বিশ্ব সংগীত দিবস

সংগীত দিবস প্রতিভাবান শিল্পীদের আচমকা আবিষ্কারের উপলক্ষ্য

বাংলাদেশের যে সকল সংগীতপ্রেমীরা তাও ল্যাং এর ম্যান্দো পপ ধাঁচের মিউজিক উপভোগ করতে চান তারা খুব সহজেই ইউটিউব কিংবা উইচ্যাটে প্রবেশ করে সেগুলো উপভোগ করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবসে প্রতিভাবান শিল্পীদের আবিষ্কারের মাধ্যমেই সুরের দ্যোতনা বাজুক সবার অন্তরে

আন্তর্জাতিক সংগীত দিবস নিয়ে আলাদা করে কি বলার আছে? যারা সুরপ্রেমী তারা সারা বছরই গান শোনেন। কিন্তু এ দিনটির বিশেষত্ব হলো সবাইকে সঙ্গীতের মনোহর জগতে আনানোর সুযোগ তৈরি করা। সে সুযোগ আমারো হয়েছে। উইচ্যাটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে যেয়ে হঠাৎই এমন কাউকে আবিষ্কার করি। কৌতূহলবশত শিল্পীর অ্যাকাউন্টে ঢুঁ মারি। ভিডিও প্লে করতেই একটি ম্যান্দো পপ ধাঁচের মিউজিক বেজে ওঠে। মাথায় চুল নেই, চোখে গোলাকার চশমা, পরনে কালো রঙের রাউন্ড নেক টি-শার্ট পরে লোকটা চীনা নাগরিক ভাষায় গান গাচ্ছেন। পেছনে বাদকদল বাদ্যযন্ত্রে গানের তালে তালে সুর তুলছে। পুরো মঞ্চটি নান্দনিক নকশায় পরিপূর্ণ; বাহারি আলোর ঝলকানি পুরো পরিবেশকে অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিয়েছে।

এ আসরের মধ্যমণির নাম তাও ল্যাং। লুও লিন, যিনি তাও ল্যাং হিসেবে সুপরিচিত, ১৯৭১ সালে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জন্ম নেন। বাল্যকালে তিনি স্কুলের পাঠ শেষের আগেই অব্যাহতি দেন। এরপর নিজ প্রচেষ্টায় সংগীত শেখেন এবং স্থানীয় এক বারে গাইতে শুরু করেন। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে তাও এর অভিষেক ২০০১ সালে। তার গাওয়া দ্য ফার্স্ট স্নোফল অব ২০০২ তাকে সবার মাঝে পরিচিতি এনে দেয়। তাও এর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে পানিশমেন্ট ফর ইমপালশন, লাভার এবং অ্যা উল্ফ ইন শিপস ক্লদিং অন্যতম। ২০১৩ সালে ব্যক্তিগত কারণে সংগীত জগত থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পাদপ্রদীপ থেকে অনেকটা আড়ালে থাকা তাও একটি অনলাইন কনসার্টের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় ফেরেন। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়া ‘দ্য প্লেস হোয়্যার দ্য ফোক সং ইজ হার্ড’ শীর্ষক এ অনলাইন কনসার্টটির ব্যাপ্তি ছিলো সাড়ে ৩ ঘণ্টা; যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। প্রায় ৫৩ মিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এ কনসার্টটি উপভোগ করেন এবং একইসঙ্গে এটি ৬৪০ মিলিয়ন থাম্বস আপ রিয়েকশন পায়। এ কনসার্টে তাও ৩৯ টি গান পরিবেশন করেন; এর বেশিরভাগই দুই দশক আগের। সাম্প্রতিকালের কিছু গানও ছিলো।

ইন্টারনেটে অনুষ্ঠিত হওয়া এ কনসার্টটি প্রমাণ করে তাও ল্যাং এখনো চীনে কতটা জনপ্রিয়; বিশেষ করে চীনের মধ্যবয়সী শ্রোতাদের কাছে। এ কনসার্টটির মাধ্যমে চীনা এ মিউজিক্যাল জিনিয়াস প্রমাণ করেছেন এভাবেও ফিরে আসা যায়।

বাংলাদেশের যে সকল সংগীতপ্রেমীরা তাও ল্যাং এর ম্যান্দো পপ ধাঁচের মিউজিক উপভোগ করতে চান তারা খুব সহজেই ইউটিউব কিংবা উইচ্যাটে প্রবেশ করে সেগুলো উপভোগ করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবসে প্রতিভাবান শিল্পীদের আবিষ্কারের মাধ্যমেই সুরের দ্যোতনা বাজুক সবার অন্তরে।

জোবায়ের আহমেদ: শিক্ষার্থী, চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও