কৃষিকাজই মানবজাতির জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রাচীন ও প্রধান উৎস। আদিম সাম্যবাদী ব্যবস্থা থেকে বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়ও বিশ্বের অনেক দেশেই কৃষিকাজই মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহের প্রধান খাত। শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ অর্থনীতির পরে ভূমির মালিকানাভিত্তিক সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার ভিত তৈরিই হয়েছিল কৃষিকাজের ওপর ভিত্তি করে। প্রাচীনকাল থেকে এই উপমহাদেশে বিশেষ করে বর্তমান বাংলাদেশে কৃষিকাজ ছিল বাঙালি জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের কর্মসংস্থানের একমাত্র ক্ষেত্র। বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ছোট এই ভূখণ্ডটির উর্বর পলিমাটির কারণে কৃষিশস্য, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মাছ উৎপাদনে বরাবরই ছিল সুখ্যাতি। এজন্য বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ দেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উর্বর জমি ও অফুরন্ত শস্যভাণ্ডারের আকর্ষণে অনেক বিদেশী শক্তি এ দেশটাকে দখলে নিয়েছে; মূল্যবান সম্পদ হস্তগত করেছে। তাদের আরাম-আয়েশের জন্য এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষিজীবী অধিবাসীদের অধীনস্থ রাখতে চেয়েছে। কিন্তু তারা পারেনি। এ দেশ, এ মাটির সোনার ফসল ও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এ দেশের কৃষকরা বারবার বিদ্রোহ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বীর বাঙালি (যাদের অধিকাংশই ছিল কৃষক, শ্রমিক ও মজুর) তাদের নিজস্ব স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের কৃষক সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনা দেয় ঐ গরিব কৃষক, আপনার মাইনা দেয় ঐ জমির শ্রমিক, আপনার সংসার চলে ঐ টাকায়, আমি গাড়িতে চলি ঐ টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন। ওরাই মালিক।’ কৃষকদের সম্পর্কে তিনি আরো বলেছেন, ‘এই স্বাধীনতা তখনই আমার কাছে প্রকৃত স্বাধীনতা হয়ে উঠবে, যেদিন বাংলার কৃষক-মজুর ও দুঃখী মানুষের সকল দুঃখের অবসান হবে;’ ‘আমাদের চাষীরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পিছনে নিয়োজিত করতে হবে।’ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু এভাবেই এ দেশের কৃষকদের মূল্যায়ন করেছেন ও মর্যাদা দেয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, এ দেশের কৃষকদের যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ফলে তরুণ জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশ এখন আর কৃষি পেশায় নিয়োজিত হতে চান না। প্রাচীন ও সুনিশ্চিত পেশা হওয়া সত্ত্বেও তরুণ প্রজন্ম কেন এ পেশায় নিয়োজিত হতে চান না, এর তাত্ত্বিক ও গবেষণাধর্মী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অর্থনীতিবিদরা হয়তো দিতে পারবেন। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে কতিপয় সাধারণ পর্যবেক্ষণমূলক কারণ নিচে তুলে ধরা হলো।
সমাজ মনস্তাত্ত্বিক কারণ: কৃষকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও এখনো তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও মর্যাদা দেয়া হয় না। দেশের শিক্ষিত সম্প্রদায় কৃষকদের খুব একটা মূল্যায়ন আগেও করতেন না; এখনো করেন না। গ্রামের ‘চাষাভুষা’ হিসেবে বরাবরই তারা শিক্ষিত ও অন্যান্য ভদ্র সম্প্রদায়ের কাছে উপেক্ষিতই হয়েছেন এবং এখনো হন। সুতরাং বৃত্তিভিত্তিক কাঠামোতে কৃষকদের প্রতি অন্যান্য পেশার মানুষের যে নেতিবাচক মনোভাব; তার ফল হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জনগোষ্ঠীকে কৃষিকাজে আকৃষ্ট হতে বরাবর নিরুৎসাহিত করেছে। নেহাতই বাধ্য না হলে এ প্রজন্মের কেউই এখন কৃষিকাজে নিয়োজিত হতে চান না। কৃষকদের প্রতি এ ধরনের মনোভাবের ফলে তারাও চান না তাদের ছেলেমেয়েরা কৃষিকাজে যুক্ত হোক।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার: এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, গত কয়েক দশকে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক প্রসার হয়েছে। গ্রামে বাস করে এখন অনেকেই ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি পাস করার সুযোগ পাচ্ছেন। শিক্ষার গুণগত মানের ব্যাপারে হয়তো প্রশ্ন থাকাতে পারে। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ এখন শিক্ষা অর্জন করে অকৃষিকাজে নিয়োজিত হতে আগ্রহবোধ করছেন। ফলে কৃষিকাজে কাজ করার শ্রমিক কমে যাচ্ছে।
শ্রমের বিশ্বায়ন: বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবীর অনেক দেশে কায়িক শ্রমের চাহিদা বেড়েছে। ফলে আমাদের দেশ থেকেও বিগত বছরগুলোতে নতুন প্রজন্মের অনেকেই কাজ করতে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশে গমন করেছেন। এদের বেশির ভাগই গ্রামের কৃষকের ছেলেমেয়ে। এদের মধ্যে অবস্থাপন্ন কৃষকের সন্তানরা যেমন আছেন, তেমনই প্রান্তিক বা ভূমিহীন পরিবারের ছেলেমেয়েরাও আছেন। তাদের অনেকেই জমি বিক্রি করে, ভিটেমাটি বন্ধক রেখে বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে গেছেন অধিক আয়ের জন্য। বিদেশে গিয়ে এদের অনেকেই রাজমিস্ত্রি, গ্রিল বা রঙমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। অনেকেই গাড়ি চালান। অনেকেই বাসাবাড়িতে কাজ নেন। আবার কেউ কেউ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে অর্থ আয় করে দেশে রেমিট্যান্স। এই রেমিট্যান্সের জোরে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ে। সরকার বড় প্রকল্প গ্রহণ করে। সেসব প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির দুর্নীতির কথাও মাঝে মাঝে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিদেশের ব্যাংকে অর্থ জমার কথাও প্রকাশিত হয়। অথচ যে কৃষকের সন্তানেরা অবর্ণনীয় কষ্ট করে বিদেশে অর্থ উপার্জন করে দেশে টাকা পাঠান তাদের প্রতি আমাদের মনোভাব বরাবরই নেতিবাচক।
অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: গত এক দশকে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। ফলে এসব রাস্তায় চলাচলের জন্য হরেক রকম যানবাহন এসেছে। নসিমন, করিমন, ভটভটি, টেম্পো, অটোটেম্পো, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান, মিনিবাস ইত্যাদি। এসব পরিবহনে অনেকেরই কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অনেক তরুণ এখন এসব পরিবহনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ফলে তাদের একটা বৃহৎ অংশ এখন আর কৃষিকাজে যুক্ত হতে আগ্রহী নন।
আশির দশক থেকেই দেশে গার্মেন্ট শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। এ শিল্পে জড়িত বর্তমান তরুণ প্রজন্মের (ছেলে-মেয়ে) বৃহৎ একটি অংশ গ্রাম থেকে আসা। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা এ শিল্পেই কাজ করতে চান। গ্রামে গিয়ে কৃষি পেশায় নিয়োজিত হতে চান না। সুতরাং গার্মেন্টসে কর্মসংস্থানও কৃষি পেশায় নিয়োজিত না হওয়ার একটি কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
স্বাধীনতার পর পরই এ দেশে এনজিও কার্যক্রমের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ত্রাণ কার্যক্রম দিয়ে শুরু করা এনজিওগুলোর কাজ এখন বহুমুখী। দেশের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী অনেক এনজিও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এনজিও খাতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে এ দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহৎ অংশ নিয়োজিত। সুতরাং কৃষি পেশায় তাদের নিয়োজিত হওয়ার আগ্রহ কমে গেছে।
তরুণ প্রজন্মের বিশাল এক অংশ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গড়ে ওঠা দোকানপাট, শপিংমলে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওষুধ শিল্প, নির্মাণ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তাদের কাজের সুযোগ ঘটছে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পর্যটন খাতে কাজ করছে। পণ্য বিপণন খাতেও অনেকের কাজের সুযোগ হচ্ছে। ফলে কৃষিকাজে নিযুক্ত হতে তাদের আর ইচ্ছা নেই।
আর্থিক সেবা খাতে কর্মসংস্থান: গত কয়েক দশকে এ দেশে অনেক ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেখানে শহর ও গ্রামের তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে গ্রামীণ শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশের এই সেক্টরে কাজের সুযোগ ঘটেছে।
ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব ও ইন্টারনেটভিত্তিক কর্মসংস্থান: বিগত কয়েক বছরে দেশে ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব ঘটেছে। অনেক মোবাইল ফোন কোম্পানি এসেছে, যেখানে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া ইন্টারনেটে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে কাজ করার সুযোগ হওয়ায় অনেকেই এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই কাজ করে অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে গ্রামীণ কৃষি পেশায় নিয়োজিত হওয়ার প্রতি তাদের অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষার প্রসার: এ কথা সত্য, দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার হয়েছে। গ্রামের অশিক্ষিত বা আধাশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের অনেকেই কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে এই খাতে কাজ পাচ্ছে। দেশীয় ইলেকট্রনিকস কোম্পানির পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা ছোট ছোট এন্টারপ্রাইজে তারা কাজ করছে ও অন্যদেরও কাজের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। শহরে ও গ্রামাঞ্চলে মোবাইল ফোন মেরামত, কম্পিউটার মেরামত, টেলিভিশন, ফ্রিজ মেরামত, ইলেকট্রিকের কাজ, ওয়েল্ডিং, গ্রিল তৈরি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন মেরামত, সেলাই প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ আমরা দেখতে পাই, যেখানে তরুণ প্রজন্মের অনেক ছেলে-মেয়ে কাজ করছে।
কৃষির যান্ত্রিকীকরণ : বিগত দশকগুলোতে দেশে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির হালচাষ, ধান লাগানো, কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে যন্ত্রের ব্যবহার আমরা দেখতে পাই। যেসব কাজ আগে মানবশ্রম দ্বারা সম্পাদিত হতো, এখন তা যন্ত্রের দ্বারা হয়ে থাকে। ফলে কৃষিতে মানব শ্রমের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো আরো বেশি যান্ত্রিকীকরণ হবে সেক্ষেত্রে এই খাতে মানব শ্রমের চাহিদা আরো কমে যাবে। সুতরাং তরুণ প্রজন্মের জন্য এখানে কাজের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে।
খামারভিত্তিক কৃষিকাজ : কৃষির অন্যতম দুটি খাত প্রাণিসম্পদ ও মত্স্যকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে খামারভিত্তিক পরিকল্পিত চাষাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পোলট্রি খামার, গরু-ছাগলের খামার, মাছ চাষের খামার ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও অনেক তরুণ এসব উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগে ঋণ সরবরাহ না থাকা, বাজার ব্যবস্থার দুরবস্থা, রোগবালাই প্রতিরোধ করতে না পারার কারণে অনেকেই লোকসান দিচ্ছেন ও এই কাজে আগ্রহ হারিয়ে বিকল্প কর্মে নিযুক্ত হচ্ছেন।
শিল্পায়ন: গত ৫০ বছরে দেশে কম-বেশি হলেও শিল্পায়ন ঘটেছে। বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে, যেখানে তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই কর্মসংস্থান হয়েছে। ফলে কৃষি খাতের উদ্বৃত্ত শ্রম শিল্প কলকারখানায় নিয়োজিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করেছে। এই ৫০ বছরে দেশের কৃষি খাতের অনেক অগ্রগতি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু তা সত্ত্বেও কৃষি খাত ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম নেয়া হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত তেমন নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ জন্য তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন এ পেশায় আসতে চান না। সুতরাং তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে এ পেশায় নিয়োজিত করতে হলে কৃষি সংস্কারসহ আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে তাদের অভিমত।
ড. মতিউর রহমান: গবেষণা পরামর্শক
হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (এইচডিআরসি)