আলোকপাত

রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে চিন্তায় জাতিসংঘ

সিরিয়া, ইরাক, চীন, মিয়ানমার ও ইউক্রেনে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি।

সিরিয়া, ইরাক, চীন, মিয়ানমার ও ইউক্রেনে রাষ্ট্রীয়ভাবে যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি।

ওই বৈঠকে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের প্রচেষ্টা এবং সারা বিশ্বের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে কীভাবে একত্রে কাজ করা যায়, এর ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মূলত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিস্তৃত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এটি আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের বাঁচাতে প্রযুক্তির ভূমিকা, সুদানে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, উইঘুর জনগণের সঙ্গে সংহতি এবং সিরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া। বাংলাদেশসহ কানাডা, গাম্বিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক এবং সহ-স্পন্সর হিসেবে যুক্তরাজ্য এ আলোচনায় উপস্থিত ছিল। রোহিঙ্গা ভুক্তভোগী ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি দেখানোর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নাজুক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা এখনো ন্যায়বিচার চায়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার পেতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামর্থ্যের ওপরও বিশ্বাস রাখে।

গ্লোবাল ক্রিমিনাল জাস্টিসের অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ বেথ ভ্যান শ্যাক জাতিসংঘের অধিবেশনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার একটি উল্লেখযোগ্য সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমকে তুলে ধরেন। বৈশ্বিক কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা এ অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

এ বিষয়ে সভায় তিনটি উচ্চস্তরবিশিষ্ট লক্ষ্যের একটি মডেল নিয়ে আলোচনা করা হয়। এক. বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জনে অংশীদারত্বের গুরুত্ব। 

দুই. জাতিসংঘের সনদে উল্লিখিত মৌলিক অভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত অঙ্গীকারগুলো বজায় রাখা।

তিন. বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। যাতে তারা আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হয়।

এ সভায় এসডিজির ১৭টি ধাপ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এসব লক্ষ্য শান্তি, ন্যায়বিচার এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত। এটাও জোর দিয়ে বলা হয়, এসডিজির লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। যাতে করে ন্যায়বিচারসহ সব স্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। আলোচনায় মানবাধিকার এবং ক্রান্তিকালীন বিচার ব্যবস্থাবিষয়ক জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের রেজল্যুশন ৪২/১৭-এর কথা উল্লেখ করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, দায়মুক্তির বিরুদ্ধে লড়াই, বিচারের অধিকার ও দ্বন্দ্ব নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন বিচার ব্যবস্থা এসডিজি অর্জনে সহায়ক হতে পারে। বিশ্লেষকরা এ কৌশলের প্রশংসা করেছেন। এটি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। যদি ন্যায়বিচারে ভুক্তভোগীর প্রবেশাধিকার না থাকে, তবে কোনো সংঘাতের সমাধান হবে না। এতে ভুক্তভোগী, পরিবার ও সম্প্রদায়গুলো আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

জাতিসংঘের কেউ কেউ বলেছেন, ন্যায়বিচারে ব্যর্থতা অংশত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং সংঘাতের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ সম্পর্কে ভ্যান শ্যাক বলেন, ‘‌উৎপাদিত ও ব্যবহার করা তথ্যের পরিমাণ আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। যার দরুন তারা পুরনো কলাকৌশল ব্যবহার করে তথ্যের বৈধতা, প্রমাণ এবং বড় পরিসরে তা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’‌

এ পরিস্থিতি দৃশ্যত আরো খারাপ হতে শুরু করেছে। কারণ দুষ্কৃতকারীরা ‘‌শ্যালো ফেইক ও ডিপ ফেইক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য বিকৃতি ও প্রচার করছে’, যা আদালতকে উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য উপস্থাপন এরই মধ্যে নজরে পড়েছে।

তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের সমস্যা সমাধানে বেসরকারি খাতের প্রযোজনীয় সরঞ্জাম, লোকবল এবং জ্ঞান রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মনে করে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য বেসরকারি খাত, প্রযুক্তি খাত এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার মধ্যে অংশীদারত্ব তৈরির উপায় বের করা উচিত।

উপরন্তু জাতিসংঘের কিছু সদস্য চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক-ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। তারা ইউক্রেনে চলমান সংঘাত এবং মানবাধিকারের ওপর এর প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন।

যা হোক, পরবর্তী আলোচনায় সিরিয়ার পরিস্থিতি, সেখানকার মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধের ফলে সিরিয়ার জনগণের ১২ বছরের দুর্ভোগের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কাতার এবং সিরিয়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ বিষয়টির ওপর জোর দেন। ভ্যান শ্যাকেরও কিছু কথা বলার ছিল। তারা প্রত্যেকে সিরিয়ায় সংঘটিত অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার অগ্রগতির ওপর জোর দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ পরিকল্পনায় সমগ্র বিশ্বের আদালতগুলোর নিজ নিজ আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করে বর্তমান সিরীয় প্রশাসনের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত।

কানাডা ও নেদারল্যান্ডস সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। জাতিসংঘ কনভেনশন লঙ্ঘন এবং নির্যাতন ব্যবস্থার অস্তিত্বের জন্য সিরীয় রাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।

দুটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়টিও ছিল। ১. সিরিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ স্বাধীন ব্যবস্থা। ২. জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের অপরাধ তদন্ত করা (ইউএনআইটিএডি)। এ প্রক্রিয়াগুলো রাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবেলায় নিবেদিত। এ দুই প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা অনুশীলনের জন্য তথ্য সরবরাহ এবং বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক পরিকল্পনাবিদ নিরাপত্তা পরিষদে ইউএনআইটিএডির সম্প্রসারণকে সাধুবাদ জানান। তাছাড়া ইউএনআইটিএডি বছরের পর বছর ধরে আইএসে‌র অপরাধ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করেছে। এটি ইয়েজিদি নিহতদের দেহাবশেষ সংবলিত গণকবর শনাক্তে ইরাককে সহায়তা করেছে। এ বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ইরাকি বিচার বিভাগের সঙ্গে একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। এছাড়া তারা ইরাকে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট আইন অনুপস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে, যা জবাবদিহি ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করবে।

যা হোক, এ পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে ইউএনআইটিএডির কাজ এখনো শেষ হয়নি। ইরাক সরকার এবং অন্য অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা জরুরি। এ সংস্থা দুর্বল সাক্ষী এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাদের ম্যান্ডেট চূড়ান্ত করতে পারবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রস্তুত থাকতে হবে। যাতে আগামী বছরের পরও এরা কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

দারফুর এবং সুদানের অন্যান্য অংশে চলমান নৃশংসতা আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৪ সালে দারফুরের পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শুধু দারফুরে নয়, খার্তুম এবং উত্তর ও দক্ষিণ কোর্দোফান এবং দেশের অন্যান্য অংশে নির্বিচারে বোমা হামলা, গোলাবর্ষণ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষতি এবং সহিংস পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে।

ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্টত সহিংসতার বর্তমান চক্রকে চালিত করছে। ফলে সুদানে জবাবদিহিতার জন্য সমর্থন তৈরি ও জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির প্রতিনিধি। আলোচনায় অংশ নেয়া রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড তার সাম্প্রতিক শাদ সফরের কথা বলেন। যেখানে তিনি প্রতিবেশী দারফুরে সহিংসতা থেকে পালানোর চেষ্টা করা পুরুষ, নারী, শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

আরেকটি বিষয় অংশগ্রহণকারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এটি যৌন সহিংসতা সম্পর্কিত। এটা ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়ে খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভুক্তভোগীরা যে ট্রমা ও কলঙ্ক অনুভব করেন তার নেতিবাচক প্রভাব প্রজন্মান্তরে বয়ে চলেন।

এক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ জবাবদিহিতার মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বিশেষ সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র অন্যদের সহায়তা করছে এবং গ্লোবাল সারভাইভারস ফান্ড ও জাতিসংঘভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে গঠনমূলক ভূমিকায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। এখন হয়তো সবাই বুঝতে পারছে, এ জাতীয় সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন নিপীড়নের ক্ষতিপূরণের জন্য সৃজনশীল বিকল্প অনুসন্ধানে সহায়তা করবে।

মনে রাখতে হবে, জাতিসংঘ কেবল একটি বহুপক্ষীয় সরকারের সংস্থা নয়। সর্বজনীন মানবাধিকার প্রয়োগে আইনের জন্য স্বীকৃত আন্তর্জাতিক কর্তৃত্ব রয়েছে। জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদ এবং মানবাধিকার কাউন্সিলে পরামর্শ দেয়ার অধিকার রয়েছে। এর অন্যান্য কমিটি বিভিন্ন মানবাধিকার চুক্তি রক্ষা করে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সংস্থা হলো মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়। জাতিসংঘ সনদের ১-৩ অনুচ্ছেদেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এর একটি আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট রয়েছে—‘‌... অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা মানবিক চরিত্রের আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে এবং জাতি, লিঙ্গ, ভাষা বা ধর্মের বৈষম্য ছাড়াই মানবাধিকার এবং সবার মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জন করা।’‌

২০০৫ সালে গঠিত ইউএনএইচআরসি জেনেভাভিত্তিক এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার দায়িত্বে রয়েছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৪৭টি ইউএনএইচআরসির বৈঠকে বসে, যা গোপন ব্যালটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে নির্বাচিত হয়। সদস্যরা সর্বাধিক ছয় বছর কাজ করেন। তবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এইচআরসি বছরে তিনবার সভা করে। জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়ার জন্য অতিরিক্ত সভার বিধান রয়েছে। এইচআরসি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং সম্মেলনে সুপারিশ করার জন্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে।

মানবাধিকার কাউন্সিল নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা পাঠাতে বলতে পারে। তবে মামলাটি ঝুলে থাকার আশঙ্কা থাকে। যেমনটি আমরা রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে দেখছি। ভেটোর ব্যবহার এ ধরনের পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

এটা ভালো যে এবার সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। তবে আমাদের এমন সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে, যা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে এবং করা উচিত।

মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, তথ্যের অধিকার এবং সুশাসন বিশ্লেষক

আরও