অভিমত

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার করণীয় কী?

বাংলাদেশের জুলাই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকে অনেকেই বিপ্লব বলতে রাজি না হলেও আমি এটাকে বিপ্লবী সম্ভাবনাময় গণ-আন্দোলন আকারে দেখি।

বাংলাদেশের জুলাই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকে অনেকেই বিপ্লব বলতে রাজি না হলেও আমি এটাকে বিপ্লবী সম্ভাবনাময় গণ-আন্দোলন আকারে দেখি। আন্দোলনের নেতারা মানে ছাত্রনেতা/সমন্বয়কারীরা যদিও আগেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সম্ভবত তারা এ ব্যবস্থার মূলোৎপাটনের বিপ্লবী প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না যা এ সত্য থেকে স্পষ্ট যে তারা ৫ আগস্ট শাহবাগের গণ-অভ্যুত্থানের কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং বর্তমান সংবিধান স্থগিত করে ফ্যাসিবাদী শাসন ও কাঠামোর বিলুপ্তি এবং একটি ‘বিপ্লবী অন্তর্বর্তী সরকার’ গঠনের জন্য একটি বিপ্লবী পরিষদের দাবি জানাতে পারেননি, যাতে সেই সরকার একটি নতুন সংবিধান রচনার জন্য একটি সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করতে পারে।

ফলে ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান সংবিধানের কাছে বা তার অধীনে শপথ নেয়া এ আন্দোলনের বিপ্লবী রূপান্তরকে কঠিন করে দিয়েছে। কেননা এ সংবিধান মূলত একটি কর্তৃত্ববাদী অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্র বলবৎ করার হাতিয়ার হিসেবেই কাজ করেছে। কেউ কেউ সংবিধানের সংস্কারেই সমাধান খুঁজলেও একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের চলমান সংবিধানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা অপরিহার্য যাতে এ সংবিধানকে সহজে ব্যবহার ও সংশোধন করে ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনরা আবার স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী নিপীড়ন-নির্যাতন শুরু করে দিতে না পারে।

আমার মতে, নবগঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি সরকার পরিচালনা এবং রুটিন কাজ করার জন্য উপযুক্ত। তবে বর্তমান সংবিধানের কর্তৃত্ববাদী এবং ফ্যাসিবাদী উপাদানগুলোকে অপসারণ করার জন্য সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার করা তাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং হবে। অনেক আইনি/সাংবিধানিক বাধা থাকবে এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল এবং নানা এজেন্সি যারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিদেশী শক্তিগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ তারা যেকোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তনকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবে। রাজনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন এমন কিছু বিপ্লবী পাবলিক বুদ্ধিজীবীকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু আইনজীবী, এনজিও কর্মকর্তা এবং সরকারি আমলাদের নিয়ে সরকার গঠন করা এ সরকারের আরেকটা সীমাবদ্ধতা যা বৈপ্লবিক পরিবর্তনকে কঠিন করে তুলবে। এ মুহূর্তে তাই অনতিবিলম্বে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ধারণ করেন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে চৌকস এমন আরো কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে অধিকতর ক্রিয়াশীল এবং গতিশীল করতে হবে।

যেকোনো ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তিনটা স্তর থাকে। প্রথম স্তরে থাকে ফ্যাসিবাদী রেজিমের পতন, পরের স্তর হচ্ছে নতুন সরকারের ক্ষমতা সুসংহতকরণ এবং তৃতীয় স্তরে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য ব্যাপক সংস্কার/পুনর্গঠন। দ্বিতীয় স্তরে অনেক গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যায় আন্দোলনকারী নানা গ্রুপের মাঝে বিরোধ ও অনৈক্যের কারণে। আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি ক্ষমতা সুসংহত করতে অন্তর্বর্তী সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ফলে পতিত রেজিমের অনেক অনুষঙ্গ বাইরের শক্তির সাহায্য নিয়ে সরকারকে দুর্বল ও অসফল প্রমাণের চেষ্টায় আছে। আবার তৃতীয় স্তরে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মূলোৎপাটন না করলেও এ আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম ধাপ শেষ। এখন আমরা আছি যুগপৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে, মানে এখানে জনগণকে সচেতন করে নতুন গঠনতন্ত্র এবং রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যেতে হবে। এখানেই অধিকাংশ সময় সবাই ভুল করে। আন্দোলনের ফল ঘরে তোলার জন্য নানা পরাশক্তি, নানা এজেন্সি এখানে ক্রিয়াশীল থাকে বলে পাবলিক বিভ্রান্ত হয়, হাঁপিয়ে ওঠে, দিশা হারিয়ে ফেলে। আন্দোলনকারীদের মাঝেও ক্ষমতার ভাগ নিয়ে দেখা দেয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত। এতে ঐক্য বিনষ্ট হয়ে যায়। আবার পুরনো পতিত রেজিমের বেনিফিশিয়ারি গ্রুপগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এ সময়ে পাবলিককে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভ্রান্ত করার জন্য। এদেরই একটা অংশ এখন চলমান সংবিধানের আলোকে দায়সারা গোছের কিছু পরিবর্তন এনে পুরনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো বজায় রাখতে তৎপর। এ রকম হলে এ গণ-অভ্যুত্থানকে বিপ্লবে রূপান্তরের আর কোনো বিশেষ সম্ভাবনা থাকবে না। আবার আন্দোলনের এ স্তরেই নানা মতাদর্শের দ্বন্দ্ব-সংঘাত সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে এসব ক্ষেত্রে আমরা যদি একটা কমন ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারি যে আমাদের মতাদর্শ যা-ই থাকুক আমরা একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রকাঠামো চাই, তাহলেই কেবল সব মত-পথের সবাইকে নিয়ে আমরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারব। ফলে এ কমন লক্ষ্য সামনে রেখে ছাত্র-জনতার উচিত সরকারকে প্রেসার দেয়া যেন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কাজ সম্পন্ন করা যায়। এজন্য ছাত্রদের রাজনৈতিক ছায়া সরকারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজপথে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক টেবিলে-সভায়-সেমিনারে সক্রিয় থাকতে হবে।

গত দেড় দশকে সব প্রতিষ্ঠান এক রকম ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাই এ মুহূর্তে জরুরি কাজ হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক এবং সামাজিক/রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা। একটা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কিছু মৌলিক নীতিসংবলিত একটা সামাজিক চুক্তি/গঠনতন্ত্র/সংবিধান দাঁড় করাতে হবে যেখানে একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক এবং সভ্য কাঠামো থাকবে। ফলে ব্যক্তির স্বাধীনতা, মর্যাদা, মানবাধিকার, সিভিল রাইটস এসব সুরক্ষিত থাকবে। এত বড় একটা গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের কাজ হচ্ছে এটিকে লিবারেল গণতান্ত্রিক বিপ্লবে রূপ দেয়ার জন্য ফ্যাসিবাদী কাঠামোর খোলনলচে পাল্টে ফেলা এবং জনগণের সঙ্গে ডায়ালগের ভিত্তিতে একটা নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে কিছু বেসিক আইডিয়া/ধারণা সেট করা হবে (যেমন সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষা, ব্যক্তি মানুষের মর্যাদা সুরক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ তার বিকাশের পথে কোনো বাধা না দেয়া এ রকম আরো অনেক কিছু), যার ভিত্তিতে পরে নতুন গণমুখী সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। এর মানে পুরনো ফ্যাসিবাদী সংবিধানকে উচ্ছেদ করে নতুন গঠনতন্ত্র আনতে হবে। এর পরের কাজ হবে দেশের ও রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তন করে এগুলোকে পুনরায় ফাংশনাল ও কার্যকরী করা।

এখন তাহলে গণ-অভ্যুত্থানকে বিপ্লবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অথবা একটা লিবারেল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ছাত্র-জনতার করণীয় কী? অন্তর্বর্তী সরকারের বাইরের ছাত্র সমন্বয়কারীরা ছাত্র-জনতার সঙ্গে যূথবদ্ধ হয়ে সরকারের প্রতি ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে হবে যেন তারা অবশ্যই গণ-আন্দোলনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং চলমান সংবিধান, আমলাতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্র কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রযন্ত্রের আমূল সংস্কার ও ফ্যাসিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন করে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে প্রয়োজনে ছাত্রদের অবশ্যই আবার রাস্তায় নামতে হবে রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার ও পুনর্গঠনের দাবিতে। এসবের জন্য অবিলম্বে ছাত্র ও সুশীল সমাজের সদস্যদের অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একটি সাংবিধানিক পরিষদ গঠনের দাবি জানাতে হবে। ছাত্র-জনতার অব্যাহত আন্দোলন-সংগ্রামই রুখে দিতে পারে সংস্কার না করে যেনতেনভাবে একটা নির্বাচন করে ফ্যাসিবাদী সিস্টেম ও রাষ্ট্রযন্ত্র বজায় রাখার চক্রান্তকে।

এ মুহূর্তে আপাতত ছাত্রদের সমন্বয়ক কমিটির কাজ হবে অন্তর্বর্তী সরকার গণ-অভ্যুত্থানকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের ক্ষেত্রে যেন কাজ করে তার জন্য একটা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করা এবং সেজন্য ছায়া সরকার হিসেবে ফাংশন করা। তবে এই কমিটির নাম ভেঙে নিজেদের আখের গোছানো বা স্বার্থ হাসিল যেন কেউ না করে সেটা নিশ্চিত করার জন্য কমিটির ওপরের পোস্টগুলো নিয়োগ দেয়ার সময় মনোযোগী হতে হবে। নীতিবান, মানবিক, দায়িত্ববান, সক্রিয়, দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন লোকজন দরকার কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। ছাত্রদের নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন কাজ আপাতত বাদ দিয়ে ছাত্র-জনতা হয়ে ল অ্যান্ড অর্ডার ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যেতে হবে। এ মুহূর্তের আরেকটা জরুরি কাজ হচ্ছে, সারা দেশে যে মব জাস্টিসের কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছে সেজন্য মবকে সম্পূর্ণ কন্ট্রোলে আনতে হবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে পুলিশে নতুন নিয়োগ দিয়ে দ্রুত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। কিন্তু তার আগে মব কন্ট্রোল এবং মাজার-মন্দির রক্ষায় ছাত্র-জনতা আবারো কমিউনিটি পুলিশিং করতে পারে। এছাড়া গার্মেন্ট শিল্প রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি যতটুকু এ মুহূর্তে মানা যায় তা মানতে হবে। অনেক কারখানায় শ্রমিকরা নন বরং গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী দেশী-বিদেশী চক্র অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে জড়িত। সে ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে। শ্রমজীবীদের সঙ্গে ছাত্রদের এক হতে হবে। বহু বিপ্লব শ্রমজীবীদের সঙ্গে মেলবন্ধনের অভাবে বিফলে গেছে তা ইতিহাস পড়লেই জানা যায়।

এক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে ‘ধর্মীয় উগ্রবাদী’ এবং ‘সেকুলার উগ্রবাদী’ দুই গোষ্ঠীর তরফ থেকেই উসকানিমূলক কথা ছড়িয়ে ‘সেকুলার বনাম ধর্মীয়’, ‘প্রগতিশীলতা বনাম মৌলবাদিতা’ এসব পুরনো সাংস্কৃতিক যুদ্ধকে প্রসারিত করা হচ্ছে যেন গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী দেশী-বিদেশী চক্র দেখাতে পারে যে দেশ আবার ভয়ানক ‘মৌলবাদে’, ‘ধর্মান্ধতায়’ ভরে গিয়ে এখানে ‘ভয়ংকর ইসলামী শাসন’ আসছে। ফলে দেশের সিভিল সোসাইটিসহ ঢাকার মধ্যবিত্ত এবং এলিট লোকজন আতঙ্কে এ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এসব জুজুর ভয় দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে দুর্বল করে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে প্রচার চালিয়ে দেশে-বিদেশে সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার গ্র্যান্ড মিশনে সক্রিয় আছে নানা মহল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রসমাজকে এ চক্রান্ত সম্পর্কে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের বৈষম্যবিরোধী নাগরিক কমিটিতে আরো দক্ষ রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে বলিষ্ঠ লোকজনকে নিয়োগ দিয়ে এই কমিটিকে সক্রিয় করতে হবে যেন তারা জনতাকে সচেতন করতে পারে এসব সাংস্কৃতিক যুদ্ধে না জড়ানোর জন্য। ‘মব জাস্টিস’ প্রতিরোধ করে দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে এবং রাষ্ট্র গঠনেক্ষমতাকে সুসংহত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এখনো পাওয়ার কনসলিডেশন করতে পারেনি ঠিকমতো। ক্ষমতার নানা কেন্দ্রে চেইন অ্যান্ড কমান্ড নেই। এটা কি আর্মি, সরকার, ছাত্র এ তিন ব্লকের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবেই কিনা খতিয়ে দেখে ক্ষমতার নানা কেন্দ্রকে এক হয়ে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা বের করা দরকার। লিয়াজোঁ কমিটিকে সক্রিয় করা দরকার এ কাজেও। আর এ রকম গণ-অভ্যুত্থান বারবার আসে না। ফলে এ গণ-অভ্যুত্থানের সময়ই রুশোর ভাষায় জনগণের যে গণতান্ত্রিক অভিপ্রায় তার বাস্তবায়ন করতে হয়। এখনো সময় আছে অতি দ্রুত কীভাবে ফ্যাসিবাদী সিস্টেম এবং কাঠামো খোলনলচে পরিবর্তন করে একটা লিবারেল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক কাঠামো দাঁড় করানো যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে এবং কাজ শুরু করে দিতে হবে।

ড. যোবায়ের আল মাহমুদ: সহযোগী অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও