অক্টোপাস ‘পল’-এর কথা অনেকের মনে আছে নিশ্চয়ই। ২০১০ ফুটবল বিশ্বকাপে শেষের দিকের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ম্যাচের আগেই সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল জার্মানির এই অক্টোপাস পল। দুটি ট্যাংকের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা, মধ্যে খাবার রেখে দিলে অক্টোপাস পল যে ট্যাংক থেকে খাবার গ্রহণ করত, প্রতিযোগিতায় সেই দেশ জয়লাভ করত। তবে মার্কিন নির্বাচন ঘিরে এমন কোনো পলের কথা এখনো শোনা যায়নি। কিন্তু নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি-৫০০ বছরের পর বছর মার্কিন নির্বাচনে পলের মতো ভূমিকা পালন করে আসছে অনেকটাই সফলভাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নভেম্বরের একদম শুরুতে। যে বছরে নির্বাচন হবে, সেই বছরের নির্বাচনের ঠিক তিন মাস আগে থেকে অর্থাৎ আগস্টের প্রথম থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকের ওঠানামায় পূর্বানুমান করতে পারে কে হতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। সার্বিক সূচক যদি জুলাই ৩১ তারিখের তুলনায় অক্টোবরের ৩১ তারিখে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বা তার দলের প্রার্থীর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর এই একই সময়ে যদি সূচক ঋণাত্মক হয়, তবে গদিনশীন নয়, বরং বিকল্প দলের প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হবেন—এমন সম্ভাবনাই বেশি।
এবার আসা যাক ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে সূচকের পরিবর্তন প্রসঙ্গে। জুলাই ৩১ তারিখে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক ছিল ৩ হাজার ২৭১ দশমিক ১২ পয়েন্টে, যা অক্টোবরের শেষ ট্রেডিং দিবস ৩০ অক্টোবর কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৬৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ নির্বাচনের ঠিক আগে সূচক পূর্ববর্তী তিন মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এই পূর্বাভাস আমলে নিলে ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা হলো ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের। বলা যায় যে ভোট গণনায় (চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন তার রায়ের ওপর) এসঅ্যান্ডপি-৫০০ পূর্বাভাস সঠিক বলেই প্রমাণিত।
এবার ইতিহাসের দিকে একটু নজর দেয়া যাক। বলা বাহুল্য, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারবে এমনটা বিশ্বাস করার মতো লোক বহির্বিশ্বে খুব কমই ছিল (রাশিয়ার কথা ভিন্ন হতে পারে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য রাশিয়া নাকি ভোটিং সিস্টেম হ্যাক করে ট্রাম্পকে জিততে সহায়তা করেছিল)। জনমত জরিপে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ট্রাম্পের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকের পূর্বানুমান ছিল ঠিক তার বিপরীত। অর্থাৎ ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ববর্তী তিন মাসে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ হ্রাস পেয়েছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। এই পূর্বানুমান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বা তার দলের প্রার্থীর (হিলারি ক্লিনটন) জয়ের সম্ভাবনা একেবারেই কম। বরং সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হবেন অন্য দলের (অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প)। নির্বাচনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই পূর্বাভাসকেই সঠিক বলে প্রমাণিত করেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই এসঅ্যান্ডপি-৫০০ মোটামুটি নির্ভরযোগ্য পূর্বানুমান করতে সমর্থ হয়েছে, সেকথা বলা যায়। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের বছরে নভেম্বরের ভোট গ্রহণের আগে তিন মাসের মধ্যে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ হ্রাস পেলে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট বা তার দলের প্রার্থী হারবেন—এমন পূর্বাভাস ৪৪ শতাংশ সময়ে সঠিক হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ের মধ্যে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ বৃদ্ধি পেলে গদিনশীন প্রেসিডেন্ট বা তার দলের প্রার্থী নির্বাচনে জিতবেন—এমন পূর্বাভাস ৮২ শতাংশ সময়ে সঠিক হয়েছে। যে কয়েকবার পূর্বানুমান সঠিক হয়নি (মাত্র তিনবার), বাজার বিশ্লেষকরা অন্য অনেক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন ১৯৫৬ সালে বিদ্যমান প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ার জিতেছিলেন, যদিও নির্বাচনের আগে তিন মাসের মধ্যে শেয়ারবাজার হ্রাস পেয়েছিল প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সেই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ‘সুয়েজ সংকট’ দেখা দেয়। সুয়েজ খাল একটি মূল্যবান জলপথ, যা ইউরোপের ব্যবহূত তেলের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৫৬ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের খালটি জাতীয়করণ করায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মদদে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
অন্যদিকে ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বিজনসন পুনরায় নির্বাচনের জন্য অংশ নেননি। তার বদলে ডেমোক্রেটিক দল থেকে হুবার্ট এইচ হামফ্রে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন এবং নির্বাচনে হেরে যান, যদিও এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক নির্বাচনের ঠিক আগে পূর্ববর্তী তিন মাসের তুলনায় ধনাত্মক ছিল। অনুরূপভাবে ১৯৮০ সালে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিমি কার্টার। নির্বাচনের পূর্ববর্তী তিন মাসের ব্যবধানে সূচক বাড়লেও তিনি হেরে যান। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে সংকুচিত মুদ্রানীতি গ্রহণ করলে মার্কিন অর্থনীতি একটি গভীর মন্দায় পতিত হয়। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রোনাল্ড রিগান সেবার জিমি কার্টারকে নির্বাচনে পরাজিত করেন।
অক্টোপাস পলের পূর্বাভাস অনেকের কাছেই হয়তো কাকতালীয় মনে হয়েছে, তবে এসঅ্যান্ডপি-৫০০-এর পূর্বানুমান মোটেই কাকতালীয় নয় এবং তা যথেষ্ট যুক্তিনির্ভর। পুঁজিবাজারের অনেকগুলো চরিত্রের মধ্যে একটা হচ্ছে ‘দক্ষ বাজার অনুমান’ বা এফিশিয়েন্ট মার্কেট হাইপোথিসিস। এই হাইপোথিসিসের প্রধান নিয়ামক হচ্ছে অর্থনীতিতে উদ্ভূত তথ্য (যা পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করতে পারে) শেয়ারের দামে কতটুকু প্রতিফলন তার ওপর। বিষয়টাকে খুব সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন গত বছর বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স পরপর কয়েকবার বড়সড় দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রতিটা দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোয়িং কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়ে যায়। কেউ যদি এ সংবাদের ওপর ভিত্তি করে বোয়িংয়ের শেয়ার বিক্রি করে অস্বাভাবিক মুনাফা করতে চায় তাহলে সেটা সম্ভব নয়। আবার ধরা যাক, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করল যে ভবিষ্যতে টয়োটার গাড়ি থেকে নির্গত কার্বনের পরিমাণ শূন্য হবে। এটা নিশ্চয়ই একটা ভালো খবর, যা টয়োটার গাড়ি বিক্রি তথা মুনফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টয়োটা কোম্পানির শেরারের দাম বেড়ে যাবে। এই খবরের ওপর ভিত্তি করে কেউ টয়োটার শেয়ার কিনে অধিক দামে বিক্রি করে অস্বাভাবিক মুনাফা করতে পারবে না। যে শেয়ারবাজারে এই গুণটি বিদ্যমান, সেটাকে ধরা যায় তিন স্তরের মধ্যে মধ্যম স্তরের দক্ষ (এফিশিয়েন্ট)।
নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ পৃৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুসংহত শেয়ারবাজারের (অর্গানাইজড এক্সচেঞ্জ) একটি। তথ্যপ্রযুক্তিতে অবশ্যই অনেক উন্নত এবং আধুনিক। তদুপরি, বাজারে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও অনেক এবং সবাই বাজার সম্পর্কে কম-বেশি ধারণা রাখে। সুতরাং সর্বজনীনভাবে প্রাপ্ত তথ্য (পাবলিকলি অ্যাভেইলেবল ইনফরমেশন) শেয়ারের দামে প্রতিফলিত হবে—এটা খুবই মামুলি ব্যাপার। সেই আলোকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল ক্ষমতায় থাকলে অথবা অন্য দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ক্ষমতায় এলে বাজারের লাভ-ক্ষতি বিনিয়োগকারীরা অনুমান করার চেষ্টা করেন এবং সেই মতো শেয়ার কেনাবেচা করে শেয়ারের দামকে সমন্বয় করে ফেলেন।
ভোট গ্রহণের আগে তিন মাসের মধ্যে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ বাড়লে বিদ্যমান প্রেসিডেন্ট বা তার দলের প্রার্থী জিতবেন—এমন পূর্বাভাস খুবই প্রত্যাশিত। বিদ্যমান প্রেসিডেন্ট বা তার দল চার বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। অর্থনীতি সব রকমের প্রতিকূলতাকে সমন্বয় করে একটা স্থিতাবস্থায় চলে আসে। গদিনশীন প্রেসিডেন্ট যদি পুনরায় নির্বাচিত হন, অর্থনীতির মৌলিক নীতির তেমন কোনো পরিবর্তন আসে না। এ অবস্থায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নীতির স্থিতিশীলতাকে ইতিবাচক মনে করে। এ কারণে বাজারে সামান্য হলেও ধনাত্মক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা যদি নতুন দলের কাউকে প্রত্যাশা করেন, তবে ধরে নেন যে অর্থনীতির মৌলিক নীতির পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। নীতির দিক থেকে মার্কিন দুই প্রধান দলের অবস্থানের ভিন্নতা স্পষ্ট। আর তাই হোয়াইট হাউজে যখন ক্ষমতাসীন দল ব্যতিরেকে অন্য দল গদিনশীন হবে, তখন নীতির পরিবর্তন হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে কোন নীতিতে কতটুকু পরিবর্তন আসবে সেটাই অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তার প্রভাব শেয়ারমার্কেটে প্রতিফলিত হয়, ফলে বাজারে ঋণাত্মক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউজে এসেই অনেক নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন আনেন। যেমন ট্রাম্পের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন, ট্রাম্প ২০১৮ সালে অবলীলায় তা বাতিল করেছেন। অনুরূপভাবে, ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘প্যারিস জলবায়ু চুক্তি’ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে শুভ সূচনা হয়েছিল, সেটা অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি খাত, যেমন কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, যা থেকে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ অনেক বেশি, সেগুলো পুনরুজ্জীবিত হতে থাকে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যারা এরই মধ্যে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা অবশ্যই প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হবেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীরাও সেটাকে নেতিবাচকভাবে নেবেন।
এটা প্রত্যাশিত যে ২০২১ সালে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে ট্রাম্পের বাতিল করা অনেক চুক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। সেই সঙ্গে এটাও প্রত্যাশিত যে করপোরেট কর আইনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন রিপাবলিকানরা এলিটদের স্বার্থরক্ষায় করপোরেট করের হার যথাসম্ভব নিচের দিকে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সবার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাস্থ্য বীমা চালুর বিপক্ষে। এসব নীতিতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান অনেকটাই বিপরীত। সুতরাং প্রেসিডেন্টের পার্টির পরিবর্তন হলে নীতিতে পরিবর্তন আসবে। তবে পরিবর্তন ধরন বা রকম অনেকটাই অনিশ্চিত। সেজন্যই বর্তমানে ক্ষমতাসীন নয়, এমন দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনায় পুঁজিবাজার ঋণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখায়।
পুঁজিবাজার অর্থনীতির একটি অতি স্পর্শকাতর ক্ষেত্র। এখানে যেমন ‘অ্যানিমেল স্পিরিট’ বাজারকে অযৌক্তিক বুদ্বুুদ তৈরি করতে সহায়তা করে, তেমনি আবার যৌক্তিক কার্যকারণের প্রতিফলনও লক্ষ করা যায়। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন নিয়ে পুঁজিবাজারের পূর্বাভাস আসলে কোনো স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম নয়, বরং তা বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণের একটি প্রকাশ মাত্র। এই প্রকাশে নির্ভুল হতে পারার অর্থই হলো পুঁজিবাজারের সার্বিক দক্ষতার প্রমাণ।
ড. মোহাম্মদ দুলাল মিয়া: সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান, অর্থনীতি এবং ফাইন্যান্স বিভাগ, নিজওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওমান