প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের প্রতি অবিচল বিশ্বাস আবারো সামনে এসেছে। এবার তিনি ২ এপ্রিলকে বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নানা হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আমেরিকার "মুক্তি দিবস" হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং কর্তৃত্ববাদী ধারায় হলেও তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কিছু দেশ (যেমন রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া) বাদ দিয়ে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বিশেষে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। বিভিন্ন দেশের অনেক পণ্যের ওপর আগেই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, এবার তা আরো বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারই তার এ মুক্তি দিবস ঘোষণার আওতায় এসেছে এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
আগে থেকেই বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল; এবার তা বেড়ে মোট ৩৭ শতাংশ হয়েছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে দেশের সাম্প্রতিক সংকটকালে অবশ্যই বড় আকারের প্রভাব ফেলবে। কিন্তু যে নতুন স্বাধীন উদ্দীপনায় বাংলাদেশ আবার জেগে উঠছে, সেই ধারা সংহত এবং অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে প্রজ্ঞা, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।
বলাই বাহুল্য, কোনো দেশই এ ধরনের একতরফা শুল্ক বৃদ্ধির বেপরোয়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়নি। বরং ক্ষমতাশালী দেশগুলো একে ‘অগ্রহণযোগ্য’, ‘অমিত্রসুলভ’, এমনকি ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’ বলেও আখ্যায়িত করেছে। ট্রাম্পের মতে, এ বিস্তৃত শুল্ক আরোপের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে সেইসব অবাঞ্ছিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে "মুক্ত" করা, যা তিনি মনে করেন দেশটির অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান হ্রাস ও অর্থনৈতিক পতনের জন্য দায়ী। এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি কী হবে, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। কিন্তু ঐতিহাসিক নজির ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে এ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক নীতি প্রত্যাশিত সুবিধা না এনে বরং মার্কিন অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে, যে ক্ষতি নিছক অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
মুক্তি দিবস" শুল্কের আওতায় বিস্তৃত পরিসরের পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে আমদানি করা যানবাহন, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি রয়েছে। শুল্কের হারের স্তর বিন্যাসে যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি যত বেশি, সেগুলোর ওপর আনুপাতিক অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এ ব্যবস্থা দেশীয় শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাবে এবং বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার সংশোধন করবে। কিন্তু এ পন্থা শিল্প নেতা ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ ফোর্ডের সিইও জিম ফারলি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এ শুল্ক সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য যানবাহনের খরচ বাড়িয়ে তুলতে পারে। এ ধরনের বিঘ্ন কেবল অটোমোবাইল শিল্পকেই নয়, পুরো অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান বাড়ার পরিবর্তে বুমেরাং হয়ে হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
শুল্ক ব্যবস্থার ঐতিহাসিক কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। ১৯৩০ সালের স্মুট-হাউলি শুল্ক আইন একটি সতর্কতামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়; যা মূলত মার্কিন শিল্পকে মহামন্দার সময় রক্ষা করার জন্য প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু এর ফলে বাণিজ্য অংশীদারদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সংকোচন এবং অর্থনৈতিক মন্দা আরো তীব্র হয়েছিল। অনুরূপভাবে ১৮২৮ সালের "ট্যারিফ অব অ্যাবোমিনেশনস" শিল্পোন্নত উত্তর এবং কৃষিনির্ভর দক্ষিণের মধ্যে গুরুতর অর্থনৈতিক অসাম্য তৈরি করেছিল, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে শুল্ক প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনে, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা।
আধুনিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণও এ ঐতিহাসিক শিক্ষাকে সমর্থন করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে শুল্ক সাধারণত ভোক্তাদের জন্য মূল্য বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদন হ্রাস করে। উদাহরণস্বরূপ ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা গেছে যে, শুল্ক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করে, যা পণ্যের দাম বাড়ায় এবং আয় ও কর্মসংস্থান সুযোগ হ্রাস করে। এছাড়া নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের সময় আরোপিত শুল্ক সম্পূর্ণরূপে মার্কিন আমদানিকারকদের ওপর পড়েছে, যা ব্যয় বৃদ্ধি করলেও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পারেনি।
মুক্তি দিবস" শুল্কের ফলে প্রভাবিত দেশগুলো থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যে সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশই আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে রেখেছে এবং আগামী দিনগুলোয় সেই প্রতিক্রিয়াগুলোর বাস্তব রূপ দেখা যাবে। একটি মিত্র এবং মুক্তি বাণিজ্য চুক্তিভুক্ত দেশ (ফ্রি ট্রেড এরিয়া) হলেও অস্ট্রেলিয়ার ওপরও সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, এ শুল্কারোপ একেবারেই যুক্তিহীন এবং ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক’ (রিসাইপ্রোকাল) কৌশলের ভিত্তিতেই অস্ট্রেলিয়ার জন্য সর্বোচ্চ শুল্ক হওয়া উচিত ছিল শূন্য শতাংশ। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফারেল বলেছেন, এ রকম প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা কৃষি এবং উৎপাদন খাতকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, ফলে রফতানি কমে যেতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট সব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।
ভোক্তারা এরই মধ্যে এ শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। প্রতিবেদনে জানা গেছে যে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে অনেক ক্রেতা গাড়ি কিনতে ডিলারশিপে ভিড় জমাচ্ছেন। কারণ তারা জানেন যে শুল্ক কার্যকর হলে যানবাহনের দাম অনেক বেড়ে যাবে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে আমদানি করা যানবাহন ও যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নতুন গাড়ির খরচ হাজার হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ গতিশীলতাও এ শুল্ক কৌশল নিয়ে বিভক্তি দেখাচ্ছে। বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের চিন্তাভাবনাকে কিছু সহকর্মী "উন্মাদনা" বলে অভিহিত করেছেন। কারণ তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে শুল্ক প্রভাবিত মন্দা "মূল্যবান" হবে। এ ধরনের মতপার্থক্য প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সামঞ্জস্য ও কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্নের উদ্রেক করে।
শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ বাণিজ্যনীতি কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিত্র ও প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করলে আন্তর্জাতিক জোট দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং এর ফলে ওই দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্য অংশীদার খুঁজতে পারে, যা আমেরিকার বৈশ্বিক প্রভাব কমিয়ে ফেলতে পারে। নতুন বাণিজ্য ব্লক গঠন হতে পারে, যা আমেরিকার প্রভাব সীমিত করে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত করে।
একইভাবে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা দুর্বল হতে পারে। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ, মহামারী ও নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর সমাধানে রাষ্ট্রগুলোকে একযোগে কাজ করতে হয়। মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ আরো কঠিন হবে। এর ফলে আমেরিকার কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে গিয়ে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা এবং একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে বাধা সৃষ্টি করবে।
শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থানের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে যে শুল্ক আমেরিকান চাকরি রক্ষা করবে, তবে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র দেখায়। ২০১৮ সালে আরোপিত স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্কের ফলে সেইসব শিল্পে চাকরি হারানোর হার বৃদ্ধি পায়, কারণ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল। নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় একই ধরনের পরিণতি দেখা দিতে পারে, যা এ প্রতিরক্ষামূলক নীতির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দেবে।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসার ওপর শুল্কের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই মূল্যস্ফীতি সহ্য করতে পারে বা উৎপাদন স্থানান্তর করতে পারে, কিন্তু ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি কঠিন, যার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জাতীয় খুচরা বিক্রেতা ফেডারেশন সতর্ক করেছে যে শুল্ক মূলত ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর একটি গোপন করের মতো কাজ করে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতির মূল ভিত্তি "‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ’ যা বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খলের জটিলতাকে উপেক্ষা করে। বিশ্বায়িত বিশ্বে আধুনিক উৎপাদন প্রক্রিয়াগুলো একাধিক দেশের উপাদান ব্যবহার করে, ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক নির্ভরতা সমসাময়িক বৈশ্বিক অর্থ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে প্রেক্ষাপটে জাতীয় উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে আলাদা করা কঠিন। শুল্ক আরোপ করলে প্রতিটি স্তরে ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়।
অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে যে মুক্ত বাণিজ্য সুরক্ষাবাদী নীতির তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভজনক। মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে যা ভোক্তা ও ব্যবসার জন্য উপকারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দেখিয়েছে যে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিগুলো একতরফা শুল্কনীতির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
যদিও ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রতি তার কিছু উগ্র জাতীয়তাবাদী সমর্থকের আনুগত্য রয়েছে, বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। তারা হয়তো রক্ষণশীল মতাদর্শগতভাবে এ শুল্ক ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন, কারণ এটি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে যখন এ শুল্কের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাবে, এমনকি মন্দাও আসতে পারে, তখন তারা নিজেদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বুঝতে পারবে এমন পরিস্থিতিতে, তারা ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী, শুল্ক ব্যবস্থা সাধারণত মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য বিরোধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে। স্মুট-হওলি শুল্ক আইন এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক উদাহরণগুলো দেখিয়েছে যে শুল্ক প্রবর্তন বাণিজ্যযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুল্কের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং পণ্যের দাম বাড়ে, যা সাধারণ জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের সমর্থকরা যদি এ ফলাফলগুলো অনুভব করেন, তবে তাদের অন্ধ সমর্থন কমে যেতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও এটি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে আমেরিকার কর্তৃত্ববাদী প্রবণতায় আক্রান্ত একটি পরাশক্তির শক্তি এতে খর্ব হলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বের জন্য ভালোও হতে পারে। হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদি অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সেই অবনতির ধারায় এ একরোখা ‘মুক্তি’ কৌশল দেশটিকে আরো দুর্বল করবে। তবে এর অনেকটুকু নির্ভর করবে সারা বিশ্ব কি ট্রাম্পের সঙ্গে আপসকামিতায় নতজানু হয়ে নিজেদের ভূমিকা রাখবে, নাকি আমেরিকামুখিনতা হ্রাস করে বিশ্বের অপরাপর শক্তির সঙ্গে মিলে সমন্বিত উদ্যোগ নেবে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে ভিন্ন রকমের ভবিষ্যৎ রচনার প্রয়াস চালাবে।
ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক: অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান, অর্থনীতি বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আন্তর্জাতিক আর্থরাজনৈতিক বিশ্লেষক