দুর্নীতি প্রতিরোধ

করোনার সঙ্গে ‘কারুনভাইরাস’-এরও চিকিৎসা ও প্রতিষেধক খুঁজতে হবে

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব আজ একটি নয়, দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত। নভেল করোনাভাইরাসের কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু অন্য ভাইরাসটির কথা প্রকারান্তরে আলোচনা হলেও সরাসরি বলা হচ্ছে না। আমি এটাকে ‘কারুনভাইরাস’ বলব। উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাস সমাজে বিদ্যমান কারুনভাইরাসকে তার কদর্য মূর্তিতে তুলে ধরেছে। নভেল করোনাভাইরাসের মতো এটাও বিপজ্জনক এবং সমাজের জন্য অশনিসংকেত। প্রথমেই স্মৃতি থেকে বালকবেলায় পড়া কারুনের গল্পটা বলতেই হয়। কারণ এখন পাশ্চাত্য প্রভাব আর ‘প্রগতিশীলতার’ নামে এসব নীতিকথার গল্প আমাদের পাঠক্রম থেকে নির্বাসিত।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব আজ একটি নয়, দুটি ভাইরাসে আক্রান্ত। নভেল করোনাভাইরাসের কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু অন্য ভাইরাসটির কথা প্রকারান্তরে আলোচনা হলেও সরাসরি বলা হচ্ছে না। আমি এটাকে ‘কারুনভাইরাস’ বলব। উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাস সমাজে বিদ্যমান কারুনভাইরাসকে তার কদর্য মূর্তিতে তুলে ধরেছে। নভেল করোনাভাইরাসের মতো এটাও বিপজ্জনক এবং সমাজের জন্য অশনিসংকেত। প্রথমেই স্মৃতি থেকে বালকবেলায় পড়া কারুনের গল্পটা বলতেই হয়। কারণ এখন পাশ্চাত্য প্রভাব আর ‘প্রগতিশীলতার’ নামে এসব নীতিকথার গল্প আমাদের পাঠক্রম থেকে নির্বাসিত।   

কারুনের গল্প

কারুন ছিল মিসরের শ্রেষ্ঠ ধনী। তার ছিল সোনাদানা, মণিমুক্তা, হীরা-জহরত আর উট-গাধা, ঘোড়াসহ অঢেল সম্পদ। কিন্তু কারুন ছিল অত্যন্ত কৃপণ। মুসা নবী তাকে তার ধন-দৌলত সৎ কাজে ও দরিদ্রদের সহায়তায় ব্যয় করার পরামর্শ দিলে কারুন মনে করল মুসা (আ.) এভাবে তার ধনসম্পদ হস্তগত করতে চান। সে বলল, আমি নিজের ক্ষমতা-যোগ্যতা ও কৌশলের জোরে এসব ধন-সম্পদ রোজগার করেছি, তা আমি অন্যকে দিতে যাব কেন? সে মুসার বিরুদ্ধে চরিত্রহীনতার সাক্ষী দেয়ার জন্য একজন বারবনিতাকে ঠিক করে। প্রথমে মেয়েটি রাজি হলেও পরে সে সত্য কথাটি বলে দেয় যে কারুন তাকে লোভ দেখিয়ে নবী মুসার বিরুদ্ধে কুিসত কথা বলতে বলেছিল। পরে ভূমি অভিশপ্ত কারুনকে গ্রাস করতে উদ্যত হলে সে বলে, হে মুসা আমার ধন-দৌলত সব তুমি নাও। শুধু আমাকে প্রাণে বাঁচাও। কিন্তু কারুনের অনুনয়-বিনয়, শত ক্রন্দন সবই বিফলে গেল। দেখতে দেখতে ভূমি কারুনকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলল।

মিল ও অমিল

সেকাল আর একালের কারুনদের মধ্যে অমিলের তুলনায় মিলই বেশি। উভয় ক্ষেত্রেই অঢেল সম্পদের মালিক এরা। নিজেদের সম্পদকে কেবল তাদের নিজের ও পরিবারের জন্য এবং অবৈধ পথে সম্পদ আরো বৃদ্ধির জন্য ব্যয় করে। লোক দেখানো ছাড়া সৎ ও জনকল্যাণ কাজে এদের ব্যয় নেই বললেই চলে। প্রতিপক্ষ বিশেষ করে সমাজের ভালো মানুষদের জব্দ ও কোণঠাসা করার জন্য এরা যেকোনো হীন পন্থা অবলম্বন করতে দ্বিধা করে না। নিজের জীবন বিপন্ন হলে তারা সব সম্পদের বিনিময়ে উদ্ধার পেতে চায়। যেমনটি দেখেছি আমরা করোনায় আক্রান্ত ধনকুবেরদের ক্ষেত্রে। অমিল হলো, আজকের কারুনরা ভূমি গ্রাস করে না। তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে, নিদেনপক্ষে লুট করা সম্পদ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় পাড়ি জমায় এবং সপরিবারে এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে চৌদ্দ গুষ্ঠিসহ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকে!

কারুনভাইরাসের লক্ষণ

মনে রাখতে হবে, বিশাল আয় ও অগাধ সম্পদের মালিক হওয়া অপরাধের কিছু নয়। কিন্তু সে সম্পদ বৈধ উপায় যেমন উদ্ভাবন, নতুন সেবা প্রদান ও সামাজিক সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্জিত হতে হবে। নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় করা ছাড়াও এর উল্লেখযোগ্য অংশ সমাজের অবহেলিত ও বিপদগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করতে হবে। বাংলাদেশে বিশাল আয় ও সম্পদের মালিকদের বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে এদের অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে অবৈধ পন্থায়—রাজনীতি (নিজের ও স্ত্রীর সম্পদ কয়েক গুণ ফেঁপে ওঠা), সন্ত্রাস (গাজীপুরের প্রকৌশলী হত্যা), ব্যাংকঋণ খেলাপ (বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক), কর ফাঁকি (কমবেশি সব ব্যবসায়ী), প্রতারণা (সাহেদ করিম ও ডা. সাবরিনা) ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি (সাম্প্রতিক বালিশ, বটিকাণ্ড) ইত্যাদির মাধ্যমে। বৈধ ও নিয়মানুগ পথে, সামজিক কল্যাণের মাধ্যমে বিশাল আয় ও সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন কেউ যে নেই তা নয়। তবে তাদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।

এছাড়া নভেল করোনাভাইরাস-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেখা গেছে যে এরা তাদের আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী, দুর্নীতিপরায়ণ আমলা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নীতি বিবর্জিত সাংবাদিকের পেছনে ব্যয় করে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে একালের কারুনদের অর্থসম্পদ ব্যয়িত হয় না। লোক দেখানো, ছবি তোলার জন্য, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ জমা দেয়া ছাড়া এদের অন্য কোনো ব্যাপক সাহায্য তত্পরতা চোখে পড়ে না। এসব তহবিলের প্রাপ্তি ও ব্যবহার জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। উল্লেখ্য, ভারতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমাকৃত অর্থ ও এর ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি উঠেছে।

তাই করোনা সংকটে সাধারণ মানুষের সাহায্যার্থে সাধারণ মানুষকে তাদের ক্ষুদ্র শক্তি ও সম্বল নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে এবং তাদের সংগঠন যেমন পে ইট ফরওয়ার্ড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, শৈলান প্রবীণ নিবাসের ন্যায় (নমুনা তালিকা, আমি যাদের কাজের সঙ্গে পরিচিত) সংগঠনকে আর্থিক, খাদ্য, পিপিই, কভিড টেস্ট, মাস্ক, অক্সিমিটার, অক্সিজেন ইত্যাদি সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। সরকার নয়, কারুনরা নয়, বরং অসংখ্য নাম না জানা ডাক্তার, স্বাস্থ্যসেবী, সাধারণ মানুষ ও সংগঠনকে চিকিৎসা ও ত্রাণ তত্পরতার অগ্রভাগে দেখা যাচ্ছে।

কারুনভাইরাসের আত্মকেন্দ্রিকতার কারণে নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তরা তাদের আত্মীয়স্বজন কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়েছেন। এমনকি মৃত্যুর পরও পরিজনদের দেখা পাননি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? আগের দিনের কারুনরা নবীদের হাতে হেদায়াতপ্রাপ্ত হতো অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হতো। এখন তো সে সুযোগ আর নেই। তাছাড়া করোনার মতো কারুনভাইরাসেরও কোনো চিকিৎসা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তাই করোনা আক্রান্তের চিকিৎসার মতো এক্ষেত্রেও উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করতে হবে।    

কারুনভাইরাসের বিস্তার রোধের সম্ভাব্য পথ

এক. সরকারকে জনপ্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে। জনগণনির্ভরতা না থাকলে অপশক্তি বা কারুনদের ওপর সরকার নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কারুননির্ভরতার ফলে কারুনদের সংখ্যা ক্রমে বাড়তেই থাকে।

দুই. দলীয় মনোনয়ন বিক্রি এবং অসৎ আদম বেপারি ও গার্মেন্ট মালিকদের মনোনয়ন দেয়া বন্ধ করতে হবে। হেলিকপ্টারে নাজিল হওয়া এসব ‘জনপ্রতিনিধির’ পরিবর্তে তৃণমূল থেকে উঠে আসা সৎ ও ত্যাগী কর্মীদের মনোনয়ন দিতে হবে। এক সংসদ সদস্য পাপুলকাণ্ডেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তির বিশাল ক্ষতি হয়েছে।

তিন. সন্ত্রাসীরা রাজনীতিবিদ, আমলা ও  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা ছাড়া বাঁচতে এবং বৃদ্ধি পেতে পারে না। তাই এ যোগসূত্র ছিন্ন করার পথ খুঁজতে হবে। আমলাতন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেতৃত্ব থেকে দলবাজদের সরাতে হবে। এরা সাধারণত অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ দুটোই হয়ে থাকে এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

চার. ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক প্রভাব হ্রাস করে আমানতকারীদের প্রতিনিধি সংখ্যা বাড়াতে হবে। সুদহার নির্ধারণ বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে রাজনীতিবিমুক্ত ও মেরুদণ্ডী পেশাদারদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। 

পাঁচ. ঋণখেলাপিদের উন্নত দেশে অভিবাসন রোধ করা এবং এদের লুণ্ঠিত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে একজোট হয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে ফিরিয়ে এনে এদের যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ছয়. কর আহরণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া কর ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়। এক হাতে তালি বাজে না। তাই কর ফাঁকিতে সহায়তাকারী আগাছাদের কর প্রশাসন থেকে নিড়ানির ব্যবস্থা করতে হবে। এদের এবং কর ফাঁকিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। কর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ও করহার হ্রাস করতে হবে।

সাত. সাহেদ ও সাবরিনার মতো প্রতারণা বন্ধ করতে এদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। এদের অর্থসম্পদ বাজেয়াপ্ত করে প্রতারিত ব্যক্তিদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এদের আইনবহির্ভূত হত্যার পরিবর্তে সাময়িক সময়ের জন্য সিঙ্গাপুরের ন্যায় পশ্চাদ্দেশে বেত্রাঘাতের ন্যায় নিবর্তক শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আট. সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে চুরি বন্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে আলাদা ক্রয় দপ্তর স্থাপন করতে হবে। দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংগ্রহ আইনের ন্যায় প্রতিযোগিতাবিরোধী আইনগুলো বাতিল করতে হবে। যেকোনো বড় ক্রয়াদেশ প্রদানের আগে তার বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করে প্রকৃত প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে কেবল অনলাইন ও কম্পিউটারাইজেশন সমস্যার সমাধান নয়। কম্পিউটারে একটি পরিভাষা প্রচলিত আছে, যা হলো ‘গিগো’ বা গার্বেজ ইন গার্বেজ আউট। আপনি কম্পিউটারে আবর্জনা দিলে আবর্জনাই বেরিয়ে আসবে। কম্পিউটার কোনো পরিশোধন যন্ত্র নয়!

নয়. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। কথায় আছে সূর্যালোক হচ্ছে সবচেয়ে ভালো জীবাণুনাশক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে কারুনভাইরাস এমনিতেই মরে যাবে এবং এর বিস্তার রোধ সম্ভব হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণ কর্তৃক গৃহীত না হলে ভিন্ন মত প্রচারের ফলে কখনই কোনো সরকারের পতন ঘটেনি।

দশ. পাপলু, সাহেদ করিম ও ডাক্তার সাবরিনাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে তাদের করুণ পরিণতির কাহিনী পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একইভাবে করোনা-পরবর্তীকালে যেসব ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবী আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাদের সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবগত করে তাদের অনুরূপ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

কারুনভাইরাসের কী হবে?

নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বের করার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা চলছে। হয়তো সহসাই এটা পাওয়া যাবে এবং এর চিকিৎসায় অগ্রগতি হবে। করোনা ম্যালেরিয়া কিংবা কলেরার মতো একটি নিরাময় ও ব্যবস্থাপনাযোগ্য ব্যাধিতে পরিণত হবে। কিন্তু কারুনভাইরাসের কী হবে? এর সমাধান তো চিকিৎসা, অণুজীব বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলে পাওয়া কিংবা ভ্যাকসিনের মতো মানবদেহে পুশ করা যাবে না। এর সমাধান বের করতে হবে সমাজ বিজ্ঞানীদের। কিন্তু সমস্যা হলো, কারুনভাইরাসের ভুক্তভোগীরা বিচ্ছিন্ন, অসচেতন ও অবস্থা পরিবর্তনে তত্পর নয়। কিন্তু কারুনরা সংঘবদ্ধ, সক্রিয় ও প্রতাপশালী। তাই সমাজ বিজ্ঞানীরা সমাধানের পথ দেখালেও সমাজ বিপ্লব ছাড়া কারুনভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব নয়।

 

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: সাবেক সচিব ও অর্থনীতিবিদ

আরও