“নবসৃষ্টির যত দোষ যত ত্রুটিই থাকুক-না কেন, মুক্তি কেবল ঐ কাঁটাপথেই। বাঁধা সড়ক গোলাপদলের পাপড়ি দিয়ে মোড়া হলেও সে পথ আমাদের পৌঁছিয়ে দেবে শেষটায় চোরা গলিতেই’’— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) জায়েদি সাত্তার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ঝড় মোকাবেলায় আইএমএফের ‘সময়োপযোগী সহায়তা’ নিয়ে একটা বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তার পর্যবেক্ষণের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত থাকতে পারে, তবে এর একটা সারাংশ থেকে উভয় দিকের পাঠক যে উপকৃত হবেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
আমরা সবাই অবগত আছি, যেমনটি বলতে চাইছেন লেখক, এ মুহূর্তে বৈশ্বিক অর্থনীতিগুলো রীতিমতো উত্তেজনা ও অস্থিরতার মুখোমুখি। ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা ব্যাহতকরণ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ‘নিখুঁত ঝড়’ বৈ কম কিছু নয়। সেই ঝড়ের সরাসরি বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত বাতাস আজও অর্থনীতিগুলোকে বিধ্বস্ত করে চলছে। বর্তমানে বহমান সংকটে নতুন ও পুরনো উপাদান উভয়ই বিদ্যমান।– যথা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, উচ্চতর সুদের হার, ডলারের অতিমূল্য, ঊর্ধ্বমুখী রাজস্ব ও চলতি হিসাবে ঘাটতি এবং ঋণ দুর্ভোগ। তবে আপাতদৃষ্টে এবং অনুভবে মনে হবে যেন একটা সম্পূর্ণ ঝড়ের ক্ষিপ্রতায় আক্রান্ত অর্থনীতির জাহাজ। জায়েদি সাত্তার মনে করেন সে ঝড়ে পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির নৌকা কিছুটা দোল খেয়েছে বটে, তবে ডুবে যায়নি (Buckled but not broken)।
দুই.
কিন্তু চ্যালেঞ্জগুলো থাকছেই যা নৌকা ডোবাতেও পারে কোনো একসময় যদি নিবৃত্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া যায়।
কভিড-১৯ মহামারীর পর পৃথিবীব্যাপী আলোচনার টেবিলে এল ঋণ মহামারী যখন সব উদীয়মান ও উন্নয়নশীল বাজার অর্থনীতির ৬০ ভাগ দেশ ঋণ দুর্দশায় পতিত হয়। আইএমএফ ৫৩টি খুব ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতি শনাক্ত করেছে, যাদের কেউ সার্বভৌম ঋণ খেলাপের খাদের কিনারে গেছে কিংবা কেউ যাওয়ার পথে। এই শেষোক্ত অবস্থানে সম্প্রতি ঘানা হাঁটতে চলেছে শ্রীলংকার পথে, পাকিস্তান খুব বেশি পেছনে নয়।
বাংলাদেশ? দেশটি তিন দশকের বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সামষ্টিক স্থিতিশীলতা আনয়নে কৃতিত্বের দাবিদার, যার ফলে দেশটিকে ঝড়-ঝাপটায় বড় মাপের ধাক্কা খেতে হয়নি। আর তাই বোধ হয় আইএমএফ মনে করে ঋণ পরিশোধের পর্যাপ্ত ক্ষমতায় বলীয়ান বাংলাদেশের ঋণ দুর্দশাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কম; বাংলাদেশের ঋণ নির্দেশকের বেশির ভাগ আইএমএফের বেঁধে দেয়া সীমার চেয়ে নিচে। আর বিশ্বব্যাংক বলছে বাংলাদেশের ঋণ বহনের ক্ষমতা ‘মধ্যম’ সারিতে। এ পর্যবেক্ষণ পোক্ত করে কিছু পরিসংখ্যান, যেমন ২০২২ অর্থবছরে মোট সরকারি ঋণ জিডিপির ৩৮ শতাংশ, মোট বহিঃস্থ ঋণ জিডিপির ১২ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধ মাত্রা মোট বৈদেশিক অর্জনের মাত্র ৫ শতাংশ। অতএব, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনুকূল অবস্থান আইএমএফ কর্তৃক অতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যে দ্রুত গতিতে মাত্র ছয় মাসে আইএমএফ ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সমাপ্ত এবং প্রথম কিস্তি অবমুক্ত করেছে তা রীতিমতো একটা রেকর্ড। প্রথমত, বহুপক্ষীয় এ প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রের সূত্র বলছে, এটা উদ্ধার পরিকল্পনা নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্তরকে একটা স্বস্তিকর অবস্থানে রাখার নিমিষে আগাম নিবৃত্তিমূলক পদক্ষেপ। দুটো ধারা এখানে মিলিত হয়েছে: (ক) বৈশ্বিক সংকটের তীব্রতার স্বীকৃতি এবং (খ) বাংলাদেশের জন্য সময়মতো সহায়তার প্রয়োজন এবং খেলাপি না হয়ে বহুপক্ষীয় দেনা পরিশোধের পারঙ্গমতা।
এ ঋণের পেছনে সংস্কারের কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এ সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড এরই মধ্যে সরকার হাতে নিয়েছে এবং এগুলো দীর্ঘ প্রত্যাশিত তবে সার্বিকভাবে এরা অর্থনীতিতে গতিময়তা এবং টেকসই উন্নয়নকে উজ্জীবিত করবে বলে বিশ্বাস।
জায়েদি সাত্তার বলছেন, ‘অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমরা এটাকে দেখি অতি প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটা সুযোগ হিসেবে যে সংস্কার ২০৩১ সালে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কার, রাজস্ব আহরণে নিবেদিত প্রচেষ্টা, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যনীতি আধুনিকায়ন ব্যতীত এসব অর্জনীয় লক্ষ্যগুলো মরীচিকা মনে হবে’।
তিন.
২০২১ অর্থবছরে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আঘাত হানার আগ পর্যন্ত, আমাদের অর্থনীতি বলিষ্ঠ পুনরুদ্ধার পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের জন্য চলতি হিসাবে ঘাটতি ব্যাপক বৃদ্ধি পায়, টাকার অবমূল্যায়ন ঘটে এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ নিম্নমুখী হয়। আর এ কারণেই বেশকিছু সময় ধরে বাংলাদেশের লেনদেন ভারসাম্য চাপের মুখে থাকে (এবং থাকছে)। সুতরাং ৪২ মাসের কর্মসূচিতে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিরাট কিছু—একদিকে এ ঋণ সময়োপযোগী, অন্যদিকে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিছুটা পর্যাপ্ত বলে প্রতীয়মান হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের আগে শর্ত জুড়ে দেয়—এ ব্যাপারটা অন্তত আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তাদের দেয়া বর্তমান প্রতিশ্রুতির পূর্বশর্ত হিসেবে তারা দেখতে চায় অর্থনীতির মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য, যা পঞ্চবার্ষিক কিংবা প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় প্রতিফলিত— এবং পূরণকল্পে সংস্কার সাধনে কর্তৃপক্ষ সংগতিপূর্ণভাবে একাত্ম।
চার.
সন্দেহ নেই যে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ঝুঁকির শিকার (Sys tematic risks) যার মধ্যে রয়েছে নিম্ন রাজস্ব আহরণ, দুর্বল আর্থিক খাত, অর্থনৈতিক বহুমুখিতার অভাব, ঊর্ধ্বমুখী অসমতা এবং সুশাসনের ঘাটতি। মনে হয়, আইএমএফ প্রদত্ত ত্রিমুখী প্যাকেজ এসব ঝুঁকির নিরিখেই প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের অর্থনীতির বিদ্যমান বিচলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ লক্ষ্যগুলো নিয়ে বিতর্কের অবকাশ খুব কম তবে সঞ্চারিত সুফল দিয়ে বিচার করতে হবে এর অন্তর্নিহিত শক্তি।
কে না জানে যে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বিপাকের উৎস ২০২২ অর্থবছরে আমদানি স্ফীতি। এর প্রধান কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়া এবং তার পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব পড়ে খাদ্যে, সার, জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে। সেজন্যই চলতি হিসাবে এ-যাবৎকালের বড় দাগে ঘাটতি, পড়ন্ত বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ, এককালীন রেকর্ড পরিমাণ মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ উঁচু মূল্যস্ফীতি ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার হিসেব-নিকেশ পাল্টে যায় এবং পরিণতিতে আইএমএফ হাজির হয় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আর্থিক খাত ও রাজস্ব সংগ্রহ প্রচেষ্টায় সংস্কার সংবলিত ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের দাওয়াই নিয়ে।
পাঁচ.
প্রশ্ন হলো সরকারি প্রতিশ্রুতি কীভাবে মূল সমস্যার পরিত্রাণ দেবে?
প্রথমত, বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের হিসাব প্রাসঙ্গিক করা। নিট আন্তর্জাতিক মজুদ দেখতে চায় আইএমএফ যা ২০২২ সালের অক্টোবরে ছিল ২৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তির প্রবণতা ও আমদানির হিসাব বিবেচনায় নিলে এ মাত্রার মজুদ দিয়ে চার মাসের সম্ভাব্য আমদানি চাহিদা মেটানো সম্ভব এবং কর্মসূচিটির প্রথম বছরের লক্ষ্য তাই। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতির মধ্যে আছে ২০২৩ সালের শেষের দিক নাগাদ বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক বিনিময় হার থেকে সরে এসে অভিন্ন এবং নমনীয় বিনিময় হার ব্যবহার করবে। তৃতীয়ত, রাজস্ব সঞ্চালনের বোঝা আমদানিসংক্রান্ত শুল্ক থেকে সরিয়ে আয় এবং মূল্য সংযোজন করের ওপর অধিকতর মনোযোগ দেয়া। আশা করা যায় যে সময়ের আবর্তনে এর ফলে শুল্ক ও শিল্প সংরক্ষণ কাঠামো আধুনিক হবে, রফতানি বহুমুখীকরণে বাধা দূর হবে এবং বিদেশী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।
জায়েদি সাত্তার মনে করছেন, চলতি হিসাবের ঘাটতি পরিমাপ প্রাক্কলনে আইএমএফ কিছুটা রক্ষণশীল এমনকি রেখার বাইরে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের আমদানি প্রবণতা পর্যালোচনা (আমদানি, এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তি) দেখাচ্ছে যে আগামী মাসগুলোয় আমদানি বেশ দুর্বল হবে, অর্থাৎ ২০২৩ অর্থবছরে মোট আমদানি দাঁড়াবে ৭৫-৮০ বিলিয়ন ডলারের মতো এবং চলতি হিসাবে ঘাটতি হবে জিডিপির ২ শতাংশ যেখানে ২০২৩-২৭ সময়কালে আইএমএফের প্রক্ষেপণ হচ্ছে ৩ শতাংশের বেশি। স্মর্তব্য, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তিন-পাঁচ বছর যদি কোনো অর্থনীতির চলতি হিসাব ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশের ওপর যায় তাহলে দেশটি লেনদেনের ভারসাম্য ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। সুতরাং কোনোভাবেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বাংলাদেশের চলতি হিসাব ঘাটতি ৩ শতাংশের সীমা ছাড়াতে দেয়া যাবে না। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ যেমন আমদানি ছাঁটাই এবং অবমূল্যায়ন আমদানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে তবে উপদেশ হচ্ছে অ্যাডহক পদ্ধতিগুলো ক্রমে বিলুপ্ত করে বহিঃস্থ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হারে নির্ভরশীল হওয়া। তাছাড়া এ পর্যন্ত রফতানি ও রেমিট্যান্সের বলিষ্ঠ প্রবাহ দেখে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতির চলতি হিসাব ঘাটতি জিডিপির প্রথাগত টেকসই ১ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশে ঘুরপাক খাবে।
বহিঃস্থ অভিঘাতের পরপর অনুসৃত একাধিক বিনিময় হার, রফতানি, আমদানি, রেমিট্যান্সের জন্য আলাদা হার বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রার স্বল্পতার সুযোগে অগতানুগতিক নীতিটি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের অযাচিত মুদ্রা স্পেকুলেশন ও আরবিট্রেজের পরিবেশ তৈরি করে। যা-ই হোক, বর্তমান কর্মসূচিতে মজুদ বৃদ্ধি, বহিঃস্থ বাফার শক্তিশালী করা এবং রিজিলেন্সে বৃদ্ধিকল্পে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিনিময় হারে অধিকতর নমনীয় করার পক্ষে মত উভয় পক্ষের। এবং উভয় পক্ষই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সম্মত হয়ে এ খাতে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ তহবিলের আওতায় অর্থ বরাদ্দে বদ্ধপরিকর।
সবশেষে দারুণ এক কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেছেন গবেষক জায়েদি সাত্তার—‘সংকট কাজে না লাগানো একটা ভয়ংকর ব্যাপার, কারণ সংকট সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে। বহিঃস্থ অভিঘাতের আলোকে আইএমএফের ঋণ বাংলাদেশকে তার উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন উদ্যম ও উৎসাহ নিয়ে আগুয়ান হতে সাহায্য করবে।’
ছয়.
বাংলাদেশে আইএমএফের ঋণ সুবিধা এবং সংযুক্ত শর্তে ‘নাখোশ’ মহল জিজ্ঞাসা করতে পারেন আসলে এ ঋণ বাংলাদেশের জন্য কতটুকু পরিত্রাণ দেবে? কেউ যুক্তি দেখাবেন যত না বর্ষণ, তার চেয়ে বেশি গর্জন অর্থাৎ সামান্য সাহায্যের বিপরীতে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি। আবার, প্রাপ্ত অর্থের একটা বড় অংশ যাবে হরহামেশা রিভিউর নামে তথাকথিত উপদেষ্টাদের পকেটে—এমনটি মনে হয় কারো। সুদের হার নির্ধারণে ‘ছয়-নয়’ নিয়ে যে নয়ছয় চলছে তার ওপর জোর দেয়া হয়নি কেন? সরকার কি নির্বাচনের আগে স্পর্শকাতর অথচ উপকারী সংস্কারে হাত দেবে?
সমালোচক যা-ই বলুক, আমরা জায়েদি সাত্তারের মতো আশাবাদী হতে চাই এবং চীনা প্রবাদ অনুসরণে বলব, বিড়ালটি কালো না সাদা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো বিড়ালটি ইঁদুর মারতে পারে কিনা।
আব্দুল বায়েস: অর্থনীতির অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য; ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির খণ্ডকালীন শিক্ষক