চাপ পড়লেও নন-ক্যাশ প্রণোদনার সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন খাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রবাসীদের লেনদেন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে সরকারের আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে মর্মে আশা করা যায়। অর্থাৎ নন-ক্যাশ প্রণোদনা বাবদ সরকারের ভর্তুকি যতই হোক না কেন, বিভিন্ন খাতে লেনদেন বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিকভাবে ট্যাক্স এবং নন-ট্যাক্স খাতে সরকারের আরো বেশি আয়ের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ক্যাশ এবং নন-ক্যাশ প্রণোদনাসহ দেশে বিভিন্ন কার্যক্রমে সুবিধা প্রাপ্তির আশায় প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহী হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া নগদ প্রণোদনার হার বাড়ালে ডলারের মূল্য বিশেষ করে কার্ব মার্কেটে সরাসরি প্রভাব পড়লেও নন-ক্যাশ প্রণোদনার কারণে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। সার্বিকভাবে বলা যায়, নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি নন-ক্যাশ প্রণোদনা সংবলিত আলোচ্য প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা গেলে মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাবাজারের অস্থিতিশীলতা পরিহার করে দেশে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স আহরণ বৃদ্ধিসহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধকরণ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।
মো. নুরুল আলম এফসিএমএ, এফসিএ: অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক; (বর্তমানে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে সিএফও (ডিএমডি) হিসেবে লিয়েনে কর্মরত)