মধ্যপ্রাচ্য সংকটে লজিস্টিকসের অদৃশ্য মূল্য

মধ্যপ্রাচ্য শুধু তেল ও গ্যাসের অঞ্চল নয়, এটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল। হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজ খাল দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি, খাদ্য, কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবাহিত হয়। এ বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির বন্দর, বিমানবন্দর, মুক্তাঞ্চল ও গুদাম ব্যবস্থা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রে পরিণত করেছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট দেখিয়েছে, একটি সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা শুধু জাহাজ চলাচল বিলম্বিত করে না; এটি পরিবহন ব্যয়, বীমা প্রিমিয়াম, পণ্যের মূল্য, সরবরাহের সময় ও কার্বন নিঃসরণ—সবকিছুকেই একযোগে প্রভাবিত করে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ট্যাংকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব ঘিরেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হয়নি। কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি সতর্কতার সঙ্গে সুয়েজপথে কিছু সেবা পুনরায় চালু করলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত পরিবর্তনশীল।

সংকটের প্রভাব শুধু পণ্য পৌঁছাতে দেরি নয়

লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতিশীল হলে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হয়। এতে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব ও সময় বেড়ে যায়। অতিরিক্ত দিনের জন্য প্রয়োজন হয় বেশি জ্বালানি, নাবিকের মজুরি, জাহাজ ভাড়া ও বীমা ব্যয়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনসিটিএড) হিসাবে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের টনেজ প্রায় ৭০ শতাংশ এবং এডেন উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী টনেজ প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছিল। বিপরীতে কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচলকারী জাহাজের সক্ষমতা ৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ পথে জাহাজ ঘুরিয়ে নেয়ার ফলে বৈশ্বিক জাহাজের চাহিদা প্রায় ৩ শতাংশ এবং কনটেইনার জাহাজের চাহিদা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছিল।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবহন করা পণ্যের পরিমাণ খুব বেশি না বাড়লেও পণ্য বহনের মোট দূরত্ব বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ একই টন পণ্য আগের তুলনায় অনেক বেশি কিলোমিটার অতিক্রম করছে। এর অর্থ বিশ্ব বাণিজ্য সামান্য বাড়লেও লজিস্টিকস খাতের জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বাড়তে পারে।

কার্বন হিসাব আর শুধু বার্ষিক প্রতিবেদন নয়

অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো কার্বন হিসাবকে বার্ষিক পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন বা ইএসজি প্রতিবেদনের একটি আনুষ্ঠানিক অংশ হিসেবে দেখে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক সংকটের সময় কার্বন অ্যাকাউন্টিংকে সরবরাহ ব্যবস্থা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

স্বাভাবিক সময়ে একটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত নৌপথ, গড় দূরত্ব, পণ্যের ওজন ও প্রচলিত নিঃসরণ ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে পরিবহনজনিত কার্বন নিঃসরণ অনুমান করতে পারে। কিন্তু সংকটের সময় এ হিসাব যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য নয়। পরিকল্পনা ছিল জাহাজটি সুয়েজ খাল দিয়ে যাবে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে সেটি আফ্রিকা ঘুরে গেল। বন্দরে ভিড়ের কারণে কয়েক দিন নোঙর করে অপেক্ষা করল। পণ্য অন্য একটি বন্দরে নামানো হলো, কিছুদিন গুদামে রাখা হলো এবং পরে দীর্ঘ সড়কপথে গন্তব্যে পাঠানো হলো। ঘাটতি এড়াতে চালানের একটি অংশ বিমানেও আনা হতে পারে।

এসব সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি তার পরোক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খল বা নিঃসরণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটি পুরনো ও পরিকল্পিত নৌপথের ভিত্তিতে হিসাব করলে তার প্রকাশিত কার্বন তথ্য বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করবে না।

ইউএইর একটি বাস্তবধর্মী উদাহরণ

ধরা যাক, ইউএইর একটি ইলেকট্রনিকস কোম্পানি পূর্ব এশিয়া থেকে জেবেল আলী বন্দর হয়ে পণ্য আমদানি করে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত নৌপথ, পণ্যের ওজন এবং জাহাজের গড় নিঃসরণ হারের ভিত্তিতে কার্বন হিসাব করে।

কিন্তু আঞ্চলিক সংকটের কারণে জাহাজটিকে দীর্ঘ পথে চালানো হলো। এতে জ্বালানি ব্যবহার এবং নিঃসরণ দুটিই বেড়ে গেল। বিলম্বের কারণে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও উত্তরাঞ্চলীয় আমিরাতগুলোর দোকানে পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিল। গ্রাহক হারানো ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি চালানের একটি অংশ বিমানে আনল। এরপর দ্রুত পণ্য বিতরণের জন্য অতিরিক্ত ট্রাক নিয়োগ করা হলো। অনেক ট্রাক পণ্য নামানোর পর খালি অবস্থায় ডিপোতে ফিরে এল।

একটি বিশ্বাসযোগ্য কার্বন হিসাবে তখন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে প্রকৃত সমুদ্রপথের দূরত্ব, জাহাজ ও জ্বালানির ধরন, বন্দরে অপেক্ষার সময়, গুদামের বিদ্যুৎ ব্যবহার, বিমান পরিবহনের নিঃসরণ, সড়কপথের দূরত্ব এবং ট্রাকের খালি ফেরার যাত্রা। একই সঙ্গে স্পষ্ট করতে হবে—কোন তথ্য সরাসরি শিপিং কোম্পানি বা পরিবহনকারী দিয়েছে এবং কোন তথ্য গড় নিঃসরণ ফ্যাক্টর ব্যবহার করে অনুমান করা হয়েছে।

সংকটের ‘কার্বন মূল্য’ নির্ধারণ

ইউএইর লজিস্টিকস ও আমদানিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দুটি পৃথক কার্বন ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন। প্রথমটি হবে স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতির সম্ভাব্য নিঃসরণ। দ্বিতীয়টি হবে সংকট, পথ পরিবর্তন, বন্দরজট, জরুরি বিমান পরিবহন ও অতিরিক্ত গুদাম ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট প্রকৃত নিঃসরণ।

এ দুই হিসাবের পার্থক্যকে বলা যেতে পারে ‘সংকটের কার্বন মূল্য’। এ ধারণা প্রতিষ্ঠানকে বুঝতে সাহায্য করবে অতিরিক্ত নিঃসরণের কত অংশ জাহাজের পথ পরিবর্তন, বন্দরে অপেক্ষা, বিমান পরিবহন, অর্ধেক খালি ট্রাক, অস্থায়ী গুদাম কিংবা সরবরাহকারীর পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফল শুধু বার্ষিক সাসটেইনেবিলিটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করলে চলবে না। এটি ক্রয় পরিকল্পনা, এন্টারপ্রাইজ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ব্যবসার ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা এবং পরিবহন চুক্তির সিদ্ধান্তে ব্যবহার করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো মাঝারি, গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকটের জন্য পৃথক পরিস্থিতিভিত্তিক মডেলও তৈরি করতে পারে। তাতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোনো পরিবহন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই তার আর্থিক, পরিচালনগত ও পরিবেশগত প্রভাব তুলনা করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের প্রয়োজন

লজিস্টিকস নিঃসরণ হিসাবের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি এরই মধ্যে রয়েছে। আইএসও ১৪০৮৩: ২০২৩ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন শৃঙ্খলের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ পরিমাপ ও প্রতিবেদন তৈরির একটি অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। এতে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের পাশাপাশি পরিবহন কেন্দ্রের কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত।

স্মার্ট ফ্রেইট সেন্টারের গ্লোবাল লজিস্টিকস এমিশন কাউন্সিল (জিএলএসি ফ্রেমওয়ার্ক) সড়ক, রেল, সমুদ্র, বিমান, অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও লজিস্টিকস হাবের নিঃসরণ পরিমাপের ব্যবহারিক নির্দেশনা দেয়। এই কাঠামোটি পরে আইএসও ১৪০৮৩ তৈরির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এসব পদ্ধতি শুধু পরিবহন কোম্পানিকে কত টাকা দেয়া হয়েছে তার ভিত্তিতে নিঃসরণ অনুমান করার পরিবর্তে প্রকৃত দূরত্ব, পণ্যের ওজন, যানবাহনের ধারণক্ষমতা, লোডিং হার, জ্বালানি ও শক্তির উৎস ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে।

তথ্য ভাগাভাগি ছাড়া সঠিক হিসাব অসম্ভব

নির্ভরযোগ্য কার্বন হিসাবের জন্য আমদানিকারক, রফতানিকারক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, শিপিং লাইন, বিমান সংস্থা, বন্দর, গুদাম ও ট্রাকিং কোম্পানির মধ্যে তথ্য বিনিময় প্রয়োজন। প্রত্যেকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্যের একটি অংশ থাকে।

আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর লজিস্টিকস ও ক্রয় চুক্তিতে তাই কার্বন তথ্য সরবরাহের শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পরিবহনকারীকে সম্ভব হলে প্রতিটি চালানের প্রকৃত তথ্য দিতে হবে এবং গড় শিল্পমানের নিঃসরণ ফ্যাক্টর ব্যবহার করা হলে সেটিও প্রকাশ করতে হবে।

ক্ষুদ্র পরিবহন কোম্পানিকে এ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা উচিত নয়। তারা জ্বালানি ব্যবহার, অতিক্রান্ত দূরত্ব, গাড়ির ধরন, পণ্যের ওজন, লোডিং হার এবং খালি ফেরার দূরত্ব ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে পারে।

স্থিতিস্থাপকতা কার্বন হ্রাস একসঙ্গেই সম্ভব

সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানো এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো পরস্পরবিরোধী লক্ষ্য নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই পরিচালন দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় ও নিঃসরণ দুটিই বাড়ায়।

আঞ্চলিকভাবে প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ রাখা গেলে জরুরি বিমান পরিবহনের প্রয়োজন কমে। চালান একত্র করলে অর্ধেক খালি কনটেইনার ও ট্রাকের ব্যবহার কমে। ডিজিটাল রুট পরিকল্পনা অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব হ্রাস করে। বন্দর, মুক্তাঞ্চল, গুদাম ও বিতরণ কেন্দ্রের মধ্যে তথ্য সমন্বয় বাড়ালে যানবাহন ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারও দক্ষ হয়।

আরব আমিরাত এরই মধ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-জিরো অর্জনের জাতীয় কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশটির বড় লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলোও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটালাইজেশন ও নিম্ন-কার্বন অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০২৮ সালের মধ্যে জেবেল আলীর ৩০ শতাংশ টার্মিনাল ট্র্যাক্টর রেট্রোফিট করার উদ্যোগ ঘোষণা করেছে এবং বিদ্যুতায়ন, দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য গ্রিন সুকুকের অর্থ বরাদ্দ করেছে।

আন্তর্জাতিক চাপও বাড়বে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২০২৩ সালের কৌশলে ২০০৮ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহনের কার্বন তীব্রতা অন্তত ৪০ শতাংশ কমানো এবং ২০৫০ সালের কাছাকাছি সময়ে নেট-জিরো নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রিনওয়াশিং থেকে সতর্ক থাকতে হবে

কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবহন কার্যক্রম তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করলেই সেই নিঃসরণ অদৃশ্য হয়ে যায় না। সরাসরি নিঃসরণ কম দেখিয়ে ব্যাপক বিমান পরিবহন, সাব-কন্ট্রাক্টেড ট্র্যাকিং বা বাইরের গুদামের নিঃসরণ বাদ দেয়া হলে সেটি প্রকৃত পরিবেশগত অগ্রগতি নয়।

সংকটের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত নিঃসরণ, ব্যবহৃত অনুমান, তথ্যের সীমাবদ্ধতা এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা প্রকাশ করা প্রয়োজন। গ্রাহক, ব্যাংক, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে স্বাধীন যাচাইয়ের গুরুত্বও ক্রমে বাড়বে।

সংকটকে সুযোগে রূপান্তর

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও পরিবেশগত টেকসইতা আলাদা কোনো বিষয় নয়। অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার, অদক্ষ পথ, বন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা, খালি ট্রাক এবং দুর্বল সমন্বয়—সবই একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ ও পরিচালন ব্যয় বাড়ায়।

ইউএইর জন্য প্রশ্নটি এখন আর এই নয় যে লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলো কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ করবে কিনা। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো সংকটের মধ্যেও তারা কতটা সঠিক, সময়োপযোগী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগীভাবে সেটি পরিমাপ করতে পারবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, ঝুঁকি পরিকল্পনায় কার্বনকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং পরিবহন শৃঙ্খলের অংশীদারদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করবে, তারা ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন মোকাবেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত থাকবে।

ইউএইর ভবিষ্যৎ লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে শুধু দ্রুত ও নিরাপদ হলেই চলবে না। সেটিকে হতে হবে স্বচ্ছ, তথ্যনির্ভর, স্থিতিস্থাপক ও ক্রমেই নিম্ন-কার্বনভিত্তিক। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট তাই কেবল একটি সতর্কবার্তা নয়; এটি আরো বুদ্ধিমান ও টেকসই আঞ্চলিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

ড. তানভীর ফিত্তিন আবির: অধ্যাপক ও ক্যাম্পাস ডিরেক্টর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাস আল খাইমাহ ক্যাম্পাস, সংযুক্ত আরব আমিরাত

আরও