বঙ্গবন্ধুর
স্বপ্নের
দেশ,
লাখো
বাঙালির
আত্মত্যাগের
বিনিময়ে
পাওয়া
আমাদের
বাংলাদেশ
এই
বছর
তার
জন্মের
৫০
বছর
অর্থাৎ
সুবর্ণজয়ন্তী
পালন
করছে।
যুদ্ধ-পরবর্তী
স্বাধীন
বাংলাদেশ
তখন
নানাভাবে
বিধ্বস্ত;
ছাপান্ন
হাজার
বর্গমাইলের
এই
ভেঙে
পড়া
দেশের
ত্রিমাত্রিক
ভৌত
পরিকল্পনা
ও
অবকাঠামোকে
নতুন
করে
গড়ে
তোলার
যে
প্রয়োজনীয়তা
সে
সময়ে
তৈরি
হয়েছিল,
সেই
নির্মাণ
শিল্পের
একটি
অংশের
দায়িত্ব
কাঁধে
তুলে
নিয়েছিল
তত্কালীন
স্থপতি
সমাজ।
অগ্রভাগে
ছিলেন
দেশের
আধুনিক
স্থাপত্যের
পথিকৃৎ
স্থপতি
মাজহারুল
ইসলাম।
সুপরিকল্পিত
পরিকল্পনা
ও
সেই
অনুযায়ী
ত্রিমাত্রিক
স্থাপনার
চিন্তায়
থাকবে
সমাজের
সব
শ্রেণী-পেশার
প্রতিনিধি
এবং
এভাবে
সামাজিক
সমতাভিত্তিক
এবং
সুচিন্তাপ্রসূত
পরিকল্পনার
ফসলে
একটি
উন্নত
ও
সম্পন্ন
সমাজের
জন্য
নির্মিত
হবে
সুবিন্যস্ত
দেশ—এমনই
ছিল
স্বপ্ন।
স্থপতিদের
এমন
চিন্তায়
অনুপ্রেরণা
দিয়েছিলেন
জাতির
পিতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান।
তিনি
যথেষ্ট
আগ্রহ
নিয়ে
স্থপতিদের
এই
দেশ
সাজানোর
পরিকল্পনার
কথা
শুনেছিলেন।
তার
মতামত
জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে
আজও
শহরাঞ্চলের
তুলনায়
গ্রামাঞ্চল
বেশি।
আর
তখন
তো
গ্রাম
এবং
গ্রামের
জনসংখ্যা
আরো
বেশি
ছিল,
প্রায়
৮০
শতাংশ।
তাই
স্বপ্নদ্রষ্টা
বঙ্গবন্ধু
দেশের
এই
ভৌত
পরিকল্পনায়
গ্রামের
দিকেও
বিশেষ
নজর
দিতে
বলেছিলেন।
তারই
অনুপ্রেরণার
ভিত্তিতে
শুধু
স্থাপত্য
নয়,
বরং
নগর
পরিকল্পনা
এবং
সার্বিকভাবে
দেশের
আঞ্চলিক
বা
রিজিওনাল
প্ল্যানিং,
যেখানে
পল্লী
থেকে
নগর—এই
পুরো
বিস্তারটি
অন্তর্ভুক্ত
থাকবে,
তা
নিয়ে
স্থপতি
ইসলাম
স্যার
কাজ
করেছিলেন।
আয়তনে
ছোট
থেকে
বড়—এই
ক্রমবিন্যাসে
বা
hierarchy
তৈরি
করে
অপেক্ষাকৃত
ছোট
পাঁচটি
গ্রামের
সমন্বয়ে
একটি
বৃহৎ
বা
মেগা
পল্লী
এবং
এ
রকম
হয়তো
দুই
বা
তিনটি
মেগা
পল্লীর
সঙ্গে
একটি
নগর
কেন্দ্রের
সংযোগ
তৈরি
করা;
সমবায়ভিত্তিক
ধারণায়
এভাবে
দেশের
আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক
এসব
দিক
বিচার
করে
একটি
স্বপ্নের
দেশ
গড়ে
তোলা—এমনই
ছিল
পরিকল্পনার
ছক।
১৯৭১
থেকে
২০২১,
দীর্ঘ
৫০
বছর।
আজ
৫০
বছরের
দোরগোড়ায়
দাঁড়িয়ে
আমরা,
এই
দেশের
স্থপতিরা
বা
স্থাপত্য
অঙ্গন
কোথায়
দাঁড়িয়ে
আছে?
বলা
যায়,
অনেকটাই
এগিয়েছে,
তাতে
কোনো
সন্দেহ
নেই।
নগরের
দিগন্তরেখায়
আজ
স্থাপত্য
নিদর্শনের
জয়জয়কার।
আজ
আমাদের
দেশের
অনেক
স্থাপত্যকর্ম
এবং
স্থপতি
বিশ্বনন্দিত।
সৃজনশীলতা,
সচেতনতা,
দীপ্ত
মেধা
ও
মননে
পরিণত
আমাদের
দেশের
স্থপতিরা ছিনিয়ে
এনেছেন
বিশ্বব্যাপী
মর্যাদা।
আমরা
গর্বিত!
এই
বিজয়ের
গল্প,
সফলতার
গল্প
নিশ্চয়ই
দিন
দিন
বাড়তে
থাকবে,
সেটা
আশা
করাই
যায়।
তবুও
একটা
বিষয়ে
প্রশ্ন
জাগে।
১৭-১৮
কোটি
মানুষের
মুষ্টিমেয়
যে
জনগোষ্ঠী,
যে
দেশের
৬০-৭০
শতাংশ
নগর
সংস্কৃতির
বাইরে,
এই
বাস্তবতার
পরিপ্রেক্ষিতে
পেরেছে
কি
স্থপতিসমাজ
তাদের
কাজের
মাধ্যমে
দেশের
আনাচে-কানাচে
পরিচিতি
লাভ
করতে?
পেরেছে
কি
স্থাপত্য
নিয়ে
সাধারণ
জনগণের
কাছাকাছি
যেতে?
এক্ষেত্রে
বোধহয়
স্থপতি
সমাজের
আরেকটু
সক্রিয়
হওয়ার
কিংবা
তাদেরকে
সুযোগ
করে
দেয়ার
চিন্তার
কিছু
অবকাশ
আছে।
কিছুদিন
আগেও
স্থাপত্য
এবং
স্থপতি
সম্পর্কে
শহরের
সাধারণ
মানুষেরও
খুব
স্পষ্ট
ধারণা
ছিল
না।
একজন
স্থপতি
বা
আর্কিটেক্টকে
কেউ
কেউ
পরিচয়
করিয়ে
দিতেন
এই
বলে
যে
তিনি
একজন
‘আর্কিটেকচার’
(অর্থ স্থাপত্য,
যা
বিষয়ের
নাম)
কিংবা
একজন
স্থপতিকে
‘আর্কিটেক্ট-ইঞ্জিনিয়ার’
বা
শুধু
‘ইঞ্জিনিয়ার’
(প্রকৌশলী) বলে
অভিহিত
করতেন।
অর্থাৎ
স্থপতি
ও
প্রকৌশলী
বুঝি
একই
পেশার
ব্যক্তি।
একজন
ব্যক্তি
যদি
স্থাপত্য
এবং
প্রকৌশল
উভয়
বিষয়েই
পড়াশোনা
করে
পেশায়
নিযুক্ত
হন,
তাহলে
অবশ্য
তাকে
যুক্তিসংগত
কারণে
‘আর্কিটেক্ট-ইঞ্জিনিয়ার’
বলা
যেতেই
পারে।
কিন্তু
দুটি
শব্দ
কিন্তু
এক
নয়।
প্রকৃতপক্ষে
আর্কিটেক্ট
ও
ইঞ্জিনিয়ার
দুজনই
কারিগরি
পেশাজীবী
ব্যক্তি
এবং
নির্মাণ
শিল্পে
একে
অন্যের
সঙ্গে
ওতপ্রোতভাবে
জড়িত
হলেও
এদের
মধ্যে
কিন্তু
শিক্ষা
ও
পেশা
অর্থাৎ
কাজের
ক্ষেত্রে
পার্থক্য
অনেকটাই।
প্রসংগত
একটু
মন্তব্য
করাটা
বাঞ্ছনীয়
যে
বৃহত্তর
জনগোষ্ঠীর
কাছে
নামকরণের
এ
ধরনের
বিভ্রান্তির
কারণ
এই
পেশা
এবং
পেশাজীবীর
সর্বজনীন
পরিচিতির
অভাব।
এর
বেশি
কিছু
নয়।
আশার
ব্যাপার
এটাই
যে
সাম্প্রতিককালে
স্থাপত্য
সম্পর্কে
সাধারণ
জনগণের
ধারণা
আগের
চেয়ে
অনেকটাই
স্পষ্ট।
বিশ্বায়নের
যুগে
এবং
সামগ্রিক
আর্থসামাজিক
প্রেক্ষাপটে জীবনধারা
পাল্টে
যাচ্ছে
দ্রুত,
বদলে
যাচ্ছে
স্থপতি
ও
স্থাপত্য
পেশার
সামগ্রিক
অবস্থান;
এখন
একজন
স্থপতি
বা
আর্কিটেক্ট
কী
করেন,
স্থাপত্যশিক্ষা
ও
পেশা
কী,
এসব
বিষয়ে
সমাজের
অনেকেরই
বিশেষ
করে
শিক্ষিত
বা
সুশীল
সমাজের
ব্যক্তিদের
ধারণা
তৈরি
হয়েছে।
মানুষের
জীবনের
সঙ্গে
স্থাপত্যের
সম্পর্ক
যে
অত্যন্ত
নিবিড়,
এই
সত্যও
আজ
স্পষ্ট।
সে
কারণেই
হয়তোবা
স্থাপত্যবিষয়ক
অনুশীলনের
ব্যাপ্তি
অনেকটাই
বৃদ্ধি
পেয়েছে।
আজ
গ্রাম
থেকে
শহর,
এই
বিস্তীর্ণ
পরিসরে
সমাজের
নানা
স্তরে
স্থাপত্য
এক
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকায়
অবতীর্ণ।
একই
সঙ্গে
স্থপতি
পেশাজীবীদের
প্রয়োজনীয়তা
ও
জনপ্রিয়তা
ক্রমবর্ধমান।
স্থপতি
হয়ে
ওঠার
পেছনে
রয়েছে
সুপরিকল্পিত
ও
সুচিন্তিত
শ্রম
ও
সাধনা
এবং
স্থপতি
হওয়ার
পর
দেশ
ও
সমাজ
গঠনের
ভূমিকায়
তার
স্থান
হয়ে
ওঠে
অতিগুরুত্বপূর্ণ।
এই
ভূমিকা
যথার্থভাবে
পালনের
জন্য
জরুরি
মানুষের
সঙ্গে
স্থপতির
পর্যাপ্ত
যোগাযোগ,
আর
তাই
সাধারণ
মানুষের
কাছে
স্থাপত্যকে
আরো
গ্রহণযোগ্যতার
জায়গায়
নিয়ে
আসা
প্রয়োজন।
স্থাপত্যের
উত্কর্ষ
সাধন
এবং
একজন
ভালো
স্থপতি
হয়ে
ওঠার
প্রক্রিয়ায়
একজন
ব্যক্তির
বিশেষ
শিক্ষাক্রম
ও
জ্ঞানার্জন
কী
ধরনের
এবং
পরবর্তী
সময়ে
স্থপতি
হিসেবে
তার
সৃজনশীল
কর্ম
দিয়ে
কী
করে
তিনি
সমাজের
জন্য
একটি
অনন্য
যাত্রার
গল্প
নির্মাণ
করতে
পারেন,
এ
বিষয়গুলো
সব
পাঠকের
বোঝার
জন্যই
এই
সংক্ষিপ্ত
আলোচনা।
স্থাপত্য—ত্রিমাত্রিকতার গল্প বোনা
খানিক
বইয়ের
ভাষায়
প্রকাশ
করতে
চাইলে
বলা
যায়,
স্থাপত্য
হলো
যেকোনো
ত্রিমাত্রিক
‘স্পেস’
বা
পরিসরের
অথবা
ত্রিমাত্রিক
কাঠামোসহ
তার
প্রতিবেশ-পরিবেশের
নকশা;
যা
কিনা
কিছু
বিশ্লেষণ
ও
সৃজনশীল
প্রয়াস
থেকে
সাধারণত
নান্দনিক
বৈশিষ্ট্যপূর্ণ
এবং
যৌক্তিকভাবে
তৈরি।
এভাবে
স্থাপত্যচর্চা
একটি
ঘর
থেকে
শুরু
করে
ক্রমে
বিস্তার
লাভ
করতে
পারে
আরো
অনেক
অনেক
ঘরে,
আবাসিক,
বাণিজ্যিক,
প্রাতিষ্ঠানিক
ভবন
বা
ভবনগুলোয়,
একটি
মহল্লায়,
একটি
শহরে,
শহরের
বাইরে,
পল্লী
অঞ্চলে—সম্পূর্ণ
দেশজুড়ে।
প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষায়
শিক্ষিত
আমাদের
দেশের
প্রথম
আধুনিক
স্থপতি,
স্থাপত্য
আচার্য
মাজহারুল
ইসলাম
বলেছিলেন,
‘ত্রিমাত্রিক
পরিবেশ
সুন্দরভাবে
ডিজাইন
করাকে
আমরা
স্থাপত্য
শিল্প
বলব।
অর্থাৎ
শুধু
একটা
বাড়ি
করার
কথা
উঠছে
না,
বাড়ির
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো
এবং
detail সুন্দর
করে
করা
স্থাপত্যের
সঙ্গে
সম্পৃক্ত।’
বিশ্বজুড়ে
বিখ্যাত
অনেক
গুণী
স্থপতির
ভাষ্যে
আরো
অনেকভাবেই
ব্যাখ্যা
করা
যায়
স্থাপত্যকে।
শিল্পের
বিভিন্ন
শাখায়
চিত্রকলা,
সংগীত
প্রভৃতিতে
যেমন
নানা
ধরনের
ধারা
রয়েছে,
ঘরানা
রয়েছে,
একইভাবে
স্থাপত্যের
মধ্যেও
রয়েছে
প্রকাশের
নানা
ধারা
বা
স্টাইল।
কিন্তু
এ
লেখায়
সেই
বিস্তারিত
আলোচনা
তেমন
প্রযোজ্য
নয়।
ভবনের
কাঠামোর
বাহ্যিক
অলংকরণ
কিংবা
নান্দনিক
বিষয়ের
সঙ্গে
যখন
ব্যবহারকারীদের
জীবনবোধ,
জীবনধারা,
তাদের
বিভিন্ন
মৌলিক
ও
জরুরি
প্রয়োজনগুলো—এ
সবকিছু
অনুরিত
হয়,
যখন
সেই
স্থাপত্য
সময়ের
প্রয়োজন
ও
সার্বিক
যথাযোগ্যতাকে
সুনিশ্চিত
করে,
তখনই
একটি
সুব্যবহারযোগ্য
ভালো
ভবন
বা
স্থাপত্য
কাঠামো
আত্মপ্রকাশ
করে।
এখানেই
শেষ
হয়
না
স্থপতির
সাধনা।
এর
পরের
ধাপে
সাধারণ
ব্যবহারযোগ্য
ভৌত
কাঠামোকে
ছাড়িয়ে
স্থাপত্যকর্মকে
অন্য
মাত্রায়
উন্নীত
করার
প্রয়াস
চলে;
স্থাপত্য
তখন
হয়ে
ওঠে
কাব্য,
সুরের
ঝংকার
কিংবা
দার্শনিক
গ্যেটের
ভাষায়
‘হিমায়িত
সংগীত’-এর
মতো
বিমূর্ত
কিছু!
তখন
একজন
স্থপতির
সৃজনশীলতার
কোনো
পরিমাপযোগ্য
মান
নেই,
এর
বিস্তৃতির
কোনো
সীমারেখা
নেই,
নেই
কোনো
সংগঠিত
সংজ্ঞা।
আর
তাই
স্থপতি
ক্রিস্টোফার
বেনিনজার
হয়তো
বলেছেন,
‘স্থাপত্যবিদ্যা
এক
নিয়ম
ছাড়া
বিদ্যা।
একটি
কাঠামো
ভালো
নকশা
করার
সব
নিয়ম
মেনে
বানানো
হলেও
তা
অর্থহীন
হতে
পারে,
আবার
আরেকটি
কাঠামো
সব
নিয়ম
ভেঙে
বানানো
হলেও
তা
গভীর
অর্থবহ
হতে
পারে।
কোনো
কিছু
ভুল
না
হলেও
একটি
ভবন
কদর্য
হতে
পারে।
আবার
অরেকটি
ভবন
নির্মাণে
স্থাপত্যরীতির
সঙ্গে
অবিচার
করেও
পূর্ণাঙ্গ
হতে
পারে।’
এমনই
অভিনব
ও
জাদুময়
হতে
পারে
একজন
স্থপতির
স্থাপত্যকর্ম।
সেটা
কখনো
ব্যবহারিকের
সঙ্গে
নান্দনিকতা,
কখনোবা
বিমূর্ত,
অলৌকিক,
আধ্যাত্মিক
আর
বাস্তবের
মেলবন্ধন,
সব
মিলিয়ে
মানবিকতার
মূর্ছনা।
এ
ধরনের
ভালো
স্থাপত্যকর্ম
তখন
অনন্য,
দেশের
সীমানা
ছাড়িয়ে
বিশ্বের
দরবারে
তার
উত্কর্ষ
অভিনন্দিত
হয়;
দেশের
গর্ব
বিশ্বের
গর্বে
পরিণত
হয়।
স্থাপত্য
এবং
মানুষ
একে
অন্যের
পরিপূরক;
একদিকে
স্থাপত্যিক
কাঠামো
যেমন
মানুষের
প্রয়োজন,
উপলক্ষ,
আত্মমর্যাদা
কিংবা
স্বপ্নপূরণ
ও
অনুপ্রেরণার
প্রতিফলন,
আরেকভাবে
স্থাপত্য
তার
পরিসর,
প্রকাশ
ও
অন্তর্নিহিত
ভৌত,
প্রাকৃতিক
ও
আধ্যাত্মিক
শক্তির
মাধ্যমে
উত্কর্ষের
আলোড়ন।
এ
যেন
জড়
এবং
প্রাণের
এক
বিনিসুতোর
গল্প
বলা।
সেই
গল্পের
শুরু
এক্কেবারে
থাকার
ঘরটি
বা
বাড়িটিকে
ঘিরে
এবং
এরপর
বিস্তার
লাভ
করে
বৃহত্তর
অঙ্গনে।
একটি
ভালো
স্থাপত্য
একটি
বাড়ির
মাটি,
ইট
কিংবা
কংক্রিটের
মধ্যেই
এনে
দিতে
পারে
অন্য
বোধের
প্রাণের
মূর্ছনা,
যার
সঙ্গে
বাড়ির
মানুষগুলোর
তৈরি
হয়
এক
অলীক
আত্মীয়তা।
যথাযথ
আলো-বাতাসের
খেলা,
পরিসরের
বৈচিত্র্য,
প্রয়োজনের
ব্যবহারিক,
কারিগরি
শৈলী
ও
নান্দনিকতার
সম্মেলন—সব
মিলিয়ে
এক
স্বস্তির
বিস্তার।
আবাস
বা
থাকার
বাড়ি
ছাড়াও
স্থাপত্যশৈলী
একইভাবে
প্রভাবিত
করে
মানুষের
ব্যবহারের
যেকোনো
পরিসর,
ভবন
ইত্যাদিকেও।
তা
সে
হোক
কাজের
জায়গা,
অফিস-আদালত,
আরাধনার
স্থান,
বিপণন
কিংবা
বিনোদন
কেন্দ্র—যা-ই
হোক
না
কেন!
এছাড়া
একটি
স্থাপত্যকর্ম
তার
প্রকাশ,
তার
ভাষার
ব্যবহার
ও
নির্মাণশৈলীর
মাধ্যমে
নিজেই
নিজের
মহিমায়
মহিমান্বিত
হয়;
আর
এমন
একটি
ইট-সিমেন্ট
কিংবা
বাঁশ-কাঠ-মাটির
তৈরি
নিষ্প্র্রাণ
জড়
বস্তু
তার
স্থিতিশীলতার
ঊর্ধ্বে
গিয়ে
প্রাণ
পায়,
গতি
পায়;
এই
জাদুময়তা
সম্ভব
হয়
মূলত
একজন
স্থপতির
সৃজনশীল
মহিমার
আত্মপ্রকাশে,
যিনি
তার
বিদ্যালব্ধ
জ্ঞান,
তার
দর্শন,
আত্মিক
প্রসারতার
সমন্ব্বয়ে
তৈরি
জাদুর
কাঠির
ছোঁয়ায়
তৈরি
করেন
এমন
ভুবনজয়ী
স্থাপত্যিক
নিদর্শন।
এই
মাত্রার
স্থাপত্য
কথা
বলে
একটি
দেশের
মানুষের,
তার
সমাজের,
সেই
দেশের
পরিবেশ,
প্রতিবেশ,
সংস্কৃতি
ও
শিকড়ের।
স্থপতি—সৃজনশীল নির্মাণ শিল্পের জাদুকর
একজন
স্থপতি
কে?
খুব
সাদামাটাভাবে
বললে,
যেসব
পেশাজীবী
ভবন
বা
বিল্ডিংয়ের
নকশা
বা
ডিজাইন
করেন,
অর্থাৎ
স্থাপত্যচর্চা
করেন,
তারাই
স্থপতি।
একজন
স্থপতি
বিভিন্ন
ধরনের
ভবন
নির্মাণের
জন্য
সেইসব
ভবনের
নকশা
বা
‘প্ল্যান’
প্রণয়ন
করেন।
তারা
মানুুষের
অর্থাৎ
ব্যবহারকারীদের
চাহিদা
অনুযায়ী
ব্যবহারিক
ও
সংশ্লিষ্ট
অন্যান্য
জ্ঞানের
সমন্বয়ে
যৌক্তিক
বিচার-বিশ্লেষণ
করে
সৃজনশীলতার
পরশপাথরের
ছোঁয়ায়
একটি
নির্মাণযোগ্য
পরিসর,
প্রতিবেশ
বা
পরিবেশের
নকশা
তৈরি
করেন।
এককথায়,
সাধারণভাবে
তারা
হচ্ছেন
নির্মাণশিল্পী
বা
কারিগর।
একজন
স্থপতি
স্বপ্ন
দেখতে
শেখেন
এবং
সেই
স্বপ্নকে
বাস্তবায়ন
করার
ক্ষমতা
রাখেন।
একটি
দেশের
জাতীয়
নেতাকে
আমরা
অনেক
সময়
দেশের
স্থপতি
বলে
থাকি।
কেননা
তিনি
দেশকে
নিয়ে
স্বপ্ন
দেখেন
এবং
সেই
জাতি
ও
দেশের
জন্য
প্রযোজ্য
ও
প্রয়োজনমতো
পরিকল্পনাগুলো
বাস্তবায়ন
করে
দেশকে
একটি
অবস্থানে
পৌঁছানোর
জন্য
সাধনা
করেন।
কারিগরি
অঙ্গনে
একজন
স্থপতি
সেই
ব্যক্তি,
যিনি
সুপরিকল্পিত
ভৌত
কাঠামোর
নকশার
মাধ্যমে
শুধু
একটি
বাড়ি,
একটি
পাড়া
বা
মহল্লা
কিংবা
এলাকার
পরিকল্পনায়
যুক্ত
হচ্ছেন
না,
উপরন্তু
তিনি
তার
কাজগুলোর
মাধ্যমে
সবার
আগে
মানুষের
দৈনন্দিন
জীবনের
ওপর
সরাসরি
প্রভাব
ফেলেন।
তাই
এক
অর্থে
স্থপতি
মানুষের
জীবনধারার
ডিজাইন
করেন,
তার
জীবনযাপনকে
প্রভাবিত
করেন।
এভাবে
স্থপতি
একাধারে
একজন
সৃজনশীল
ব্যক্তি
এবং
একজন
স্বপ্নদ্রষ্টা;
তিনি
স্বপ্ন
দেখেন
অন্য
মানুষের
জন্য,
তাদের
ব্যবহূত
নানা
পরিসর,
পরিবেশ
বা
প্রতিবেশ
নির্মাণের
জন্য।
এভাবে
সমাজের
একজন
দায়িত্ববান
কর্মী
হিসেবে
স্থপতির
প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার
প্রচেষ্টায়,
সূক্ষ্ম
যত্নশীলতার
প্রয়োজন
হয়।
প্রয়োজন
হয়
পরিবার
এবং
শিক্ষাঙ্গন,
প্রতিটি
প্রতিষ্ঠান
থেকেই
সহায়তা
ও
বিশেষ
পরিচর্যা
বা
গ্রুমিং।
তার
দরকার
যথাযথ
প্রতিপালন,
মেধার
সঠিক
মূল্যায়ন,
সার্বিক
মূল্যবোধসম্পন্ন
শিক্ষা।
এ
সবকিছুর
মধ্য
দিয়ে
সে
গড়ে
উঠবে;
বুদ্ধি,
বিদ্যা,
মনস্তাত্ত্বিক
বিকাশে
বিকশিত
ও
পরিণত
হয়ে
নিজেকে
সমৃদ্ধ
করবে,
চারপাশের
সমাজকে
তথা
বৃহত্তর
মানবগোষ্ঠীর
কল্যাণ
সাধন
করবে,
সেটাই
বাঞ্ছনীয়।
এ
যেন
ঠিক
একটি
চারাগাছের
মতো!
যথাযথ
মাটি,
আলো,
বাতাস
ও
যত্ন
পেলেই
সে
সতেজ
হয়ে
নিজ
বৈশিষ্ট্যে
বলীয়ান
হয়
এবং
মাথা
উঁচু
করে
দাঁড়িয়ে
মানুষকে,
মানুষের
চারপাশের
পরিবেশকে
নানাভাবে
উপকৃত
করে।
তেমনি
একটি
দেশ,
একটি
সমাজ
এবং
মানুষের
জীবন,
যা
প্রকৃতির
এক
বিশেষ
সৃষ্টি;
এসব
ক্ষেত্রেও
ঘটনাটি
কিন্তু
একই,
প্রয়োজন
সুচিন্তিত
যত্ন
ও
ভালোবাসা।
একজন
দায়িত্ববান,
ভালো
স্থপতি
হয়ে
ওঠার
সাধনা
নিরন্তর।
তার
বিচরণ
জ্ঞানের
নানা
শাখায়,
শিল্প,
বিজ্ঞান,
মানবিক
বা
হিউম্যানিটিজের
নানা
বিষয়,
নানা
শাখায়।
স্থাপত্যশৈলীর
কারিগরিবিদ্যা
আহরণ
করা
ছাড়াও
আঞ্চলিক
পরিপ্রেক্ষিতের
পাশাপাশি
তার
জ্ঞান
ও
দৃষ্টিভঙ্গিকে
ভৌগোলিক
সীমারেখা
অতিক্রম
করে
ছড়িয়ে
দিতে
হয়
বৈশ্বিক
দিগন্তে।
মেধায়,
মননে,
সূক্ষ্ম
ও
চিন্তাশীল
স্পর্শকাতরতার
পরশে
বিশ্লেষণ
করতে
হয়
মানুষকে;
তার
অবস্থান,
পরিবেশ,
প্রতিবেশ,
তার
সার্বিক
কনটেক্সট
বা
প্রেক্ষাপটকে।
আর্থসামাজিক,
রাজনৈতিক
এবং
সাংস্কৃতিক
প্রেক্ষাপট
সম্পর্কে
তার
থাকতে
হয়
পরিষ্কার
ধারণা,
থাকতে
হয়
অতীতের
শিকড়,
বর্তমানের
পরিপ্রেক্ষিত-চ্যালেঞ্জগুলো
আর
ভবিষ্যতের
নতুন
বীজের
খোঁজ
রাখা;
ফেলে
আসা
শত-হাজার
বছরের
ঐতিহ্য,
সমকালীন
সার্বিক
অবস্থান,
সংশ্লিষ্ট
দিকগুলো
এবং
ভবিষ্যতের
সম্ভাবনাময়
স্বপ্নের
একসূত্রতার
অন্বেষা।
পাশাপাশি
ব্যক্তিমানুষ
হিসেবে
একজন
স্থপতিকে
সর্বজনীন
মূল্যবোধ,
সততা,
সমতা
এবং
ন্যায়নীতির
প্রতি
যেমন
শ্রদ্ধাশীল
হতে
হয়;
একইভাবে
নিজের
আচরণ
ও
কাজেও
তার
প্রয়োগ
করতে
হয়।
এ
রকম
গভীর
জ্ঞান,
প্রজ্ঞা,
চারপাশের
অভিজ্ঞতা
এবং
সংবেদনশীল
অনুভূতির
মেলবন্ধনে
একজন
স্থপতি
ক্রমে
হয়ে
ওঠেন
দক্ষ
একজন
নির্মাণকর্মী,
একজন
প্রযুক্তি
কারিগর;
যিনি
ব্যক্তিমানুষের
অথবা
সম্মিলিত
জনগোষ্ঠীর
জন্য
ভৌত
কাঠামো
নির্মাণ
করেন
এবং
সেই
জড়
কাঠামোর
ভেতর
প্রাণ
সঞ্চার
করেন।
এমনই
এক
সংবেদনশীল
ও
কঠোর
সাধনার
পথ
যখন
একজন
সুযোগ্য
স্থপতি
হওয়ার
উপায়
তখন
স্থাপত্যশিক্ষা
কীভাবে
অবদান
রাখে
বা
রাখতে
পারে?
(চলবে)
জাকিয়া রহমান
ঋতা: সহকারী অধ্যাপক,
স্থাপত্য
বিভাগ
স্টেট
ইউনিভার্সিটি
অব
বাংলাদেশ