পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে চীনে শেয়ারবাজার ও বাণিজ্যিক আবাসন খাতের বিস্তার ঘটে দ্রুতগতিতে। এর আগে আশির দশকের শুরু থেকেই সরকারের কোনো কোনো অংশের মধ্যে পুঁজিবাজারের বিষয়ে আগ্রহ দেখা যায়। এ সময় চীন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প ইঝেং কেমিক্যাল ফাইবার প্রজেক্ট ‘পুঁজির
অভাবে’ পতিত হয়ে যখন চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের (সিটিক) শরণাপন্ন হয়, তখন এ প্রতিষ্ঠান তাদের পরামর্শ দেয় জাপানে আন্তর্জাতিক বন্ড ছেড়ে এ পুঁজি সংগ্রহের। প্রথমদিকে এভাবে পুঁজি সংগ্রহের বিরুদ্ধে পার্টি ও সরকারের ভেতরে প্রতিরোধ দেখা গেলেও ১৯৮১ সালে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদ-এর অনুমোদন দেয় এবং জাপানের বাজারে বন্ড বিক্রি করে পুঁজি সংগ্রহ করা হয়। এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে পরের বছরগুলোতে ‘পুঁজির
অভাবে’ অন্য কয়েকটি প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহেও একই পথ অবলম্বন করা হয়।
আশির দশকের শেষ থেকে চীনের বাজারে কোম্পানির শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে প্রথম শেনজেনের পাঁচটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল শেনজেন ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এটি ছিল প্রথম অর্থকরী প্রতিষ্ঠান, যেটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহের চেষ্টা করে। প্রথমদিকে এতে অংশগ্রহণে এলাকার মানুষের তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের এ অনাগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টি কমিটির নেতাদের তাদের সদস্যদের এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টাও দেখা যায়। অবশেষে ১৯৮৯ সালে এ ব্যাংক যখন লভ্যাংশ ঘোষণা করে তখনই সাড়া পড়ে যায়। এ ঘটনাকে চীনের অর্থনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক বলে অনেকে মনে করেন।
এর মধ্যে ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে শিজহিমেন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চীনের ভবিষ্যৎ শেয়ারবাজারের রূপরেখা ঠিক করা হয়। সম্মেলনে অবশ্য শেয়ারভিত্তিক নতুন কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। সম্মেলন রিপোর্টে শেয়ারবাজার প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে আরো যেসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় তার মধ্যে ছিল—১. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিরাষ্ট্রীয়করণ করা যাবে না;