পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
আফ্রিকার বহু দেশের সঙ্গে আগের পর্বে বা ‘সংস্কার’ পূর্ব চীনেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার ধরনে ভিন্নতা ছিল, সেই পর্যায়ে রাজনৈতিক-মতাদর্শিক দিকগুলো ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-৭০ দশকে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সাহায্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত আছে। এর মধ্যে ১৯৭০-৭৫ সময়কালে জাম্বিয়া ও তানজানিয়াকে যুক্ত করে ১৮৬০ কিমি ‘তাজারা রেলওয়ে’ নির্মাণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৫০ হাজার চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিক এ প্রকল্পে কাজ করেছেন। সত্তর দশকের শেষের দিকেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ঋণ অনুদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে চীন ছাড়িয়ে যায়। সে সময় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়। এসব দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা করতে চীন থেকে অনেক ডাক্তার পাঠানো হয়। চীনের পরের পর্বেও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত আছে, তবে এ পর্বে পুঁজি রফতানি হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল বিষয়।
বর্তমানে সম্মিলিত হিসেবে আফ্রিকার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ১৯৮০ সালে চীন-আফ্রিকার বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯৯৯ সালে এটি ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। ১৯৯০ দশকে আফ্রিকায় চীনের বিনিয়োগে উচ্চলম্ফ ঘটে, দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যেরও ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে। এরপর তার বৃদ্ধি ঘটতে থাকে ক্রমবর্ধমান হারে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে ‘চায়না-আফ্রিকা কো-অপারেশন’ নামে এক যৌথ বাণিজ্য সংস্থা গঠিত হয়। ২০০৫ সালে মহাদেশের সঙ্গে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ বিলিয়ন ডলার, পরের বছরেই তা পৌঁছে যায় ৫৫ বিলিয়ন ডলারে। এ সময় পর্যন্ত চীন ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে, যুক্তরাষ্ট্র ছিল প্রথম। এরপর দ্রুত চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে অনেক ব্যবধানে প্রথম স্থানে চলে যায়। ২০১০ সালে চীন-আফ্রিকার বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৪ বিলিয়ন ডলার, ২০১২ সালের মধ্যে তা ২০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
আফ্রিকায় এখন প্রায় ৮০০ চীনা কোম্পানি ব্যবসা করছে। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি। অবকাঠামো, জ্বালানি, ব্যাংকিংয়ে তাদের প্রধান বিনিয়োগ। সড়ক, যোগাযোগ
বিশেষত রেলওয়ে এবং নির্মাণকাজে চীনের বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাপক কর্মযজ্ঞ আফ্রিকার অর্থনীতির জন্য অনেক তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চীনের পণ্য বিশেষত প্রাথমিক পণ্য আমদানির পরিসরও বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় চীন থেকে কম সুদে ও সহজ শর্তে ঋণপ্রবাহের কারণে এ ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটছে দ্রুত। এছাড়া ২০০০ সালের পর থেকে চীন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ মওকুফ করেছে, যা তাদের ঋণের বাজার বিস্তৃতিতে সহায়ক হয়েছে, গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়িয়েছে।
২০১০ সালের পর আফ্রিকার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য দ্রুতহারে বৃদ্ধি পায়, এর পেছনে আফ্রিকা থেকে চীনে খনিজ দ্রব্য, তেল ও কৃষি দ্রব্য আমদানি এবং চীন থেকে আফ্রিকায় শিল্পপণ্যের ক্রমবর্ধমান রফতানির ভূমিকা ছিল মুখ্য। প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকায় চীনা বিনিয়োগের বড় অংশ জ্বালানি খাতে। এ খাতে বিনিয়োগের হার সবচেয়ে বেশি নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলায়। বর্তমানে চীনের মোট তেল চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আসে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ আসে অ্যাঙ্গোলা থেকে। কৃষি বা প্রাথমিক পণ্যেও চীনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা যায়, বেনিন, বুরকিনা ফাসো এবং মালি থেকে চীনের তুলার চাহিদার শতকরা ২০ ভাগ মেটে। আইভরি কোস্ট থেকে চীনে যায় কোকো, কেনিয়া থেকে বিশাল সরবরাহ আসে কফির, চীনে মাছের সরবরাহে নামিবিয়া এখনো সবার ওপরে। চীনা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, তানজানিয়া ও অ্যাঙ্গোলায়।
আফ্রিকায় চীনের উপস্থিতি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অব্যাহত সম্প্রসারণ পশ্চিমা বিশ্বে, আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্র দেশগুলোতে যে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, তা বোঝা কঠিন নয়। তার বহিঃপ্রকাশও ঘটছে বিভিন্নভাবে। অন্যদিকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে চীনের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নতুন নতুন দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের অসন্তোষ থেকে অনেক স্থানে জনবিক্ষোভও তৈরি হচ্ছে। আবার চীনের বিনিয়োগ-বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রতি আফ্রিকার মানুষের সমর্থনসূচক মনোভাব বেশি এ রকম দাবিও আছে।
২০১৬ সালে ‘আফ্রোব্যারোমিটার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার ৩৬টি দেশের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাদের প্রাপ্ত ফলাফলের প্রধান সিদ্ধান্ত হলো ‘আফ্রিকার সাধারণ মানুষেরা চীনের ভূমিকাতে খুশি।’ তবে দেশ থেকে দেশে এর মাত্রা বা সন্তুষ্ট মানুষদের শতকরা হার ভিন্ন। যেমন মালিতে শতকরা ৯২, নাইজারে শতকরা ৮৪ এবং লাইবেরিয়াতে শতকরা ৮১ ভাগ মানুষ চীনকে স্বাগত জানায়। একই জরিপে দেখা যায়, ৩৬টি দেশের মধ্যে ১০টি দেশে চীনের উন্নয়ন মডেলের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন আছে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি দেশ হলো ক্যামেরুন, সুদান ও মোজাম্বিক। যেসব দেশে জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগ মানুষ মার্কিন মডেলকে চীনা মডেলের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করেন সে দেশগুলো হলো লাইবেরিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, ঘানা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মরক্কো। তবে বলে রাখা দরকার, জরিপ পদ্ধতি, নমুনা, প্রশ্নের ধরন ইত্যাদির ওপর ফলাফল অনেকখানি নির্ভর করে।
ল্যাটিন
আমেরিকায় চীনের
পদচিহ্ন
ষাট ও সত্তরের দশকে চীন থেকে ল্যাটিন আমেরিকার বিপ্লবী আন্দোলন শক্তিশালী নৈতিক সমর্থন পেয়েছে। কিউবা বিপ্লব ও পরবর্তী অন্যান্য দেশে বিপ্লবী আন্দোলনে চীনা বিপ্লবের প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। কিন্তু এ অঞ্চলের অধিকাংশ রাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিস্তার তখন খুব সম্ভব ছিল না। এ কারণে সেসব রাষ্ট্র মার্কিন একচেটিয়া রাজনৈতিক-সামরিক-অর্থনৈতিক আধিপত্যের মধ্যে আটকে ছিল। দেং-পরবর্তী চীন যে পথ নেয়, তাতে বাণিজ্যের বিষয়টি প্রধান হয়ে উঠলেও প্রথমদিকে চীনের সঙ্গে ল্যাটিন আমেরিকার সম্পর্ক ছিল ক্ষীণ। ২০০০ সালের পর থেকে এ সম্পর্কের দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। ২০০৪ সালে যখন চীন ‘অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস’-এ স্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগদান করে, তখন এ অঞ্চলে চীনের বাণিজ্যিক তত্পরতা বৃদ্ধির সুযোগ আরো সম্প্রসারিত হয়। এরপর ২০০৮ সালে চীন ‘ইন্টার আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে’ যোগ দেয় ‘দাতা’ হিসেবে। ২০০০ সালে চীন ও ল্যাটিন আমেরিকার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০০৯ সালের মধ্যে তা ১২ গুণ বেড়ে ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
২০০৯ সালে ল্যাটিন আমেরিকার রফতানির শতকরা মাত্র ৭ ভাগ ছিল চীনমুখী। রফতানি দ্রব্যের মধ্যে প্রধান ছিল কপার, লোহা, তেল ও সয়াবিন। শতকরা ৯০ ভাগ রফতানি হতো মাত্র চারটি দেশ থেকে। এর মধ্যে ব্রাজিলই ছিল সবার ওপরে, শতকরা প্রায় ৪১ ভাগ, এরপর চিলি (২৩.১%), আর্জেন্টিনা
(১৫.৯%) এবং
পেরু (৯.৩%)। চীনের শতকরা ৫ ভাগ তখন রফতানি হতো এ এলাকায়। চীনের রফতানি পণ্য ছিল প্রধানত শিল্প ভোগ্য পণ্য ও যন্ত্রপাতি। ২০১১ সালে এ বাণিজ্য পৌঁছায় ২৪১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তখন চীনের বাণিজ্য অংশীদারদের প্রথম পাঁচটি দেশ ছিল ব্রাজিল, মেক্সিকো, চিলি, ভেনিজুয়েলা ও আর্জেন্টিনা।
এরপর থেকে চীনা ঋণ ও পুঁজি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য এবং ২৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ব্রিকস গঠন ও তাতে চীন ও ব্রাজিলের অবস্থান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য আরো অনুকূল শর্ত তৈরি করেছে। গত দুদশকে ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশই মার্কিন আধিপত্যের বিপরীতে চীনকে সহযোগী করতে চেয়েছে। অনেকগুলো দেশে মার্কিন আধিপত্যবিরোধী সরকারের ক্ষমতায় আসা, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য থেকে বের হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় বিকল্প পথ অনুসন্ধান চীনের বিনিয়োগের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করে।
২০১২ সাল নাগাদ ল্যাটিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ অনেক বেড়ে যায়, তবে তার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই ছিল খনিজসম্পদকেন্দ্রিক। বন উজাড়, দূষণ বৃদ্ধি ও পরিবেশ বিপর্যয় ইত্যাদির অনেক অভিযোগও তখন থেকে উঠতে থাকে। ‘আমরা চীনের দ্বিতীয় আফ্রিকা হতে চাই না’ মানুষের এ রকম স্লোগান, পোস্টার ল্যাটিন আমেরিকার মিডিয়াতেও দেখা যায়। ২০১৫ সালে ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংক ও ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক যে পরিমাণ ঋণ দিয়েছে তার চেয়ে বেশি ঋণ প্রদান করে চীনা রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো, প্রায় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীনের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মার্কিন বাধাও বাড়তে থাকে, তবে নিকারাগুয়া খাল উন্মুক্ত করা হলে ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে চীনের সম্পর্কের বিকাশে মার্কিন প্রতিবন্ধকতার সুযোগ আরো কমে যাবে বলে ধারণা করা হয়।
চীন ও ল্যাটিন আমেরিকার মধ্যে গত এক দশকে সামরিক যোগাযোগও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। ভেনিজুয়েলা, চিলি, বলিভিয়া ও কিউবার সঙ্গে সামরিক বিষয়ে বোঝাপড়া, পারস্পরিক সফর, অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ নানা চুক্তি বেড়েছে। চীন ও বলিভিয়া সামরিক সহযোগিতামূলক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে চীনের সঙ্গে ১ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তি করেছে।
ইকোনমিস্ট
পত্রিকার হিসাবে,
২০১০-১৩ সময়কালের পর থেকে ল্যাটিন আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগ বহুমুখী হয়েছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ২৩ শতাংশ চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ১.৮ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে। ব্রাজিলের মারানহোতে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য সেদেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনা নির্মাণ কোম্পানি। এছাড়া আর্থিক খাতেও চীনের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চীন চেষ্টা বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে পেরু, চিলি ও কোস্টারিকার সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কলম্বিয়াতেও একই ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ব্রাজিল নেতৃত্বাধীন চারদেশীয় জোট সমষ্টিগতভাবেই এ ধরনের চুক্তির কথা চলছে।
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক,
অর্থনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়