অভিমত

প্রাচীন বাংলার স্থাপত্য পরিক্রমা

বৈরী পরিবেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা—একদিনের খাবার থাকলেও হয়তো পরদিন খাবার পেত না। বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হতো মানুষকে। বন্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ আর প্রাকৃতিক ঝড়-ঝঞ্ঝা এগুলো থেকে বাঁচার জন্য তাকে ছুটে বেড়াতে হয়েছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এ অবস্থায় পাহাড়ের গুহাই তাকে প্রথম আশ্রয় প্রদান করে ঝড়-

বৈরী পরিবেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ছিল নিত্যদিনের ঘটনাএকদিনের খাবার থাকলেও হয়তো পরদিন খাবার পেত না। বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হতো মানুষকে। বন্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ আর প্রাকৃতিক ঝড়-ঝঞ্ঝা এগুলো থেকে বাঁচার জন্য তাকে ছুটে বেড়াতে হয়েছে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অবস্থায় পাহাড়ের গুহাই তাকে প্রথম আশ্রয় প্রদান করে ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষার জন্য। গুহাই ছিল তার প্রথম প্রাকৃতিক আশ্রয় কিংবা বলা যায় প্রকৃতি প্রদত্ত স্থাপত্য। গুহায় বসেই সে শিকারের জন্য প্রাগৈতিহাসিক কালপর্বের কোনো এক মাহেন্দ্রক্ষণে শিকার প্রাণীর ছবি এঁকে ফেলে। যেখানে দেখা যায়, কয়েকজন শিকারি হত্যা করছে বন্যপ্রাণীকে। একে যুগপৎ শিল্প শিকারপূর্ব জাদু-আচার বলেও ধরে নিতে পারি। যাহোক, প্রাগৈতিহাসিক কালপর্বের নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ একটু থিতু হতে শুরু করে। সময় সে চাষাবাদ শিখে পশুকে পোষ মানানোসহ আগুন-চাকা ইত্যাদির যুগান্তকারী আবিষ্কার করে ফেলে, যা তাকে বহুদূর এগিয়ে যেতে সাহায্য করল। সে বসবাস শুরু করে মাটি, নলখাগড়া, খড়, কাঠ, পাথর দিয়ে তৈরি ঘরে। আজও আমাদের বাংলাদেশ কিংবা ভারত অথবা আফ্রিকার অনেক দেশে গ্রামে মাটির ঘরের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। ইউরোপে নব্য প্রস্তর যুগে বন্য পরিবেশে কাঠের অভাব ছিল না। তাই মানুষ কাঠ দিয়ে তৈরি করেছে বাড়ি। তবে মানুষ পরিবেশের কথা মনে রেখে ঘরের ছাদকে করেছিল ঢালু যাতে বৃষ্টি কিংবা বরফ ঝরে পড়তে পারে। ইউরোপের পুরনো বাড়িগুলোর ছাদ দেখলে বোঝা যায় কীভাবে মানুষ আবহাওয়ার কথা মনে রেখে বাড়ির ছাদ ঢালু করে নির্মাণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখত। প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডের রাউসি দ্বীপে নব্য প্রস্তর যুগের এক কামরাবিশিষ্ট পাথরের তৈরি বাড়ির কথা উল্লেখ করা যায়।

প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যশৈলীর স্বরূপ কী ছিল তা আজ আর সুনির্দিষ্ট করে বলার উপায় নেই। তবে পর্যটকের বর্ণনা, লিপিমালা, সাহিত্য, পাণ্ডুলিপিচিত্র, পোড়ামাটির ফলকচিত্র, প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত বিহার-মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত একত্র করলে হয়তো বাংলার প্রাচীন স্থাপত্যের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব। পাঁচ শতকে ফা-হিয়েন এবং সাত শতকে সুয়ান জং (হিউয়েন সাঙ) বাংলার সর্বত্র অসখ্য স্তূপ-বিহার দেবমন্দির প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পাঁচ শতক হতে আরম্ভ করে পরবর্তীকালে বিভিন্ন লিপিমালা সমসাময়িক সাহিত্যে বিভিন্ন প্রকারের রাজপ্রাসাদ, স্তূপ, বিহার, মন্দির, বাড়িঘরের উল্লেখ স্বল্পবিস্তর বিবরণ পাওয়া যায়। লিপিমালায় ভূ-ভূষণ, পর্বতশৃঙ্গস্পর্ধী, স্বর্ণকলসশীর্ষ, মেঘবর্ত্মাবরোধী ইত্যাদি নানা ধরনের মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে। সমসাময়িক পাণ্ডুলিপি-চিত্রে রঙ রেখায় নানা ধরনের স্তূপ মন্দিরের প্রতিকৃতি চিত্রিত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমার পৃষ্ঠফলক মন্দির স্থাপত্যে নকশা দেখা যায়। প্রসঙ্গে আমরা বাংলাদেশের ফরিদপুরের উজানীতে প্রাপ্ত বুদ্ধপ্রতিমার উল্লেখ করতে পারি। অথচ আজ আর এসব ঘরবাড়ি-বিহার-মন্দিরের কোনোটিই অবশিষ্ট নেই। এগুলোর ধ্বংসাবশেষ কালের পরিক্রমায় বন জঙ্গলে ঢাকা পড়ে ছোট-বড় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যাহোক, আমাদের প্রাচীন স্থাপত্যকে আলোচনা করতে গেলে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা উচিত। কারণ লোক আর ধর্মীয় স্থাপত্যকে একসঙ্গে আলোচনা করাটা যৌক্তিক নয়।

লোক স্থাপত্য

ধর্মীয় স্থাপত্যের চেয়ে লোক স্থাপত্য কালের পরিক্রমায় টিকে থাকার সংখ্যা অনেক কম। এর মূল কারণ সম্ভবত লোক স্থাপত্যের চেয়ে ধর্মীয় স্থাপত্যের প্রতি মানুষের সংবেদনশীলতা। কোনো শহরের দুর্গ-প্রাকারই প্রাচীন শহরের মূল স্থাপত্য কর্ম। প্রাকার শহরের রক্ষা প্রাচীর হিসেবে এবং প্রাকার-তোরণ শহরের অধিবাসীদের চলাচল দুর্গের সৌন্দর্য মর্যাদার জন্য নির্মিত হতো। প্রাকারগুলো মাটির সঙ্গে ইট/মৃৎপাত্রের টুকরো কখনোবা পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হতো। তোরণের দরজা ছিল কাঠ লোহা নির্মিত। বাংলাদেশের বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রাচীন পুন্ড্র নগরের উত্তর দিকের তোরণের ধ্বংসাবশেষ থেকে এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

দুর্গ ভারত উপমহাদেশেজয়স্কন্দাবারএবং ইসালামেবদিয়ানামে অভিহিত হতো। চারদিকে সাধারণত পরিখা খনন করা হতো যাতে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দুর্গ সুরক্ষিত থাকে। পরিখায় নৌকা বা টানা সেতু মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহূত হতো। সাধারণত দুর্গ নির্মাণের জন্য বেছে নেয়া হতো নদীর বাঁক। নদী এবং নদীর বাঁক দুর্গকে যেমন আক্রমণ থেকে রক্ষা করত তেমনি তার জল দুর্গের পানীয়ের প্রয়োজনীয়তা মেটাত। একই সঙ্গে নৌপথ হিসেবেও ব্যবহার হতো। মধ্যযুগে প্রাপ্ত জাহাজঘাটের উদাহরণ থেকে নৌ চলাচলের বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়। মহাস্থানগড় এবং ময়নামতির খননে ধরনের জাহাজঘাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাহাজঘাটের অবস্থান বাংলার বিভিন্ন স্থানের জনশ্রুতিতে ছড়িয়ে আছে। প্রাচীন বাংলায় দীঘি পুকুর খনন শহর নির্মাণ পরিকল্পনার অপরিহার্য অংশ ছিল। দুর্গ বাড়িঘর খড়কুটায় পোক্ত শুকনো ইটে তৈরি হতো।

লোক স্থাপত্যের আদি প্রমাণ বাংলায় পাণ্ডু রাজার ঢিবি যেটি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। বর্ধমানে অবস্থিত প্রাচীন শহর যেটির গোড়াপত্তন ঘটেছিল খ্রিস্টপূর্ব আট শতক কিংবা আরো আগে, ছিল সুপরিকল্পিত এক নগর। যে শহরে রাস্তাঘাট ফুটপাতের অস্তিত্ব ছিল। নগর-দুর্গ বাড়িগুলো রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি হতো, তবে মাটিকে শক্ত করার জন্য খরকুটোর ব্যবহার করা হতো। বাড়ির দেয়াল মাটি দিয়ে লেপে দেয়া হতো আর মেঝে ল্যাটেরাইট দিয়ে শক্তভাবে নির্মাণ করা হতো। সাধারণ মানুষ গোলাকার বর্গাকৃতির সাদামাটা কুঁড়েঘরে বাস করত। রান্নার জন্য চুলা থাকত ঘরের কোনায়। খেত ভাত মাছ, মাংস আর ফলমূল। তাম্রপ্রস্তর যুগের সংস্কৃতির ৭৬টি প্রত্নস্থল পাওয়া গেছে বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া মেদিনীপুর জেলায় এবং ময়ূরাক্ষী, কোপাই, অজয়, কুনুর, ব্রাহ্মণী, দামোদর, দ্বারকেশ্বর, শীলাবতী, রূপনারায়ণ নদীর আশপাশে। যদিও সংস্কৃতির অধিবাসীরা ছিল প্রধানত কৃষিজীবী তথাপিও শিকার কিংবা মাছ ধরা থেকে তারা বিরত হয়নি। বলা যায়, এরা ছিল আমাদের বাঙালিদের পূর্বপুরুষ।

আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব আট-চার শতকের বাংলার স্থাপত্য নিদর্শনের প্রমাণ পাওয়া যায় চন্দ্রকেতুগড়ে। প্রত্নস্থল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাগীরথী নদীর শাখা পদ্মা নদীর মরা খাত বিদ্যাধরী নদীর কূলঘেঁষে এর অবস্থান। এটির ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে দেবালয়, হাদীপুর, বেড়াচাঁপা, শানপুকুর ঝিকরা ইটাখোলা গ্রামের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে। নগরে শাসক অভিজাত শ্রেণী বাস করত প্রাচীরবেষ্টিত দুর্গে আর সাধারণ কৃষক, কারিগর, ব্যবসায়ী অন্যরা দুর্গ-প্রাকারের বাইরে বসবাস করত। চন্দ্রকেতুগড়ের আদিতম ঘর বাড়িগুলো ছিল কাদামাটি, বাঁশ আর কাঠের তৈরি। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন আর পানীয় জলের জন্য ছিল কুয়া।

প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে উয়ারি-বটেশ্বর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল যেটি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত। এখানে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের ঘরের ধসে পড়া মাটির দেয়ালের চিহ্ন পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, অঞ্চলে বর্তমান যুগেও মাটির ঘরবাড়ি নির্মিত হয়। আধুনিক বাংলাদেশের প্রাচীনতম বসতির প্রমাণ পাওয়া যায় মহাস্থানগড়ে যা পুন্ড্রনগর নামে পরিচিত। এখানে মৌর্য যুগ থেকে ধারাবাহিকভাবে বসতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ছয় মিটার উঁচু দুর্গ-প্রাকারবেষ্টিত নগরটি উত্তর-দক্ষিণে হাজার ৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে হাজার ৪০০ মিটার বিস্তৃত এবং আয়তাকৃতির। প্রাকারটি দশমিক মিটার চওড়া। দুর্গ-প্রাকার কোণে বুরুজের অবস্থান এবং তা সুদৃঢ় ভিতের ওপর নির্মিত হওয়ায় অনুমান করা হয়, বরুজ অভ্যন্তরে সম্ভবত একটি ধাপবিশিষ্ট সিঁড়ি ছিল যা বুরুজের পার্শ্বে রক্ষীদের যাতায়াতে সাহায্য করত। বুরুজের পাশে একটি তোরণের অবস্থান লক্ষ করা যায়। তোরণের দরজা ছিল দশমিক মিটার চওড়া। দরজার পাশে ছোট ছোট কক্ষের অবস্থানে মনে হয় এগুলো প্রহরীদের জন্য ব্যবহার হতো। পালযুগে নির্মিত তোরণের উত্তর-পূর্ব কোণে আরো কিছু প্রবেশপথ লক্ষ করা যায়পূর্বদিকে তিনটি, পশ্চিমে একটি, উত্তরে দুটি এবং দক্ষিণে একটি, যেগুলোর মাধ্যমে দুর্গের ভেতরে প্রবেশ করা যেত। পূর্বদিকে একসময়ের প্রবল প্রমত্তা করতোয়া নদী এবং উত্তর, দক্ষিণ পশ্চিমে গভীর পরিখা নগরটিকে বাইরের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করত। সময়ের গ্রাস নগরের স্থাপত্যের সব কিছুই ধ্বংস করলেও তার কিছু নমুনা রেখে গেছে। মাটির ঘর মেঝে, রান্নাঘর, চুলা প্রথম স্তরে আবিষ্কৃত হয়েছে। যেটির তেজস্ক্রিয় কার্বন সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব চার শতকের শেষ ভাগ নির্ধারিত হয়েছে। পরবর্তী নির্মাণ স্তরে ইট বিছানো মেঝে ছাদে ব্যবহূত টালির ভাঙা অংশ আবিষ্কৃত হয়েছে। হয়তো পর্বে মাটির দেয়ালের ওপর টালির ছাদ নির্মাণের রীতি ছিল। তবে মাটির দেয়াল শক্তপোক্ত করার জন্য ইটের ভাঙা টুকরা মিশিয়ে মৃত্তিকা প্রাচীর নির্মাণ করা হতো। আর মেঝে ছিল ইটের। তেজস্ক্রিয় কার্বন তারিখ অনুযায়ী পর্বটি ছিল মৌর্য যুগের। তৃতীয় নির্মাণ যুগটি সুঙ্গ কুষাণ যুগের অন্তর্ভুক্ত। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে প্রথম শতকে এসে ইট নির্মিত স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। যার ফলে ধারণা করা যায় যে ইটের দেয়াল নির্মিত ছিল বাড়িগুলো আর ছাদে পূর্বের মতো টালিই ব্যবহূত হয়েছে। পোড়াটির পাতকুয়ার ব্যবহারও লক্ষ করা যায় পর্বে। গুপ্ত কিংবা গুপ্তোত্তর পর্বে এসে ইটের তৈরি বৃহদাকৃতির কাঠামোর সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া নগরের আরেকটি বৈশিষ্ট্য যে সময়ে বৃহদাকৃতির ইটের স্থাপত্য নির্মিত হয়েছিল যেমন মহাস্থান নগর-প্রাকারের স্বল্প দূরত্বে গোবিন্দ ভিটার মন্দির স্থাপত্য। পর্বের সময়কাল চতুর্থ থেকে পঞ্চম শতক।

পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চল বর্তমানে বীরভূম জেলার ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে কোটাসুর, বাঁকুড়ার দামোদর নদীতীরের পোখান্না বর্ধমানের কুনুর অজয় নদীর সংগমস্থলে মঙ্গলকোটে নগর সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল। অঞ্চলে বাংলার প্রাচীনতম কৃষিজীবী সম্প্রদায় বসবাস করত। কোটাসুর প্রত্নস্থলে প্রায় এক কিলোমিটার পরিধির কাদামাটির প্রাচীর পরিখা চিহ্নিত হয়েছে। পোখান্নাকে গুপ্ত গুপ্ত-পরবর্তী যুগের একটি মাঝারি আকারের নগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিক্রমাদিত্যের ঢিবি, কাছারি ভাঙ্গা সরকারি ডাঙ্গা নামক তিনটি ঢিবি সংলগ্ন অঞ্চল ছিল মঙ্গলকোটের মূল কেন্দ্র। এর বহিঃপ্রাচীর এখনো কোনো কোনো স্থানে টিকে আছে। মূলত মৌর্য-শুঙ্গ-কুষাণ পর্বে মঙ্গলকোটে নগর সভ্যতার সূচনা ঘটে। দ্বারকেশ্বর নদীতীরে বিষ্ণুপুরের দিহারও আদি-ঐতিহাসিক যুগের একটি নগর।

কোটালীপাড়া গোপালগঞ্জ জেলায় অবস্থিত প্রাচীন নগর যার উল্লেখ রয়েছে গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য, সমাচারদেবের লিপিমালায়। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের লিপিমালা থেকে জানা যায়, রাজা কোটালীপাড়া থেকেই রাজ্য শাসন করতেন। বর্গাকারে নির্মিত দুর্গ নগরীটি ২৩ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত ছিল। দুর্গের ভেতরে সেনা চলাচলের রাস্তা ছিল। দুর্গ-প্রাকারের বাইরে এবং ভেতরের দিকে পরিখা থাকায় দুর্গটির রক্ষা ব্যবস্থা যে সুদৃঢ় ছিল তা অনুমেয়। দুর্গের পশ্চিম দিকে একটি রাস্তার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কারে প্রমাণিত হয় যে রাস্তাটি দুর্গ থেকে ঘাগর নদী পর্যন্ত যাওয়া যেত। মাটির তৈরি দুর্গের প্রাচীরের উচ্চতা স্থানভেদে দশমিক ৫৭ মিটার থেকে দশমিক ১৪ মিটার ছিল। [চলবে]

 

. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া: অধ্যাপক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও