অভিমত

পায়রা সমুদ্রবন্দরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের ৯২ ভাগ সমুদ্রবন্দর ও নদীপথে হয়ে থাকে। দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রফতানি চাহিদা মেটাতে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পায়রা সমুদ্রবন্দর। উন্নয়নের মহাসড়কে যোগ হতে যাচ্ছে অমিত সম্ভাবনাময় এ সমুদ্রবন্দর। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের আন্ধারমানিক নদীর উপকণ্ঠ ধরে রাবণাবাদ চ্যানেলের তীর বরাবর গড়ে ওঠা

বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের ৯২ ভাগ সমুদ্রবন্দর ও নদীপথে হয়ে থাকে। দেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রফতানি চাহিদা মেটাতে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পায়রা সমুদ্রবন্দর। উন্নয়নের মহাসড়কে যোগ হতে যাচ্ছে অমিত সম্ভাবনাময় এ সমুদ্রবন্দর। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের আন্ধারমানিক নদীর উপকণ্ঠ ধরে রাবণাবাদ চ্যানেলের তীর বরাবর গড়ে ওঠা দেশের তৃতীয় এ সমুদ্রবন্দরটি মূলত লালুয়া, বালিয়াতলী, ধূলাসার, ধানখালী ও টিয়াখালী মৌজাব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৩ সালে সূচনা হওয়ার পর থেকে বন্দরটি দ্রুত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এর কৌশলগত অবস্থান একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রদান করে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান শিপিং রুটে সুবিধাজনক অ্যাকসেস সরবরাহ করে। ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর এ বন্দরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। এর তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট সমুদ্রবন্দরটিতে প্রথমবারের মতো কনটেইনার জাহাজ খালাসের মধ্য দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়। 

বন্দরটি প্রথমে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় সেটা পায়রায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কনটেইনার টার্মিনাল, বাল্ক টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, বিদ্যুৎ প্লান্ট, মডার্ন সিটি, বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ ১৯টি কম্পোনেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে পায়রা বন্দরকে বিশ্বমানের একটি আধুনিক বন্দর এবং ২০৩৫ সালে মধ্যে অর্থনীতির সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উদ্বোধনের পর থেকেই আমদানি-রফতানি কার্যক্রমসহ বন্দরে বহির্নোঙরে অপারেশনাল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এতে করে ১৬৯টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের অপারেশনাল কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৩৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। 

বন্দরের মূল চ্যানেলে ক্যাপিটাল ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংয়ের জন্য বেলজিয়াম-ভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি ‘জান ডি নুল’-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি দেশের রিজার্ভের অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল’-এর প্রথম প্রকল্প চুক্তি। এ চুক্তির ফলে ৫৩ ভাগ অর্থ সাশ্রয় হবে; যা দেশের অর্থনীতিকে আরো উজ্জ্বল করবে। এর অত্যাধুনিক অবকাঠামোর সঙ্গে বন্দরটি বড় জাহাজগুলোকে মিটমাট করতে পারে এবং যথেষ্ট কার্গো ভলিউম পরিচালনা করতে পারে; যা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রাবণাবাদ চ্যানেলের পোতাশ্রয় মুখ থেকে পাঁচ কিলোমিটার অভ্যন্তরে শিপিংবান্ধব বিস্তীর্ণ এলাকাটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রকৃতি ও ভৌগোলিকতার নিরিখে উপযুক্ত একটি অঞ্চল। বন্দর ও পরবর্তী সম্প্রসারণের জন্য সেখানে অনেক জমি আছে। পাশাপাশি সর্বজনীন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্যও পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্মুক্ত স্থান। ফলে কনটেইনার, বাল্ক, সাধারণ কার্গো, এলএনজি, পেট্রোলিয়াম ও যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল, তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানা, ওষুধ শিল্প, সিমেন্ট, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, সার কারখানা, তৈল শোধনাগার, জাহাজ নির্মাণ শিল্পসহ আরো অনেক কর্মক্ষেত্র গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ সার দেশে উৎপাদন হয়। বাকি ৭০ ভাগ সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ হলে গ্যাসের মাধ্যমে সার কারখানা নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ফলে সারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ইপিজেড, এসইজেড, জাহাজ নির্মাণ প্রভৃতি খাতে ব্যাপক কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে। 

এখানে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রসার ঘটবে। দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক জাহাজ নির্মাণ কারখানা রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর কেন্দ্র করে এ শিল্প খাত বিকশিত হলে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা রফতানিকারক দেশ হতে পারবে। ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এর জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎ। এ লক্ষ্যেই উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ-ছয়টি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ স্থাপনা গড়ে তুলেছে সরকার। পায়রা বন্দরে একটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন হয়েছে। কয়লা আনলোড করার জন্য একটি কয়লা টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের ফলে বিপুল রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর বাণিজ্য ও রফতানি বৃদ্ধির নতুন পথ উন্মোচন করেছে; যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি ঘটাতে সক্ষম। একটি আধুনিক এবং দক্ষ বন্দর সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এটি পণ্যের নির্বিঘ্ন পরিবহন, লজিস্টিক খরচ কমিয়ে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত ও চীনের সমন্বিত উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ইকোনমিক করিডোর গড়ে উঠেছে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধার কারণে সমুদ্রপথে সিল্করুটের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হয়ে উঠবে। পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠা হলে সমুদ্রসম্পদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে; যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পদ্মা সেতুকে সংযোগ করে বরিশাল থেকে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সুগম হবে। রেলপথের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলার সঙ্গে পায়রা বন্দর যুক্ত হবে। পায়রা থেকে নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানের নৌযান চলাচলে বর্তমানে দুটি রুট রয়েছে। আকাশপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিমানবন্দর গড়ে উঠবে। ফলে পায়রা বন্দর হয়ে উঠবে সব ধরনের অর্থনৈতিক উন্নতির কেন্দ্রবিন্দু। বহির্নোঙরে ক্লিংকার, সার ও অন্যান্য বাল্ক পণ্যবাহী জাহাজ আনয়ন ও লাইটার জাহাজের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন করার জন্য কাস্টমস কর্তৃক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যেমন কাস্টমস শুল্ক স্টেশন হিসেবে ঘোষণা, জনবল নিয়োগ, শিপিং এজেন্ট নিয়োগ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নিয়োগ এবং বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা প্রভৃতি করা হয়েছে। পায়রা বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাঁটি শেরেবাংলা নির্মিত হলে বন্দরের নিরাপত্তা অধিকর সুরক্ষিত হবে। বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসকবলিত এলাকা। পায়রা বন্দর প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একে ঘিরে অনেক স্থাপনা গড়ে উঠবে। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। তাছাড়া উপকূলজুড়ে গড়ে তোলা হবে সবুজবেষ্টনী এবং ইকো ট্যুরিজম। একাধিক পাঁচতলা হোটেল স্থাপনের মাধ্যমে এলাকাটিকে সহজেই একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে উন্নীত করা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কমপ্লেক্স নির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ, জেটি স্টেশন নির্মাণ, ইকো পার্ক গড়ে তোলা, মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, সি-অ্যাকুয়ারিয়াম নির্মাণ, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, গলফ ও টেনিস কমপ্লেক্স নির্মাণ, কনভেনশন সেন্টার নির্মাণসহ বহু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। উন্নয়নকাজের মধ্যে রয়েছে বন্দরের নাব্যতা ধরে রাখতে দেশের বৃহত্তম ক্যাপিটাল ড্রেজিং। এই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবণাবাদ বন্দরে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ১০০ থেকে ১২৫ মিটার প্রশস্ত এবং সাড়ে ১০ মিটার গভীর চ্যানেলের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেয়া হবে। 

পায়রা বন্দরে নির্দিষ্ট ড্রাফটের জাহাজ প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট চ্যানেলের গভীরতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে পায়রা বন্দরের ‘রাবণাবাদ চ্যনেলের জরুরি মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং’ প্রকল্প বাস্তবায়নের নিমিত্তে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বর্তমানে এ বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা ৬ দশমিক ৩ মিটার; যা বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের অর্থায়নকৃত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আর্জিত হয়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় চ্যানেলে গভীরতা ১০ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে বন্দরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন কার্গো বহনকারী জাহাজ ভিড়তে পারবে। উন্নয়ন প্রকল্পে আরো রয়েছে আটটি জাহাজের নির্মাণকাজ। এর মধ্যে সাতটি জাহাজ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে তৈরি। এ জাহাজ দিয়ে পায়রা বন্দরে এককভাবে বিদেশী জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করা হবে। ৬৫০ মিটার দীর্ঘ প্রথম টার্মিনাল নির্মিত হবে যাতে ২০০ মিটারের তিনটি জাহাজ একসঙ্গে ভিড়তে পারবে। একই সঙ্গে কনটেইনারাইজড কার্গো ও বাল্ক কার্গো হ্যান্ডল করা যাবে। ফলে সহজেই অধিক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজের চলাচল নিশ্চিত করা যাবে এবং বন্দরকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে। ২০২৩ সালের মধ্যে এ ড্রেজিং কাজটি শেষ হলে বন্দরে ৩ হাজার টিইইউ বা ৪০ হাজার ডিডব্লিউটি কার্গো ক্ষমতাসম্পন্ন বড় বাণিজ্যিক জাহাজ ভেড়ানো সহজ হবে। বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি খাতে গতি আনতে বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পায়রা বন্দরের নিজস্ব টার্মিনাল ছিল না। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিদেশী জাহাজ এ টার্মিনালে পণ্য খালাস করতে পারবে। এরপর সেগুলো বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাবে। এ টার্মিনাল থেকে রফতানির কাজও হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বন্দরের সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের চাপ অনেকটা নিরসন করা যাবে। 

বাংলাদেশ ঘিরে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য অর্থাৎ ভারত, চীন, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে এসব বন্দরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যখন এই জেটিতে বিদেশী জাহাজ আসা-যাওয়া করবে তখন পায়রা বন্দরের নিজস্ব আয় বাড়বে। ফলে দ্রুত এটি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে এবং এ লাভের টাকা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় করা হবে। এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বন্দরটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রসার ঘটবে। ফলে সার্বিকভাবে বন্দরের সুফল সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়বে। পায়রা সমুদ্রবন্দর শুধু বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক কেন্দ্র নয়, বরং শক্তি আমদানির জন্য একটি গেটওয়ে হিসেবেও কাজ করবে। বন্দর দিয়ে এলএনজি গ্যাস, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং কয়লা আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করছে এবং শিল্প বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহ করছে। শক্তি সম্পদের প্রাপ্যতা বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ভারী শিল্পের মতো খাতে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করছে। পরিকল্পিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বন্দরের নৈকট্য শিল্প প্রবৃদ্ধিকে আরো প্রভাবিত করেছে। রফতানিমুখী শিল্প স্থাপন এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এ সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গেম চেঞ্জার পদক্ষেপ। এ সামগ্রিক উন্নয়ন আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে এবং সমগ্র দেশে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বন্দর প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে গতি সঞ্চার হবে তাতে দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। 

ড. মো. মোরশেদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরও