কালের পরিক্রমায় নদীমাতৃক বাংলাদেশে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদ-নদীগুলো এ দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। উচ্চ আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে নদ-নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। যদিও বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের সর্বশেষ রিপোর্ট ২০২৩ অনুযায়ী মোট নদ-নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৮টি। সংখ্যায় যা-ই থাকুক, বাংলাদেশের নদীগুলো দুই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন। প্রথমত, গুটিকয়েক ছাড়া দেশের প্রায় সব নদী ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতে বিভিন্ন জায়গায় নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে, খরার সময় পানিশূন্য থাকার ফলে অনেক নদী ফসলের মাঠ বা বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদী দূষণ, নদী দখল, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, নদীর তীর কাটাসহ সার্বিক বিপর্যয় ঘটাচ্ছে এ দেশের কিছু মাফিয়া। নদী রক্ষার জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে মারাত্মক বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। দেশে বর্তমানে বয়ে যাওয়া উত্তপ্ত তীব্র তাপপ্রবাহ কমাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানিসম্পদের সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিচ্ছেন। এ লেখায় মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ কারণগুলোর বিশ্লেষণ এবং আইনি সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের নদ-নদীর সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের ২০১৯ সালের রায়টিকে বেজ লাইন হিসেবে ধরা যায়।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ১৩৯৯৮/২০১৬, মামলায় তুরাগ নদীকে আইনগত সত্তা বা আইনি ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাকি ৪০৪টি নদীকেও এ মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়ে আইনগত ব্যক্তিসত্তার যথাযথ মর্যাদা এবং অধিকার উপভোগ করার জন্য ‘নদী রক্ষা কমিশন’কে তুরাগ নদীর অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেন। নদীর আইনগত সত্তার এ মামলায় আদালত ১৭টি আদেশ ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং সেগুলোকে চলমান আদেশ বা কন্টিনিউয়াস মেন্ডামাস হিসেবে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে মামলার রায়ের প্রয়োগ সবসময়ই চলমান থাকবে। নদীর আইনগত ব্যক্তিত্ব ঘোষণার বিষয়টি দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
নদীর আইনি সত্তা: প্রথম আদালত হিসেবে ২০১৬ সালে আত্রাতো নদীর স্বাধীন আইনগত সত্তা ঘোষণা করেছিলেন কলম্বিয়ার সাংবিধানিক আদালত। পরবর্তী সময়ে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হাইকোর্ট মোহাম্মদ সেলিম বনাম উত্তরাখণ্ড রাজ্য এবং অন্যান্য মামলায় গঙ্গা-যমুনা এবং এদের সব শাখা-প্রশাখাকে আইনগত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আইনসভার তালিকায় নদীকে আইনি ব্যক্তি হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেছিল নিউজিল্যান্ডের আইনসভা। নদীর আইনগত ব্যক্তিসত্তা ঘোষণার আদালত হিসেবে বাংলাদেশের আদালত তৃতীয়। নদীর সুরক্ষা দিতে আদালত এ মামলায় নদীর আইনগত সত্তা প্রদান করেছে মূলত পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি হিসেবে। তুরাগ নদীর আইনই ব্যক্তিসত্তা ঘোষণার প্রয়োজন কেন এ ব্যাপারে আদালত বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মামলার ২৭৭ নং পৃষ্ঠায় আদালত বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিবেদনের আলোকে বর্ণনা করেছে যে তুরাগ নদীসহ বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক জায়গা হুমকির সম্মুখীন। বিশেষ করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি এবং ক্ষমতাসীনরা তুরাগ নদীর জায়গা অবৈধভাবে মাটি ভরাট করার মাধ্যমে দখল করে ভবন নির্মাণ করছে। ফলে এটি বর্তমানে খালে পরিণত হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে বাস্তবে এ নদীর অস্তিত্ব থাকবে না। ক্রমাগত নদীর ওপর এ ধরনের অত্যাচারকে আদালত ‘নদী হত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন যা আদালতের মতে প্রকারান্তে আমাদের সম্মিলিত আত্মহত্যার নামান্তর। যেহেতু নদী ধ্বংস করা মানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হত্যা করা, তাই অবৈধভাবে নদী ভরাটকারীরা মূলত সভ্যতা হত্যাকারীদের থেকে কম নয়। ২৭৮ নং পৃষ্ঠায় আদালতে উল্লেখ করা হয়, তুরাগ নদীর অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে আদৌ ওই নদীটিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। যদিও বাংলাদেশের অন্যান্য নদীও নিরাপদ নয়। ফলে বিশেষ করে তুরাগ নদীকে বাঁচানোর শেষ উপায় হিসেবে আদালত এটিকে আইনি ব্যক্তি বা লিগ্যাল পারসন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তুরাগ নদীর সুরক্ষার জন্য দখলকৃত জায়গার উচ্ছেদ এবং দখল-পূর্বাবস্থায় নদীকে ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেন। আদালত পাবলিক ট্রাস্ট মতবাদকে বাংলাদেশের আইনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশের সব নদ-নদীকে আইনি ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং ‘নদী রক্ষা কমিশন’কে তুরাগসহ সব নদ-নদীর দূষণ ও দখলমুক্ত করা এবং সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য আইনি অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি: সংবিধানের ১৮ক নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা যার মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, নদ-নদী, বন ও বন্যপ্রাণের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য আর আদালত জাতীয় সম্পদকে পাবলিক ট্রাস্ট নীতির আওতায় ব্যাখা দিয়েছেন। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির হানি ঘটানো যাবে না যার মধ্যে পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নাগরিকরা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করতে পারবে। নাগরিকদের একই অধিকার থাকছে সংবিধানের ৩২ ধারার লঙ্ঘন হলে। আদালতের মতে, নদ-নদী দূষণ ও দখল হলে এগুলো বিলীন হয়ে যাবে আর বিলীন হয়ে গেলে পানি না থাকার ফলে মৎস্যসম্পদ থাকবে না। এমনকি কৃষি এবং মানুষের বেঁচে থাকাও সম্ভব হবে না। অর্থাৎ ব্যক্তি তার বেঁচে থাকার সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার হারাবে (পৃষ্ঠা নং ২৭২)। রাষ্ট্র মূলত মালিক নয়, বরং ট্রাস্টি হিসেবে পাবলিক সম্পদের ব্যবহার করার জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
নদী রক্ষা কমিশন: অভিভাবক হিসেবে নদী রক্ষা কমিশনের দায়িত্ব হবে দেশের সব নদ-নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে রাখা। এক্ষেত্রে সরকারি সব অফিস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেয়া আর এক্ষেত্রে সব অফিস সহযোগিতা দিতে বাধ্য থাকবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০১৩ মূলত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে নদীর অবৈধ দখল, শিল্প-কারখানা এবং অন্যান্য কারণে নদীর পানি ও পরিবেশ দূষণ, অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ এবং নদীর তীরে নানা অনিয়ম ইত্যাদি রোধ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে নদীর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ১২ নং ধারা অনুযায়ী কমিশনকে প্রায় ১৫ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পাদনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নদী অবৈধ দখল এবং পুনর্দখল রোধ, নদীর তীরে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পানি দূষণমুক্ত রাখা, মৃতপ্রায় নদী খননের ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিদর্শন করা, বিভিন্ন মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং নদীর পাশাপাশি খাল জলাশয় ও সমুদ্র উপকূল দখলমুক্ত ও দূষণমুক্ত রাখা। তবে হতাশাজনক ব্যাপার হচ্ছে, কমিশন এসব কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে কেবল সরকারকে সুপারিশ বা পরামর্শ প্রদান করবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি হচ্ছে, বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট আইন এবং নীতিমালার পর্যালোচনাক্রমে সংশোধনের জন্য সরকারকে সুপারিশের বিধান কমিশনকে ন্যস্ত করা হয়েছে। কমিশনের এসব আইনগত দুর্বলতা উপলব্ধি করেই হয়তো আদালত উপর্যুক্ত মামলার রায়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে একটি কার্যকরী স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। একই সঙ্গে আদালত নদী দখলকে এবং নদী দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কঠিন সাজা এবং বড় আকারের জরিমানা নির্ধারণ করাসহ মামলা দায়ের করা, বিচারের পদ্ধতি এবং তদন্তসহ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০১৩-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য এখন পর্যন্ত নতুন সংশোধন আসেনি।
নদী রক্ষায় আদালতের অন্যান্য নির্দেশনা: আদালত নিম্ন উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো দিয়েছিলেন। এক. নদী বিষয়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাস অন্তর একদিন ১ ঘণ্টার একটি ক্লাস পরিচালনা করা এবং স্থানীয় নদী পরিদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরিসহ সব প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে এ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা। দুই. সব শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের প্রতি দুই মাসে অন্তত একদিন ১ ঘণ্টার নদীবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। এক্ষেত্রে ওই কল-কারখানার মালিকদের বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা ছিল না। তিন. প্রতি তিন মাস অন্তর প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে নদী বিষয়ক বিভিন্ন প্রোগ্রাম, প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও সেমিনার আয়োজন করা। চার. নদী দখলদার এবং দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলায় নির্ধারিত অফিসের নোটিস বোর্ডে জনসাধারণের অবগতির জন্য টাঙানো। উল্লেখ্য নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রতিটি জেলার নদী, খাল ইত্যাদি জায়গা দখলদারদের নাম তালিকাভুক্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে। পাঁচ. আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি বা জনগণের জাতীয় সম্পত্তি যারা দূষণ এবং দখল করবে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনার মাধ্যমে অন্য সব ব্যাংকে তারা ঋণ গ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হইবে। ছয়. ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি বা জনগণের জাতীয় সম্পত্তি দূষণকারী এবং দখলকারীরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৩ সালের আইনের সংস্কারের বাস্তবায়ন জরুরি। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন ২০২০ এখনো খসড়া আকারে রয়েছে। এ খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারায় মূলত উচ্চ আদালতের ২০১৯ সালের রায়কে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে উল্লিখিত দিকনির্দেশনাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রতি বিভাগে একটি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা, কমিশনের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অর্থ সরবরাহ, নদী সংক্রান্ত বিষয়াদির সর্বোচ্চ প্রচার এবং প্রসারসহ শতাধিক ধারায় সমৃদ্ধ আইনটি নজর কেড়েছে বিভিন্ন মহলের। তবে আদালতের সরাসরি নির্দেশ থাকার পরও এখনো আইনটির বাস্তবায়ন না হওয়া হতাশাজনক। প্রাথমিকভাবে এ আইনের বিস্তর প্রয়োগ করতে পারলে বর্তমান দুর্দশার অবস্থা থেকে কিছুটা উত্তরণ সম্ভব হবে। এটি সংসদে পাস করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। কমিশনের ক্ষমতা এবং জনবল বৃদ্ধি করাও প্রয়োজন। আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণ, সংবাদমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল অনাগত দিনের দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব হবে। নদী না থাকলে বাংলার জীবন-সংস্কৃতি মরে যাবে নিশ্চিত। তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের জবাবদিহিতা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।
মো. মোস্তফা হুছাইন: সহকারী অধ্যাপক, ল স্কুল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়