মৃত্যুবার্ষিকী

কীর্তিতে ও স্মৃতিতে ডা. সাহিদা আখতার

সারা বিশ্ব যখন করোনা মহামারীজনিত ভয়, আতঙ্ক ও অবসাদে আক্রান্ত, সে সময় একটি দুঃসংবাদ আমাদের চরম ব্যথিত ও মর্মাহত করে। দুঃসংবাদটি ছিল আমাদের সবার প্রিয় অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতার মৃত্যুবরণ করেছেন। দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ১ মে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার ফুলার রোডের বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

সারা বিশ্ব যখন করোনা মহামারীজনিত ভয়, আতঙ্ক ও অবসাদে আক্রান্ত, সে সময় একটি দুঃসংবাদ আমাদের চরম ব্যথিত ও মর্মাহত করে। দুঃসংবাদটি ছিল আমাদের সবার প্রিয় অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতার মৃত্যুবরণ করেছেন। দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০২১ সালের ১ মে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার ফুলার রোডের বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

তার এ আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা বিমূঢ় হয়ে পড়ি। আমাদের হূদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। আমাদের অনেকেই নীরবে অশ্রুবর্ষণ করতে থাকি। তার এই অকালপ্রয়াণের শোক বহনের ক্ষমতা আমরা হারিয়ে ফেলি। কারণ অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতার ছিলেন বাংলাদেশের চিকিৎসাজগতে, বিশেষ করে শিশুচিকিৎসার ক্ষেত্রে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে অতিপরিচিত মুখ। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তার সব রোগী ও ছাত্র-ছাত্রীর মাঝেও ডা. সাহিদা আখতার উত্কর্ষ মানবিক গুণাবলির জন্য সমাদৃত ছিলেন। মৃত্যু স্বাভাবিক বিষয় কিন্তু তার এ মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন। পরমপ্রিয় স্বজনের চিরবিদায় সবসময় মনঃকষ্ট ও বেদনা জাগায়।

অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতারের মৃত্যুতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদে ২ জুন ২০২১-এ মাননীয় স্পিকার কর্তৃক উত্থাপিত শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ডা. সাহিদা আখতারের অকালমৃত্যুতে তার কাছে চিকিৎসাধীন অগণিত রোগী ও তাদের মা-বাবা, ছাত্র-ছাত্রী, শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়।

ডা. সাহিদা আখতারের মৃত্যুর ৪০ দিন পর আয়োজিত দোয়া ও মাগফিরাত অনুষ্ঠানে তার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, সহকর্মী এবং দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীরা তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত  হয়ে পড়েন। কান্নায় অনেকেরই বাকরুদ্ধ হয়। তাদেরই কয়েকজনের বক্তব্যের কিছু অংশ এখানে সংক্ষেপে ও কিছুটা পরিমার্জন করে তুলে ধরলে ডা. সাহিদা আখতারের মানবিক গুণাবলি, কৃতিময় কর্মজীবন, নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, দায়িত্ব ও একাগ্রতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

ডা. সাহিদা আখতার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তার স্কুলজীবনের শিক্ষক লাল মিয়া বলেন, “শিক্ষক বেঁচে থাকে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আর প্রতিষ্ঠানও বেঁচে থাকে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে। আমি সাহিদা আখতারের মতো একজন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট পেয়েছিলাম। স্কুলজীবনে আমরা প্রতিদিনই তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পেয়েছি। সে ছিল কঠোর অধ্যবসায়ী একজন শিক্ষার্থী। বোয়ালমারী জর্জ একাডেমিতে সে সবসময়ই প্রথম স্থান অধিকার করত। সে যুগে মহিলা ডাক্তার খুব একটা ছিল না। আমি তার মেধা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেখে বলতাম তুমি ডাক্তার হবে এবং সেও বলত, ‘স্যার, আমি ডাক্তার হব।’ ডাক্তার হওয়ার জন্য যেসব গুণাবলি, জ্ঞান, প্রিভিয়াস জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল, আমি তা তাকে শিক্ষা দিয়েছি এবং সে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেগুলো আয়ত্ত করেছে।”

তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিশিষ্ট শিশু-চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও কভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ডা. সাহিদা ছিলেন আমার ছোট বোনের মতো। আমরা একই পেশার হলেও সে ছিল নিওনেটোলজিতে বিশেষজ্ঞ। সে অত্যন্ত গুণী ও জ্ঞানসম্পন্ন ছিল। তার মধ্যে সবসময়ই যেকোনো বিষয়ে জানার প্রতি খুব গভীর আগ্রহ ছিল এবং সে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তা জানার চেষ্টা করত। ওই বিষয়ে পুরোপুরি না জানা পর্যন্ত সে হাল ছাড়ত না। তার নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা ছিল অপরিসীম। একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি—বাংলাদেশে শিশু চিকিৎসকদের যতগুলো সংগঠন আছে, সেখানে নারী শিশু চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেয়ার প্রবণতা বা সংখ্যা খুবই নগণ্য। ডা. সাহিদা ছিল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তাকে আমরা আমাদের বিভিন্ন সংগঠনে সক্রিয় নেতৃত্ব দিতে দেখেছি। সে সফলভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছে। নবজাতকদের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রচারাভিযানেও ডা. সাহিদা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া প্রিম্যাচিউর নবজাতক শিশুদের ইনকিউবেটরে না রেখে মায়ের বুকে রেখে পরিচর্যা করা, যাকে আমরা বলি ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’—বাংলাদেশে বিষয়টির প্রবক্তা ছিল ডা. সাহিদা আখতার। সে নিউবর্ন স্ক্রিনিংয়েরও প্রবক্তা। এ বিষয়ে সে অনেক ম্যানুয়াল, ফ্লিপচার্ট ইত্যাদি তৈরি করেছে, যা দিয়ে আমাদের শিশু চিকিৎসকরা মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ডা. সাহিদার ছিল একটা সুন্দর মন। এক কথায় সে ছিল একজন সাদা মনের মানুষ।’

অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতার সম্পর্কে জার্মানির ব্রিজ অব লাইটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ম্যাথিলডে ভন লুনিক কিনপ বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন আমরা কাজ শুরু করি তখন ডা. সাহিদা ও প্রফেসর বারকাত আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশের গরিব মানুষের প্রতি তাদের দুজনেরই ছিল আন্তরিক সহমর্মিতা। তাদের জীবনমান উন্নয়নে তারা বরাবরই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বাংলাদেশ ভ্রমণকালে যতবারই আমরা ডা. সাহিদাকে দেখেছি, তার সদা হাসিমুখ, আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমার ও ফ্রিডেলের কাছে সে ছিল অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। মহান ঈশ্বর তার মঙ্গল করুন।’

ডা. সাহিদা আখতার ১৯৬১ সালে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীতে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পরীক্ষাতেই তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। সাহিদা আখতার এ কলেজের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস ও সার্জনস থেকে সফলতার সঙ্গে এফসিপিএস ডিগ্রি লাভ করেন। পরে পেশাগত অনেক উচ্চতর প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।

তিনি ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন প্রথিতযশা শিশুবিশেষজ্ঞ হিসেবে সেখানে কর্মরত থেকে সদ্য অবসরে গিয়েছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করেছেন তিনি। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল (অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন, ইন সার্ভিস ট্রেইনি), ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আইপিজিএমআর (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়), ডা. কাশেমস ক্লিনিক ও হাসপাতাল, কুষ্টিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (লেডি ডাক্তার) ইত্যাদি।

সাহিদা আখতার ছিলেন বাংলাদেশের একজন অসামান্য বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন শিশু বিশেষজ্ঞ, যিনি তার জীবদ্দশায় প্রায় তিন দশক নবজাতক শিশুদের জন্য অক্লান্তভাবে সেবা দিয়ে গেছেন। তিনি ছিলেন এ দেশে নিউবর্ন স্ক্রিনিং টেস্টের একজন অন্যতম পথিকৃৎ। নিউবর্ন স্ক্রিনিং হলো জেনোমিক মেডিসিনের একটি অংশ, যার মাধ্যমে শিশুর জন্মের পর পরই নির্দিষ্ট কিছু বংশগত রোগ, বিশেষ করে যেগুলোর চিকিৎসা আগে আগে শুরু করলে সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব, সেসব রোগের জন্য পরীক্ষা করে দেখা হয়।

শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ, হাঁপানি, বুকের দুধ খাওয়ানোর অনুশীলন, নবজাতকের প্রয়োজনীয় যত্ন, জন্মের সময় নবজীবন সঞ্চার, উন্নত কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট, এইচবিবি (শিশুদের শ্বাস নিতে সহায়তা করা), ইসিডি (প্রাথমিক শৈশব বিকাশ), পিএনডিএ (পেরিনিটাল ডেথ অডিট) সম্পর্কিত নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রভৃতি একজন চিকিৎসক হিসেবে তার দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি এগুলো তার গবেষণার ক্ষেত্রও সমৃদ্ধ করে।

তিনি পরিচিত ছিলেন একজন ‘মানবিক চিকিৎসক’ হিসেবে। তিনি শিশুদের শুধু রোগী হিসেবেই দেখতেন না, দেখতেন একজন মানুষ হিসেবে। সে যে ধর্মেরই হোক, যে জাতেরই হোক, যে পেশারই হোক, ধনী অথবা গরিব। তার কাছে সবাই ছিল সমান। তিনি একই রোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিতেন, বোঝার চেষ্টা করতেন তাদের সমস্যা। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুটি ভালো না হতো ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি শিশুটির জন্য তার সর্বশক্তি, শ্রম, মেধা এমনকি অর্থ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতেন।

তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন নবজাতক শিশুদের রোগাক্লান্ত মুখে হাসি ফোটাতে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিবিড় বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে ছিলেন সদাসক্রিয়। শিশুদের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মাতৃদুগ্ধপানে মায়েদের উদ্বুদ্ধকরণ সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে ডা. সাহিদা আখতারের রয়েছে বিশেষ অবদান। শিশুস্বাস্থ্যের নানা বিষয় ছাড়াও একিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন, এন্ডোক্রাইনোলোজি এবং জিনোমিক্সও ছিল তার আগ্রহের জায়গা। এছাড়া নিওনেটোলজি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, জেনেটিকস, জিনোমিক মেডিসিন, মা ও শিশু মৃত্যু এবং অসুস্থতা, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যের সামাজিক মাত্রা, পানীয় জলে আর্সেনিক প্রশমন-সনোফিল্টার ইত্যাদি ছিল তার আগ্রহের বিষয়। গতানুগতিক চিকিৎসাসেবা ধারার বাইরে তিনি ছিলেন একজন সামাজিক দায়বদ্ধ চিকিৎসক।

চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সাহিদা আখতার ছিলেন একজন খ্যাতিমান গবেষক। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা ব্যতীতও তিনি ছিলেন একজন সচেতন সমাজ গবেষক। ডা. সাহিদা আখতার দেশে এবং দেশের বাইরে যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, তাইওয়ান, শ্রীলংকা, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা শাস্ত্রবিষয়ক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন এবং মৌলিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। তার রচিত মৌলিক গবেষণা ও সেমিনারে/ওয়ার্কশপে উপস্থাপিত ও প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০-এর বেশি।

তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে এ দেশের গরিব-দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতাও ছিল অসাধারণ। তিনি বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন (দায়িত্ব গ্রহণের আগেই মৃত্যুবরণ করেন)। এ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সহসভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের নির্বাচিত সহসভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ পেরিনেটাল সোসাইটির নির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাজমা অ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের জীবন সদস্য, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের জীবন সদস্য, ইয়ং ডায়াবেটিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটির জীবন সদস্য। এসব সংগঠনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এ দেশের শিশু চিকিৎসা শাস্ত্রকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ব্যক্তিজীবনে তার স্বামী এ দেশের বরেণ্য গবেষক ও অর্থনীতি শাস্ত্রের অধ্যাপক, শোভন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা আবুল বারকাত। তাদের তিন সুযোগ্য কন্যা—অরণি বারকাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্ট’স ডক্টরাল স্কলার অ্যাওয়ার্ড নিয়ে পিএইচডি গবেষণারত; আনোখি বারকাত ভারতের চেন্নাইয়ে প্রখ্যাত সুরকার এ আর রহমান প্রতিষ্ঠিত কেএম মিউজিক কনজারভেটরিতে অনার্সে অধ্যয়নরত এবং অবন্তী বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রিয় মানুষের চলে যাওয়া সবসময়ই কষ্টের। অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতারের তিন কন্যা এখনো তাদের মায়ের মমতা ও স্নেহ খুঁজে বেড়ায় সারা ঘরময়। আকুল হয়ে অপেক্ষা করে মায়ের ফিরে আসার প্রত্যাশায়। তাদের অবুঝ মন মানতে চায় না তাদের মা আর কখনো এ পৃথিবীতে ফিরে আসবে না। তার জীবনসাথী গণমানুষের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত এখনো খুঁজে বেড়ান তার প্রিয় সহধর্মিণীকে। প্রতিদিন ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে প্রিয় স্ত্রীর কবরের পরিচর্যা করেন নিজ হাতে। কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন তার কবরের পাশে বসে। অধ্যাপক ডা. সাহিদা আখতারের অকালমৃত্যুতে তার কাছে চিকিৎসাধীন অগণিত শিশুরোগী, ছাত্র-ছাত্রী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার শূন্যতা অনুভব করে প্রতিনিয়ত।

ডা. সাহিদা আখতারের অকালমৃত্যুতে বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন মানবিক চিকিৎসককে। তার সদাহাস্যোজ্জ্বল মুখ, মানবিকতা, জীবনের সব ক্ষেত্রে মূল্যবোধের চর্চা, অনবদ্য অতিথিপরায়ণতা এবং অক্লান্ত মানবিক চিকিৎসাসেবার জন্য মানুষ তাকে স্মরণ করে পরম শ্রদ্ধায়।

 

ড. মতিউর রহমান: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী

আরও