গণহত্যা দিবস

গণহত্যা কর্নার পরিদর্শন সবার জন্য উন্মুক্ত নয় কেন?

আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘‌সুগন্ধা’য় গণহত্যা কর্নার স্থাপন করেছিলাম। মনে রাখতে হবে, এখানে জাতির জনক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম কার্যালয় ছিল। এ ভবনেই বাংলার নির্বাচিত অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠক ব্যর্থ হলে পাকিস্তান মিলিটারি জান্তা বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের ওপর গণহত্যা শুরু করে এবং এর ফলে বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ তাজা প্রাণ জীবন হারায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এ ভবনে গণহত্যা কর্নারটি স্থাপন করা হয়েছিল। বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও আবুল মাল আবদুল মুহিত যৌথভাবে শত শত রাজনৈতিক নেতা ও বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে এ গণহত্যা কর্নার উদ্বোধন করেন।

আজকে ২৫ মার্চ—গণহত্যা দিবস। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘‌সুগন্ধা’য় গণহত্যা কর্নার স্থাপন করেছিলাম। মনে রাখতে হবে, এখানে জাতির জনক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম কার্যালয় ছিল। এ ভবনেই বাংলার নির্বাচিত অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠক ব্যর্থ হলে পাকিস্তান মিলিটারি জান্তা বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের ওপর গণহত্যা শুরু করে এবং এর ফলে বাংলাদেশের ত্রিশ লাখ তাজা প্রাণ জীবন হারায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এ ভবনে গণহত্যা কর্নারটি স্থাপন করা হয়েছিল। বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ ও আবুল মাল আবদুল মুহিত যৌথভাবে শত শত রাজনৈতিক নেতা ও বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে এ গণহত্যা কর্নার উদ্বোধন করেন। 

দৃষ্টিনন্দন সুগন্ধা ভবনটি তৈরি হয়েছিল ১৯৬১ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের পূর্ব পাকিস্তান সফর উপলক্ষে। ভবনটিতে রয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম দপ্তর। এখানে আরো রয়েছে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্র বা বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোম্যাটিক সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইত্যাদি। বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার, ফোনসেট, বঙ্গবন্ধু ফটো গ্যালারিও এখানে সংরক্ষিত আছে। আমি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম, সপ্তাহের দুদিন এ ভবন দেশের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তারা বিভিন্ন স্কুল থেকে তাদের শিক্ষকের গাইডেন্সে ভবনটি পরিদর্শন করবে, ফিরে গিয়ে এর ওপর প্রবন্ধ-গল্প লিখবে, গবেষণা করবে। এছাড়াও পরিদর্শনের জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। 

আজকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে বঙ্গবন্ধু কর্নারে গিয়ে দেখলাম ভবনটি ফাঁকা। কোনো লোকজন নেই। আরো জানলাম যে, স্কুলের ছেলেমেয়েদের আর এখানে আসতে উৎসাহ দেয়া হয় না, জনগণেরও প্রবেশ নিষেধ।

এখনো আওয়ামী লীগ সরকার দেশে বলবৎ আছে। আর আওয়ামী লীগ যদি সরকারে না থাকে, বিশেষ করে যদি শেখ হাসিনা সরকারে না থাকেন, তাহলে কী হবে? যেমনটি আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৪-এর অনুষ্ঠানে বলেছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর এ দেশে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা কঠিন ছিল। আওয়ামীলীগ সরকারে থাকা অবস্থায়ই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা গণহত্যা কর্নারের আজকের এমন অবস্থা দেখে আমি মর্মাহত। 

আমরা কি এসব বিষয়ে মনোযোগী হব? 


ড. এ কে আব্দুল মোমেন: এমপি

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আরও