জাতীয় ভ্যাট দিবস

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইএফডি: ভ্যাট আহরণে নতুন দিগন্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইএফডি স্থাপনসংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এর মূল কথা, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এনবিআর ভিন্নতর প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী ও খুচরা পর্যায়ে নতুন তিন লাখ ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) মেশিন বসাবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব পস (পয়েন্ট অব সেলস) আছে সেসব প্রতিষ্ঠানে এসডিসি (সেলস ডাটা কন্ট্রোলার) বসানো হবে। চুক্তি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইএফডি স্থাপনসংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এর মূল কথা, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এনবিআর ভিন্নতর প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ী খুচরা পর্যায়ে নতুন তিন লাখ ইএফডি (ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) মেশিন বসাবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব পস (পয়েন্ট অব সেলস) আছে সেসব প্রতিষ্ঠানে এসডিসি (সেলস ডাটা কন্ট্রোলার) বসানো হবে। চুক্তি অনুসারে প্রায় প্রতিটি ভ্যাটযোগ্য খুচরা প্রতিষ্ঠানে মেশিন বসবে। এর অর্থ হচ্ছে ক্রেতা যেখানেই যা কিছু কিনবেন, সেখানেই তিনি মেশিনের ব্যবহার দেখতে পাবেন। ফলে যেকোনো লেনদেন ক্রেতা কর্তৃক প্রদত্ত ভ্যাট এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং সরকারি কোষাগারে তা জমা করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। কী আছে নতুন চুক্তিতে? কীভাবে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে? নতুন ব্যবস্থায় কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে? এনবিআরের প্রস্তুতি কী? এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন আলোচনায়।

কেন ইএফডির ধারণাটি সামনে এল: ১৯৯১ সালের আইনে পর্যায়ক্রমে খুচরা বিক্রির ওপর ভ্যাট আরোপ করার ফলে ছোট-বড় দোকান থেকে সনাতনী ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আশানুরূপ ভ্যাট না আসায় ২০০৮ সালের দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) প্রবর্তন করে। তবে যন্ত্র তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এর মূল কারণ, যন্ত্রেরিয়েল টাইমবিক্রির তথ্য মনিটরের সুযোগ সীমিত ছিল। অধিকন্তু নেটওয়ার্কিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় যন্ত্রে কী হচ্ছে তা জানার সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে ইএফডি হচ্ছে ইসিআরের উন্নততর সংস্করণ। এতে প্রিন্টার, মনিটর, কী-বোর্ড এবং ক্রেডিট ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে এনবিআরের সেন্ট্রাল সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় দোকানের বিক্রির তথ্য সংরক্ষিত থাকবে স্থাপিত মেশিনে এনবিআরের সার্ভারে। ইচ্ছা করলে কেউ এর তথ্য মুছে ফেলতে পারবে না। এর আরেকটি সুবিধা হলো, বিদ্যুৎ বা নেটওয়ার্ক না থাকলেও মেশিন অফলাইনে তথ্যাদি নিজস্ব মেমোরিতে ধারণ করবে। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ফিরে এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা সেন্ট্রাল সার্ভারের সঙ্গে সমন্বয় হয়ে যাবে। ইএফডি তুলনামূলক ছোট অধিকতর ব্যবহার উপযোগী। যিনি স্মার্ট মোবাইল ব্যবহার করতে জানেন, তিনি ডিভাইসও চালাতে পারবেন।

এনবিআরের পরীক্ষামূলক অভিজ্ঞতা: বর্তমান নতুন ভ্যাট আইনটি ২০১২ সালে প্রণয়ন হলেও তা বাস্তবায়ন হয়েছে প্রায় সাত বছর পর ২০১৯ সালের জুলাই থেকে। নতুন আইনের অন্যতম ভিত্তি ধরা হয়েছিল অটোমেশন। ভ্যাট অনলাইন (বর্তমানে আইভাস) অটোমেশনের অনেক মডিউল তৈরি করেছে যার সুফল এনবিআর ব্যবসায়ী মহল পেয়ে আসছে। বিশেষ করে ঘরে বসে রেজিস্ট্রেশন, মাসিক রিটার্ন দাখিল বিভিন্ন ধরনের হিসাব সংরক্ষণ এবং রিপোর্ট প্রস্তুত বিষয়গুলোয় এর ফল দৃশ্যমান হয়েছে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে, ভ্যাট অনলাইনের অটোমেশন সুবিধা এখনো পূর্ণাঙ্গ নয় এবং এতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে খুচরা পর্যায়ের ব্যবসার প্রকৃতি ভিন্নতর হওয়ায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সুবিধায় এনে কার্যকর অর্থে মনিটর সম্ভব হয়নি। এর বিকল্প হিসেবে খুচরা পর্যায়ে ব্যাপকসংখ্যক ব্যবসাকে ভ্যাটের নেটে আনা এবং আহরণে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট প্রথম ইএফডি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার মেশিন বসানোর জন্য একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আগের চুক্তি অনুসারে এক লাখ ইএফডি/এসডিসি স্থাপনের শর্ত থাকলেও প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ইএফডি ৫০০ এসডিসি স্থাপনের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল স্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হলে পরবর্তী সময়ে আরো কার্যাদেশ দেয়া হবে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, স্বর্ণের দোকান, বিউটি পার্লার, ডেকোরেটর্স সার্ভিস, তৈরি পোশাকসহ ২৪ ধরনের খুচরা পর্যায়ের দোকানে এসব মেশিন বসানোর কথা। তবে ব্যবস্থা কার্যকর বলে বিবেচিত হলেও এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। অন্যদিকে ব্যবস্থাকে অধিকতর ফলপ্রসূ করার সুযোগও অনুসন্ধান করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আউটসোর্সিংয়ের ধারণাটি সামনে চলে আসে।

আউটসোর্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল কেন: প্রথমত, বর্তমানে যে পদ্ধতিতে ইএফডি মেশিন বসানো হয়েছে তা প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমন ফল বয়ে আনতে পারেনি। দুই বছরে মাত্র আট হাজার মেশিন বসানো হয়েছে। এসব মেশিনের মাধ্যমে ভ্যাট আহরণ আগের তুলনায় বাড়লেও সম্ভাবনা বিবেচনায় তা অপ্রতুল বিবেচিত হয়েছে। অন্যদিকে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও ভেন্ডরের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যবস্থায় মেশিনে ইনভয়েস ইস্যুর বিষয়ে ভেন্ডরের কোনো দায় বা সুবিধা নেই। চুক্তি অনুসারে এনবিআর মেশিন কিনে দেবে এবং ভেন্ডর তা স্থাপন করবে। মেশিন বসানো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভ্যাট আহরণ মনিটরিং করাতে সঠিক প্রণোদনার ঘাটতি দেখা যায়। মোদ্দাকথা, স্বয়ংক্রিয়তা এক্ষেত্রে প্রায় অনুপস্থিত বলে এনবিআরের কাছে মনে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান বৈশ্বিক দেশীয় উন্নয়ন চাহিদার আলোকে স্থানীয় রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রগুলো আরো উন্মোচনের তাগিদ অনুভূত হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্তানুসারে কাস্টমস ডিউটি হ্রাস তা যৌক্তিকীকরণ চলছে। এতে কাস্টমসের উৎস থেকে রাজস্ব কমে যাবে। অন্যদিকে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের সার্বিক রাজস্ব আহরণে গতি আনতে হবে। স্থানীয় রাজস্ব হিসেবে আয়করের পাশাপাশি ভ্যাট আহরণ বৃদ্ধিতে অধিকতর স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট সফটওয়্যার ভ্যাট অনলাইন ব্যবস্থা থাকলেও খুচরা পর্যায়ে চালু ইএফডির সংখ্যা রাজস্ব আহরণে দৃশ্যমান গতি আসেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, জিডিপির হিসাবে প্রায় লাখ কোটি টাকা হচ্ছে খুচরা পর্যায়ের লেনদেন। হোটেল রেস্টুরেন্ট ধরা হলে আরো প্রায় লাখ কোটি টাকা যুক্ত হবে, কিন্তু বর্তমানের ম্যানুয়াল ইএফডির এত ব্যাপক সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। খাতের ভ্যাট আহরণ কার্যকর অর্থে বাড়াতে হলে বিকল্প উদ্ভাবনী কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। ভবিষ্যতের রাজস্ব চাহিদা পূরণে খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তৃতীয়ত, বর্তমানে প্রায় আট হাজার মেশিন বসানো হলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবার কায়িকভাবে ওইসব মেশিনে ইনভয়েস ইস্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যতক্ষণ ভ্যাট অফিসার দোকানে থাকেন ততক্ষণ মেশিন চালু থাকে। দোকান থেকে চলে গেলে আবার মেশিন অব্যবহূত থাকছে। -সংক্রান্ত অনৈতিক অভিযোগও উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারাও তেমন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন না। ফলে মেশিনে চালান ইস্যু বিক্রেতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। অন্যদিকে একজন ভ্যাট কর্মকর্তার আওতায় শতাধিক এমনকি হাজারটা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থাকলে তার পক্ষে কায়িকভাবে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের তদারক করাও বাস্তবসম্মত নয়। চতুর্থত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, ইএফডি মেশিনের মূল সমস্যাম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন এখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রণোদনার ব্যবস্থা যুক্ত থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। না হয় ক্রেতা আসবেন, বেচাকেনা হবে; কিন্তু মেশিন পড়ে থাকবে অব্যবহূত অবস্থায়। বর্তমান ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেমোটিভেশন’-এর আওতায় আনতে হবে। মেশিন ব্যবহারে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লাভের বিষয়টি সামনে আনতে হবে। অভিজ্ঞতা আরো বলছে, বর্তমানে দিকটি অনেকটা অনুপস্থিত। পঞ্চমত, এনবিআর মনে করছে, আগে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে চালু ইএফডি তেমন সাশ্রয়ী নয়। পর্যন্ত যেসব মেশিন বসানো হয়েছে সেখানে আয় যেমন হয়েছে, তেমন খরচও হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেশিন সরবরাহ করে যে টাকা ব্যয় করা হয়েছে তা আরো স্বচ্ছভাবে ফলপ্রসূ করা সম্ভব। আগের ব্যবস্থায় এনবিআর নিজে মেশিন কিনে প্রতিটি দোকানে ভেন্ডরের মাধ্যমে স্থাপন করবে। প্রথমে বিনা টাকায় এবং পরে টাকার বিনিময়ে মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিজেরা মেশিন কিনতে তেমন আগ্রহী হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে মেশিনের দাম পরিশোধ করতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে মেশিন সরবরাহ সংশ্লিষ্ট খরচের বিষয়টি আরো যৌক্তিকীকরণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে হয়েছে। 

জেনেক্সের চুক্তিতে কী আছে: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে জেনেক্স ইনফোসিসের চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় ২০২২ সালের নভেম্বর। চুক্তি অনুসারে জেনেক্স প্রথমে ঢাকা চট্টগ্রামের তিনটি অঞ্চলে ৬০ হাজার মেশিন বসাবে। ঢাকা পূর্ব ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটকে একটি এবং ঢাকা পশ্চিম ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটকে আরেকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটকে অন্যটি ধরা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম বছরে তিনটি অঞ্চলে ৬০ হাজার মেশিন বসানো হবে। বাকি মেশিন ( লাখ ৪০ হাজার) পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বসাতে হবে। পরিমাণ প্রতিষ্ঠান ওই তিন অঞ্চলে পাওয়া না গেলে ঢাকা চট্টগ্রামের আশপাশের অঞ্চলগুলোয়ও সম্প্রসারিত করা হবে। বস্তুত এটিও অনেকটা পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মনে করা হয়েছে। এটির সফলতা দেখা দিলে দেশের অন্যান্য স্থানে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যবস্থায় বা ভিন্ন উন্নত ব্যবস্থায় ইএফডি বসানো হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এনবিআর কোনো মেশিন ক্রয় করে দেবে না। মেশিনের জন্য কোনো টাকাও খরচ করবে না।  চুক্তির শর্ত অনুসারে জেনেক্স নিজে এনবিআরের চাহিদা অনুযায়ী মেশিন সরবরাহ করবে। প্রতিটি দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে বিনামূল্যে মেশিন সরবরাহ করবে। এনবিআর জেনেক্স ইনফোসিস থেকে কেবল সার্ভিস ক্রয় করবে। জেনেক্স মেশিনে ইনভয়েসের তথ্য এনবিআরের অনুমোদিত সার্ভারে সরাসরি (লাইভ) প্রেরণ করবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারও তৈরি করে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। মেশিনের দেখভাল, প্রশিক্ষণ প্রচারণাও চালাবে জেনেক্স। সার্বিকভাবে চুক্তিতে আবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে। এর বিনিময়ে জেনেক্স ইনফোসিস কী পাবে? প্রতিষ্ঠানটি আহরিত ভ্যাটের একটি অংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে পাবে। চুক্তি অনুসারে সার্ভিস চার্জের পরিমাণ ঢাকার জন্য শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য শূন্য দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর অর্থ লাখ টাকা ভ্যাট আহরিত হলে জেনেক্স পাবে ৫২০ অথবা ৫৩০ টাকা। যত বেশি ভ্যাট আহরণ বাড়বে তত বেশি তারা শেয়ার নিতে পারবে। অন্যদিকে কোনো ভ্যাটযোগ্য এবং মেশিন বসানোর উপযোগী কোনো ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থাকলে তা খুঁজে বের করবে এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের আইনি সহায়তায় ওইসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নেটে আনার যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে তারা নিজেরা সার্ভে করে দেখবে এবং সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিসকে তা অবহিত করবে। একই সঙ্গে মেশিনগুলো যাতে সর্বদা সচল থাকে অথবা ২৪/ সার্ভিস দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা বা পণ্য/সেবাভেদে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করবে। এসব জনবল সার্বক্ষণিক মেশিনগুলোর কারিগরি দিক দেখভাল করবে। আরেকটি অন্যতম দিক হলো, ব্যবস্থায় তিন লাখ মেশিন পাঁচ বছরে বসানো হলেও জেনেক্স ইনফোসিস ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবস্থা ধরে রাখবে এবং সেবা প্রদান করে যাবে। এতে সফটওয়্যার সংশ্লিষ্ট সোর্সকোড এবং সিস্টেম এনবিআরের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে হস্তান্তর করা হবে। 

ব্যবসায়ীদের জন্য ইএফডি কী সুবিধা এনে দেবে: ব্যবসায়ীরা কেন মেশিন বসাবেন? প্রথম যুক্তি, ব্যবসায়ীদের মেশিন বসাতে কোনো খরচ নেই। জেনেক্স মেশিন তাদের বিনামূল্যে সরবরাহ করবে। এতে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তাত্ক্ষণিক তা মেরামত করার জন্য সেবা দিতে সার্বক্ষণিক জেনেক্সের টিম কাজ করবে। তাছাড়া ২৪/ সেবা পেতে হটলাইন সেবাও উন্মুক্ত থাকবে। তাদের ইএফডি ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে দোকানের মালপত্রের পরিমাণ লিপিবদ্ধ থাকবে। দিনশেষে কোন পণ্যের কতটুকু বিক্রি হলো এবং অবশিষ্ট মজুদ কত আছে তা একজন ব্যবসায়ী মেশিনের সাহায্যে মিলাতে পারবেন। তাছাড়া তিনি স্টোরে কোথাও কোনো পণ্য চুরি হলে বা পণ্যের মান বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগে সে সম্পর্কে তথ্য বের করা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। উন্নত নিরাপত্তামূলক সফটওয়্যার ব্যবহার করায় সিস্টেমে ধারণকৃত যেকোনো তথ্য স্থায়ী অত্যন্ত নিরাপদ। অন্যদিকে ভ্যাটের হিসাব বের এবং তা জমা দেয়ার পদ্ধতিটি মেশিনের মাধ্যমে অল্প সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমানে এনবিআর মেশিন ব্যবহারকারীদের জন্য রিটার্ন ফরম সহজীকরণ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ী নিজেই মেশিনের স্ক্রিনে ক্লিক করে রিটার্ন বের করে তা মেশিনের মাধ্যমে পেশ করতে পারবেন। নিজের হিসাব নিজে সম্পন্ন করে তা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে পরিশোধ করলে তার সময় খরচ কমে যাবে। ভ্যাট অফিসের  সঙ্গে কায়িকভাবে সংস্পর্শ না থাকায় এতে হয়রানির অভিযোগও কমে আসবে। মোটকথা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব হিসাব ভ্যাট প্রদানে স্বচ্ছতা আসবে মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে। বর্তমানের ইএফডি নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রধান দুটি দাবি ছিল বিনামূল্যে মেশিন দিতে হবে; অন্যটি সমজাতীয় দোকান বা স্থানে একসঙ্গে মেশিন বসাতে হবে, যাতে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি না হয়। নতুন ব্যবস্থায় দুটি দাবি বিবেচনায় নিয়ে জেনেক্স ব্যবস্থা নেবে। (চলবে)

 

. মইনুল খান: সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন আইটি)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

আরও