পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে আগেই চীন বড় ধরনের ধাক্কা খায় ১৯৮৯ সালের মে মাসে তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের ঘটনায়। একই বছরের এ মে মাসেই সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ চীন সফরে আসেন। তার সফর তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের ঘটনাবলির কারণে খুব মনোযোগ পায়নি, পেলেও কিছু হতো না, কেননা এর কিছুদিনের মধ্যেই গর্বাচেভের নেতৃত্বেই সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়।
তিয়েন আন মেন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পরে পলিট ব্যুরো সদস্য হু ইয়াও ব্যাংয়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর। হু পার্টির মধ্যে প্রবল চাপে ছিলেন এবং পলিট ব্যুরো সভাতেই ১৫ এপ্রিল তিনি হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ক’দিন পর তিয়েন আন মেন স্কোয়ারে প্রয়াত এ নেতার স্মরণে আয়োজিত বিশাল জমায়েত থেকেই সরকারের নানা কার্যক্রম ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গুঞ্জন শুরু হয়, পরে সেটাই সরব প্রতিবাদে পরিণত হয়। পুরো মে মাসেই জমায়েত বাড়তে থাকে এবং অবস্থান কর্মসূচি সম্প্রসারিত হতে থাকে। এ বিশাল জমায়েত, এ প্রতিবাদকে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে পার্টির মধ্যে বিভিন্ন মত ছিল। মাস ধরে অব্যাহত থাকা অভাবনীয় এ প্রতিবাদ পার্টির কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের পার্টি সংগঠন, সেনাবাহিনী ও সমাজের মধ্যে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ অস্থিরতার মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক রদবদলও ঘটে। প্রতিবাদ দমনে গণমুক্তি ফৌজকে একবার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্রমে বেইজিং থেকে এ প্রতিবাদ ৩৪১টি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেইজিং শহরে প্রবেশের সড়ক ও রেলপথ শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের অনশন ধর্মঘট। অনেক বিতর্ক-দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলার পর ৪ জুন পার্টি ও সরকার বল প্রয়োগের মাধ্যমে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি দমন করার কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয়। গণমুক্তি ফৌজ মোতায়েন করা হয়।
মাসাধিককাল ধরে চলা বেইজিংয়ের কেন্দ্রে বাড়তে থাকা সেই প্রতিবাদী বিশাল তরুণ জমায়েত, পার্টির সঙ্গে তাদের সংঘাতের নানা ঘটনা সে সময় অনেকের মতো আমিও পর্যবেক্ষণ করেছি ঢাকা থেকে। কিছুদিন পর আমি এর একটি পর্যালোচনা লিখেছিলাম, তার কিছু অংশ এখানে খুব প্রাসঙ্গিক। সেই পর্যালোচনায় লিখেছিলাম,
“চীনের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের বিকাশ ধারা লক্ষ করলে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে এ আন্দোলন ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। ক্রমান্বয়ে এখানে লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর সমাবেশ ঘটেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থিত হয়েছেন কিছু শ্রমিক-কৃষকও। সমাবেশে উপস্থিত সব মানুষের দাবি-দাওয়া অভিন্ন ছিল না। ‘গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে’ এভাবেই বাইরে বিশেষত পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দাবির মর্মবস্তু অনুসন্ধান করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। উপস্থিত একটি অংশের দাবির মর্মার্থ ছিল পশ্চিমা ধাঁচের ব্যক্তিমালিকানার প্রসার। আর একটি অংশের দাবির মূল কথা ছিল আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা—যে আমলাতন্ত্র গত কয়েক বছরে বেশ শক্তি লাভ করেছে। আরেকটি বড় অংশের দাবির মূল কথা ছিল সংস্কারের ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ছাঁটাই, দুর্নীতি ইত্যাদির অবসান। পার্টি নেতৃত্বের সমালোচনার অধিকার, যা আগে থাকলেও পরে হরণ করা হয়েছিল, তার দাবিও ছিল অন্যতম।”
বস্তুত এ আন্দোলনের ধরন, গঠন, সরকারের ভূমিকা সবকিছুই চীনের জন্য ছিল নতুন অভিজ্ঞতা।
বিভিন্ন টিভি ও সংবাদপত্র থেকে তত্কালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি যে চিত্র পেয়েছিলাম তা হলো,
‘প্রথমদিকে লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রী এক স্থানে জমায়েত হয়েছেন কিন্তু কোথাও কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে সামরিক আইন জারি হয়েছে কিন্তু কোনো গুলিবর্ষণ, নির্যাতন, গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি।... এটা সম্ভব হয়েছিল দীর্ঘদিন সমাজতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনার ছাপ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের কারণে।...’
কিন্তু তাহলে সহিংসতা, রক্তপাত ও হতাহতের ঘটনা কবে কীভাবে ঘটল? পরিস্থিতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ থেকে তখন যা খেয়াল করেছিলাম তা এ রকম,
‘একপর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অবস্থান প্রত্যাহার করতে যাচ্ছেন এবং স্কোয়ার প্রায় খালি হয়ে আসতে থাকে। এ সময়েই ঘটে বিপ্লব-পরবর্তী চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা। আকস্মিকভাবে সেখানে শুরু হয় হাঙ্গামা, উসকানিমূলক হামলা, গুলিবর্ষণ। সে সময়ই প্রথম ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।’ (পূর্ণাশা, ১২ মার্চ, ১৯৯০)
তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের এ বিশাল প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে কত মানুষ হতাহত হয়েছিলেন, তার সঠিক খবারখবর এখনো পাওয়া যায় না। বিভিন্ন তথ্য থেকে বলা যায়, শেষ পর্যায়ে এ রক্তাক্ত সংঘাতের ঘটনাবলি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ থেকে তৈরি হয়নি, এখানে অন্তর্ঘাত এবং উসকানিরও ভূমিকা ছিল। তার পরও ব্যাপক দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে পার্টি নেতৃত্বের মধ্যে দমনমুখী লোকজনের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকাশ স্পষ্ট হয়।
তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের এ প্রতিবাদী গণজোয়ারে এবং তাকে ঘিরে ক্ষমতার লড়াইয়ে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে দেংয়ের প্রভাব উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পায়। এ বছরই দেং সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে নেমে যান। ১৯৯২ থেকে তিনি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক তত্পরতা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন। তবে তাতে দেংপন্থীদের অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়েনি।
উঁচু প্রবৃদ্ধির কাল
কয়েক দশক ধরে জিডিপির উঁচু প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে চীনের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রথমদিকে শতকরা ৮-৯, পরে শতকরা ১০-১১ পর্যন্ত। বিশ্বের মধ্যে চীনেই দেখা যায় সবচেয়ে উঁচু হারে একটানা জিডিপি প্রবৃদ্ধি। প্রায় তিন দশক ধরে এ উঁচু হার অব্যাহত থাকার পর গত কয়েক বছরে তা আবার ৬-৭-এ নেমে এসেছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ উচ্চহার বাজার স্বয়ংক্রিয়তার মাধ্যমে নয়, পরিকল্পিতভাবেই ঘটেছে। চীনা অর্থনীতির বিকাশ ধারা নিয়ে সরকারি পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপণে এ হ্রাসপ্রাপ্তির সম্ভাবনার কথাও আগেই বলা হয়েছিল।
নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পরিবর্তনের গতি ছিল মাঝারি, পরের দশকে তা আরো গতিপ্রাপ্ত হয়। স্থির দামে ১৯৭৮ সালের তুলনায় ১৯৯২ সালে জিডিপি বেড়েছে শতকরা ৩০০ ভাগের কিছু বেশি। কৃষি ও শিল্প দুই খাতেই উৎপাদন বেড়েছে, তবে জিডিপিতে কৃষির তুলনায় শিল্প-কারখানার আনুপাতিক অবস্থান বেড়েছে। স্থির দামে বা একই দামস্তর ধরে তুলনা করলে ১৯৭৮ সালে জিডিপিতে প্রাথমিক খাত বা কৃষির অনুপাত ছিল শতকরা ২৮.৪ ভাগ, ১৯৯২-তে হয়েছে শতকরা ১৬.২ ভাগ। শিল্প-কারখানার অনুপাত ১৯৭৮ সালেই কৃষি থেকে অনেক বেশি ছিল, এর অনুপাত ছিল তখন শতকরা ৪৮.৬ ভাগ, ১৯৯২ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৫৯.২ ভাগ। টারশিয়ারি বা পরিষেবা খাতের অনুপাত খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি, যথাক্রমে তার অনুপাত ছিল ২৩ এবং ২৪.৬।
তবে এ দুই সময়কালে কর্মসংস্থানের অনুপাতে কৃষি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও সংখ্যায় বেড়েছে এবং কর্মসংস্থানের প্রধান খাত হিসেবে কৃষির ভূমিকাই অব্যাহত ছিল। ১৯৭৮ সালে কৃষি খাতে কর্মসংস্থানের অনুপাত ছিল শতকরা ৭০.৫, ১৯৯২ সালে তা দাঁড়ায় শতকরা ৫৮.৫ ভাগ। কৃষিতে যুক্ত মোট জনসংখ্যা ছিল ১৯৭৮ সালে ২৮ কোটি, আর ১৯৯২ সালে প্রায় ৩৫ কোটি। শিল্প-কারখানায় এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭ কোটি ও ১৩ কোটি, শতকরা অনুপাতে এর হার ছিল যথাক্রমে প্রায় ১৭ ভাগ ও ২২ ভাগ। পরিষেবা খাতে যথাক্রমে প্রায় ৫ কোটি ও ১২ কোটি বা শতকরা ১২ ও ১৯ ভাগ।
২০০০ সালে প্রকাশিত অর্থনৈতিক গতিপথ ও ভবিষ্যৎ নীতি বিশ্লেষণ বিষয়ক পূর্বোক্ত গ্রন্থে বাজার সম্প্রসারণ আর জিডিপি প্রবৃদ্ধির পথ হিসেবে আরো উল্লেখ করা হয়েছে গৃহায়ন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণকে। বলা হয়েছে,
‘বিনা পয়সা বা সামান্য পয়সায় প্রচলিত গণ গৃহায়ন ব্যবস্থাকে বাজার ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে গ্রামে বিশেষত শহর এলাকায় গৃহায়নের পেছনে খরচ খুবই দ্রুত এবং বিপুল হারে বেড়ে যাবে। ২০১০ সালের মধ্যে তা মোট খরচের শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত উঠে যাবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাজারীকরণের মধ্য দিয়েও খরচ অনেক বাড়বে।’
তার মানে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বিভিন্ন সর্বজন অধিকারের ক্ষেত্রগুলো বাণিজ্যিকীকরণ করার মধ্য দিয়ে বাজার অর্থনীতির সম্প্রসারণ হয়েছে, লেনদেন ব্যয় বেড়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির পেছনে এসব বাণিজ্যিকীকরণ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
শিল্পায়ন, অবকাঠামো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ চীনের জন্য নতুন কোনো ঘটনা ছিল না, চীন বিপ্লবের প্রথম থেকেই অর্থনৈতিক নীতির প্রধান দিক ছিল এটি। ঘোষিত লক্ষ্যই ছিল যত দ্রুত সম্ভব পুঁজিবাদী বিশ্বের সবচেয়ে বিকশিত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে অতিক্রম করা। এর কারণেই কমিউন ব্যবস্থাকে সাজানো হয়েছিল একই সঙ্গে কৃষি ও শিল্পের বিকাশের যৌথ উদ্যোগের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে। যৌথ উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় সাফল্য দেখা যায় ৬০ ও ৭০ দশকে। পানি ও জমি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, টেকসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে যৌথ মালিকানায় কার্যক্রমের ফলে শতকরা মাত্র ১৩ ভাগ জমি আবাদি হলেও বিশাল জনসংখ্যার জন্য খাদ্য উৎপাদনের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়। শিক্ষা-চিকিৎসা সর্বজনের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার ফলে এ বিশাল জনসংখ্যার দেশ অনাহারী ও অসুস্থ মানুষের বদলে সুস্থ ও সক্ষম মানুষের দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। ৭০ দশক নাগাদই তাই চীন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেংপন্থী সংস্কার জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্যের দিকে নতুন কিছু যোগ করেনি। মৌলিক ও বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ এবং কৃষি উৎপাদনে অভূতপূর্ব অগ্রগতির ধারা, যা বিপ্লবের কালেই ঘোষিত লক্ষ্য ছিল সংস্কারপন্থী বা দেংপন্থী অর্থনৈতিক নীতিতে সেটাই অব্যাহত ছিল। পার্থক্য তৈরি হলো রাজনৈতিক, শ্রেণীগত ক্ষেত্রে। পরিবর্তনের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো যৌথ মালিকানা থেকে ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং মুনাফামুখিতা ও বাজারমুখিতাকে অর্থনীতির প্রধান ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সর্বাত্মক ব্যবস্থা এবং বহুজাতিক কোম্পানির জন্য বিশেষ ছাড়, রফতানিমুখী উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি।
১৯৮০ ও ৯০ দশকে যখন চীনে এ বাজারমুখী সংস্কার দেশটির প্রধান গতিমুখ নির্ধারণ করেছে, তখন বিশ্বজুড়েই বিশ্বব্যাংকীয় কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি চলছে জোরকদমে। বাংলাদেশ-ভারতও তার বাইরে ছিল না। এককথায় এর নাম হলো ‘নয়া উদারতাবাদী’ সংস্কার কর্মসূচি। চীনের সংস্কার কি একই রকম? এটি নিয়ে বিতর্ক আছে। লক্ষণীয় যে, সংস্কারের ফলাফল চীনে যেমন এসেছে, বাংলাদেশ বা ভারতের মতো দেশে তেমন হয়নি। তার কারণ সংস্কার ধরনের মধ্যেই পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে সামনে পর্যালোচনায় আসব। [চলবে]
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়