দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এখন শুধু শুল্ক কমানো বা বাজার সম্প্রসারণের বিষয় নয়; সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিবেশ সংরক্ষণেরও কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের সাম্প্রতিক চুক্তি এ আলোচনাকে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে বন উজাড় রোধে বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো প্রণোদনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কার্যকর হতে পারে।
সমস্যা হলো, প্রচলিত বাণিজ্য চুক্তি অনেক সময় উল্টো বন ধ্বংস বাড়ায়। বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে কৃষিজমি সম্প্রসারণ আরো লাভজনক হয়ে ওঠে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক শর্তগুলোও দুর্বল নকশা ও প্রয়োগের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।
এক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে বন উজাড়ের মাত্রার সঙ্গে শুল্কহার যুক্ত করা। কোনো রফতানিকারক দেশ বন কেটে কৃষিজমি বাড়ালে তার পণ্যে শুল্ক বেড়ে যাবে এবং সেই শুল্ক দীর্ঘদিন বহাল থাকবে। বিপরীতে বন রক্ষা করলে কম বা শূন্য শুল্কের সুবিধা দেয়া যেতে পারে।
মারকোসুর নিয়ে গবেষণার অনুকল্প বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে বাণিজ্য উদারীকরণ করলে কৃষিজমি ২-৯ শতাংশ বাড়তে পারে। কিন্তু বড় অর্থনীতিগুলোর একটি বন উজাড়নির্ভর শুল্ক ব্যবস্থা নিলেই সেই সম্প্রসারণ ঠেকানো সম্ভব। চলমান বাণিজ্য আলোচনাগুলো তাই একটি বড় সুযোগ। মুক্ত বাণিজ্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে একই চুক্তির অংশ করা গেলে উভয় লক্ষ্যই এগিয়ে নেয়া সম্ভব।
বার্ড হারস্ট্যাড: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসের ব্যবসা ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক এবং রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক