আমরা প্লাস্টিক যুগে বাস করছি। কথাটি শুনতে যেমন সাধারণ লাগে, বাস্তবে এর তাৎপর্য অনেক গভীর ও জটিল। আজকের এ আধুনিক বিশ্বে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি পদক্ষেপে প্লাস্টিক আমাদের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, আমরা যে পরিবেশে বেড়ে উঠি, যা ব্যবহার করি, যে খাদ্য গ্রহণ করি, এমনকি যার মধ্যে নিশ্বাস নেই সেখানে কোথাও না কোথাও প্লাস্টিকের ছোঁয়া রয়েছে। এটি যেন এক অদৃশ্য জালে আমাদের চারপাশকে ঘিরে ফেলেছে, আর আমরা হয়তো বুঝতেই পারি না, এ জাল ধীরে ধীরে আমাদের নিজের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলছে।
মানবসভ্যতার ইতিহাসের বিপ্লবাশ্চর্য অনেক পর্যায়ের মধ্যে প্লাস্টিক যুগ নিশ্চয় একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। বিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত, প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিক যুগ বলতে কেবল একটি সামগ্রীকে বোঝানো নয়, এটি একটি প্রতীকী রূপ, যা আমাদের সভ্যতার স্বাচ্ছন্দ্য, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, পরিসরের ব্যাপ্তি এবং পরিবেশ ও জীবনযাত্রার ক্রমাগত পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। প্লাস্টিকের আবিষ্কার ও বিস্তার আধুনিক প্রযুক্তির একটি উজ্জ্বল সাক্ষ্য। ১৮৫৫ সালে প্রথম সিন্থেটিক প্লাস্টিক ব্যাকেলাইট উদ্ভাবনের পর ১৯২০-৩০-এর দশক থেকে প্লাস্টিকের গবেষণা ও ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করে। আজ আমরা যেখানে দেশজুড়ে পলিথিন ব্যাগ, পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, বৈদ্যুতিক যন্ত্র সবখানে প্লাস্টিকের ব্যবহার চেনাশোনা তা আধুনিকতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতীক।
প্লাস্টিক আধুনিক সভ্যতার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। মানবজীবনের প্রতিটি দিকেই এখন প্লাস্টিকের উপস্থিতি চোখে পড়ে। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রী, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য ও পানীয় সংরক্ষণের প্যাকেজিং, যানবাহনের অংশ, ইলেকট্রনিকস পণ্য, এমনকি পরিধেয় বস্ত্রেও এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার অনস্বীকার্য। উপাদানটি যেমন আমাদের জীবনকে সহজতর ও আরামদায়ক করেছে, তেমনি এর দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী এক মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সভ্যতার বিকাশে প্লাস্টিকের ভূমিকা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনই এর অপব্যবহার এবং অতিনির্ভরতা আমাদের জন্য এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতেরও বার্তা দিচ্ছে।
একসময় মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করত। পাট, বাঁশ, কঞ্চি, কাঠ কিংবা মাটির তৈরি পাত্র ব্যবহার হতো দৈনন্দিন জীবনে। সেসব সময় পরিবেশও ছিল অনেকটা ভারসাম্যপূর্ণ। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে মানুষের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নতুন সামগ্রী ব্যবহারের প্রবণতা। এ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আবিষ্কৃত হলো প্লাস্টিক। প্রথমদিকে এটি ছিল এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এর স্থায়িত্ব, সহজলভ্যতা, হালকা ওজন ও কম খরচে উৎপাদন সব মিলিয়ে প্লাস্টিক অচিরেই মানুষের জীবনের অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আমরা কি প্লাস্টিক ছাড়াই জীবন কাটাতে পারি? স্বাভাবিকভাবেই উত্তর হচ্ছে না, এ মুহূর্তে তা প্রায় অসম্ভব। কারণ প্লাস্টিক আজ এমনভাবে আমাদের জীবনযাত্রায় প্রবেশ করেছে, যা রাতারাতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবে এর ব্যবহার সীমিত করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করা এবং বিকল্প উপাদানের দিকে ঝুঁকে পড়া আমাদের করণীয়। যেমন কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার, কাঁচ বা স্টিলের বোতল ব্যবহার, পাট ও বাঁশের তৈরি সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা কিছুটা হলেও এ সমস্যা কমাতে পারি। উন্নত দেশগুলো এরই মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে, কর আরোপ করেছে, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। বাংলাদেশেও ২০০২ সালে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো সে আইন শুধু কাগজেই থেকে গেছে। এখনো বাজারে ঢুকলেই দেখা যায় হাজার হাজার পলিথিন ব্যাগ, যেগুলো নির্বিচারে ব্যবহার হচ্ছে।
আমরা বর্তমানে এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে প্রযুক্তি ও উন্নয়ন একদিকে মানুষকে আরাম দিয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করেছে। এ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের প্লাস্টিকের বিকল্প খুঁজতেই হবে। গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপাদান বের করতে হবে, প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাতে হবে, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সঠিক পদক্ষেপ নেয়া না হলে, ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে একটি ‘প্লাস্টিক জগৎ’, যেখানে প্রাণ থাকবে, তবে প্রকৃতি থাকবে না। আমরা যদি আজই ছোট ছোট পরিবর্তন শুরু করি, যেমন বাজারে গেলে কাপড়ের ব্যাগ নেয়া, প্লাস্টিক বোতল না কিনে রিফিলযোগ্য বোতল ব্যবহার করা, শিশুদের এ বিষয়ে শিক্ষা দেয়া, তাহলে আগামী দিনে পরিবর্তন অবশ্যই আসবে। সমাজে যখন একজন একটি উদ্যোগ নেন, তখন তা আরেকজনকে উদ্বুদ্ধ করে। এভাবেই তৈরি হয় একটি সচেতন সম্প্রদায়, একটি নতুন সমাজ।
প্লাস্টিক প্রাথমিক রূপ ছিল সেলুলয়েড। পরবর্তীকালে বেকেলাইটের আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রথম কৃত্রিম প্লাস্টিক তৈরি হয়। ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক যেমন পলিথিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), পলিস্টাইরিন, PET ইত্যাদি তৈরি হতে থাকে এবং এগুলো বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্লাস্টিকের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রবেশ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে তা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। প্লাস্টিক হালকা, টেকসই, সাশ্রয়ী ও নানাভাবে ব্যবহারযোগ্য বলে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি সহজে ভেঙে যায় না, দীর্ঘস্থায়ী ও রাসায়নিকভাবে স্থিতিশীল। এসব কারণে নির্মাণ, চিকিৎসা, খাদ্য সংরক্ষণ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি, ও গৃহস্থালিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় টিকাদান, সার্জারি, ইনফিউশন, রক্ত সংরক্ষণ ইত্যাদিতে প্লাস্টিক ছাড়া ভাবাই যায় না। কৃষিক্ষেত্রে প্লাস্টিকের গ্রিনহাউজ প্রযুক্তি, মালচিং ফিল্ম, ড্রিপ সেচ ইত্যাদি ফসল উৎপাদনে বিপ্লব এনেছে। এছাড়া খাদ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
তবে এ বহুবিধ সুবিধার পেছনে রয়েছে এক নির্মম সত্য। প্লাস্টিক জীবাণুমুক্ত হলেও এটি প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। এটি প্রাকৃতিকভাবে সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত বা বায়োডিগ্রেডেবল নয়। অধিকাংশ প্লাস্টিক ৫০০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে মাটিতে বা জলে থেকে যায়। ফলে এটি পরিবেশে জমে জমে একটি বড় আকারের দূষণ সৃষ্টি করে। জলাশয়, নদী, সমুদ্র, পাহাড় এমনকি মরুভূমিতেও এখন প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৩০ কোটি টনেরও বেশি প্লাস্টিক উৎপাদন হয়, যার একটি বড় অংশ ব্যবহারের পর পরই ফেলে দেয়া হয় এবং সেগুলোর অধিকাংশই রিসাইকেল করা হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে পড়ছে, যা সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য ভয়াবহ হুমকি।
প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে মারাত্মক দিক হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক। প্লাস্টিক যখন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে, তখন তা অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, যেগুলো আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। এ মাইক্রোপ্লাস্টিক বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, একজন সাধারণ মানুষ প্রতি সপ্তাহে প্রায় পাঁচ গ্রাম পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা খাচ্ছেন। এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, হরমোনগত সমস্যা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস এবং অন্যান্য মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এছাড়া শিশুদের মধ্যে এর প্রভাব আরো গুরুতর হতে পারে, যেহেতু তাদের শরীর গঠন ও স্নায়ুতন্ত্র এখনো সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। শুধু মানুষ নয়, জলজ প্রাণী, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর ওপরও প্লাস্টিকের প্রভাব মারাত্মক। সমুদ্রে কচ্ছপ, মাছ বা ডলফিন প্লাস্টিককে খাবার ভেবে খেয়ে ফেলে এবং পেট ভরে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যায়। সমুদ্রের গভীরে থাকা প্রবাল প্রাচীরও প্লাস্টিকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাখিরা প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বা মারা যাচ্ছে। স্থলজ পরিবেশেও একই দৃশ্য দেখা যায়। অনেক গবাদি পশু, বিশেষ করে শহরের রাস্তার পাশে থাকা গরু বা ছাগল প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে পেটের অসুখে ভোগে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্লাস্টিক দূষণ এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট, ড্রেন, খাল ও লেকগুলোয় প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল, মোড়ক এসব জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। বর্ষাকালে এ সমস্যা আরো প্রকট হয়। নদী ও খালে জমে থাকা প্লাস্টিকের কারণে পানি দূষিত হয়, যা কৃষিকাজ ও মাছ চাষে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যদিও সরকার পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনো অনেক দূরবর্তী।
প্লাস্টিক দূষণ রোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। প্রথমত, সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে প্লাস্টিকের অপরিকল্পিত ব্যবহার পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কিত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকারকে আরো কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে এবং যারা এ নিয়ম লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তি আরোপ করতে হবে। তৃতীয়ত, বিকল্প উপকরণের ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে। যেমন কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের মোড়ক, বাঁশের পাত্র ও বায়োডিগ্রেডেবল প্যাকেজিং। এসব উপকরণ ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণের হার অনেক কমে আসবে। পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং একটি কার্যকর পন্থা। প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হলে তা আবারো নতুন পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। এতে কাঁচামালের ব্যবহার ও দূষণ কমে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়। এজন্য আমাদের আলাদা করে বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জৈব বর্জ্য, রিসাইকেলযোগ্য বর্জ্য এবং অবশিষ্ট বর্জ্য আলাদা করা যায়। অনেক উন্নত দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকায় তারা প্লাস্টিক দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
প্রযুক্তির সাহায্যে প্লাস্টিকের বিকল্পও তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে গবেষকরা এমন ধরনের প্লাস্টিক আবিষ্কারে কাজ করছেন, যা সহজেই পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব। উদাহরণস্বরূপ, পলিল্যাকটিক অ্যাসিড (পিএলএ) এবং পলিহাইড্রোক্সিয়ালকানোয়েট (পিএইচএ) জাতীয় বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার। এগুলো ভুট্টা, আখ ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি হয় এবং পরিবেশে সহজেই মিশে যেতে পারে। এছাড়া কিছু ব্যাকটেরিয়া প্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে, এমন তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে ভবিষ্যতে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সবার যৌথ প্রচেষ্টাই পারে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে।
আমরা প্লাস্টিক যুগে বাস করছি কথাটি শুধু বাস্তবতা নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি সতর্কবাণীও। প্লাস্টিক আমাদের অনেক কিছু সহজ করে দিলেও তার বিপরীতে কী আমরা প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত? আমরা যদি এখন সময়মতো সচেতন না হই, আগামী দিনের মানুষ, বন্যজীবন, মাটি ও জল সবই বড় রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের সামনে এখনো সময় আছে। প্রযুক্তি, শিক্ষা, সচেতনতা ও সদিচ্ছা থাকলে আমরা এ প্লাস্টিক যুগ পেরিয়ে একটি পরিবেশবান্ধব, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে এখনই। অতএব, এটি এক ধরনের সামাজিক বিপ্লব, যার জন্য প্রতিটি মানুষকে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্লাস্টিক যুগ থেকে পরিবেশবান্ধব যুগে রূপান্তর আনতে আমাদের উচিত একসঙ্গে, সচেতনভাবে, স্বল্প থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করা।
ড. শফি মুহাম্মদ তারেক: অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; ফেলো, রয়্যাল কেমিক্যাল সোসাইটি ও চার্টার্ড পরিবেশবিদ, যুক্তরাজ্য