পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ও ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ
বিশ্ব জ্বালানি সম্পদে সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্র রাষ্ট্রের যেসব বৃহৎ কোম্পানির দীর্ঘকাল আধিপত্য ছিল সেগুলো এক নামে সাতভগ্নি নামে পরিচিতি পেয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। এর সবগুলোই ছিল পশ্চিমা বহুজাতিক কোম্পানি। তাদের সেভেন সিস্টার্স বা সাতভগ্নি নামকরণ করেন ইতালিয়ান রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির কর্মকর্তা এনরিকো মেত্তাই। এ সাতটি কোম্পানি পরে নানাভাবে পুনর্বিন্যস্ত হয়। আদিতে এগুলো ছিল: ১. অ্যাংলো পারসিয়ান অয়েল কোম্পানি (বর্তমানে বিপি), ২.
গালফ অয়েল (পরে মার্কিন কোম্পানি শেভরন অঙ্গীভূত), ৩.
স্ট্যান্ডার্ড অয়েল অব ক্যালিফোর্নিয়া (এখন শেভরন), ৪.
টেক্সাকো (পরে শেভরনের অঙ্গীভূত), ৫.
রয়েল ডাচ শেল, ৬. স্ট্যান্ডার্ড অয়েল অব নিউ জার্সি (পরে এক্সন) এবং ৭. স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি অব নিউইয়র্ক (পরে মবিল, তারও পরে এক্সনমবিলের অংশ)।
১৯৭৩ সালের তেল সংকটের আগ পর্যন্ত এ কোম্পানিগুলোই বিশ্বের জ্বালানি তেল-গ্যাস মজুদের শতকরা ৮৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করত। গত দুই দশকে পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য পত্রিকা ফাইন্যান্সিয়াল
টাইমস
জানাচ্ছে, ‘পুরনো
সাতভগ্নি থেকে বিকশিত যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমবিল ও শেভরন, ইউরোপের ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) এবং রয়েল ডাচ শেল এখন অস্তিত্বের সংকটে। ওইসিডির বাইরে এখন বিকশিত হয়েছে নতুন সাতভগ্নি।’
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস আরো বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে পরামর্শ করে এ নতুন সাতভগ্নির তালিকা তৈরি করেছে। এ নতুন সাতটি ক্ষমতাধর জ্বালানি সংস্থা হলো: ‘১. সৌদি আরামকো, ২. রাশিয়ার গ্যাজপ্রম, ৩. চাইনিজ ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি), ৪. ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল করপোরেশন (এনআইওসি), ৫. ভেনিজুয়েলার পিডিভিএসএ, ৬. ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস এবং ৭. মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস। আগের তুলনায় এগুলোর মৌলিক পার্থক্য হলো এর সবগুলোই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
‘বর্তমান বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ তেল ও গ্যাস মজুদ ও উৎপাদন এ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। পুরনো সাতভগ্নি যা পরে চারটি সংস্থায় অঙ্গীভূত হয়েছে, তাদের হাতে এখন শতকরা ৩ ভাগ মজুদ আছে, তারা উৎপাদন করে শতকরা ১০ ভাগ।’ (ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ১২ মার্চ, ২০০৭)
গত দুই দশকে বিশ্ব জ্বালানি খাতে চীনের অংশগ্রহণ ও কর্তৃত্ব খুবই দ্রুতগতিতে বেড়েছে। একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানির বিনিয়োগ, খনিজসম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানিতে চীনা প্রতিষ্ঠানের তত্পরতা বেড়েছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি রফতানি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা এখন বিশ্বের প্রথম সারিতে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের তেল-গ্যাস কোম্পানি ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকসহ অর্থ সংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা মুখ্য।
পুরনো সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর বিশ্ববাজার দখল এবং বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বরাবরই ব্যবহূত হয়েছে সামরিক শক্তি। এর পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ ও প্রভাববলয় সৃষ্টির তত্পরতা চলেছে ব্যাপকভাবে। তবে দুই ক্ষেত্রেই অধিপতি রাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব রাষ্ট্র সামরিক শক্তি নির্মাণ করে, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে, বহুজাতিক কোম্পানির আধিপত্য বিস্তার ঘটিয়ে, পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার সম্প্রসারণ করেছে। চীনের অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে সামরিক শক্তি বা এসব প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার কোনো ভূমিকা ছিল না। চীন তার রাষ্ট্রীয় অর্থসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করে তার বাণিজ্যিক আধিপত্য সম্প্রসারণ করেছে। বিশেষত ২০০৮ সালের বিশ্ব আর্থিক সংকটের পর চীন পরিকল্পিতভাবে নিজস্ব রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় করেছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, ত্বরিত অর্থসংস্থান নিশ্চিত করেছে সর্বোপরি এসব বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তত্পরতা পরিচালনা করেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে চীনা সংস্থাগুলোর কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের পেছনে চীনা রাষ্ট্রের এবং তাদের সমর্থিত ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা প্রসারের আগ্রহ যেমন কাজ করেছে, তার চেয়েও বেশি কাজ করেছে বিদেশী জ্বালানির ওপর কর্তৃত্ব নিশ্চিত করে চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর তাগিদ। সঙ্গে সঙ্গে চীনের রফতানিযোগ্য জ্বালানি সামগ্রীর বাজার সম্প্রসারণও অন্যতম লক্ষ্য ছিল। চীনের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ চীনকে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সক্ষম করে তুলেছে। এর মধ্য দিয়ে চীন তিনটি লক্ষ্য পূরণ করতে সচেষ্ট হয়েছে: ১. কৌশলগত সম্প্রসারণ; ২. জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ৩. চীনা মুদ্রা রেনমিসবির আন্তর্জাতিকীকরণ। ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে বিশাল যোগাযোগ কর্মযজ্ঞ এ যাত্রাকে অধিকতর গতিশীল করবে এটা নিশ্চিত বলা যায়। ‘এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক’ এবং বাস্তবায়িত হলে ব্রিকসের ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ প্রকল্প চীনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শক্তিশালী সমর্থন হিসেবে কাজ করবে।
২০০০ সাল থেকে জ্বালানি সামগ্রী রফতানিতে চীন যে হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তা বিশ্বের গড় হার থেকে বেশি। এ সময় চীন জ্বালানি সামগ্রী রফতানি করেছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ রফতানি করে চীন এখন তার অর্ধেকের বেশি করে। জলবিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেল রফতানিতে চীন এরই মধ্যে বিশ্বে শীর্ষস্থান গ্রহণ করেছে। চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এসব প্রযুক্তি চার থেকে পাঁচগুণ বেশি রফতানি করে। এছাড়া চীন বিদ্যুৎ প্লান্ট রফতানিতেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিগুণ অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ যখন শতকরা ৯ ভাগ, তখন চীনের অংশীদারিত্ব শতকরা ১৮ ভাগ। তবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে চীনের অগ্রযাত্রা যে মসৃণ হবে না তার পরিষ্কার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে চীনবিরোধী বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠনের মধ্যে।
সামরিক হুমকির মুখে চীন
বস্তুত চীনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি শুধু বিশ্ব বাণিজ্য নয় বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্যেও চাপ সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক সংকটে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে চীন নিয়ে তাই বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋণদাতা, প্রধান বিনিয়োগকারী, প্রধান পণ্য জোগানদাতা হিসেবে বড় ভরসাস্থল, অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তার আধিপত্য সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। মার্কিন প্রশাসন থেকে তাই চীন সম্পর্কে দ্বিমুখী ভূমিকা দেখা যাওয়া বিস্ময়কর নয়।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের অধিকার দাবি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় পৃষ্ঠপোষকতা আছে। দক্ষিণ চীন সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ পথ দিয়েই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন বন্দর অভিমুখে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের পণ্য পরিবহন করা হয়। পূর্ব এশিয়া অভিমুখে বিশাল খনিজ-জ্বালানি সম্পদও এ পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সমুদ্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মৎস্যসম্পদ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ খনিজসম্পদ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। মার্কিন জ্বালানি বিষয়ক দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এ সাগর এলাকায় কমপক্ষে ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং ১৯০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ আছে। এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যখন চীন চেষ্টা করছে, তখন একই দাবি নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনেই ও তাইওয়ান। এ বিবাদ ও উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই সুবিধাজনক।
২০১৫ সালে খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। মহড়ার মূল বিষয় ছিল মালাক্কা প্রণালিতে চীনের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে তেল, গ্যাস ও কাঁচামাল প্রাপ্তির পথ নিয়ন্ত্রণ করা। এসব পরিকল্পনা সফল করতে ফিলিপাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সক্রিয় করা, জাপানকে যুদ্ধমুখী করা, দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে নিয়ে যাওয়াসহ সব ধরনের উদ্যোগ নেয়ায় মার্কিন প্রশাসন তাই তত্পর। এটা নিছক ট্রাম্প প্রশাসনের বিষয় নয়, ওবামা প্রশাসনের প্রথম দফাতেই হিলারি ক্লিনটন এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাইডেন প্রশাসনের সময়ও একই নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে হিলারি ২০১০ সালেই বলেছিলেন, চীন যে দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্রাটলি দ্বীপের ওপর স্বত্বাধিকার দাবি করছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-চলাচল ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, এ দ্বীপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব ১২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৭ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শুধু ইরাকেই ১০ লক্ষাধিক মানুষ নিহত এবং ১২ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে তার তুলনায় অনেক কম বাজেট হলেও চীনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যনতুন সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে যতটা উদ্বেগ তার চেয়ে বেশি প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। কংগ্রেসে উত্থাপিত পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীন সামরিক খাতে ব্যয় এখন ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ তা ২৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট ২০২০ সালে ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। ২০১৫ সালে পেন্টাগন তার সর্বশেষ ‘যুদ্ধ বিধি’ (Law of War
Manual) প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, যেহেতু ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কোনো চুক্তিতে সই করেনি। সুতরাং পারমাণবিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈধ অস্ত্র।’
গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং অবরোধ জারির জবাবে তা ব্যবহারের হুমকি ওই অঞ্চলে যুদ্ধ উত্তেজনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ভর করে বিপুল যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। তবে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি অনেক দিন থেকেই ক্রমে ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মার্কিন এ প্রস্তুতিতে উত্তর কোরিয়া নিছক উপলক্ষ, চীনই প্রধান লক্ষ।
বিশ্ববিখ্যাত তথ্যচিত্র নির্মাতা জন পিলজার সর্বশেষ
যে তথ্যচিত্র
বানিয়েছেন তার নাম ‘চীনের
বিরুদ্ধে অত্যাসন্ন
যুদ্ধ (The Coming War on China)।’ তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত
লিখেছেনও। তিনি
জানিয়েছেন, এ তথ্যচিত্রের তথ্য-উপাত্ত সন্ধান
ও প্রয়োজনীয়
গবেষণা করতে
তিনি দুই বছর সময় নিয়েছেন। তিনি
দেখেছেন, দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে
ব্যাপক সামরিক
প্রস্তুতি নিচ্ছে
চীন ঘিরে।
সর্বশেষ হিসেবে
চীন ঘিরে
যুক্তরাষ্ট্রের এখন ৪০০টি সামরিক
ঘাঁটি সক্রিয়
রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে মিসাইল,
যুদ্ধজাহাজ এবং পারমাণবিক অস্ত্রসহ
বিপুল অস্ত্রশস্ত্র মজুদ আছে। বর্তমান
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব বলেছেন, ‘মার্কিন
নীতি হলো তাদের দমন করা, যারা
মার্কিন আধিপত্য
কেড়ে নিতে
চায়।’
আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়