বিশ্বমানের স্বীকৃতি পেতে চাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে সাফল্যের মাপকাঠি হলো গবেষণার মানদণ্ড। প্রকাশনা, উদ্ধৃতি, অনুদান ও র্যাংকিংয়ের অবস্থানকে তারা সাফল্য হিসেবে দেখে। কিন্তু স্নাতক পর্যায়ে পাঠদানকে কম গুরুত্বপূর্ণ ভাবে। এ প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় যারা গবেষণা খ্যাতি অর্জন করতে চায়। আবার গ্লোবাল নর্থের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ প্রবণতা রয়েছে, যারা অর্জিত খ্যাতি রক্ষা করতে চায়। এভাবে পাঠদানকে এক ধরনের ঐচ্ছিক কাজে পরিণত করে। পাঠদানের কাজ থেকে প্রভাবশালী গবেষকদের সরিয়ে রাখে। এ দায়িত্ব দেয়া হয় কোনো খণ্ডকালীন বা নিশ্চয়তা নেই এমন কোনো শিক্ষককে। বা শিক্ষকের সংখ্যা না বাড়িয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হয়।
স্বল্পমেয়াদে এগুলো যৌক্তিক মনে হয়। কিন্তু এটি আসলে ফলস ইকোনমি বা ভুল অর্থনীতি। কেননা প্রতিষ্ঠানগুলো দৃশ্যমান গবেষণা সাফল্য অর্জন করে অথচ ভবিষ্যৎ গবেষক তৈরির মূল ভিত্তি স্নাতক শিক্ষাকে অবহেলা করে। মানসম্মত স্নাতক শিক্ষা যুক্তি, পদ্ধতিগত ও সমালোচনামূলক দক্ষতা গড়ে তোলে, যা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ও পরবর্তী সময়ে স্বাধীন গবেষক তৈরির ভিত্তি। এ ভিত্তি দুর্বল হলে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গিয়ে আগের ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই গবেষণা বিনিয়োগ যেন শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও পদ্ধতিগত শিক্ষাকেও শক্তিশালী করে, সেদিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে পাঠদানকেও যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।
[টাইমস হায়ার এডুকেশনে প্রকাশিত নিবন্ধে]
তাবাসসাম ইয়াসমিন: কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসের সহকারী অধ্যাপক
এম ইমরান খান: ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একজন ভিজিটিং ফেলো