নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে নতুন করে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন চারটিসহ পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বলা হয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে প্যাকেজ সহায়তার পরিবর্তে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণার কথা বলে আসছিলাম। তহবিলের সুবিধা হচ্ছে, এটি প্রণোদনা হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। নভেল করোনাভাইরাস প্রাথমিকভাবে মূলত একটি স্বাস্থ্য ইস্যু। এ পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে বাঁচানো এবং ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা, যার জন্য একটি বড় ধরনের বরাদ্দ প্রয়োজন। যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদের শনাক্ত করাটা জরুরি। এজন্য হাজার হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা করতে হবে। মানুষকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা করতে হবে। এখন তো চিকিৎসার জন্য কোনো জায়গা নেই। যে হাসপাতালগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে করোনা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই নেই। সেটার জন্য টেস্ট কিট, পিপিই সরঞ্জাম লাগবে, আইসোলেশন ইউনিট, আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, ডাক্তার ও নার্সদের বীমা ইত্যাদি লাগবে। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে বড় ধরনের বরাদ্দ লাগবে। তাই তহবিলের প্রথম বরাদ্দ করোনা স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবহার করতে হবে। আমি এজন্য ন্যূনতম ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। যেসব খাতকে প্রণোদনার বাইরে রাখা হয়েছে যেমন কৃষিখাত, তাদেরও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে রোজগারহীন মানুষগুলোকে সাহায্য করা, তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া। আমাদের মনে রাখতে হবে মানুষের প্রয়োজনের মধ্যেও একটা ভাগ আছে। মানুষকে আহারের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, না হলে সে তো কর্মক্ষম থাকবে না। এ অবস্থা যদি দীর্ঘদিন চলে তাহলে অসহায় মানুষগুলো খাবারের অভাবে মারা যাবে। নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যু আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুর মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই। দুটোই তো মৃত্যু। দুটোই রাষ্ট্রের জন্য বেদনাদায়ক।
তাছাড়া মনে রাখতে হবে এসব দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নাপিত, সুতার এরা যাবতীয় পণ্যেরও বড় ক্রেতা। এদের হাতে ক্রয়ক্ষমতা না থাকলে চাহিদায় ধস দেখা দেবে। তাই এদের দ্রুততম সময়ে কাজে ফেরাতে হবে। তাই দ্বিতীয় পর্যায়ে শ্রমিক ও অসহায় মানুষদের অগ্রাধিকার প্রদান করা চাই। এজন্য ন্যূনতম ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
এরপর তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে আসতে পারে শিল্পকে সহায়তা করা। অথচ এটা আমরা এখনই করছি। তাদের ভর্তুকি প্রদানের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। এখানে ৭২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির কথা বলা হচ্ছে। আসলে এটা কিন্তু সুদের রেয়াতি হার। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ বড়জোর এক বছরের হতে পারে, যার একটি সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ ভর্তুকি, অন্যটা ৫ শতাংশ। আমরা যদি হিসাব করি যে এটা এক বছরের ঋণ হয়, তাহলে ৫০ হাজার টাকা প্রণোদনার প্রকৃত মূল্য ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অন্য বিষয়টি হচ্ছে, ৭২ হাজার কোটি টাকার ঋণ তহবিলটা আসবে কোত্থেকে? কারণ ব্যাংকে তারল্য সংকট বিদ্যমান। বাংলাদেশ ব্যাংক সিআরআর ও এসএলআর কমিয়ে ২০-৩০ হাজার কোটি টাকার তারল্য ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু গ্রাহক টাকা ফেরত না দিলে রুগ্ণ ব্যাংকিং খাতের অবস্থা কী দাঁড়াবে? রাজস্ব আদায় এমনিতেই পিছিয়ে আছে। আমদানি, উৎপাদন ও আয় ব্যাহত হলে তা আরো কমবে। তাই অর্থের জোগানটা আসবে কোত্থেকে? বিশ্বব্যাংক কিংবা আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো একমাত্র উৎস। আন্তর্জাতিক এ সংস্থাগুলো এখন তো বড় অর্থ সহযোগিতা করতে পারবে না। কারণ বিশ্বের অন্য অনেক দেশও ওদের সাহায্যপ্রার্থী। বিশ্বব্যাংক ১০০ মিলিয়ন, এডিবি ৬০ মিলিয়ন ডলার, ইউকে ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের কথা বলছে। তাছাড়া এগুলো রাতারাতি পাওয়াও যাবে না। সরকারকে এ পর্যায়ে কৃচ্ছ সাধন করতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্পের খরচ কমাতে হবে। অর্থ আনার অন্য উৎস খুঁজতে হবে। ভারতে এক বছরের জন্য মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন-ভাতা ৩০ শতাংশ হ্রাসের কথা বলা হয়েছে।
তাছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের কথা বলা হচ্ছে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং চ্যানেল তো এক্ষেত্রে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারে না। গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমাদের দেশের গ্রাহক-ব্যাংকের সম্পর্কের অর্থটা আমরা জানি, স্বজনপ্রীতি। এর ভিত্তিতেই ঋণ দেয়া হবে। অর্থ পাচার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। এজন্য সরকারের বিকল্প ও উদ্ভাবনী বিষয়গুলো ভাবা উচিত ছিল। রঘুরাম রাজন যেমন প্রাইভেট ব্যাংকের লভ্যাংশ বিষয়ে বলছেন। তাছাড়া ব্যাংকগুলোর কাছে যদি তহবিল না থাকে তাহলে তারা ঋণটা দেবে কীভাবে? গোটা জিনিসটা সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে এগুলো আসলে শিল্পের জন্য প্রণোদনা, নাকি ব্যাংক ও গার্মেন্ট মালিকদের জন্য প্রণোদনা, সে প্রশ্ন উঠছে!
এদিকে গরিব মানুষদের খাবার দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমরা তো জানিই এখানে কী হবে। ত্রাণসামগ্রী চুরি আমাদের দীর্ঘদিনের ‘ঐতিহ্য’। এ বিষয়ে প্রচুর লেখালেখিও হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সরবরাহের বিষয়গুলোও ত্রুটিপূর্ণ। এলাকার চেয়ারম্যানের লোক হলে সে একই সাহায্য বারবার পেতে থাকবে। আর মেম্বার-চেয়ারম্যানের লোক না হলে ওই ব্যক্তির কাছে হয়তো কখনই সাহায্য পৌঁছবে না।
আমরা সবসময় ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলি। অথচ ডিজিটালাইজেশন, এনআইডি, মোবাইল নেটওয়ার্ক এগুলোর কোনো সুবিধাই আমরা নিলাম না, কোনো কাজেই আমরা ব্যবহার করলাম না। আমাদের বিশ্বখ্যাত মাইক্রোফিন্যান্স নেটওয়ার্ক, তৃণমূল পর্যায়ে এনজিও উপস্থিতি আছে। এ সত্ত্বেও আমরা সেই একই প্রথাগত পদ্ধতিতেই এগোলাম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাহায্য করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ঋণ দেয়া। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ দুটোই ব্যর্থ। আমাদের নতুনভাবে উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে এগোনো উচিত ছিল। আমাদের দেশে করোনা শনাক্তের ২০ দিনের মাথায় ব্যবসায়ীরা কীভাবে বুঝলেন যে তাদের এত পরিমাণ ক্ষতি হয়ে গেল। যেহেতু প্রশাসনের মধ্যে চিন্তার ঘাটতি রয়েছে, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ কী বলছে, তা কিছুটা উল্টেপাল্টে সরকারি ঘোষণা হিসেবে বিবৃত করা হচ্ছে।
অথচ আমরা বৈশ্বিকভাবে ও জাতীয় পর্যায়ে একটা বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি এটাকে মোকাবেলার কৌশল নির্ধারণ করতাম তাহলে তো এসব ঘটত না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্ধারণ এবং সময়োপযোগী ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা। তাছাড়া সরকার যে তহবিলগুলো দিচ্ছে, সেগুলো কীভাবে বণ্টন করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে যায়। আবারো বলছি, সহায়তাগুলো ইউনিয়ন কাউন্সিল পর্যন্তই যায়। সাধারণের কাছে পৌঁছে না। গোটা ব্যবস্থাই ছিদ্রযুক্ত বলে ধরে নেয়া হয়। অথচ আমাদের সুযোগ ছিল। আমরা খুব গর্ব করে ডিজিটাল উন্নয়নের কথা বলি। আমরা এনআইডি তৈরি করেছি, সবাইকে এনআইডির আওতায় এনেছি। এর মাধ্যমে তো দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে পারতাম। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল নেটওয়ার্ক রয়েছে, ভ্যাট নিবন্ধন করা হয়েছে, এগুলো অটোমেটেড করা হয়েছে। টার্নওভার করের জন্য নিবন্ধিত ক্ষুদ্র শিল্প মালিকদের সরাসরি সাহায্য দেয়া যেত। এতে কর ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা বাড়ত। তারা ভাবত সরকার কেবল কর আদায় করে না, ব্যবসার দুঃসময়ে সাহায্যও করে।
আমরা এসবের কোনো সুবিধাই কাজে লাগাতে পারছি না। আমাদের বড় ধরনের এনজিও নেটওয়ার্ক আছে, আমরা তো তাদেরও ব্যবহার করতে পারতাম। অসহায় দরিদ্রদের নিয়ে যারা কাজ করে, তারা তো জানে সত্যিকার অর্থে অভাবী লোকটা কে। তার অসুবিধাটা কী। তাছাড়া আমরা দেখছি সরকারের নিজস্ব সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমন্বয় নেই। খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এটা জানে না, ওটা জানে না। প্রথমে আমাদের সরকারের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এরপর অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় আসে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চ্যালেঞ্জগুলোর তালিকা করে কাজ করতে হতো। প্রথমত, স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া উচিত ছিল। দ্বিতীয়ত, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাবার এবং অন্যান্য জিনিস ক্রয়ের জন্য অর্থসহায়তা দিতে হতো। মানুষ যাতে কর্মক্ষম থাকে, অনাহারে মারা না যায়, সে চ্যালেঞ্জটা মোকাবেলা করতে হবে। যে দরিদ্র মজুর বা শ্রমিক মজুরির বিনিময়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতেন, তিনি এখন কাজ হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাকে অর্থসহায়তা দিলে তিনি তার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ক্রয় করে জীবনধারণ করতে পারবেন। তাকে অর্থ না দিয়ে বিজিএমইএকে ঋণ দিলে তারা এখানে কী করবে! তারা এখন কার জন্য উৎপাদন করবে? ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি প্রদানের বিষয়টি আসবে তৃতীয় ক্রমে। করোনার বিস্তার প্রতিরোধে রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে, চিকিৎসকরা হাসপাতালে কর্মরত, তাদের সুরক্ষা নিয়েও কোনো পরিকল্পনা নেই বলা যায়। পিপিই নিয়ে অনেক কথা হলো, চিকিৎসকরা কর্মক্ষেত্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তারা কীভাবে বাসা থেকে হাসপাতালে যাবেন বা আসবেন? সরকারের বিভিন্ন সংস্থার যে এত গাড়ি আছে, তার মাধ্যমে আমরা চিকিৎসকদের যাতায়াতের বন্দোবস্ত করতে পারি। গাড়িগুলো চিকিৎসকদের আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। সরকারের কিন্তু অনেক রিসোর্স রয়েছে, হিডেন রিসোর্স বলা যায়, সেগুলো আমরা যদি ব্যবহার করি, তার মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে। অনেক মানুষ আছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আর্থিক সহায়তা দিতে চায়। সার্বিক এ বিষয়গুলোকে যদি আমরা ব্যবহার করি তাহলে অবস্থার অগ্রগতি আনা সম্ভব। সরকারকে পরিস্থিতি বিচারে অগ্রাধিকার নির্ণয় করতে হবে। এ মুহূর্তে প্রথমে করোনার স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সংক্রমণ, মৃত্যুহার যাতে কম হয়, তার জন্য কার্যকর পদ্ধতিতে অগ্রসর হতে হবে। বেশি বেশি করোনা শনাক্তে পরীক্ষা করতে হবে। শারিরিকভাবে সবাইকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। মানুষ যাতে বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ অবস্থায় মানুষকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে। মানুষ করোনা থেকে বেঁচে যদি ক্ষুধায় মারা যায় তাহলে আমরা ব্যর্থ, সেক্ষেত্রে আমাদের অর্জন কিছুই হবে না। সাহায্যের মাধ্যমে মানুষকে কর্মক্ষম রাখতে হবে, বাঁচাতে হবে। মানুষকে দ্রুত কাজে ফিরিয়ে আনার জন্যই তাকে কর্মক্ষম রাখা জরুরি। এরপর আসবে শিল্পে প্রণোদনা প্রদানের ইস্যু। এক্ষেত্রে ভাবতে হবে যে অর্থ কোত্থেকে আসবে। যেমন আমাদের হিসাব করে বের করতে হবে যে বৈদেশিক সাহায্য থেকে আমরা কত টাকা পেতে পারি, বিভিন্ন প্রকল্প যেগুলো খুব জরুরি নয়, সেগুলোকে স্থগিত করে আমরা কত অর্থ বাঁচাতে পারি কিংবা বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিগতভাবে সরকারি তহবিলে যে সাহায্যগুলো আসছে, সেগুলোও হিসাবে নিতে হবে। এভাবে হিসাবের মাধ্যমে সরকার কিন্তু অর্থসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ একটা ধারণা পেতে পারে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিতকরণের পর বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক নীতি কোনো ব্যবসায়ী মহল থেকে নির্ধারিত হবে না। সরকারকে সামগ্রিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হবে। ডিজিটালাইজেশনের সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে হবে। নতুন ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে এগোতে হবে।
জার্মানির নভেল করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যুহার এত কম কেন, তা ব্যাখ্যা করে নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে জার্মান অধ্যাপক ক্রাউলিচের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা।’ আমাদের সরকারের কাছে জার্মান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জনগণের আস্থা আশা করা বোধ হয় ঠিক নয়। কিন্তু আমরা কি প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকার সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জনগণের আস্থা আশা করতে পারি না?
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: সাবেক সচিব ও অর্থনীতিবিদ