বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী
শেখ
হাসিনার
ভারত
সফর
ঘিরে
আলোচনার
অন্যতম
বিষয়
হয়ে
ওঠে
কম্প্রিহেনসিভ
ইকোনমিক
পার্টনারশিপ
এগ্রিমেন্ট
বা
সেপা
চুক্তি।
ভারতের
প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে
সাক্ষাতের
সময়
দুই
দেশের
মধ্যে
এ
চুক্তি
স্বাক্ষর
হবে
কিনা
তা
নিয়ে
চলছিল
বিভিন্ন
হিসাবনিকাশ।
এ
অবস্থায়
বাণিজ্যমন্ত্রী
টিপু
মুনশি
জানালেন,
ভারতের
সঙ্গে
সেপা
চুক্তিটি
হবে,
তবে
কিছুটা
সময়
লাগবে।
যত
তাড়াতাড়ি
সম্ভব
এটি
করতে
চায়
বাংলাদেশ।
তাহলে
সেপা
চুক্তির
বিলম্ব
কি
বাংলাদেশকে
সুবিধা
আদায়ের
আরো
সুযোগ
করে
দেবে?
তিন দিক
দিয়ে
ঘিরে
থাকা
প্রতিবেশী
দেশ
ভারতের
সঙ্গে
মুক্তিযুদ্ধ
কেন্দ্র
করে
একটা
আবেগের
সম্পর্ক
রয়েছে
বাংলাদেশের।
তবে
একবিংশ
শতকের
চরম
প্রতিযোগিতামূলক
বৈশ্বিক
বাস্তবতায়
এ
দুই
দেশের
সম্পর্কের
হিসাব-নিকাশের
পরিমাপ
এখন
হয়
লাভ-লোকসানের
নিক্তিতে।
২৬
বছর
আগে
১৯৯৬
সালে
পদ্মার
পানিপ্রবাহ
স্বাভাবিক
রাখতে
গঙ্গার
পানি
ভাগাভাগি
নিয়ে
এ
দুই
দেশের
মধ্যে
বড়
একটি
চুক্তি
হয়েছিল,
যার
মেয়াদ
আছে
আর
চার
বছর।
ভারতের
জলপাইগুড়িতে
ব্যারাজ
নির্মাণের
কারণে
তিস্তার
পানিবণ্টন-সংক্রান্ত
দুই
দেশের
মধ্যে
একটি
চুক্তিও
অনেক
দিন
ধরে
ঝুলে
আছে।
জনশক্তি
ও
অশুল্ক
বাধা
নিয়ে
বিতর্ক
আছে।
অর্থনৈতিক
সম্পর্ক
ও
সম্পদ
ব্যবহারের
ক্ষেত্রেও
স্বাধীনতা-উত্তরকালে
নানা
সময়ে
দুই
দেশের
মধ্যে
সহযোগিতা
ও
দৃষ্টিভঙ্গিগত
অনেক
ভিন্নতা
দেখা
দিয়েছে।
ঐতিহাসিক
প্রেক্ষাপটের
কারণে
সীমান্তসম্পর্কিত
রাজনৈতিক
সমস্যা,
নদী
ভাগাভাগি
এবং
পারস্পরিক
অবিশ্বাসের
স্পষ্ট
উপস্থিতি
রয়েছে
এ
দুই
দেশের
সম্পর্কে,
যা
রাতারাতি
পরিবর্তন
হবে
না।
একদিকে
ভারতের
সঙ্গে
রাজনৈতিক
সম্পর্ক
যা-ই
হোক
না
কেন,
যে-ই
ক্ষমতায়
থাকুক
না
কেন—বাংলাদেশ
তার
অর্থনীতিকে
সব
সময়
অগ্রাধিকার
দিয়েছে।
অন্যদিকে
স্বল্প
ও
মধ্যমেয়াদের
লক্ষ্য
অর্জনে
ভারত
তার
উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে
মূলস্রোতে
আনতে
বাংলাদেশের
সহযোগিতা
অপরিহার্য
বলেই
মনে
করেছে।
এ
কারণে
দুই
দেশের
মধ্যে
১০০
কোটি
ডলার
ঋণ
ও
১৪টি
প্রকল্প
চুক্তি,
বন্দি
বিনিময়,
ছিটমহল
বিনিময়,
গঙ্গার
পানিবণ্টন,
দ্বিপক্ষীয়
বাণিজ্য,
উন্নয়ন
সহযোগিতা
কাঠামো,
দ্বিপক্ষীয়
বিনিয়োগ
বৃদ্ধি,
পণ্য
পরিবহন,
বাংলাদেশের
ভেতর
দিয়ে
কলকাতা-শিলিগুড়ি
রেল
সংযোগ,
সাবরুমের
মানুষের
জন্য
ফেনীর
পানি,
বন্দর
ব্যবহার,
সীমান্তে
হত্যা
বন্ধসহ
আরো
কিছু
চুক্তি
ও
সমঝোতা
স্মারক
সম্পন্ন
হয়েছে।
এসব
গৃহীত
চুক্তি
অথবা
অমীমাংসিত
সমস্যার
লাভ-লোকসানের
আলোচনায়
না
গিয়ে
বরং
বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী
শেখ
হাসিনার
ভারত
সফরকালে
কমপ্রিহেনসিভ
ইকোনমিক
পার্টনারশিপ
এগ্রিমেন্ট
(সিইপিএ বা
সেপা)
চুক্তি
স্বাক্ষর
না
হওয়ার
প্রেক্ষাপটে
কিছু
বিষয়ে
আলোকপাতের
উদ্দেশ্যে
এ
নিবন্ধ।
মুক্তবাজার অর্থনীতি
ব্যবস্থায়
এফটিএ
এবং
সিইপিএ
সম্পর্কে
এক
কথায়
বলা
যায়
যে,
নির্দিষ্ট
পণ্যে
বিনা
শুল্কে
বাণিজ্য
করার
দ্বিপক্ষীয়
সুবিধা
হচ্ছে
এফটিএ।
অন্যদিকে
সিইপিএ
বা
সেপা
হচ্ছে ব্যাপক
অর্থনৈতিক
অংশীদারত্ব
চুক্তি।
ব্যাপক
অর্থনৈতিক
‘সহযোগিতা’
চুক্তির
(কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক
কো-অপারেশন
অ্যাগ্রিমেন্ট
সিইসিএ)
পরবর্তী
স্তর
সেপা
(সিইপিএ) ব্যাপক
অর্থনৈতিক
‘অংশীদারত্বমূলক’
চুক্তি।
দীর্ঘদিন
ধরে
দুই
দেশের
বাণিজ্যে
ভালো
সম্পর্ক
বিরাজ
করলে
পরেই
সাধারণত
সেপা
চুক্তি
করা
হয়।
‘সহযোগিতা’
ইচ্ছা-অনিচ্ছানির্ভর
হলেও
‘অংশীদারত্বে’
বাধ্যবাধকতার
বিষয়
থেকে
যায়।
আর
এ
কারণে
আন্তঃরাষ্ট্রীয়
ও
ভূরাজনৈতিক
দৃষ্টিকোণ
দিয়ে
সেপা
নিঃসন্দেহে
ঐতিহাসিক
ও
মাইলফলক
চুক্তি।
জনগণের
এ
নিয়ে
স্বচ্ছ
ধারণা
থাকলে
দ্বিপক্ষীয়
প্রতিবন্ধকতা
অপসারণ
এবং
দুপক্ষের
ঐকমত্যের
সুফল
ঘরে
তোলা
সহজ
হয়।
মুক্তবাজারনির্ভর
বর্তমান
বিশ্বে
যেকোনো
বাণিজ্য
চুক্তি
দুই
দেশের
জন্যই
মঙ্গলজনক।
এর
ফলে
বিশাল
কোনো
বাজারে
প্রবেশ
করার
সুযোগ
সৃষ্টি
হয়।
তবে
দরিদ্র
ও
উন্নয়নশীল
দেশগুলোর
জন্য
হঠাৎ
করে
মুক্তবাজারে
প্রবেশ
অথবা
নিজের
বাজারে
অন্য
কাউকে
অবাধে
প্রবেশের
অধিকার
সব
সময়
লাভজনক
হয়
না।
কারণ
উন্নত
বা
এগিয়ে
থাকা
দেশ
নিজের
ওপরে
ওঠার
সময়
সংরক্ষণবাদী
নীতি
অনুসরণ
করে
উন্নত
হওয়ার
পর
দুর্বল
দেশকে
মুক্তবাজারে
খেলা
করার
যে
সুযোগ
দেয়,
তা
কখনই
‘ফেয়ার
প্লে’
হয়
না।
কিন্তু
পুঁজিবাদী
বিশ্বব্যবস্থায়
স্রোতের
প্রতিকূলে
থেকে
লাভবানও
হওয়া
যায়
না।
ফলে
বাংলাদেশের
মতো
উন্নয়নকামী
দেশগুলোর
সামনে
অসমান
এক
বাণিজ্য
মাঠে
খেলা
করাই
এখন
বাস্তবতা।
এ
কারণে
স্বল্পোন্নত
(এলডিসি) দেশ
থেকে
উত্তরণের
প্রেক্ষাপটে
বাণিজ্য
ক্ষেত্রে
সম্ভাব্য
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায়
দ্বিপক্ষীয়
মুক্তবাণিজ্য
চুক্তি
(ফ্রি ট্রেড
এগ্রিমেন্ট
বা
এফটিএ)
ও
অগ্রাধিকারমূলক
বাণিজ্য
চুক্তি
(পিটিএ) সম্পাদনের
নীতি
গ্রহণ
করে
প্রেফারেন্সিয়াল
মার্কেট
অ্যাকসেস
অ্যান্ড
ট্রেড
এগ্রিমেন্ট-সংক্রান্ত
কৌশল
নিয়ে
অগ্রসর
না
হওয়ার
কোনো
বিকল্প
বাংলাদেশের
সামনে
নেই।
এ
অবস্থায়
বাংলাদেশ
ভুটানের
সঙ্গে
অগ্রাধিকারমূলক
দ্বিপক্ষীয়
বাণিজ্য
চুক্তি
(পিটিএ) স্বাক্ষর
করেছে,
যার
আওতায়
ভুটানের
৩৪টি
পণ্য
বাংলাদেশের
বাজারে
ও
বাংলাদেশের
১০০টি
পণ্য
ভুটানের
বাজারে
শুল্কমুক্ত
সুবিধা
পাবে।
পাশাপাশি
বাণিজ্য
সম্ভাবনাময়
১৩টি
দেশ
ও
বাণিজ্য
সংস্থা
যেমন
ভারত,
চীন,
জাপান,
সিঙ্গাপুর,
ইন্দোনেশিয়া,
শ্রীলংকা,
মালয়েশিয়া,
নেপাল,
যুক্তরাষ্ট্র,
কানাডা,
ইউরেশিয়ান
ইকোনমিক
ইউনিয়ন,
আসিয়ান
ও
দক্ষিণ
আমেরিকার
সঙ্গে
মুক্ত
বাণিজ্য
চুক্তি
সম্পাদনের
লক্ষ্যে
বাংলাদেশ
অগ্রাধিকার
তালিকা
প্রণয়ন
করেছে।
বাংলাদেশের
সঙ্গে
বাণিজ্য
সম্ভাবনাময়
বিভিন্ন
দেশ
ও
জোটের
দ্বিপক্ষীয়
বাণিজ্য
চুক্তি
স্বাক্ষরের
লক্ষ্যে
রিজিওনাল
ট্রেড
এগ্রিমেন্ট
পলিসি
গাইডলাইনের
প্রাথমিক
খসড়াও
প্রণীত
হয়েছে।
বাংলাদেশের
ইইউসহ
অর্থনৈতিকভাবে
উন্নত
দেশগুলোর
সঙ্গে
যত
বেশি
সম্ভব
এফটিএ
চুক্তি
সম্পন্ন
করা
এখন
সময়ের
দাবি।
বিশ্লেষণে সুবিধার
জন্য
বলে
রাখা
ভালো
যে,
অধিক
জনসংখ্যার
কারণে
বাংলাদেশ
তার
নিজের
উৎপাদিত
পণ্যে
জনগণের
চাহিদা
পূরণ
করতে
পারে
না।
ফলে
বহির্বিশ্ব
থেকে
প্রয়োজনীয়
পণ্যদ্রব্য
আমদানি
করতে
হয়
এবং
বাংলাদেশ
মূলত
আমদানিনির্ভর
দেশ।
এক্ষেত্রে
প্রতিবেশীর
কাছ
থেকে
পণ্যদ্রব্য
আমদানি
করলে
সময়
ও
খরচ
বাঁচে।
তবে
দীর্ঘ
৫০
বছরের
বৃহৎ
প্রতিবেশী
ভারতের
সঙ্গে
সম্পর্কের
মূল্যায়নে
নেতিবাচক
অনেক
উপাদান
লক্ষণীয়।
নানা
কারণে
দুই
দেশের
সম্পর্ক
কখনই
সমান্তরাল
পথে
এগোয়নি।
নীতিনির্ধারক
স্তরে
যোগাযোগ
সব
সময়
অব্যাহত
থাকলেও
দুই
দেশের
অভ্যন্তরীণ
রাজনৈতিক
পটপরিবর্তনের
ধারাবাহিকতায়
জনগণ
স্তরে
দূরত্ব
সৃষ্টি
হয়েছে।
যে
কারণে
ট্রানজিট,
বাণিজ্য
সুবিধা,
ডিজিটাল
বাণিজ্য,
সীমান্তে
কাগজবিহীন
বাণিজ্য,
পণ্যবাণিজ্য,
পরিষেবা
বাণিজ্য,
বিনিয়োগ,
পুঁজিবাজার
উন্নয়ন,
পিপিপি
নেটওয়ার্ক,
টেকসই
মাল্টিমোডাল
পরিবহন
সম্ভাবনা
নিয়ে
বাংলাদেশের
মানুষ
এখন
অনেক
সতর্ক।
তারা
চিন্তা
করে,
ভারতের
সঙ্গে
বাংলাদেশ
চুক্তি
করে
আদৌ
কি
উপকৃত
হয়
কিংবা
হবে?
তবে
এখানে
মনে
রাখতে
হবে,
যেকোনো
চুক্তির
ইতিবাচক
ফল
ঘরে
তুলতে
চাইলে
সর্বাগ্রে
প্রয়োজন
কূটনৈতিক
পারদর্শিতা,
দরকষাকষিতে
দক্ষতা,
সৃজনশীলতার
প্রকাশ
এবং
নিজ
সামর্থ্য
সম্প্রসারণ
ও
আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক
সক্ষমতা।
বাংলাদেশ
এসব
ক্ষেত্রে
একটু
যে
পিছিয়ে
আছে,
তা
অনস্বীকার্য।
যে
কারণে
বাংলাদেশ
প্রয়োজন
থাকলেও
এখনো
অনেক
দেশের
সঙ্গেই
বাণিজ্যসংক্রান্ত
চুক্তি
করতে
পারেনি।
বাংলাদেশ-ভারতের
সেপা
মূলত
আঞ্চলিক
বাণিজ্য
চুক্তির
(আরটিএ) সম্প্রসারিত
রূপ,
যা
পণ্য
ও
পরিষেবা,
বিনিয়োগ,
অবকাঠামো
প্রকল্প
এবং
আধুনিক
চাহিদার
ই-কমার্স
ব্যবসার
ব্যবস্থাপনা
ও
নীতিনৈতিকতা
নিয়ে
আলোচনা
ও
কাজের
সুযোগ
সৃষ্টি
করতো।
এ
চুক্তির
বলে
বাংলাদেশ
ও
ভারতের
নিজস্ব
ব্যবসার
নিয়মনীতি
ও
ধারাগুলো
সমন্বয়
করে
পারস্পরিক
অর্থনৈতিক
কার্যক্রম
চালিয়ে
যাওয়ার
স্বাধীনতা
পাওয়া
যাবে।
বাংলাদেশ
ও
ভারত
নিরবচ্ছিন্ন
সাপ্লাই
চেইন,
প্রতিরক্ষা
সরঞ্জামের
যৌথ
উৎপাদনে
প্রেরণা,
বিনিয়োগের
সম্ভাব্য
ক্ষেত্র
অন্বেষণ
এবং
ভ্যাকসিন
ও
অন্যান্য
ওষুধের
যৌথ
উৎপাদন—এ
চার
বিষয়কে
গুরুত্ব
দিয়ে
ত্রিমাত্রিক
রূপরেখা
যথা
পণ্যবাণিজ্য,
পরিষেবা
বাণিজ্য
এবং
বিনিয়োগকে
চুক্তির
মূল
নিয়ামক
করতে
চাইছে।
প্রস্তাবিত
সেপার
মূল
লক্ষ্য
হলো বাংলাদেশ
ও
ভারতের
মধ্যে
বিশাল
বাণিজ্য
ব্যবধান
হ্রাস
করা,
বাণিজ্য
সংযোগ
বৃদ্ধি,
নতুন
বাজার
সৃষ্টি
এবং
সহযোগিতা
ও
অংশীদারত্বের
ভিত্তিতে
নতুন
অর্থনৈতিক
সুযোগ
সম্প্রসারণ
করা।
সেপার
মাধ্যমে
উপ-আঞ্চলিক
সহযোগিতার
প্রেক্ষাপটে
মাল্টি-মোডাল
সংযোগ
সৃষ্টি,
বাণিজ্য
সহযোগিতা,
অ্যান্টি-ডাম্পিং
শুল্ক
এবং
উৎস
করসহ
অন্যান্য
নিয়মকানুনের
সমস্যা
ও
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায়
পরিকল্পনা
করা
হয়েছে,
যা
দ্বিপক্ষীয়
অর্থনৈতিক
ও
বাণিজ্যিক
সম্পর্কের
ক্ষেত্রে
নতুন
দিগন্তের
উন্মোচন
করবে।
রপ্তানি উন্নয়ন
ব্যুরো
বা
ইপিবির
তথ্যে
দেখা
যায়,
১৯৯০-৯১
অর্থবছরে
বাংলাদেশ
ভারত
থেকে
আমদানি
করেছিল
২৩
কোটি
১৩
লাখ
ডলার
মূল্যের
পণ্য,
অন্যদিকে
ভারতের
বাংলাদেশ
থেকে
আমদানি
ছিল
মাত্র
২১
লাখ
ডলারের।
২০১৫-১৬
অর্থবছরে
ভারত
থেকে
আমদানির
পরিমাণ
ছিল
৫৪৫
কোটি
২৯
হাজার
ডলার,
রফতানি
ছিল
৬৯
লাখ
ডলার,
বাণিজ্য
ঘাটতি
৪৭৬
কোটি
টাকার।
২০১৮-১৯
অর্থবছরে
৭৬৫
কোটি
ডলারের
পণ্য
আমদানির
বিপরীতে
রফতানি
ছিল
১২৫
কোটি
ডলারের,
বাণিজ্য
ঘাটতি
৬৪০
কোটি
ডলারের।
২০১৯-২০
অর্থবছরে
বাংলাদেশ
ভারতে
১০৯
কোটি
৬৩
লাখ
৮০
হাজার
ডলারের
পণ্য
রফতানির
বিপরীতে
আমদানি
করে
৫৭৯
কোটি
৩৬
লাখ
ডলারের,
বাণিজ্য
ঘাটতি
৫৬৮
কোটি
৪০
লাখ
ডলার।
২০২০-২১
অর্থবছরে
ভারতে
১২৭
কোটি
৯৬
লাখ
৭০
হাজার
(প্রায় ১
দশমিক
২৮
বিলিয়ন)
ডলারের
পণ্য
রফতানি
করে
বাংলাদেশ।
এ
অংক
২০১৯-২০
অর্থবছরের
চেয়ে
প্রায়
১৭
শতাংশ
বেশি,
যা
মোট
রফতানি
আয়ের
৩
দশমিক
৩
শতাংশ।
ভারতের
অর্থবছর
শুরু
হয়
এপ্রিল
থেকে।
প্রাপ্ত
তথ্য
অনুযায়ী,
গত
অর্থবছরের
প্রথম
সাত
মাসে
(এপ্রিল-অক্টোবর,
২০২১)
ভারত
থেকে
বাংলাদেশের
আমদানি
২০২০-২১
অর্থবছরের
একই
সময়ের
তুলনায়
৮১
শতাংশ
বেড়ে
৭
দশমিক
৭
বিলিয়ন
মার্কিন
ডলার
হয়।
গত
অর্থবছরে
১০
দশমিক
৮৩
শতাংশ
বৃদ্ধি
নিয়ে
এর
পরিমাণ
ছিল
৯০০
কোটি
(৯ দশমিক
শূন্য
৯
বিলিয়ন)
ডলারের
ওপরে।
আর
২০২০-২১
অর্থবছরে
বিভিন্ন
দেশ
থেকে
৬
হাজার
৬৮
কোটি
১০
লাখ
(৬০ দশমিক
৬৮
বিলিয়ন)
ডলারের
পণ্য
আমদানি
করে
বাংলাদেশ।
ভারত
থেকে
পণ্য
আমদানির
ক্ষেত্রে
২০১৯-২০
অর্থবছরে
বাংলাদেশ
ছিল
নবম
অবস্থানে,
যা
২০২০-২১
গিয়ে
পৌঁছে
পঞ্চম
স্থানে।
এ
ধারা
অব্যাহত
থাকায়
চলতি
অর্থবছর
(২০২২-২৩)
বাংলাদেশ
চতুর্থ
অবস্থানে
যাবে
বলে
ধারণা
করা
হচ্ছে।
ভারত
থেকে
বাংলাদেশে
আমদানি
করা
প্রধান
পণ্যের
মধ্যে
রয়েছে
তুলা
(২১০ কোটি
ডলার),
শস্যবীজ
(১৩০ কোটি
ডলার),
বিদ্যুৎ
ও
জ্বালানি
(৬০ কোটি
ডলার),
গাড়ির
যন্ত্রাংশ
(৫০ কোটি
ডলার)
ও
অন্যান্য
যন্ত্রপাতি
(৪০ কোটি
ডলার)।
বাণিজ্য পরিসংখ্যানের
এ
চালচিত্র
ছাপিয়ে
সাধারণ
দৃষ্টিতে
বলা
যায়,
সেপা
থেকে
দুই
দেশই
লাভবান
হবে।
প্রাথমিক
হিসাবে,
ভারতে
বাংলাদেশের
রফতানি
বাড়বে
১৯০
শতাংশ।
পক্ষান্তরে
ভারতের
রফতানি
বৃদ্ধি
হবে
১৮০
শতাংশ।
বাংলাদেশ
ও
ভারতের
জিডিপি
প্রবৃদ্ধির
হার
বাড়বে
যথাক্রমে
১
দশমিক
৭২
এবং
শূন্য
দশমিক
শূন্য
৩
শতাংশ।
তবে
অনেক
দিন
ধরে
ভারত
বৃহত্তর
অবস্থানে
থাকায়
দিনশেষে
অংকের
হিসাবে
ভারতের
পাল্লাই
ভারী
থাকবে।
উপরন্তু
ভারতের
রফতানি
ক্ষমতা
যথেষ্ট,
সারা
বিশ্বে
বিনিয়োগ
রয়েছে,
পণ্যের
বৈচিত্র্যকরণেও
তারা
অনেক
এগিয়ে।
এ
অবস্থায়
বাংলাদেশকে
প্রধানত
তিনটি
বিষয়ের
দিকে
বেশি
নজর
দিতে
হবে।
প্রথমত,
পণ্যবাণিজ্যে
বাংলাদেশ
এরই
মধ্যে
ভারত
থেকে
শুল্কমুক্ত
সুবিধা
পেয়েছে;
সেপা
হলে
ভারত
একই
সুবিধা
লাভ
করবে,
যা
শুল্কের
বিষয়ে
দুই
দেশকে
একই
স্তরে
নিয়ে
যাবে।
এছাড়া
দেশ
দুটির
মধ্যে
রয়েছে
বিশাল
বাণিজ্য
ঘাটতি,
অথচ
বাংলাদেশের
সীমিতসংখ্যক
রফতানি
পণ্য।
দ্বিতীয়ত,
কিছু
খাত
ভীত
হতে
পারে
ভারতীয়
পণ্যে
বাজার
দখলের
আশঙ্কায়।
তাই
এ
ধরনের
অংশীদারি
চুক্তিতে
কিছু
পণ্যকে
চুক্তির
বাইরে
রাখা
হয়।
বাংলাদেশকে
অবশ্যই
কিছু
পণ্যকে
চুক্তির
বাইরে
রাখতে
হবে।
তৃতীয়ত,
এটি
প্রতিষ্ঠিত
সত্য
যে
ভারতে
রফতানি
করার
সময়
বাংলাদেশ
অশুল্ক
বাধার
সম্মুখীন
হয়,
রাজ্য
আইন
ও
সরকারি
নীতিমালার
দোহাই
দিয়ে
ভারত
বিভিন্ন
ধরনের
পদ্ধতিগত
বাধার
সৃষ্টি
করে যা
ভারতে
রফতানি
নিরুৎসাহিত
করে।
এছাড়া
রয়েছে
ট্রানজিট
ও
মালবাহী
খরচের
উচ্চ
আধিক্যের
সমস্যা
এবং
বাংলাদেশের
জনশক্তি
রফতানিতে
ভারতের
অরাজি।
অথচ
বাংলাদেশে
অন্তত
৫০
হাজার
ভারতীয়
কর্মরত।
এসব
সমস্যা
নিরসনে
বাংলাদেশ
কতটা
পারঙ্গমতার
পরিচয়
দিতে
পারবে,
সময়ই
তা
বলে
দেবে।
চুক্তির
খুঁটিনাটি
প্রণয়নের
সময়
উল্লিখিত
সমস্যাবলি
বিবেচ্য
না
হলে
অংশীদার
শিরোনামে
সেপা
হলেও
বিশাল
ব্যবধানের
সমস্যা
ক্রমবর্ধমানই
থাকবে।
বিদ্যমান
অসংগতি
দূর
করতে
কতটা
দক্ষ,
তার
ওপরই
নির্ভর
করবে
বাংলাদেশের
প্রকৃত
অর্জন।
চাওয়া-পাওয়ার
ক্ষেত্রে
বাংলাদেশের
মাঠপর্যায়ের
লোকজনের
দক্ষতা,
বিচক্ষণতা
ও
দেশপ্রেম
ঘাটতি
নিয়ে
সাধারণ্যে
যে
ধারণা
রয়েছে,
বৃহত্তম
প্রতিবেশীর
সঙ্গে
গুরুত্বপূর্ণ
এ
চুক্তির
আগে
তা
অবশ্যই
বিবেচনায়
নিতে
হবে।
সেপা চুক্তির
ইতিবাচক
ও
নেতিবাচক
দিক
কিংবা
লাভ-লোকসানের
প্রকৃত
চিত্র
পাওয়ার
আগে
বাংলাদেশ
ও
ভারতের
সম্পর্কের
ভবিষ্যৎ
অবয়ব
কেমন
হতে
পারে
বা
কেমন
হওয়া
উচিত সে
বিষয়টিও
মাথায়
রাখতে
হবে।
সবচেয়ে
নিকটতম
প্রতিবেশী
হওয়া
ছাড়াও
বাংলাদেশ
ও
ভারতের
এমন
অনেক
বিষয়
আছে,
যা
একই
সূত্রে
গাঁথা।
যে
কারণে
এ
দুই
দেশ
পরস্পরের
জন্য
অপরিহার্য।
এ
দুই
দেশ
যোগাযোগ
ও
সংস্কৃতিগতভাবে
ঐতিহাসিক
সম্পর্কে
আবদ্ধ।
ভারতের
অর্থনৈতিক
সমৃদ্ধি
অর্জনের
সম্ভাবনার
পাশাপাশি
বাংলাদেশের
দ্রুত
বিকাশমান
অর্থনৈতিক
অগ্রগতি
ও
সক্ষমতা
পারস্পরিক
দৃষ্টিকোণ
থেকে
গুরুত্বপূর্ণ।
দুই
দেশই
প্রাকৃতিক
সম্পদ
বিশেষ
করে
পানি,
জ্বালানি
ও
জলবায়ুর
অংশীদার
এবং
এ
সম্পদের
পারস্পরিক
সুষম
বণ্টন
ও
ব্যবহারের
মাধ্যমে
উপকৃত
হতে
পারে।
ভারতের
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
অন্যতম
উপাদান
হচ্ছে
তাদের
পূর্বমুখী
নীতি,
যা
বাস্তবায়নে
বাংলাদেশের
সহযোগিতা
ও
অবদান
উপেক্ষা
করার
সুযোগ
নেই।
অধিকন্তু
বাংলাদেশ
আকারে
ছোট
হলেও
প্রতিকূল
পরিস্থিতি
সামলে
ঘুরে
দাঁড়ানোর
যে
সক্ষমতা
যুগ
যুগ
ধরে
দেখিয়ে
আসছে,
ভারতের
ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধি
অর্জনের
জন্যও
তা
গুরুত্বপূর্ণ।
এসব
বিষয়
বিবেচনায়
রেখেই
বাংলাদেশ
ও
ভারতের
মধ্যে
যেকোনো
চুক্তির
কাঠামো
তৈরি
করতে
হবে।
না
হলে
চুক্তির
সাফল্য
আসবে
না।
পারস্পরিক
আস্থার
ভিত্তিতে
সম্মানজনক
ও
প্রীতির
সম্পর্ক
সৃষ্টি
উভয়
দেশের
টেকসই
উন্নয়নের
জন্যই
অপরিহার্য।
পরিশেষে বলব,
বাংলাদেশের
নীতিনির্ধারকদের
যেকোনো
বাণিজ্য
চুক্তির
আগে
মনে
রাখতে
হবে
যে,
ধ্রুপদী
অর্থনীতিশাস্ত্রের
জনক
অ্যাডাম
স্মিথও
উপনিবেশকালে
আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের
আমদানি-রফতানি
নিয়ে
সুপারিশ
করতে
গিয়ে
ব্রিটিশদের
পক্ষ
নিয়ে
উপনিবেশের
অর্থনীতির
উদ্দেশে
বলেছিলেন,
‘তোমাদের
উচিত
হবে
কৃষিকাজ
করা,
আর
ব্রিটেনের
উচিত
হবে
ম্যানুফ্যাকচারিং
শিল্পে
মনোযোগ
দেয়া—তোমরা
(উপনিবেশের অর্থনীতি)
ওদের
দেবে
কাঁচামাল;
আর
ওদের
কাছ
থেকে
আমদানি
করবে
শিল্পপণ্য
এবং
চূড়ান্ত
দ্রব্য।’
ভারত-বাংলাদেশ
সম্পর্ক
নির্মাণে
এ
ধরনের
চিন্তার
প্রতিচ্ছবি
না
থাকাই
শ্রেয়
হবে।
ড. আইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি