পলিসি কনক্লেভ

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ধারাবাহিক নীতি পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে

আমরা জ্বালানি রূপান্তরের কথা বলছি। তাই কীভাবে এ খাতের উপকার হবে সে নীতিমালার দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো থাকা জরুরি।

গোটা বিশ্বই পরিবেশ সংবেদনশীল জ্বালানি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। বণিক বার্তা আয়োজিত এ ধরনের কনক্লেভে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সবাই অংশ নিলে ভাবনার প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। সেটি আমাদের উপকার এনে দিতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষেত্রে আমাদের অনেকগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু এ জ্বালানি খাত বহুমুখী করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সহায়তা করতে হবে। একটি জাতীয় কমিটি করার মাধ্যমে মতবিনিময় করতে পারলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যেত।

প্রথমত, আমাদের জ্বালানি নীতিমালা স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য হতে হবে। যেকোনো নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। নীতি তৈরির আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোলার খাতের শুল্ক ছাড়সংক্রান্ত যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা আমরা এখনো কেউ বুঝি না। কমানোর পরিবর্তে এখন বেড়ে গেছে। এই যে পলিসির একটা স্বচ্ছতা নেই এবং পলিসি করার আগে এনগেজমেন্ট নেই—এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ধারাবাহিকভাবে নীতি পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। আজ যদি কেউ এলএনজি বা এলপিজি খাতে বিনিয়োগ করতে চায়, তাকে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী একটি নীতি কাঠামোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। রাতারাতি নীতি বদলে গেলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেন। নীতি যদি স্বচ্ছ ও প্রেডিক্টেবল হয়, তবেই দেশে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। পূর্বানুমানযোগ্যতাও একইভাবে জরুরি। একজন বিনিয়োগকারী যখন মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে জ্বালানি সংযোগের অপেক্ষায় থাকেন, তখন তাকে জ্বালানি সরবরাহ করা সরকারের একটি নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সঠিক পূর্বাভাসের অভাব ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার সার্বিক প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতির সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন)। এটা প্রেডিকশন না থাকার কারণে হচ্ছে। তাই আমাদের একটি প্রেডিক্টেবল রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক দরকার। নীতিমালার মধ্যে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে সব ধরনের বিনিয়োগকারী আগ্রহী হবেন।

টেকসই অর্থনীতির জন্য আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির কথা বলছি। এখানে খেয়াল করা জরুরি, আগামী ৫-১০ বছরে পূর্ণ সক্ষমতা প্রয়োগ করেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে আমরা ১০ বা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অবদান রাখতে পারব। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ের কী হবে? এজন্য এলপিজি, এলএনজি আর অন্য জ্বালানি পণ্যের সংমিশ্রণ বাড়াতে হবে। না হলে অর্থনীতি গতিশীল হবে না। শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ব্যাংক বা অন্য আর্থিক সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপদে পড়বে। কারণ তারাও এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই আমাদের নীতিমালা তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি হ্রাসের জন্যও কাজ করতে হবে। সেটা ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে হবে। সরকার যদি একটি ইন্স্যুরেন্স পলিসি এখানে চালু করতে পারে, যার মাধ্যমে ঝুঁকি হ্রাস করা যাবে তাহলে একটা দিকনির্দেশনা মিলবে। সংকটকালে আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া শিখতে হবে। এখন আমরা এলএনজি ও এলপিজি নিয়ে ভাবছি। এগুলো ভাসমান হবে নাকি ভূমিনির্ভর হবে—তা নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে কেন?

বাংলাদেশে পৃথিবীর অন্যতম বড় গভীর সমুদ্রবন্দর রয়েছে। এখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার সুযোগ দেয়া হোক। যাতে তারা ভূমিনির্ভর স্টেশন গড়তে পারে। কারণ এগুলো অন্য অঞ্চলে বাণিজ্য প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহযোগিতা করবে। আমাদের এলএনজি ব্যবসার মডেলটা বুঝতে হবে। উপযুক্ত পরিকল্পনা নিয়ে মাতারবাড়ীকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জ্বালানি হাবে রূপ দেয়া সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বাংলাদেশ যেকোনো দামেই জ্বালানি পণ্য কিনতে বাধ্য হয়। এটা জ্বালানি নিরাপত্তা নয়। এজন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও বড় আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। সমস্যা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে যে পরিবেশ আছে তা আমরা দেশে নিশ্চিত করতে পারছি না। এখন টার্মিনাল নিয়ে আমাদের বারবার আলাপ করতে হচ্ছে। তার চেয়ে বিনিয়োগকারীদের এখানে প্রস্তাব নিয়ে আসার সুযোগ দেয়া হোক। তারা প্রস্তাব দিক এবং সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন করুক। দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে কিছুই মিলবে না। আমাদের রূপান্তরের দিকে এগোতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এরই মধ্যে বলেছে, ২০৩০ সালের পর তারা যেকোনো ধরনের জ্বালানিই ব্যবহার করবে। দেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব দেয়ার পর মাসের পর মাস আটকে থাকে। সুখবর হলো সরকার বলেছে এখন কেউ কিছু আটকে রাখতে পারবে না। সরকারি নীতি যদি সিদ্ধান্ত নেয়াই হয় তাহলে দ্রুত নিতে আপত্তি কোথায়?

জ্বালানিকে কেন্দ্র করে আমাদের ভাবনার ফ্যালাসিগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে। বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রয়েছে। আবার জ্বালানি স্থানান্তরও একটি সমস্যা। গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দুটোই স্থানান্তরের জন্য আমাদের লাইন লাগবে। এক্ষেত্রে আমরা আরেকটি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এখনো বন্দর থেকে পণ্য ত্যাগ করাতে দেরি হয়। এক্ষেত্রে কাস্টমস বড় প্রভাব রাখে। অবশ্য বন্দর এখন কার্যকর হতে শুরু করেছে। অ্যাসাইকুডার মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে তারা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের পর তা ত্যাগ করাতেও সময় কম লাগার কথা। সেটা কোনো কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। বিশ্বের প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব এনার্জি টার্মিনাল আছে। জ্বালানি সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে সরবরাহের জন্য বৃহৎ এনার্জি টার্মিনাল প্রয়োজন। আমাদের এমন কোনো টার্মিনাল নেই। আছে কোনো রকমে ৪০ দিনের একটি সংরক্ষণাগার। বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য এটি অনেক ছোট। এটি বিবেচনা করে হলেও আমাদের নিজস্ব টার্মিনাল তৈরি করতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এখন একটি অদ্ভুত বিষয়। সেখানে প্রতিবারই বলা হয় আনসলিসিটেড অফার দিলে হবে না। পিপিপির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু পিপিপিতে গেলে কবে নাগাদ ফল পাবেন তার নিশ্চয়তা নেই। পিপিপির প্রক্রিয়াও এখনো আগের মতোই। যদি সেটাই হয় তাহলে তা দ্রুত কেন করা যাচ্ছে না? এটাও ভালো যে সরকার প্রথমবারের মতো পিপিপি, বেজা আর বিডার সমন্বয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এটি কত দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে।

আমাদের আলোচনার মূলকেন্দ্র পাইকারি পর্যায়ের জ্বালানি। এক্ষেত্রে হাইড্রোজেনে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমানে এটি অনেক ব্যয়বহুল হলেও আমাদের জন্য সহজ। জ্বালানি স্টোরেজও একটি ভালো সমাধান। তৃতীয়টি হলো স্মার্ট জ্বালানি কাঠামো। বর্তমানে জ্বালানি গ্যাস ও তেলের পাইপলাইনগুলোতে ৫-৭ শতাংশ সিস্টেম লস হয়। গোটা বিশ্বে তা শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে জিআইএস-নির্ভর স্কাডা সিস্টেম থাকা উচিত। এভাবে কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা যাবে এবং সমাধানও দ্রুত হবে। আমরা একদিকে জ্বালানি রূপান্তর চাচ্ছি আর অন্যদিকে পরিবেশের সুরক্ষাও দাবি করছি। এজন্য জ্বালানি ব্যবহারে সংবেদনশীলতা লাগবে। কার্বন ও সালফার যেন আরো কম নির্গত হয় তেমন জ্বালানি মিশ্রণ ব্যবহার বাড়াতে হবে। তাই আমাদের উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে। গোটা বিশ্বই উদ্ভাবনী কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান এগুলো কীভাবে করতে পারে সেটা হবে উদ্ভাবনের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের অতীতে কী ছিল আর এখন কী আছে তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের সুযোগগুলোর কথা ভাবতে হবে। ভবিষ্যতেও সোলার, নিউক্লিয়ার, প্রাকৃতিক গ্যাস ও হাইড্রোজেন গুরুত্ব পাবে। যে জ্বালানিগুলোর তালিকা আমরা করছি সেগুলোর আহরণ করায় কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে তা শনাক্ত করতে হবে আমাদের। এটা দ্রুত হবে না। সময় লাগবে। তাই গবেষণা ও উন্নয়নে আমাদের আরেকটু বিনিয়োগ করা দরকার। আমরা বরাবরই জ্বালানি কিনছি, উদ্ভাবন আমাদের নেই। উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার কথা বলা যায়। তারা প্রতি ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে ৬০০ ফিলিং স্টেশন করেছে। এভাবে গাড়িতে সহজেই হাইড্রোজেন দেয়া যাচ্ছে। উদ্ভাবন তো অসম্ভব কিছু নয়। প্রকৌশলী আর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে আমরা নতুন উদ্ভাবন করতে পারি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিস্যালিনেশন অব ওশেন ওয়াটারও একটি ভালো উদ্ভাবন। সমুদ্রের পানিকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় এবং তাকে জ্বালানিতে রূপ দেয়া যায় তা নিয়ে কাজ হচ্ছে। তারা গ্লোবাল ডিস্যালিনেশন প্লান্ট করেছে। এভাবে বিদ্যুতের পাশাপাশি সুপেয় পানি মিলছে। ফ্রান্স ধারণাগত জায়গা থেকে সোলার ডিস্যালিনেশন প্লান্ট করেছে। একটা ছোট নৌকার মতো বাহনের ওপর সোলার প্যানেল। তার নিচে পানি। নদীনির্ভর দেশ হওয়ায় আমরাও এ পদ্ধতিতে মানুষকে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে পারি। বাংলাদেশে এটি ভাসমান প্রকল্প হিসেবে চালু করা খুব কঠিন হবে না। সর্বশেষ আরেকটি উদ্ভাবনের কথা বলা যেতে পারে ‘ফট্রিঅন’ সিমপ্লিফাইং ক্লিন এনার্জি। সরাসরি সূর্যালোক থেকে হাইড্রোজেন আহরণ। এ হাইড্রোজেন পরবর্তী সময়ে সোলারে সংরক্ষণ করা যাবে এবং একটি স্টেশন থেকেই বিতরণ করা যাবে।

জ্বালানি খাতের রূপান্তরে আমাদের বরাবরই অর্থায়নের জটিলতার মুখে পড়তে হবে। তবে প্রতিটি ব্যাংকেরই রিফাইনান্সিং স্কিল ফর গ্রিন এনার্জি আছে। এ ব্যাংকগুলোকে সংগঠিত করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে একটি আলোচনা করা গেলে ভালো হয়। কারণ ব্যাংকাররা কখনো ক্রেতা অনুসন্ধানের জন্য যান না। বরং গ্রাহক যেন তার কাছে যান সেটাই তাদের প্রত্যাশা। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ জ্বালানি দেশে একদমই নতুন খাত। সেক্ষেত্রে যদি সবাইকে একত্র করা যায় তাহলে অর্থায়নের সুযোগগুলোও পাওয়া যাবে। সেখান থেকে অর্থায়ন আদায় করে নেয়া কঠিন হবে না।

মনে রাখা জরুরি, শিল্প খাত ও আর্থিক খাতের টেকসই সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি। শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তা শুধু শিল্প খাতের ক্ষতি নয়, যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেখানে হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে, তারাও চরম আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে। তাই যেকোনো উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হতে হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি। বাসাবাড়ির হোম সলিউশন কিংবা রুফটপ সোলারের মতো ক্ষুদ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে যারা বিনিয়োগ করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাদের সুরক্ষায় সরকার বিশেষ ইন্স্যুরেন্স পলিসি চালুর চিন্তাভাবনা করতে পারে। ঝুঁকিহ্রাস প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে ছোট-বড় সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারী এ খাতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে উদ্ভাবন আর দ্রুত সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে হবে।

আজম জে চৌধুরী: চেয়ারম্যান, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ

[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]

আরও