বণিক
বার্তায় গত মাসে
একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে,
বন বিভাগের এক লাখ
একরের বেশি
বনভূমি দখলে
রয়েছে বিভিন্ন মানুষ ও
প্রতিষ্ঠানের কাছে।
আমাদের বন
বিভাগ রয়েছে
এসব দেখভালের জন্য। তার
পরও কেন
এসব দখল
বন্ধ হচ্ছে
না?
এটি
খুবই
জটিল
আইনি
একটি
প্রক্রিয়া
এবং
এর
মধ্যেও
সুশাসনের
উপকরণ
জড়িত।
তবে
আপনাকে
একটা
কথা
বলি,
একজন
করদাতা
হিসেবে
যদি
আমার
ক্ষমতা
থাকত
বলার
যে
আমার
কর
কোথায়
যাবে
সেটা
আমি
নির্ধারণ
করব,
তবে
আমি
বলতাম
আমার
কর
যেন
কোনোভাবেই
রাজউক
কিংবা
বন
বিভাগে
না
যায়।
আমি
জানি
না
রাজউক
এবং
বন
বিভাগ
তাদের
অস্তিত্ব
কীভাবে,
কেমন
করে
যৌক্তিক
ব্যাখ্যা
করে।
বন
বিভাগে
কোনো
সৎ
লোক
নেই,
আমি
তা
বলছি
না।
হয়তো
কয়েকজন
আছে।
কিছুদিন
আগে
খুবই
দুঃখজনক
একটি
ঘটনা
ঘটেছে।
বন
বিভাগের
একজন
কর্মকর্তা
মহেশখালীতে
দখলদারদের
হাত
থেকে
বনের
জমি
উদ্ধার
করতে
গেলে দখলদাররা
তাকে
মেরেছে
এবং
তাতে
তিনি
মৃত্যুবরণ
করেছেন।
বন
বিভাগে
এ
রকম
কর্মকর্তা-কর্মচারীও
আছেন।
তবে
বড়
অংশই
ব্যত্যয়ী
বলে
আমার
ধারণা,
অন্তত
দেশের
বনের
চিত্র
তা-ই
বলে।
বনের
জমি
কেমন
করে
অন্যের
হয়ে
যায়?
সিএস
দাগে
যে
ভূমি
বন
দেখানো
ছিল,
তা
বন
বিভাগের
উদাসীনতায়
গাফিলতির
সুযোগে
এবং
ভূমি
প্রশাসনের
দুর্নীতির
কারণে
বন
না
দেখিয়ে
আরএস
ও
বিএস
খতিয়ানে
অন্য
কিছু
দেখানো
হয়েছে।
হয়
জেলা
প্রশাসন
খাসজমি
হিসেবে
দেখিয়েছে
বা
ভূমি
অফিস
রেকর্ড
বদলে
অন্য
কাউকে
ইজারা
দিয়েছে,
যার
প্রতিবাদ
বন
বিভাগ
সময়মতো
করেনি।
কোনো
কোনো
ক্ষেত্রে
বন
বিভাগ
নিজে
ডিসি
অফিসের
সঙ্গে
যোগসাজশ
করে
তার
ভূমি
অন্যভাবে
দেখিয়েছে।
আরেকটি
বড়
সমস্যা
হচ্ছে,
আমাদের
যে
রাজনৈতিক
দুর্বৃত্তায়ণ
হয়েছে,
সে
প্রক্রিয়ায়
যার
জমি
লাগবে,
সে
বনে
গিয়ে
একটা
কিছু
স্থাপনা
করে
এবং
জমির
রেকর্ড
কারচুপি
করে
নিজের
করে
নেয়।
বন
বিভাগ
বেশির
ভাগ
ক্ষেত্রেই
এর
বিরুদ্ধে
কোনো
কার্যকর
ব্যবস্থা
গ্রহণ
করেনি।
সরকারও
কোনো
রকম
বিবেচনা
ছাড়াই
বনের
ভূমিকে
উন্নয়নকাজে
বরাদ্দ
দিয়ে
যাচ্ছে।
বরাদ্দ
দেয়ার
ক্ষেত্রে
রাজনৈতিকীকরণের
প্রক্রিয়া
হিসেবে
এমন
একটি
নাম
জুড়ে
দেয়া
হয়,
তখন
অন্যরা
যদি
এখানে
প্রতিবাদ
করতে
আসে
তাহলে
তাদের
লেবেল
লাগিয়ে
দেয়া
হয়
বিরোধী
দল
হিসেবে।
অর্থাৎ
সরকারই
নিজের
নীতি
ভেঙে
বনভূমিকে
অন্য
কাজে
দিয়ে
দিচ্ছে।
ক্যাবিনেট
মিটিংয়ের
পর
সরকার
বেরিয়ে
এসে
বলে
যে
এখান
থেকে
পাঁচ
একর
জমি
নিয়ে
অন্য
অমুক
জায়গায়
১৫
একর
বন
করে
দেব।
কোথায়
যে
তারা
১৫
একর
বন
করে
দেয়,
আমরা
জানি
না।
সরকারের
উপলব্ধির
অভাব
আছে।
গাছ
আর
বন
তো
সমার্থক
বিষয়
নয়।
আপনি
১৫
হাজার
একর
জমিতে
যদি
গাছ
লাগিয়ে
দেন,
সেটা
কিন্তু
বন
হবে
না।
বন
একটা
প্রাকৃতিক
ব্যবস্থা।
এটা
একটা
প্রাণ
ব্যবস্থা।
কোনো
রকম
নিয়মনীতি
ছাড়াই
এ
কাজগুলো
করা
হয়।
এখন
সরকার
বনের
ভেতর
ঢুকে
পড়েছে।
আগে
দুর্বৃত্তায়িত
রাজনীতি
ঢুকত।
এখন
সরকার
একেবারে
নিয়মনীতি
পাশ
কাটিয়ে
ক্যাবিনেট
মিটিং
করে
কীভাবে
বনকে
ব্যবহার
করা
যায়,
তা
রপ্ত
করে
ফেলছে
আর
বলছে
ওখানে
তিন
গুণ
বন
করব,
ওখানে
দ্বিগুণ
গাছ
লাগাব।
আপনার
হাতে
যদি
এতই
জায়গা
থাকে
তাহলে
আগেই
গাছ
লাগাননি
কেন?
বন
কেটে
তার
পরে
লাগাচ্ছেন
কেন?
বাংলাদেশের
তো
বনের
পরিমাণ
আগে
থেকেই
অনেক
কম।
মোট
কথা
হচ্ছে,
বন
সরকারের
অগ্রাধিকার
নয়,
পরিবেশ
সরকারের
অগ্রাধিকার
নয়,
সরকারের
অগ্রাধিকার
হচ্ছে
রাস্তা
আর
তেলের
ডিপো।
মোটামুটি
এই
হচ্ছে
কারণগুলো,
যার
জন্য
আমাদের
বনভূমির
পরিমাণ
কমে
যাচ্ছে
এবং
অন্যান্য
সংস্থা
এগুলো
দখল
করে
নিচ্ছে।
আমাদের বন
বিভাগ
চলে
১৯২৭
সালের
ব্রিটিশ
আইনকে
কেন্দ্র
করে।
আচ্ছা,
ব্রিটিশরা
কি
ওই
সময়
আমাদের
বন
রক্ষা
করতে
এসেছিল?
তারা
তো
এসেছিল
আমাদের
বনকেন্দ্রিক
বাণিজ্য
করতে।
আমরা
এখনো
সেই
বন
আইন
দিয়েই
চালাচ্ছি।
ভারত
ও
পাকিস্তান
একই
আইনে
বন
চালায়
কিন্তু
পাশাপাশি
তারা
বন
সংরক্ষণ
আইন
বলে
নতুন
একটা
আইন
করে
নিয়েছে।
আমরা
তা
করিনি।
বন
আইন
আমাদের
দেশের
একমাত্র
আইন,
যেখানে
বন
বিভাগের
দায়িত্ব
ও
কর্তব্য
বলে
কিছু
নেই।
কারণ
ওটা
তো
ব্রিটিশ
সরকারের
বন
বিভাগ,
ওর
শুধু
ক্ষমতা
আছে,
কোনো
দায়িত্ব-কর্তব্য
নেই,
তাই
বন
বিভাগ
শালবনে
শাল
গাছ
কেটে
ইউক্যালিপটাস
ও
আকাশমণি
গাছ
লাগায়।
শাল
গাছ
কেটে
অন্য
বাণিজ্যিক
প্রজাতির
গাছ
লাগায়।
আমরা
যদি
বননীতি
পড়ে
দেখি,
সেখানে
বলা
আছে
জীববৈচিত্র্য
রক্ষায়
যতটুকু
প্রয়োজন
ততটুকু
রেখে
বাকি
সব
বন
বাণিজ্যিক
বনায়নে
আনা
হবে।
কাজেই
প্রাকৃতিক
বন
কেটে
কেটে
বাণিজ্যিক
বিবেচনায়
গাছ
লাগানো
হচ্ছে।
সেগুন
গাছ
মাটির
নিচের
পানি
টেনে
নিচ্ছে।
পাহাড়ি
ঝরনাগুলো
শুকিয়ে
যাচ্ছে।
আকাশমণি
গাছে
পাখি
তেমন
বসে
না।
প্রাকৃতিক
ঘন
সবুজ
হারিয়ে
যাচ্ছে,
ন্যাড়া
বনের
ভূমিতে
স্থাপনা
উঠছে।
রামপাল
হলে
সুন্দরবন
হুমকিতে
পড়বে,
শাল
ও
পাহাড়ি
বন
গতপ্রায়—এমন
অবস্থায়
দেশের
বনের
অস্তিত্ব
নিয়ে
আমি
সত্যিই
শঙ্কিত।
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে গিয়ে
সুন্দরবনের কাছের
স্থানকে বেছে
নেয়া হয়েছে। এতে আমাদের ইকোলজিক্যাল কী
ধরনের প্রভাব পড়বে?
প্রথম
কথা
হচ্ছে,
বাংলাদেশের
কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎ
প্রকল্পে
যাওয়ারই
কোনো
দরকার
ছিল
না।
বিশ্ব
পরিবেশ
রক্ষার
ক্ষেত্রে
বাংলাদেশ
যদি
একটু
স্মার্ট
হতো,
আধুনিক
চিন্তা
করত,
নেতৃত্ব
দিত,
যেমন
রুয়ান্ডা
দিচ্ছে,
কোস্টারিকা
দিচ্ছে,
তাহলে
আমরা
সৌরবিদ্যুতের
দিকে
অনেক
দূর
এগিয়ে
যেতে
পারতাম।
কিন্তু
মুশকিল
হচ্ছে,
আমাদের
রাজনীতি
এখন
এমন
একটি
পর্যায়ে
এসেছে
যে
বিশ্বের
অন্য
সব
দেশকে
খুশি
করে
আমাদের
চলতে
হচ্ছে।
জলবায়ু
পরিবর্তনের
কারণে
বিশ্বসম্প্রদায়ের
কাছ
থেকে
ভারত
ও
চীন
এক
ধরনের
চাপের
মুখে
আছে।
নিজ
দেশের
কার্বন
নিঃসরণ
কমানোর
জন্য
ভারত
ও
চীন
তাদের
কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎ
প্রকল্প
কমিয়ে
দিচ্ছে।
কিন্তু
তারা
যা
করছে
তা
হচ্ছে,
তাদের
কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎকেন্দ্র
কমিয়ে
সেগুলো
বাংলাদেশের
মতো
দেশে
পাঠিয়ে
দিচ্ছে।
আর
বাংলাদেশ
তার
ভূরাজনৈতিক
কারণে
এগুলো
গ্রহণ
করছে।
মোদ্দাকথা,
বাইরের
রাজনীতির
ভার
আমরা
বহন
করছি।
আমাদের
রাজনীতি
জনমানুষকেন্দ্রিক
না
হওয়ায়
বহির্বিশ্বের
চাপানো
প্রকল্পের
ভার
বহন
করতে
হচ্ছে।
বাংলাদেশে
এতগুলো
কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎকেন্দ্র
হচ্ছে,
তবে
কয়লানীতি
কিন্তু
কোনো
সরকারই
এখনো
অনুমোদন
করতে
পারেনি।
তাই
বলব
নীতিহীন
উন্নয়নের
দিকে
আমরা
ধাবিত
হচ্ছি।
যদি
একটি
সুনির্দিষ্ট
নীতি
থাকত
তাহলে
আমরা
বুঝতাম
সরকার
কেন
কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎকেন্দ্রের
দিকে
যাচ্ছে।
বাংলাদেশ
চাইলেই
রুয়ান্ডার
মতো,
কোস্টারিকার
শতভাগ
সৌরবিদ্যুতের
দিকে
চলে
যেতে
পারত।
আমাদের
মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু
পরিবর্তন-সংক্রান্ত
কপ-১৬
সম্মেলনে
গিয়েছিলেন।
৫০টা
দেশের
মধ্যে
বাংলাদেশও
ছিল।
প্রধানমন্ত্রী
কিন্তু
সেখানে
বলেছেন,
২০৫০
সাল
নাগাদ
বাংলাদেশ
১০০
ভাগ
সৌরবিদ্যুতে
চলে
যাবে।
কিন্তু
সে
ধরনের
কোনো
কর্মকাণ্ড
দেখতে
পাচ্ছি
না
দেশে।
কিছুদিন
আগে
পরিবেশ
ও
বন
মন্ত্রণালয়ের
স্থায়ী
কমিটি
সরকারকে
শতভাগ
নবায়নযোগ্য
জ্বালানির
সম্ভাব্যতা
যাচাই
করতে
বলেছে।
সেটি
আশার
কথা।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের
কথায়
আসি।
ভারত
নিজের
দেশে
সুন্দরবনের
১৪
কিলোমিটারের
মধ্যে
এটা
করবে
না,
কারণ
তার
দেশের
আইন
এর
অনুমতি
দেয়
না।
ইউনেস্কো
বারণ
করার
পর
সরকার
বলছে
ঠিক
আছে,
রামপালে
প্রথম
কেন্দ্র
করব
কিন্তু
দ্বিতীয়
কেন্দ্র
করব
না।
দ্বিতীয়টা
যে
যুক্তিতে
আপনি
বাতিল
করেন,
সেই
একই
যুক্তি
কি
প্রথম
ধাপের
ক্ষেত্রেও
প্রযোজ্য
নয়?
অবশ্যই
প্রযোজ্য,
তবে
সেটি
করছেন
কেন?
কারণ
এখানে
কেবল
বাংলাদেশ
বিষয়
না।
এছাড়া
এর
অদূরে
চীনের
কিছু
বিদ্যুৎকেন্দ্র
থাকবে।
তারাও
রামপালের
মতো
একই
নৌপথ
ব্যবহার
করবে।
এক্ষেত্রে
চীনও
মনে
করছে
এখানে
যদি
আমরা
হেরে
যাই,
আমাদের
পিছু
হটতে
হয়,
তাহলে
এই
নৌপথ
তো
আমরা
ব্যবহার
করতে
পারব
না।
চীন-ভারত-বাংলাদেশের
যৌথ
রাজনৈতিক
শক্তি
সুন্দরবনের
বিরুদ্ধে
দাঁড়িয়ে
গিয়েছে,
দাঁড়িয়ে
গিয়েছে
কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুতের
পক্ষে।
এটাকে
কেন্দ্র
করে
আবার
রামপাল
ও
সুন্দরবনসংলগ্ন
অনেক
লাল
তালিকাভুক্ত
শিল্পপ্রতিষ্ঠান
রাতারাতি
এক
কলমের
খোঁচায়
সবুজ
তালিকাভুক্ত
করা
হচ্ছে,
সেগুলোকে
পরিবেশগত
ছাড়পত্র
দিয়ে
দেয়া
হচ্ছে।
আমরা
বুঝতে
পারছি
না
যে
কয়লাবিদ্যুৎ
প্রকল্প
যদি
সরকারের
করতেই
হয়
তাহলে
কেন
রামপালেই
করতে
হবে,
অন্য
একটা
জায়গায়
কেন
নয়?
আমাদের
বুঝতে
অসুবিধা
হচ্ছে
না
স্থান
হিসেবে
রামপাল
নির্বাচন
ভূরাজনীতি,
কয়লা
হয়তো
এখানে
মুখ্য
নয়।
রামপাল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণের
বিষয়টা
অনেক
পরে
করা
হয়েছে।
আগেই
জমি
অধিগ্রহণ
করা
হয়েছে।
তার
মানে
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণের
বিষয়টা
অনেকটা
কর্তার
ইচ্ছায়
কর্ম
হয়েছে।
পরিবেশবাদীরা
যেহেতু
বিরোধিতা
করেছিল,
তাই
কাগজে-কলমে
দেখানোর
জন্য
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণ
করা
হয়েছে।
আমার
কথা
হচ্ছে,
আগে
জমি
অধিগ্রহণ
করে
পরে
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণ
করার
অর্থটা
কী?
এর
অর্থ
হলো,
আপনি
এখন
দেখাতে
বাধ্য
যে
পরিবেশগতভাবে
প্রকল্পটির
সবকিছুই
ঠিক
আছে,
তা
নয়তো
অধিগ্রহণকৃত
জায়গার
কী
হবে?
মহেশখালী
আমরা
আমাদের
চোখের
সামনে
ধ্বংস
হয়ে
যেতে
দেখলাম।
টেকসই
উন্নয়নের
মূল
মন্ত্রটা
হচ্ছে
আপনি
যা
উপভোগ
করেন,
আপনার
পরবর্তী
প্রজন্মও
তা
উপভোগ
করবে,
তার
জন্য
আমাদের
রেখে
যেতে
হবে।
কিন্তু
মহেশখালীর
ক্ষেত্রে
আমাদের
পরবর্তী
প্রজন্ম
আর
সেই
মহেশখালী
দেখবে
না,
যা
আপনি
দেখছেন।
এ
প্রকল্পগুলো
প্রয়োজনীয়
কিনা,
সেটিও
বড়
বিতর্কের
দাবি
রাখে
এবং
ভবিষ্যতে
এর
উত্তর
আমরা
নিশ্চয়ই
পাব।
আমরা
পরিবেশবাদীরা
আমাদের
মতামত
দিয়েছি
কিন্তু
সরকার
এগুলোকে
ঠেলে
ফেলে
নিজের
যেটা
উপযুক্ত
মনে
হয়েছে
সেটা
করেছে।
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণের
যে
বস্তুনিষ্ঠতা,
রামপাল
ও
মহেশখালীতে
সরকারের
রাজনৈতিক
ইচ্ছার
ও
স্বার্থের
কাছে
তা
হার
মেনেছে।
আমাদের জলবায়ু, পরিবেশ, পানি,
বন প্রভৃতি রক্ষায় আইনি
সুরক্ষা পর্যাপ্ত রয়েছে কি?
যেটুকু সুরক্ষা আছে, সেটি
কেন যথাযথ
প্রয়োগ হচ্ছে
না?
আইনি
সুরক্ষা
৮০
শতাংশই
আছে।
যেটুকু
আছে
সেটুকু
আমরা
যদি
কাজে
না
লাগাই
নতুন
সুরক্ষা
এনে
লাভটা
কী
হবে?
আইনি
সুরক্ষা
থাকলেও
অনেক
ক্ষেত্রেই
যেহেতু
রাজনৈতিক
প্রত্যয়
নেই,
রাজনৈতিক
প্রতিশ্রুতি
নেই,
কাজেই
আইনগুলো
বাস্তবায়ন
হচ্ছে
না।
যারা
আইন
বাস্তবায়ন
করবেন,
তারা
নিজেদের
রাজনৈতিক
প্রভাবমুক্ত
করতে
পারছেন
না
এবং
দুর্বৃত্তায়িত
রাজনীতির
কারণে
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
প্রক্রিয়ার
প্রচুর
দুর্নীতির
প্রভাব
আছে।
সমস্যা
আইনে
নয়,
সমস্যা
ব্যাখ্যার
ও
বাস্তবায়নে।
আইনে
যেমন
বলা
আছে
যে
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণ
রিপোর্ট
জনগণের
সম্মুখে
প্রকাশ
করতে
হবে।
জনগণের
মতামত
নিতে
হবে।
আমরা
যখন
মহেশখালী
প্রকল্পের
পরিবেশগত
প্রভাব
নিরূপণের
রিপোর্ট
চাইলাম,
সরকারের
পক্ষ
থেকে
জানিয়ে
দেয়া
হলো,
এটা
দিলে
জনমনে
বিরূপ
প্রভাব
সৃষ্টি
হতে
পারে,
কাজেই
এটা
দেয়া
যাবে
না।
এখানে
কি
আপনি
আইনকে
দোষ
দেবেন,
নাকি
আমাদের
মানসিকতাকে
দোষ
দেবেন,
নাকি
রাজনীতিকে
দোষ
দেবেন?
আমি
তো
মনে
করি,
রাজনীতি
ও
মাইন্ডসেটকে
দোষ
দিতে
হবে।
এখানে
আইনকে
দোষারোপ
করার
কোনো
সুযোগ
নেই।
প্রতিটি প্রকল্প করার আগে
ইআইএ বা
পরিবেশ সমীক্ষা করার নিয়ম
রয়েছে। আমাদের এখানে একাধিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ নিয়ে
অভিযোগও রয়েছে। সেটি কি
ঠিকমতো করা
হচ্ছে?
কাগজে-কলমে
ওরা
করে।
যেমন
রামপালের
উদাহরণ
দিই।
রামপালের
ক্ষেত্রে
আমরা
বললাম,
আপনি
যখন
এই
নদীপথ
দিয়ে
কয়লাভর্তি
নৌকা
চালাবেন
তখন
ওই
নৌকার
যে
আওয়াজটা
হবে
তা
আমাকে-আপনাকে
বিরক্ত
না
করলেও
ক্ষুদ্র
ক্ষুদ্র
প্রাণী
ও
অণুজীবকে
বিরক্ত
করবে।
তখন
সমাধান
হিসাবে
তারা
বলল,
এমন
নৌকা
চালাব,
যার
কোনো
আওয়াজ
হবে
না।
যখন
আমরা
বললাম নৌকাগুলো
যদি
ডুবে
যায়
তাহলে
তো
জলাশয়ের
ওপর
নেতিবাচক
প্রভাব
পড়বে।
তারা
আমাদের
বলল,
এমন
নৌকা
দেব,
যা
ডুববে
না।
যখন
আমরা
বললাম
কয়লা
যখন
পোড়াবেন
তখন
সেখান
থেকে
প্রচুর
সালফার
বেরোবে।
তারা
আমাদের
বলল,
এমন
কয়লা
পোড়াব
যেটার
মধ্যে
সালফার
খুব
কম
থাকে।
তার
মানে
কাগজে-কলমে
সবকিছু
তারা
ঠিক
করে
ফেলতে
পারে।
এটা
সম্ভব।
আসল
ব্যাপারটা
হচ্ছে
আপনার
রাজনীতিকে
আগে
ঠিক
করতে
হবে।
আপনার
পরিবেশগত
রাজনীতিকে
ঠিক
করতে
হবে,
জনমত
ও
জনগণকে
আস্থায়
নিতে
হবে।
রুয়ান্ডা
যদি
পারে
পলিথিন
ব্যাগ
নিষিদ্ধ
করতে
তাহলে
আমরা
প্রথম
ঘোষণাকারী
দেশ
হিসেবে
কেন
পারলাম
না?
আমাদের
পক্ষে
তো
এটা
করা
সম্ভব
ছিল।
শিল্প-কারখানার বর্জ্যে এখনো
পানি, বাতাস
ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ কর
ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথা বলা
হয়েছিল। কী
অবস্থায় রয়েছে
সেটি? সরকার
কি আদৌ
এটি প্রয়োগ করতে চায়?
কিছু
ক্ষেত্রে
যে
পরিবেশ
কর
প্রয়োগ
করা
হচ্ছে
না,
তা
ঠিক
নয়।
যেমন
একজন
ভারতীয়
যে
গাড়িটা
১০
লাখ
টাকা
দিয়ে
কেনে,
আমাদের
কিনতে
হয়
৩০
লাখ
টাকা
দিয়ে।
কারণ
সরকার
এখানে
৩০০
শতাংশ
কর
বসিয়েছে।
সরকার
যেটা
এখনো
করতে
ব্যর্থ
হয়েছে
তা
হচ্ছে,
ইটিপিতে
সরকারের
করের
ক্ষেত্রে
আরো
একটু
ছাড়
দেয়া
উচিত।
আর
একটা
বড়
কথা
হচ্ছে
যে
সরকার
বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানকে
জরিমানা
করে
এবং
জরিমানার
টাকাটা
এনে
সরকারি
ট্রেজারিতে
জমা
দেয়।
ভারত
যেটা
করে
তা
হচ্ছে,
ওদের
একটা
পাবলিক
ইন্স্যুরেন্স
লায়াবিলিটি
ফান্ড
আছে।
তারা
ওই
টাকাটা
ওখানে
জমা
দেয়
এবং
তা
পরিবেশের
উন্নয়নে
ব্যয়
করা
হয়।
আমরা
সরকারকে
এ
মডেলটা
করতে
বলছি,
কিন্তু
পরিবেশ
মন্ত্রণালয়
যথেষ্ট
পরিমাণ
সাহসী
হচ্ছে
না।
তারা
বলছে
অর্থ
মন্ত্রণালয়
এখানে
বাধা
দেবে।
বাধা
দিক
কিন্তু
আমরা
তো
প্রক্রিয়াটি
শুরু
করতে
পারি।
দুর্ভাগ্যজনক
হচ্ছে,
বন
ও
পরিবেশ
মন্ত্রণালয়
সে
সাহস
দেখাতে
পারেনি।
ঢাকা থেকে
ট্যানারি শিল্প
সাভারে সরিয়ে
নিয়ে যাওয়া
হলো নদী
ও পরিবেশ দূষণের কথা
বলে। এতে
কি দূষণ
কমেছে নাকি
বেড়েছে? খবর
মিলছে, সেখানকার নদী এরই
মধ্যে দূষণে
জর্জরিত, ভরাটও
হয়ে যাচ্ছে? এখানে দায়
কার?
এর
দায়
সরকার
এড়াতে
পারে
না।
কারণ
সরকার
যেসব
প্রতিষ্ঠানের
ওপর
নির্ভর
করছে
তাদের
যোগ্যতা
নেই।
সরকার
ব্যবসায়ীদের
কথা
শোনাতে
পারছে
না।
সরকারের
নিযুক্ত
চাইনিজ
কনসালট্যান্ট
ফার্ম
চরম
অযোগ্য।
সরকার
এ
ধরনের
একটি
অযোগ্য
প্রতিষ্ঠানকে
নিয়োগ
দিয়েছে।
সরকার
যে
কনসালট্যান্ট
নিয়োগ
দিয়েছে,
তাদের
নিয়োগ
দেয়ার
ক্ষেত্রে
অনিয়ম
ছিল।
আপনি
সেই
চাইনিজ
কনসালট্যান্টের
ওয়েবসাইটে
ঢুকে
দেখবেন,
সেখানে
অন্য
অনেক
প্রকল্পের
সুনাম
তারা
করেছে
কিন্তু
সেখানে
বাংলাদেশের
এ
প্রকল্পের
কথা
উল্লেখই
করা
হয়নি।
কারণ
এখানে
তাদের
ভালো
কিছু
করার
কোনো
প্রত্যয়
ছিল
না।
তবে
সরকার
চাইলে
এখনো
পারে।
সরকার
যদি
বলে
যে
ছয়
মাস
ট্যানারির
কার্যক্রম
বন্ধ
রেখে
চীনা
কোম্পানিকে
দিয়ে
সব
কাজ
আদায়
করে
তবেই
উৎপাদনে
যাবে,
সেটিই
হবে
সমাধান।
এরপর
চীনা
কোম্পানি
না
পারলে
তার
সঙ্গে
চুক্তি
বাতিল
করে
দেশীয়
বিশেষজ্ঞদের
দিয়ে
ওটা
ঠিক
করে
ফেলতে
পারে।
কারণ
এটা
তো
রকেট
সায়েন্স
নয়।
সরকার
একটি
কথা
বলার
চেষ্টা
করে
যে
দেশে
আগে
কখনো
সিইটিপি
হয়নি।
সিইটিপি
কী?
কয়েকটা
ইটিপির
একটা
সম্মিলিত
রূপ,
তাই
তো?
এটাকে
একটা
বড়
আকার
দিতে
হবে।
বাংলাদেশের
প্রতিষ্ঠান
তো
ইটিপি
চালাচ্ছে,
সিইটিপি
কেন্দ্রীয়ভাবে
চালাতে
হবে।
সেখানে
সরকারের
এত
ভীত-সন্ত্রস্ত
হওয়ার
কী
কারণ?
বুয়েটের
যে
বিশেষজ্ঞ
দল
সিইটিপি
মনিটর
করছে,
তারাও
সত্য
বলছেন
না
বা
চিত্রটা
তুলে
ধরতে
পারছেন
না
বলে
আমি
মনে
করি।
এখনো
কঠিন
বর্জ্য
ব্যবস্থাপনার
কোনো
রূপরেখাই
তারা
তুলে
ধরতে
পারেননি।
অথচ
চাইলেই
কিন্তু
পারতেন।
যখন
হাজারীবাগ
থেকে
ট্যানারি
সরিয়ে
নেয়া
হয়
তখন
কিন্তু
সিইটিপির
দুটি
ইউনিট
সম্পূর্ণ
কার্যকর
ছিল।
এগুলো
দ্রুত
চালু
করা
না
গেলে
নষ্ট
হয়ে
যেত।
এ
দুটো
চালু
হতে
হতে
বাকিগুলো
ঠিক
করে
ফেলা
যেত।
করা
গেল
না
কেন?
সমস্যাগুলো
কী?
একটি
সমস্যা
হলো
জেনারেটর
চলছে
না।
কেন
চলছে
না?
কারণ
এমন
জেনারেটর
দেয়া
হয়েছে,
যা
চালু
করলে
পুরো
ট্যানারি
এলাকা
কাঁপতে
থাকে
আর
দরজা
বন্ধ
করে
চালালে
ওটা
গরম
হয়ে
যায়।
তার
মানে
খারাপ
একটি
যন্ত্র
বসানো
হয়েছে।
ওই
চীনা
কোম্পানিকে
খারাপ
যন্ত্রগুলো
ফেরত
দিয়ে
ভালো
যন্ত্র
বসাতে
বাধ্য
করা
যেত
না?
এটুকু
কাজ
করা
যায়
না?
জেনারেটর
চলে
না।
কেন
চলে
না?
তেল
নেই।
তেল
কে
দেবে? বিসিক
নাকি
ট্যানারি
মালিকরা—
এ
নিয়ে
টানাপড়েন।
ফলে
যতক্ষণ
ট্যানারি
চলে
না,
ততক্ষণ
অপরিশোধিত
বর্জ্য
গিয়ে
নিষ্কাশিত
হতে
থাকে।
ট্যানারি
মালিকরা
তরল
বর্জ্যের
সঙ্গে
কঠিন
বর্জ্যের
টুকরো
মিশিয়ে
দেন।
ফলে
পুরো
পাইপলাইন
আটকে
যায়।
সেখানে
বিসিক
মালিকদের
বাধ্য
করতে
পারল
না
পাইপলাইনের
মুখে
ছাকনি
বসাতে।
কঠিন
বর্জ্য
ব্যবস্থাপনার
রূপরেখা
প্রণয়নে
ব্যর্থতার
আজ
চার
বছর
হয়ে
গেছে।
সরকার
একটি
হ্যাঁ
বা
না
বলতে
পারে
না।
আপনার
অবস্থা
যখন
এমন,
তখন
কি
আপনি
আদালতকে
বলতে
পারেন
যে
ট্যানারি
কেন
সরিয়ে
দিয়েছেন?
আদালতের
তো
উপায়
ছিল
না।
আপনারা
ওখানে
সিইটিপি
বানিয়ে
বসে
আছেন।
সিইটিপি
চালু
না
করলে
তো
পুরো
জিনিসটি
শেষ
হয়ে
যাবে।
আমি
বলব
এটা
হচ্ছে
ট্যানারি
মালিক,
বিসিক
কনসালট্যান্ট,
অযোগ্য
চাইনিজ
কনসালট্যান্ট
এবং
বুয়েটের
বিশেষজ্ঞ
দলকে
ঠিকভাবে
নেতৃত্ব
দিতে
সরকারের
চরম
ব্যর্থতা।
প্রকৃতিকে রক্ষা না করে উন্নয়নের ভবিষ্যৎ মূল্য আসলে কতটা ভয়াবহ? তার পরও আমরা কয়লাভিত্তিক একাধিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করতে উদ্যোগ নিয়েছি? এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? সমাধানের পথ কী হতে পারে?
এর কিছুটা উত্তর আমি আগে দিয়েছি। এ উন্নয়নের মূল্য হচ্ছে ঢাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত। ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাসযোগ্য নগরীর একটি। সাতটি নদী রেখে পানি আনতে যেতে হয় পদ্মা ও মেঘনায়। ২০৭০ সালের পরে নাকি বাংলাদেশে আর কোনো চাষযোগ্য জমি থাকবে না। ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাজধানী হয়ে গেছে। এ পরিণতি আমরা আমাদের চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। এখনো সময় আছে লাগাম টেনে ধরার। জিডিপির ১ শতাংশ অর্জন কিন্তু পরিবেশ দূষণজনিত কারণে হারিয়ে যায়। কাজেই জিডিপিতে যদি আমরা একটুখানি আপোষ করি, জিডিপির কেন্দ্রে যদি আমরা টেকসই উন্নয়নকে নিয়ে আসি এবং পরিবেশ ও প্রকৃতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে উন্নয়নকে সাজাই, ন্যস্ত স্বার্থগোষ্ঠীকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন, সততা, স্বচ্ছতা আনতে মনোযোগী হই, তাহলেই আমরা বাঁচব। তাছাড়া আমরা বাঁচতে পারব না। আপনি হয়তো বর্তমান প্রজন্মের কাছে জবাবদিহিতার প্রয়োজন বোধ করেন না কিন্তু ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে তো আপনার জবাবদিহি করতেই হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তো আমাদের বাঁচার জন্য কিছু দিয়ে যেতে হবে। আমরা কি দিয়ে যাচ্ছি বলেন? তাই আমি মনে করি, সঠিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের উন্নয়নকে টেকসই করতে উদ্যোগী হব।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও শিল্প মালিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? আইনের প্রয়োগ নাকি সচেতনতা সৃষ্টি— কোনটিতে জোর দিতে হবে বলে আপনি মনে করেন?
দুটোই জরুরি। এক্ষেত্রে ঘোড়া আগে না গাড়ি আগে, এটা বিষয় নয়। আমাদের সমান্তরালভাবে কাজ করতে হবে। আমরা তো শুধু সিঙ্গাপুর হতে চাই। সিঙ্গাপুরের দিকে তাকান, তাদের প্রশাসকরা কিন্তু শাস্তির বিধান করেছেন, নিজেরা সত্ থেকে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন এবং আইন করেছেন। তিনটিই একসঙ্গে করতে হবে। আপনি রাজউক হয়ে জলাশয় ভরাট করবেন আর আমি রিজওয়ানা জলাশয় ভরাট করতে গেলে বাধা দেবেন, তা কী করে হয় বলেন? তা তো হবে না। আপনাকে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে। আপনি তো অস্ট্রেলিয়ার মতো করে পারবেন না, তাই বাংলাদেশের মতো করেই একটা মডেল নিয়ে নেন। সেখানে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করেন। শুধু সচেতনতা সৃষ্টি করলে তো হবে না, জনগণের সম্পৃক্ততা জরুরি। কমিউনিটিকে যথাযথ ভূমিকা দেন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করুন। উন্নয়নের মডেল কেউ একা ধারণ করলে তা স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। উন্নয়নকেও গণতান্ত্রিক হতে হবে। একটি কোনো রাজনৈতিক দল বা একটি কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী তা ধারণ করবে না, দেশের সব জনগোষ্ঠী ধারণ করবে, সে রকম একটি উন্নয়ন মডেল নিয়ে যদি আমরা এগিয়ে যাই তাহলে উন্নয়নে ধারাবাহিকতা থাকবে।
একটি বিষয় আমার ভালো লাগে যে আমাদের নতুন প্রজন্ম অনেক বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়। কভিডের শুরুতে আমরা যখন খুব সতর্ক ও ভীতসন্ত্রস্ত ছিলাম তরুণ সমাজ তখন সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে, মরদেহ সত্কারে এগিয়ে এসেছে। তরুণ সমাজ নিরাপদ সড়ক চাই-এর আন্দোলন করেছে। তরুণ সমাজ প্রাণীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নৃশংতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এই যে প্রগতিশীল মূল্যবোধ আমাদের তরুণ সমাজ ধারণ করছে, আমি মনে করি, সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা আশার জায়গা। বাংলাদেশের যে পরিমাণ মানবসম্পদ রয়েছে, তার বড় অংশ তরুণ, তাদেরকে আমরা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে এ দেশের চিত্র বদলে দেয়া সম্ভব। আরো বড় আশার জায়গা হচ্ছে কি জানেন, কভিড কিন্তু আমাদের শুধু একটা সংকটে ফেলেনি, এটি আমাদের জন্য সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। এটা আমাদের আত্মোপলব্ধির ও চিন্তার সুযোগ দিয়েছে। অতীতে আমরা কী কী ভুল করেছিলাম এবং এখনো করছি। পরিবেশ সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৯। তা কেন হবে? আমরা আমাদের তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে অবশ্যই এ চিত্র পাল্টে দিতে পারব। ভুল বিশ্লেষণ করে, সংশোধনের জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে নিজস্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধান নির্বাহী
বাংলাদেশ
পরিবেশ
আইনবিদ
সমিতি
(বেলা)
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন:
রুহিনা ফেরদৌস