এখন স্মৃতি সতত: সুখের

শরীফ মিয়ার ক্যান্টিন ছিল একটা মহাতীর্থ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে স্মৃতিচারণা (পর্ব দুই) শামীম আজাদ: আজ চা নিয়ে কথা বললে কেমন হয়? সেলিম তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় চা খেয়েছ? সেলিম জাহান: আজকাল তো কফির বেশ প্রচলন হয়েছে, কিন্তু আমাদের সময় কফি বেশ মহার্ঘ বস্তু ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে যেখানে আমরা চা খেয়েছি, তখন সেখানে কফির খুব প্রচলন ছিল না। তবে চায়ের মধ্যে দু-তিন প্রকার ছিল। একটা হচ্ছে দুধ চা, যাকে মালাই চা বলা হতো। এছাড়া পাতি চা ও লেবু চা। শামীম, আমার মনে হয় হলের খাবার নিয়ে আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে। অবশ্য সুখস্মৃতির পাশাপাশি দুঃখের স্মৃতিও আছে। হলে কী ধরনের খাবার হতো, এটা নিয়ে বোধহয় সবারই উৎসাহ থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে স্মৃতিচারণা (পর্ব দুই)

শামীম আজাদ: আজ চা নিয়ে কথা বললে কেমন হয়? সেলিম তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় চা খেয়েছ?

সেলিম জাহান: আজকাল তো কফির বেশ প্রচলন হয়েছে, কিন্তু আমাদের সময় কফি বেশ মহার্ঘ বস্তু ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে যেখানে আমরা চা খেয়েছি, তখন সেখানে কফির খুব প্রচলন ছিল না। তবে চায়ের মধ্যে দু-তিন প্রকার ছিল। একটা হচ্ছে দুধ চা, যাকে মালাই চা বলা হতো। এছাড়া পাতি চা ও লেবু চা। শামীম, আমার মনে হয় হলের খাবার নিয়ে আমাদের অনেক স্মৃতি রয়েছে। অবশ্য সুখস্মৃতির পাশাপাশি দুঃখের স্মৃতিও আছে। হলে কী ধরনের খাবার হতো, এটা নিয়ে বোধহয় সবারই উৎসাহ থাকবে।

শামীম আজাদ: আমি তো রোকেয়া হলে ছিলাম। আমাদের সকালটা শুরু হতো ঘণ্টা বাজার শব্দ দিয়ে। সকালের নাশতা আনার ঘণ্টা। নাশতা বলতে পাউরুটির মধ্যে হালকা করে মাখন লাগানো। দুপুর ও রাতে বিশাল বিশাল গামলার মধ্যে ডাল থাকত। এ ডাল আর ভাত সবাই যত খুশি তত খেতে পারত। এছাড়া কোনো দিন মাছ, সবজি, মাংস কিংবা ডিম থাকত; ডাইনিং হলের একটি কোনায় ছোট ছোট বাটিতে রাখা হতো। অনেক দিন এমন হয়েছে যে দুপুরের খাবারের সময় অনুযায়ী যেতে পারিনি। তখন যে নারীরা আমাদের জন্য রান্না করতেন, আমরা তাদের দাদি ডাকতাম। তারা রান্না করতেন মাটির চুলায়, তাদের কাছে গিয়ে বলতাম আমরা তো একটুর জন্য পেলাম না, তখন তারা আমাদের জন্য ছোট বাটিতে একটা ডিম ফেটে একটু তেল দিয়ে চুলার নিচে আগুনের মধ্যে দিয়ে দিত। কিছুক্ষণের মধ্যে ডিমটা ফুলে উঠত। ওই খাবারটাই যে কী মহার্ঘ ছিল! আমরা ওই ডিমটা ডাল দিয়ে খেতাম। সবচেয়ে মজার হচ্ছে, মাসে একটা ফিস্ট হতো। এক টুকরো মুরগির রোস্ট আর পোলাও। ঘিয়ের গন্ধ ভাসত তাতে। সেজেগুজে সে কী ঘোরাঘুরি আমাদের ডাইনিং রুমে! সেলিম, ছেলেদের হলে তোমাদের কেমন হতো?

সেলিম জাহান: ভীষণ আনুষ্ঠানিক ছিল। সলিমুল্লাহ হলের লম্বা টেবিলে সেদিন টেবিল ক্লথ বিছানো হতো। উপাচার্য আসতেন। আমাদের হলের তিনটা ব্যাপার বলব, শামীম তুমি যে ডালের কথা বললে, যেটা এখন হলের ছাত্ররা খাচ্ছেন, সেটা প্রথম রান্না করা হয়েছিল ১৯২১ সালে, প্রথম যেদিন হল খুলেছিল। প্রতিদিনই ডাল উদ্বৃত্ত থাকে, তা পরের দিনের ডালে মিশিয়ে দেয়া হয়। দ্বিতীয় হচ্ছে, হল ছাড়ার পর আমি বহুদিন দুটো জিনিস খেতে পারিনি। একটা হচ্ছে আলু। কারণ প্রতিদিন চারটে করে আলু খেতে হতো। পাঁচ-ছয় বছরে আমি হয়তো কয়েক মণ আলু খেয়েছি। তৃতীয়, করলা ও আলু দিয়ে এমন একটি রান্না করা হতো যে তার গন্ধে ভূত ভেগে যাওয়ার অবস্থা হতো। মোটামুটিভাবে আমার মনে হয়, হয়তো মেয়েদের হলের খাবার একটু ভালো ছিল। কিন্তু সলিমুল্লাহ হলের খাবার ভালো ছিল, আমি এটা বলব না।

শামীম আজাদ: রোকেয়া হলে সিঁড়ির কাছে বাঁ দিকে একটা ক্যান্টিন ছিল। যে বৃদ্ধ ভদ্রলোক ওখানে বসতেন, তাকে আমরা নানা ডাকতাম। আমরা তাকে নানা রকম কথা বলে মন ভেজানোর চেষ্টা করতাম, কিন্তু শিঙ্গাড়ার আকার ছোট থেকে কখনো বড় হয়নি। কড়া তেলে ভাজা যে খাবারগুলো আমাদের জন্য রাখা হতো, ওগুলো অনেক সময় খাওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টকর হতো। ফিরে এসে খাবার না পেলে ওটাই আমাদের খেতে হতো। তবে মাঝে মাঝে কিন্তু আমরা শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে খেয়েছি।

সেলিম জাহান: ছেলেদের একটা স্বাধীনতা ছিল। নিজেদের হলের খাবার খারাপ হলে আমরা কিন্তু অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবারঘরে জড়ো হতাম।

শামীম আজাদ: আমরা কি করতাম জানো? আমরা গোপনে রান্না করতাম।

সেলিম জাহান: প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন নতুন দুটো হল হয়েছে—একটি তিতুমীর হল, অন্যটি সোহরাওয়ার্দী হল। পলাশীর মোড়টা পেরিয়ে হলগুলো। কিন্তু কিছুদিন পরে আমরা ওখান থেকে বিতাড়িত হয়েছি বহিরাগত বলে। তার পরে আমরা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে খেয়েছি। ওখানে খাবার ভালো ছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে আমরা বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এখান থেকেও বিতাড়িত হয়েছি। দুটো জায়গায় কিন্তু ছেলেরা খুব খেতে যেত। এখানে মেয়েরা খেয়েছে কিনা, আমি  জানি না। একটি হচ্ছে আলিয়া মাদ্রাসার কাছাকাছি জায়গায় পপুলার রেস্টুরেন্ট ও হাসিনা রেস্টুরেন্ট। কারণ ওখানকার রান্না অনেকটা ঘরোয়া রান্নার মতো ছিল। শামীম তুমি হলে রান্নার কথা বলছিলে...

শামীম আজাদ: হলে ছোট একটা ইলেকট্রিক স্টোভ ছিল আমাদের। আমরা ওটা লুকিয়ে রাখতাম। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল যে খাবার না-হয় রান্না হলো, কিন্তু গন্ধ তো আর আটকে রাখা যায় না। এছাড়া হলের মধ্যে রেডিও বাজানো বা ক্যাসেট প্লেয়ারে গান বাজানো নিষেধ ছিল। আর এ দুটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসত। দরজা-জানলা বন্ধ করে আমরা গান শুনতাম। আর রান্না করলে তেমনিভাবে সব বন্ধ করে রাখতাম। শব্দ আর সুগন্ধ আটকাতে আমরা কখনো দরজার ফাঁকে বালিশও চাপা দিয়েছি। আমরা কিন্তু একা কখনো খেতে পারিনি। যেই না আমরা রান্না করতাম, আশেপাশে মোটামুটি খবর হয়ে যেত, দোতলা-তিনতলা থেকে অনেকেই এসে ভিড় করত।

সেলিম জাহান: ছেলেদের হলেও অনেকেই কিন্তু রান্না করে খেত। এটার খুব সুন্দর বর্ণনা আছে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখায়। ১৯৭১ সালে সেই খাবার রান্না করা অবস্থায় তাদেরকে যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে গেল, সেসব কথা কিন্তু সেখানে বলা আছে। যা-ই হোক, শামীম এবার বোধহয় আমাদের হলের বৃত্ত থেকে বের হতেই হয়।

শামীম আজাদ: তার আগে আরেকটা জিনিস বলতেই হয়, আমাদের হলের নিচের তলায় ছিলেন হাউজ টিউটর মেহেরুনেচ্ছা আপা। আগে বলেছি, আপা অসাধারণ সুন্দরী ছিলেন। কিন্তু তার ছিল বিড়ালের মতো চলন। শ্রবণশক্তি ছিল অসাধারণ। তিনি সব শব্দ শুনতে পেতেন, ঘ্রাণও পেতেন। কাজেই কখন যে আপা মৃদু পায়ে উপরে উঠে আসতেন, আমরা বলতেই পারতাম না। সেলিম, এবার তুমি শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনের কথা বলো।

সেলিম জাহান: আমার মনে হয় শরীফ মিয়ার সব গল্প বলতে হলে দুই-তিন পর্ব পার হয়ে যাবে। সেটা এ কারণে যে তার ক্যান্টিন তো শুধু খাবারের জায়গা ছিল না, শরীফ মিয়ার ক্যান্টিন ছিল একটা মহাতীর্থ। শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে যারা জড়িত, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা তত্পর, তারা সবাই আসতেন। তারা যে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তা নয়। যেমন শেখ লুত্ফর রহমান আসতেন এখানে। আমরা জাহিদুর রহিম, অজিত রায়কে দেখেছি সেখানে। তারা প্রত্যেকেই এখানে আসতেন।

শামীম আজাদ: আবুল হাসান আসতেন, নির্মলেন্দু গুণও আসতেন।

সেলিম জাহান: শরীফ মিয়ার ক্যান্টিনে দুপুরে একদম সাদা একটা পোলাও হতো। পুরো প্লেট নিলে ১ টাকা, হাফ প্লেট নিলে আট আনা।

শামীম আজাদ: মাংসের কথা মনে আছে। এত ছোট টুকরো থাকত যে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে হতো। দুটো কি এক টুকরো মাংস পড়ত প্লেটে।

সেলিম জাহান: সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল শরীফ মিয়ার চা। বিরাট একটা কেটলিতে চা জ্বাল হতো। শরীফ মিয়া ছিলেন একজন হাড় জিরজিরে মানুষ। তার ক্যান্টিনের ডান হাত ছিলেন রমজান। কোনো অবস্থাতেই তার মুখের হাসি ফুরাত না।

শামীম আজাদ: এবার টিএসসির খাবার প্রসঙ্গে আসি। যুদ্ধের আগে সম্ভবত টিএসসির খাবার ১২ আনা করে খেতাম এবং যুদ্ধের পরে ১ টাকা ২৫ পয়সা করে। আমাদের কাছে টিএসসির খাবারটা ভালো লাগত। কারণ এখানে যেন একটা বিদেশ বিদেশ ভাব; ট্রেতে করে খাবার নিয়ে আসতে হতো, তার আগে কুপন নিতে হতো। প্লেটগুলো ছিল মোটা প্লাস্টিকের। একটা প্লেটে আলু ও মাংস, অন্য প্লেটে ভাত দেয়া হতো। সঙ্গে একটুখানি সালাদও দিত।

সেলিম জাহান: শামীম তোমার ট্রের রঙ মনে আছে?

শামীম আজাদ: গাঢ় খয়েরি রঙের...

সেলিম জাহান: আরেকটা ছিল হালকা সবুজ রঙের।

শামীম আজাদ: টিএসসিতে আমরা লাইন দিয়ে খাবার নিতাম। নারী-পুরুষ সবাই এক লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিতাম। কোনো ধরনের বিভেদ ছিল না। আমি কিন্তু টিএসসিতেই প্রক্ষালন কক্ষ শব্দটির সঙ্গে প্রথম পরিচিত হই। 

সেলিম জাহান: আমার যতদূর মনে পড়ে, প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শব্দটার ব্যবহার করেছিলেন। তোমার মনে আছে তখন টিএসসির পরিচালক ছিলেন আমানুজ্জামান খান। আমরা তাকে জামান স্যার বলতাম। টিএসসি কিন্তু ১৯৬১ সালে স্থাপিত হয়, ফোর্ট ফাউন্ডেশনের অর্থে। ফোর্ট ফাউন্ডেশনের অর্থ হলেও স্থপতি কিন্তু কোনো আমেরিকান ছিলেন না। গ্রিক স্থপতি টিএসসির নকশা করেন এবং তার নাম কনস্টান্টিনোস ডক্সিয়াডাস।

শামীম আজাদ: হ্যাঁঁ, টিএসসিতে একটা সমাধি স্তম্ভ আপনারা দেখেছেন। চূড়াটা মন্দিরের মতো, কিন্তু তার সামনে একটা গেট রয়েছে। এটা আসলে ডিমেট্রিয়াস নামে এক গ্রিক ব্যবসায়ীর পরিবারের সাত সদস্যের সমাধিক্ষেত্র। সেখানে কিন্তু গ্রিক ভাষায় কিছু কথা লেখা আছে।

সেলিম জাহান: এই লেখাবিষয়ক একটা গল্প আছে। ১৯৯০ সালের কথা। আমি তখন বিশ্বব্যাংকের জন্য একটা কাজ করছি। বিশ্বব্যাংকের হেলেন আবািজ্জ ওয়াশিংটন থেকে এসেছেন। তিনি গ্রিক সিপ্রিয়ট আর্মেনিয়ান বংশোদ্ভূত। তিনি আমাকে বললেন, আমি শুনেছি তোমাদের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে নাকি একটি গ্রিক মন্দির রয়েছে। আমি তাকে বললাম, ঠিক মন্দির আছে বলে তো আমি জানি না, তবে সমাধিক্ষেত্রের মতো একটি স্মারক ভবন ধরনের স্থাপনা রয়েছে। তিনি এটা দেখতে এলেন এবং সামনে গ্রিক ভাষায় লেখা যে কথাগুলো রয়েছে তার অনুবাদ করে আমাকে শোনালেন। ভেতরের কথাগুলোও অনুবাদ করে বলেছিলেন। কিন্তু সব আমার মনে নেই। তবে সামনে যে কথাগুলো লেখা, তার অনুবাদ করে বলেছিলেন, ‘ঈশ্বর যাকে পছন্দ করেছেন এবং ঈশ্বরের কাছে যারা চলে গেছেন তারা ভাগ্যবান।’

শামীম আজাদ: আমরা যখন গিয়েছি তখন সেখানের ইংরেজি লেখাগুলো মুছে মুছে গেছে কিন্তু গ্রিক অক্ষরগুলো এখনো আছে। ধারণা করা হয়, এ সমাধিগুলো ১৮০০ থেকে ১৮৪০-এর মাঝামাঝি সময়ে তৈরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন মুসলিম জাগরণের ফল, তেমনি ঢাকা যখন রাজধানী হলো, তখন ঢাকার এমন সুনাম বহির্বিশ্বে যে এখানে ফরাসি, ডাচ, আর্মেনিয়ান, সর্বশেষ ইউরোপীয় জাতির মধ্যে গ্রিকরা আমাদের এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে এসেছিল। কিন্তু তারা ফরাসি ও ইংরেজদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি বলে ব্যবসা গুটিয়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু নায়ায়ণগঞ্জে তাদের টেক্সটাইলসংক্রান্ত ব্যবসাগুলো দীর্ঘদিন ছিল। সেখানে আর্মেনিয়ানরাও ছিল তখন।

সেলিম জাহান: বিপুলসংখ্যক আর্মেনিয়ান ছিল এখানে। ঢাকায় আর্মেনিটোলা নামে একটা জায়গাও রয়েছে। সেখানে কিছু গির্জাও রয়েছে।

শামীম আজাদ: এখন জানি না, টিএসসিতে আপনারা একটা সুইমিংপুল দেখেন কিনা। টিএসসির সুইমিংপুলের পাশে বসে আমরা কিন্তু অনেক আড্ডা দিয়েছি। আমি, বাবলি, মহসিন, বেলি, বাহার, হামিদ, নাজলি, শেলী। শেলী তো খুব সুন্দর গান করত যখন-তখন। মাঠটাও যা সুন্দর ছিল। টিএসসির শুধু খাবার নয়, এখানে আমরা যেতাম আড্ডা দেয়ার জন্য। মুনীর চৌধুরী স্যারের ‘চিঠি’ নাটকটা হয়েছিল এই টিএসসিতেই। মুক্তিযুদ্ধের আগে। তখন স্যার বেঁচে ছিলেন। চিঠি নাটকের দিন মনে আছে আমরা সবাই তখন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছি। দৌড়াদৌড়িটা আমরা অনেকটা অকারণেই করছি। সৈয়দ আকরাম হোসেন তখন তরুণ শিক্ষক। নীলিমা ইব্রাহিম আপাও আছেন। স্যারদের-আপাদের সঙ্গে আমরা বসছি—আমাদের কাছে ওটাই মজার। মুনীর স্যার বললেন, ‘পেছনে বসো। পেছনে বসে দর্শকদের অভিব্যক্তি দেখো, তাহলে বুঝতে পারবে যে নাটকটা কেমন হচ্ছে।’ তখন দেখেছি যে টিএসসির শিঙ্গাড়াগুলো আসত। [সংক্ষেপিত] [পুরো নিবন্ধটি পড়তে বণিক বার্তার অনলাইন দেখুন]

 

লেখক পরিচিতি 

শামীম আজাদ : কবি, লেখক ও গল্পকথক। তিনি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখেন। সত্তরের দশকে সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রায়’ শামীম তরফদার নামে প্রবর্তন করেন বাংলাদেশে ফ্যাশন সাংবাদিকতার। যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষার অন্যতম কবির গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি

 

ড. সেলিম জাহান : অর্থনীতিবিদ ও লেখক। কর্মজীবনে বছর দুয়েক আগে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনের পরিচালক ও মুখ্য লেখক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন দুই দশক ধরে। ইংরেজি ও বাংলায় তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এক ডজন এবং প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা দেড় শতাধিক

শ্রুতলিখন: রুহিনা ফেরদৌস

আরও