মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগে (এমআইডিআই) বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা এ প্রকল্পের সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। জাইকার মহাপরিকল্পনায় তিনটি ধাপে মহেশখালী ও মাতারবাড়ী সমন্বিত উন্নয়নযজ্ঞ বাস্তবায়ন হবে।
প্রথম ধাপে ২০২৪ সালের মধ্যে নির্মিত হবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ারড বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লা জেটি ও হারবার। দ্বিতীয় ধাপে ২০৩১ সালের মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দরের উপযোগী করে বন্দর সম্প্রসারণ ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ। সবশেষে তৃতীয় ধাপে ২০৪১ সালের মধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, প্রাথমিক এনার্জি সংশ্লিষ্ট শিল্প-কারখানা এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) পক্ষ থেকে সংস্থাটির প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে বলেছেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। সব মিলিয়ে এমআইডিআই অঞ্চলকে ঘিরে এ অঞ্চলে তিনটি ‘হাব’ বা অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। এগুলো হলো—লজিস্টিক হাব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হাব এবং শিল্প হাব।’
জাপানের কিউশু দ্বীপের অভিজ্ঞতা নিয়ে মহেশখালী-মাতারবাড়ী প্রকল্প সাজানো হবে। দেশকে শিল্পোন্নত করতে ষাটের দশকে জাপান ‘প্যাসিফিক বেল্ট’ নীতি গ্রহণ করে। দেশটির রাজধানী টোকিওর উত্তর দিক থেকে কিউশু দ্বীপ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার এলাকা শিল্পায়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়। সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী ১০ বছরে জাপানের মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়।
বর্তমানে ওই প্যাসিফিক বেল্টে ১০টি বড় আকারের অর্থনৈতিক জোন রয়েছে। সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। দেশটির মোট উৎপাদনের ৮০ শতাংশই আসে সেখান থেকে। এছাড়া কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে সেসব কল-কারখানায়।
কিউশু দ্বীপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমাদের মহেশখালী-মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জোনে একই ধরনের অর্থনৈতিক হাব গড়ে তুলতে চলেছে জাইকা, যা বাস্তবায়ন শেষে একদিকে দেশ পাবে অর্থনীতির দারুণ এক সচ্ছলতা। অন্যদিকে দেশের বেকার সমস্যারও বড় ধরনের সমাধান হবে। প্রয়োজন শুধু নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলা।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নে ১ হাজার ৪১৪ একর জমির ওপর ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক দুটি ইউনিট রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি এ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হাব থেকে ২০৪১ সালের পর ২১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হবে। ৩ হাজার ৫০০ এমএমসিএফডি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
প্রায় আট বছর আগে কক্সবাজার উপকূলে জাপানের অর্থায়নে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি জাহাজ থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য বন্দর অবকাঠামো ও জেটি নির্মাণও শুরু হয়। সম্প্রতি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিএল) এই মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর কাজও ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। জাইকার সহায়তায় এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টন করে মোট ১০ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন হবে।
জাহাজ থেকে সরাসরি ট্যাংকে কয়লা আনলোড করার জন্য প্রকল্প এলাকায় দুটি জেটির পাশাপাশি ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন স্টোরেজ ক্ষমতার চারটি ট্যাংক নির্মিত হয়েছে। ট্যাংকগুলোর ৬০ দিনের জন্য কয়লা সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গভীরতম সমুদ্রবন্দর হবে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর। এ বন্দরকে ঘিরেই চলছে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ। বন্দরটি চালু হতে এখনো প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। বন্দর চালু হলে একসঙ্গে কনটেইনার ও পণ্যবাহী বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে এখানে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে এখানে।
বর্তমানে আমদানি-রফতানিতে কনটেইনারপ্রতি খরচ বেড়েছে অনেক। যার কারণে পণ্যের মূল্য বেড়ে যায়। যার প্রতিফলন সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়ে। এ বন্দরের মাধ্যমে প্রতিটি কনটেইনারে আমদানি-রফতানি খরচ কমবে অন্তত ৩০ শতাংশ। ১৬ থেকে ১৮ দিনের মধ্যে পণ্য আনা-নেয়া করাও সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতির চিত্র বদলে যাবে।
দেশে কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর না থাকায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে খরচ একদিকে যেমন বেশি হয়, তেমনি সময়ও বেশি লাগে। মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে সরাসরি ইউরোপ-আমেরিকায় তৈরি পোশাক রফতানি সহজ হবে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা শ্রীলংকার বন্দরের মাধ্যমে রফতানির দরকার হবে না।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪০ ফুটের প্রতিটি কনটেইনারে ইউরোপে পণ্য পাঠাতে খরচ হয় ২ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে আড়াই হাজার ডলার এবং চীনে পাঠাতে খরচ হয় ১ হাজার ২০০ ডলার। আবার চীন থেকে ২০ ফুটের কনটেইনার আনতে খরচ পড়ে ৮০০ ডলার। মাতারবাড়ী বন্দর বাস্তবায়ন হলে সমুদ্রপথে প্রতি ২০ ফুটের কনটেইনারে ১৩১ ডলার এবং ৪০ ফুটের কনটেইনারে ১৯৭ ডলার খরচ বাঁচবে। এতে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন, পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়েও পণ্যের মূল্য সহনীয় হবে বলে আশা করা যায়।
মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও চীন। এ দুই দেশের প্রতিযোগিতার কারণে দীর্ঘদিন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ আটকে ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত জাপানের অর্থায়নে ১৮ হাজার কোটি টাকার বন্দর দৃশ্যমান হচ্ছে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপানের জাইকার ঋণ সহায়তা ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাকি অর্থ বন্দরের নিজস্ব তহবিল ও সরকারি অর্থায়ন। ২০২৬ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মহেশখালীর গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ নামের অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতেই মোট জমির পরিমাণ ১ হাজার ২৪০ একর। এরই মধ্যে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৭০ একর জমি। কাজও চলছে পুরোদমে।
এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা এগিয়ে নিতে সেখানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১৫ কিলোমিটারের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন, ইনডোর সাব স্টেশন স্থাপন, একটি ইটিপি নির্মাণ, ছয়তলা ভিত্তির ওপর ২ হাজার ১৫ বর্গফুটের চার তলা অফিস ভবন তৈরি, অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে ছয় কিলোমিটারের রাস্তা নির্মাণ, সাড়ে ১২ কিলোমিটারের ফুটপাত নির্মাণ, পয়োনিষ্কাশনের ২৭ কিলোমিটারের সুয়ারেজ নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
বেজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধলঘাটায় মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ২০০ একর। এ অঞ্চলে এসপিসিএলকে ৪১০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে এলপিজি টার্মিনাল ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপন করবে। টিকে গ্রুপের সামুদা পেট্রোকেমিক্যালকে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০০ একর।
প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। আবার থাইল্যান্ডভিত্তিক প্যাসিফিক গ্যাস বিডি লিমিটেডকেও জমি দেয়া হয়েছে ৬০ একর।
কাজগুলো শেষ হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভাগ্য বদলাবে এখানকার মানুষের। মহেশখালী হবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম এক চালিকাশক্তি।
এছাড়া মাতারবাড়ীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘিরে সড়কপথে যাতায়াত সহজ করার জন্য চকরিয়ার ফাসিয়াখালী থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দর থেকে ধলঘাটা গোলচত্বর পর্যন্ত সোয়া এক কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। ধলঘাটা থেকে ফাসিয়াখালী পর্যন্ত পণ্য পরিবহনের জন্য ২ লেনের ২৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে চার লেনের মহাসড়কে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর ও শিল্প হাবের সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। সেটি ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বঙ্গোপসাগর ঘিরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ বি ইনিশিয়েটিভ) গড়ে তোলার প্রয়াসকেও রাখা হয়েছে ওই মহাপরিকল্পনায়।
প্রকল্প প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে একটি ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণ, একটি ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জাহাজ বার্থিং জেটি, ৩৫০ মিটার চওড়া এবং ১৬ মিটার গভীরতার ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ চ্যানেল নির্মাণ, উত্তর দিকে ২ হাজার ১৫০ মিটার এবং দক্ষিণ দিকে ৬৭০ মিটার লম্বা ঢেউ নিরোধক বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়া তিনটি টাগবোট, একটি পাইলট বোট, একটি সার্ভে বোটসহ কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট টিওএস অ্যান্ড সিকিউরিটি সিস্টেম ক্রয় করা হবে।
২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর খনন করা চ্যানেল দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি বহনকারী বিদেশী জাহাজ মাতারবাড়ী জেটিতে পৌঁছায়। দ্বিতীয়টি আসে পরের বছরের ১৫ জুলাই। এখন পর্যন্ত ১২৩টি জাহাজ কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের জন্য সামগ্রী এনেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামাল এবং কয়লা নিয়ে এ পর্যন্ত মাতারবাড়ী জেটিতে এসেছে ১২৩টি জাহাজ। জাহাজ ভিড়িয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
এসব জাহাজকে পাইলটেজ সেবা, টাগবোট সাপোর্ট, রেডিও কন্ট্রোল ও ভিটিএমআইএস (ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম), আইএসপিএস (ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি কোড) আর স্টিভডোরিং সেবা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। একটি স্থাপন করেছে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপ।
এ দুই টার্মিনালের গ্যাস রূপান্তর সক্ষমতা দিনে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ঘনফুট। যদিও প্রতিদিন রূপান্তর ৮৫ কোটি ঘনফুটের ওপরে ওঠে না। এ সক্ষমতা বাড়াতে মহেশখালীতে আরো দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ীতে একটি, আরেকটি হবে ধলঘাটায়।
এ সুবিশাল কর্মযজ্ঞ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বন্ধু দেশ জাপানের সহায়ক ভূমিকা এবং সরকারপ্রধানের দূরদর্শী চিন্তা দেশকে আরো এগিয়ে নেবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে তাই আমাদের নিজেদেরও পরিবর্তন আনতে হবে। নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম: চেয়ারম্যান, জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়