আলোকপাত

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট শুধু সংখ্যা নয়, প্রশাসনিক আস্থা ও সক্ষমতার সংকটও

বাংলাদেশ বর্তমানে যে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংকটকাল পার করছে তা শুধু আর্থিক বা মুদ্রানীতিগত হাতিয়ার দিয়ে মোকাবেলা সম্ভব নয়, একটি সক্ষম, স্বচ্ছ ও সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাই এক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

গত কয়েক বছরে দেশ যে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল তা একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপে বিপর্যস্ত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, বিনিয়োগের অভাব এগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ ফেলেছে। এসব সংকট সমাধানে রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র কি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কিনা, এ মৌলিক প্রশ্নটি সংগতই সামনে আসে। সচরাচর অর্থনৈতিক সংকট তিনটি স্তরে প্রকাশ পায়—নীতিনির্ধারণে দুর্বলতা, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতার অভাব ও সমন্বয়হীন বাস্তবায়ন কাঠামো। দেশের প্রেক্ষাপটে বিগত বছরগুলো প্রায় সব সরকারের ক্ষেত্রেই এ সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে প্রশাসনিক কারণগুলো কেবল সহায়ক নয়, অনেকাংশে মূল নির্ধারক। অবশ্য উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোয় অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা পরস্পরের সঙ্গে কার্যকারণ সম্পর্কে আবদ্ধ। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীয় ভবনের ভাবনাটিকে আগে গুরুত্ব দিতে হয়। বাংলাদেশের বাজেট ও রাজস্ব নীতি অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার পর্যায় পর্যন্ত তথ্যের প্রবাহ এবং সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেয়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একক কর্তৃত্বে রাজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগের অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি তথ্য বিভাজন স্পষ্ট নয়।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্নের কাছাকাছি (৮-৯ শতাংশ)। অথচ আমরা যেসব দেশের সঙ্গে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা করি অর্থাৎ ভিয়েতনামে এ হার ১৮ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ১২ ও ভারতে ১১ শতাংশ। এ ঘাটতির পেছনেও প্রধানত প্রশাসনিক স্থবিরতা দায়ী। কারণ কর পরিপালনের দুর্বল পরিকাঠামো, ব্যাপক কর ফাঁকির সুযোগ এবং আয়কর ও ভ্যাট বিভাগের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকায় সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতিকে শুধু নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এটি অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে একটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা। বিগত সময়ে বিভিন্ন ছোট-বড় প্রকল্পে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এবং বন্দর প্রশাসনের দুর্বলতা এমনকি জনসেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব দেখা গেছে। এগুলো সম্মিলিতভাবে অর্থনৈতিক সংকটকে গভীর করেছে।

বাংলাদেশের মতো বেশ ক’টি দেশ একইভাবে প্রশাসনিক অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামলে নিজ নিজ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পেরেছে। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের কথা আগে বলতে হয়। দেশটি ১৯৮৬ সালের ‘‌দোই মোই’ সংস্কারের পর থেকে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক মডেলের আওতায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্পন্ন করেছে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কমিশন ও মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ডেটা-শেয়ারিং প্রোটোকল স্থাপন করা হয়। এমনকি রাজস্ব আহরণে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে কর ফাঁকি ৪০ শতাংশ কমানো যায়। আমাদের রাজস্ব আদায়ে তাই এখন দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের পথে যেতে হবে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন। এদিকে শ্রীলংকার ২০২২ সালের অর্থনৈতিক বিপর্যয় বিশ্বের সামনে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে একই রকম চাপ, জ্বালানি সংকট ও ভর্তুকির ব্যাপক বোঝা। কিন্তু ভিয়েতনাম পরিকল্পনা সমন্বয় ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে নিজ সংকট অনেকাংশে কাটিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলংকাও প্রশাসনিক ব্যর্থতায় অনেকটা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। দেশটিতে রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার অসামঞ্জস্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রাজনৈতিক নির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বিলম্বিত সমন্বয় থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। তবে পরবর্তী সময়ে দেশটি সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। এদিকে আফ্রিকার দেশ ঘানা একসময় ঋণসংকট ও মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছিল। ২০২৩ সালে দেশটি আইএমএফের সঙ্গে একটি ৩০০ কোটি ডলারের ব্যবস্থা নেয়। এ ব্যবস্থার শর্তে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক সংস্কারের কথা ছিল। সে মোতাবেক রাজস্ব বোর্ড পুনর্গঠন, পাবলিক সেক্টরের বেতন সংস্কার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ। এভাবে দেশটি তাদের অর্থনীতিকে আংশিক পুনরুদ্ধারের পথে নিয়ে যায়। আরেকটি স্মরণীয় উদাহরণ, ১৯৯৭-৯৮ এশীয় আর্থিক সংকটের পর ইন্দোনেশিয়া যে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রায়ন মডেল গ্রহণ করেছিল, তা পরবর্তী দশকগুলোয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রাদেশিক ও জেলা সরকারগুলোকে রাজস্ব সংগ্রহ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে সত্যিকারের কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশও এ থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় সরকারকে রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ ব্যয়ের এখতিয়ার দিলে উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে সংকট তার সংস্কার ও নীতিনির্ধারণী এখনো চলমান। তাই সংকটের গতিপথ অনেকাংশে অনিশ্চিত। এজন্য বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিকল্পনা কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদাভাবে কাজ করছে। এ ধরনের বিভাগীয় বিচ্ছিন্নতা দূর করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় ‘‌ইকোনমিক ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল"গঠন করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি দৈনন্দিন ডেটা ড্যাশবোর্ড পরিচালনার মাধ্যমে এ সমন্বয় করা যেতে পারে। এ সেল সংকটের তীব্রতা নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট ট্রিগার পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সঠিক তথ্য ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ১-২ শতাংশ বাড়লেও বার্ষিক রাজস্বে ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি আয় সম্ভব। এজন্যই এনবিআরকে পুনর্গঠন করা জরুরি। আয়কর ও ভ্যাট বিভাগকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন সত্তায় রূপান্তর করা যেতে পারে। কর পরিপালনে ডিজিটালাইজেশনের কথা বললেই হবে না। ভিয়েতনামের মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ট্র্যাকিং ও বিগ ডেটার ব্যবহার বাড়াতে হবে। মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায়।

শ্রীলংকার বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে আইনি ও প্রশাসনিক উভয় সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক পরিদর্শন কার্যক্রম প্রতি ছয় মাসে একবার থেকে ত্রৈমাসিকে নামিয়ে আনা দরকার। রফতানি আয় দেশে ফেরত আনার সময়সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো বার্ষিক ভর্তুকি ব্যয়ের একটি বড় অংশ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায় না। তাই সর্বজনীন ভর্তুকির পরিবর্তে ‘‌নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী’ (টার্গেটেড বেনিফিশিয়ারি) মডেলে রূপান্তর সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা কমপক্ষে ৩৫ শতাংশ বাড়ানো যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক ডিজিটাল সুবিধাভোগী তালিকা প্রণয়ন করলে কাজটি আরো সহজ হবে। চলমান জ্বালানি সংকটের সময় জ্বালানি পণ্যে ভর্তুকি সমভাবে প্রত্যাহার না করে ধাপে ধাপে করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে স্বচ্ছ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কাঠামোকে স্বশাসনের সুবিধা দিতে হবে। স্থানীয় সরকার কাঠামোর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক তদারকি নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় মানুষ উপকৃত হবে। সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও প্রশংসিত হবে।

যেকোনো দেশের অর্থনীতির গতির জন্য বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হয়। এক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণমূলক বোঝা কমানো অপরিহার্য। দেশে যেকোনো ব্যবসার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে গেলে সচরাচর ৮-১৯ কার্যদিবস প্রয়োজন হয়। অথচ ভিয়েতনাম মাত্র ছয়দিনের মধ্যেই ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ দেয় প্রশাসনিকভাবে। এক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিসকে সত্যিকারের একক প্রবেশদ্বারে পরিণত করার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল টাইমলাইন ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং চালু করলে কাজটি দ্রুত হয়। তাছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতি সঠিকভাবে প্রয়োগ করে অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের সংখ্যা অনেকটা কমানো সম্ভব। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো সক্রিয় করে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় সংস্কারের পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত আর্থিক কর্তৃত্ব দিতে হবে। ইন্দোনেশিয়ার বিকেন্দ্রায়ন মডেল এখানে অনুসরণযোগ্য। উপজেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহ ক্ষমতা আইনত নিশ্চিত করতে পারলে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। স্থানীয় উদ্যোক্তা উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর সমন্বয় করে দেয়া যেতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতির সুবিধা গ্রাম পর্যায়ে বিস্তারে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া যায়। এভাবে প্রশাসনিক নানা উদ্যোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার অনেক সুযোগ সরকারের সামনে রয়েছে।

এ কথা সত্য, সংস্কার প্রস্তাব প্রণয়ন করা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। দেখা যায় কর সংস্কার বা ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস যেকোনো পদক্ষেপই বিদ্যমান স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। কর ফাঁকিতে অভ্যস্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহল এবং ভর্তুকি-সুবিধাভোগী সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো সংস্কারের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকে। আবার উচ্চাভিলাষী সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে পরিমাণ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন, বর্তমান পাবলিক সেক্টরে তার অনেকটাই অনুপস্থিত। বিশেষত ডিজিটাল রূপান্তর, আর্থিক বিশ্লেষণ ও নীতি মূল্যায়নে দক্ষতার গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশের পাবলিক সেক্টরে ক্যারিয়ার সিস্টেম এবং প্রণোদনা কাঠামো এমনভাবে নির্মিত যে উদ্ভাবন ও ঝুঁকি গ্রহণকে নিরুৎসাহিত করে। যথাসময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে নিয়ম মানা নিরাপদ—এ মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

অতএব বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট শুধু সংখ্যার সংকট নয়, এটি প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সক্ষমতার সংকটও। মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি তখনই ফলদায়ক হয়, যখন একটি কার্যকর প্রশাসন সেগুলোকে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা রাখে। এজন্য আমাদের উন্নয়নমুখী লোকপ্রশাসন গড়ার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রের সে কেন্দ্রীয় উপাদান, যা সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করার সক্ষমতা রাখে। ভিয়েতনামের সমন্বিত পরিকল্পনা, ইন্দোনেশিয়ার বিকেন্দ্রায়ন ও ঘানার স্বচ্ছ সংস্কার প্রক্রিয়া এক্ষেত্রে বাস্তব অনুপ্রেরণা। কিন্তু আমাদের নিজস্ব সংকটগুলোকে স্থানিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই বিবেচনা করে সমাধান করতে হবে।

ড. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ: অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাবেক উপাচার্য, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও