আলোকপাত

অনুমোদিত ড্যাপের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন দরকার

অনেক দিন ধরে যাচাই-বাছাই এবং অংশীজনের মতামত গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিলম্ব হলেও অবশেষে ঢাকা মহানগরীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) সরকারিভাবে অনুমোদন হয়েছে। পৃথিবীতে কোনো আইন দিয়ে একই সঙ্গে সব মানুষকে সমানভাবে খুশি করা যায় না। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। তবে সার্বিক বিচারে যে পরিকল্পনা শহরের সামষ্টিক

অনেক দিন ধরে যাচাই-বাছাই এবং অংশীজনের মতামত গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিলম্ব হলেও অবশেষে ঢাকা মহানগরীর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) সরকারিভাবে অনুমোদন হয়েছে। পৃথিবীতে কোনো আইন দিয়ে একই সঙ্গে সব মানুষকে সমানভাবে খুশি করা যায় না। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। তবে সার্বিক বিচারে যে পরিকল্পনা শহরের সামষ্টিক স্বার্থকে সংরক্ষণ করবে সেটাই শহরের জন্য ভালো পরিকল্পনা। রাজউক তার সব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে অনুমোদিত ড্যাপের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করবে—এটাই প্রত্যাশিত।

এ পরিকল্পনার শুরুতেই বলা হয়েছে মানুষের জীবনে ও জীবনমানে গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য একটি মানবিক শহর তৈরি করাই এ ‘পরিকল্পনার অন্তর্নিহিত দর্শন’। আর পরিকল্পনাটির মূলনীতি হলো ‘ন্যায়সংগত বা অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা’ এবং ‘প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন’। ঢাকা শহরের উন্নয়নে এ দর্শন ও মূলনীতির প্রতিফলিত হোক সেটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। এটি যেন সযত্নে শেলফে তোলা নীতিবাক্য আর সুন্দর কথামালা হয়ে না থাকে। গণশুনানিতে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতকে কীভাবে সমন্বয় করে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে সেটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সামষ্টিক স্বার্থ সংরক্ষণে ড্যাপের সামগ্রিকতা

ঢাকার ‘বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ২০১৬-২০৩৫’; ঢাকা ও আশপাশে ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ভূমি ব্যবহার, আবাসন, পরিবহন, জলনিষ্কাশন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, সামাজিক ও নাগরিক সেবা ইত্যাদি প্রদানের জন্য একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ে পরস্পর সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের বিচার-বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিকল্পনার প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং পরিকল্পনাটি তৈরি হয়েছে সামগ্রিক বিচারের ভিত্তিতে, খণ্ডিতভাবে বা ক্ষুদ্র স্বার্থে দেখা হলে শহরের সামষ্টিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অব্যাহতভাবে কেন্দ্রমুখী উন্নয়ন দর্শন রাজধানী ঢাকাকে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করেছে। একদিকে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত, অন্যদিকে আগে প্রণীত পরিকল্পনাগুলোর সামান্যই বাস্তবায়ন মানুষের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়েছে। ঢাকার পারিসরিক বৃদ্ধি যেমন ঘটেছে, তেমনি শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়েছে অসহনীয়ভাবে। এত অধিকসংখ্যক মানুষের জন্য এ শহরের পরিকল্পনা, উন্নয়ন অথবা সেবাদানকারী কোনো প্রতিষ্ঠান কখনো প্রস্তুত ছিল না, আজও নয়। সুতরাং এ রকম একটি শহরের পরিকল্পনা করা সহজ কাজ নয়। অনুমোদিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাটি দেশীয় বিশেষজ্ঞ দিয়ে বাংলা ভাষায় প্রণীত প্রায় সহস্রাধিক পৃষ্ঠার একটি উন্নয়ন দলিল। এমন একটা সময়ে এ পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে যখন বাংলাদেশ নিউ আরবান এজেন্ডা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করছে। সব বিচারে এ পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড্যাপের গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিষয়

আধুনিক নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ড্যাপে বেশকিছু নতুনত্ব আনা হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রো স্টেশনভিত্তিক ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি), ব্লক ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সেবার বিকেন্দ্রীকরণ, ট্রান্সফার অব ডেভেলপমেন্ট রাইট (টিডিআর), ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্পন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয় শহরের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করবে।

স্টেশনভিত্তিক টিওডি, ব্লক ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ইত্যাদি স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলীদের জন্য উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে। এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নাগরিক পরিষেবাকে মানুষের কাছে সহজতর করবে।

পথচারীবান্ধব অবকাঠামো তৈরি ও বাইসাইকেল লেনকে উৎসাহিত করা এবং অযান্ত্রিক পরিবহনকে সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করা বিষয়গুলো ড্যাপে জোরালোভাবে এসেছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা পুরনো এলাকাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সার্জারির মতো করে ভূমি পুনর্বিন্যাস ও ভূমি পুনঃউন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব ধারণা বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও অসম্ভব নয়।

প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংরক্ষণ

বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ও কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়ে কাঠামো পরিকল্পনায় গুরুত্বসহকারে থাকলেও ড্যাপে ব্লু-নেটওয়ার্ক তৈরি, ওয়াটার রিটেনশন পন্ড ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি বলে অংশীজনরা অভিযোগ করে এসেছিল। চূড়ান্ত রিপোর্টে কতটা তা রাখা হয়েছে সেটা দেখার বিষয়। ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, জলনিষ্কাশন পদ্ধতি, বিল্টআপ এরিয়ার পরিমাণ সবকিছু বিবেচনায় শহরের পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বসবাসযোগ্যতা ও টেকসই নগর গড়ার স্বার্থে জলাশয় সংকোচন কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

তাছাড়া শহরের পানি নিষ্কাশনের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ঢাকার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ড্যাপে প্রাকৃতিক জলাধারগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা থাকলেই কেবল ‘প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ আইন ২০০০ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জলাশয় সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা যাবে। ড্যাপের ভেতর উপযুক্ত আইনি ভিত্তি না থাকলে পুকুর, লেক ও অন্যান্য জলাশয় সংরক্ষণ করা যাবে না।

ড্যাপে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা

এটা অনস্বীকার্য যে, ঢাকা শহরে জনঘনত্বের তুলনায় অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবা অত্যন্ত অপ্রতুল। বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ এ শহরে বাস করে এবং পরিবহন ব্যবস্থা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সামাজিক ও অন্যান্য নাগরিক সেবাকে জনগণের কাছে অপ্রতুল করে তুলেছে। উচ্চমানে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) যেকোনো শহরের জনঘনত্বকে বাড়িয়ে দেয়। এফএআরের মান নির্ধারণ করতে হয় পরিবহন সক্ষমতা, গণপরিসর, খোলা জায়গা, অবকাঠামো ও নাগরিকসেবার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে।

অনেক দেরি হলেও বর্তমান ড্যাপ জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাকাভিত্তিক এফএআর নির্ধারণ করার কথা বলেছে। যেসব এলাকায় প্রশস্ত রাস্তা ও নাগরিক সুবিধা (পার্ক, উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রভৃতি) বেশি, স্বাভাবিকভাবে সেসব এলাকায় অপেক্ষাকৃত বেশি এফএআর পাবে। ফলে ভবনের উচ্চতাও বেশি হবে। এই ড্যাপের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে এ নীতির সফল বাস্তবায়নের ওপর।

একটা বহুল আলোচিত উদাহরণ এখানে দেয়া যেতে পারে, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকাকে ১ হাজার ৮৩টি প্লটে বিভক্ত করে আনুমানিক ১৫-১৮ হাজার মানুষের বসবাসের উপযোগী করে পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্লট ভাগ করা হয়েছে, দফায় দফায় ভবনের উচ্চতা ও ব্যবহার পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে আজকে ধানমন্ডির জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ। একই পরিমাণ নাগরিক সেবা দিয়ে ১০ গুণ মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে।

জনঘনত্ব কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ

ঢাকার চাপ কমাতে ঢাকার ভেতরে এবং বাইরে একই সঙ্গে সমান্তরাল কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে যা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রথমত, এলাকাভিত্তিক জনঘনত্বের ম্যাপ তৈরি করা, এলাকাভিত্তিক সামাজিক ও নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামোর তালিকা প্রস্তুত করা এবং সেই অনুযায়ী ‘ডেভেলপমেন্ট পারমিট/উন্নয়ন অনুমোদন’ দেয়া। প্লটের আয়তন বিচারে ডুয়েলিং ইউনিট (পরিবারের সংখ্যা) নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী ইমারতের ফ্লোর এরিয়া রেশিওর সূচক নির্ধারণ করা।

রাজউকের পূর্বাচল, উত্তরা তৃতীয় পর্যায়, ঝিলমিলের মতো বড় বড় আবাসিক এলাকা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। আবাসন বাজারে এখনো এদের কোনো অবদান নেই। এসব আবাসিক এলাকায় মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং যাদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তাদের বাড়িঘর তৈরিতে বাধ্য করতে হবে। এসব পরিকল্পিত এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সহযোগে বসতি তৈরি হলে মূল শহরের জনঘনত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি ড্যাপের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত নগরকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ড্যাপ অনুযায়ী প্রস্তাবিত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির মাধ্যমে ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ড্যাপ ও জনস্বাস্থ্য

নগর পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয় ঐতিহাসিকভাবে সম্পর্কিত। আধুনিক নগর পরিকল্পনায় খেলার মাঠ-পার্ক-উদ্যান-জলাশয়কে বলা হয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো। প্রস্তাবিত ড্যাপে বিভিন্ন সংখ্যার আঞ্চলিক পার্ক, জলপার্ক, ইকোপার্ক ও ছোট আকৃতির পার্ক তৈরির কথা বলা হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল ও নাগরিক সেবা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ড্যাপের প্রস্তাব অনুযায়ী পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে মহানগর পর্যন্ত স্তরে স্তরে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের স্বাস্থ্য অবকাঠামো (পার্ক-উন্মুক্ত স্থান) তৈরি করা না গেলে ড্যাপ অনুমোদনের উদ্দেশ্য অধরা থেকে যাবে। একই সঙ্গে নগর এলাকার ভবনগুলোয় সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে ইমারত-সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি যুগোপযোগী করে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে।

ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউকের পুনর্গঠন

রাজউকের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল দিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিশেষত সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী আমলানির্ভর বোর্ডের বিন্যাস ঢাকা শহরে পরিকল্পিত উন্নয়নে সহায়ক নয়। এ বোর্ডে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ পেশাজীবী ব্যক্তি প্রয়োজন যারা পরিকল্পনা বোঝেন এবং সময়মতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।

রাজউক অধিক্ষেত্র এলাকায় চারটি সিটি করপোরেশন, পাঁচটি পৌরসভা (আংশিকসহ) এবং ৬৯টি ইউনিয়ন আছে। এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণে সহযোগী হিসেবে সম্পৃক্ত করা না গেলে ড্যাপের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। পাশাপাশি রাজউকের আঞ্চলিক অফিসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কারিগরি জনবল বৃদ্ধি করে সময়মতো পরিকল্পনার প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।

ড্যাপের পরিকল্পনা খাতভিত্তিক অনেক পরিকল্পনা প্রস্তাব করা আছে। যেমন অবকাঠামো, যোগাযোগ, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, ঐতিহ্য, পার্ক, উদ্যান ইত্যাদি। এসব প্রস্তাব সময়মতো বাস্তবায়ন করা এককভাবে রাজউকের মাধ্যমে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। মাল্টি-সেক্টরাল ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম তৈরি করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতার মাধ্যমে ড্যাপের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এত শ্রম মেধা ও অর্থ ব্যয় করে ঢাকা মহানগরের জন্য যেই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা তৈরি করা হলো, সেটা যেন পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। এ পরিকল্পনার আওতাধীন ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ভেতর যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেশের স্বার্থে রাজউককে সেই সুযোগ তৈরি করতে হবে।

 

ড. আকতার মাহমুদ: নগর পরিকল্পনাবিদ

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও