কতটা সাহস দেখাতে পারে নেপাল

স্বাধীনতা উত্তর ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা ছিল জোট নিরপেক্ষতা, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান। নব্য উপনিবেশ রুখতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ‘নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিন্যাস’ (ইংরেজিতে সংক্ষেপে হব) এর অন্যতম উদ্যোক্তা ভারত। বহির্বিশ্বের এমন নীতি নিয়ে আগালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী পাকিস্তানসহ অন্যান্য প্রতিবেশীর সাথে ভারতের সম্পর্ক প্রায়শই টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী চীন, নেপালের সাথে সম্পর্ক প্রায় তলানিতে। ১৯৪৯ সালে চীনে কমিনিউনিস্ট পার্টির বিপ্লবের পর ভারতের প্রতিবেশী নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। চীন ও ভারতের মধ্যে বাফার জোন হিসাবে থাকা তিব্বতে চীনা দখল সামরিক সহযোগিতা দিয়েও আটকাতে পারেনি ভারত। তাই ভারত তড়িগড়ি করে ভূটানের সাথে ১৯৪৯ সালে এবং নেপাল ও সিকিমের সাথে ১৯৫০ সালে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে নেয়। নেপালের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘ইন্দো-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি ১৯৫০’ কে ভারত- নেপাল সম্পর্কের ভিত্তি ধরা হয়।

স্বাধীনতা উত্তর ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা ছিল জোট নিরপেক্ষতা, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অবস্থান। নব্য উপনিবেশ রুখতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ‘নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিন্যাস’ (ইংরেজিতে সংক্ষেপে হব) এর অন্যতম উদ্যোক্তা ভারত। বহির্বিশ্বের এমন নীতি নিয়ে আগালেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী পাকিস্তানসহ অন্যান্য প্রতিবেশীর সাথে ভারতের সম্পর্ক প্রায়শই টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী চীন, নেপালের সাথে সম্পর্ক প্রায় তলানিতে।

১৯৪৯ সালে চীনে কমিনিউনিস্ট পার্টির বিপ্লবের পর ভারতের প্রতিবেশী নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। চীন ও ভারতের মধ্যে বাফার জোন হিসাবে থাকা তিব্বতে চীনা দখল সামরিক সহযোগিতা দিয়েও আটকাতে পারেনি ভারত। তাই ভারত তড়িগড়ি করে ভূটানের সাথে ১৯৪৯ সালে এবং নেপাল ও সিকিমের সাথে ১৯৫০ সালে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করে নেয়। নেপালের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘ইন্দো-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি ১৯৫০’ কে ভারত- নেপাল সম্পর্কের ভিত্তি ধরা হয়।

কাঠমুন্ডুর রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে প্রভাবশালী দিল্লীর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর গেছে নানা নাটকীয়তায়। কালাপানি ও লিপুলেখ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ অনেকদিনের। এই বিরোধ নিরসন করে দুইদেশের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করতে ২০১৬ সালে উচ্চ পদস্থ ‘ইমিনেন্ট পারসন গ্রুপ’ গঠন করা হয়। কিন্তু ২০১৯ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখকে ভারতীয় ইউনিয়নের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে মানচিত্র প্রকাশের সময় ভারত বিরোধপূর্ণ কালাপানিকে নিজেদের অংশ হিসাবে দেখালে প্রতিক্রিয়া দেখায় নেপাল।

৮ মে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কালাপানির পার্শ্ববর্তী লিম্পুলেখে তিব্বত অভিমুখে রাস্তা উদ্বোধন, নেপালের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও ভারতীয় সেনাপ্রধানের ‘প্রক্সি প্রতিবাদ’ মন্তব্য নিয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান। নেপালি বলিউড স্টার মনিসা কৈরালা নেপালের পক্ষে মন্তব্য করলে তাকে ভারতীয় ডানপন্থি মিড়িয়ায় ট্রলের স্বীকার হতে হয়। বড় প্রতিবেশী ভারতের সাথে এমন বাকযুদ্ধের মধ্যে কালাপানি লিপুলেখ ও লিম্পিওয়াধুরার ৩৩৫ কিলোমিটার এলাকাকে নিজেদের দাবি করে ‘রাজনৈতিক মানচিত্র’ প্রকাশ করে সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী আনে ভারত। সেই সংশোধনী বিলে ইতিমধ্যে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারী স্বাক্ষর করেছেন।

ভারত নেপালের এই সীমান্ত বিরোধ ১৮১৬ সালে সম্পাদিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে নেপালের স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সমাধান হয়ে যাওয়ার কথা। চুক্তিতে কালি নদীকে দুই দেশের সীমান্ত ধরা হয়। সে মতে কালাপানি নেপালের হওয়ার কথা। কিন্তু ভারতীয় পক্ষের দাবি কালি নয় বরং কালির শাখা নদী লিম্বিয়াধৌরাকে ভুলে মূল নদী হিসাবে ধরা হয়েছিল। এছাড়া চীনের তিব্বত দখলের প্রাক্কালে নেপাল সীমান্তে ১৭-১৮ টি ভারতীয় সামরিক চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সব সামরিক চৌকি সরিয়ে নেওয়া হলেও কালাপানি চৌকি সরানো হয়নি। ভারতের দাবি, নেপাল কালি নদী সংক্রান্ত ভুল জানতেন তাই এটা সরাতে বলা হয়নি নেপালের পক্ষ থেকে।

নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক সেটা রাজনৈতিক দল থেকে রাজপরিবার, সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে আত্মীয়তার পর্যায়ে। রাজা ত্রিভুবনের মৃত্যুর পর  ১৯৬০ সালে ‘রাজকীয় অভূত্থান’ করে রাজা মাহেন্দ্র সর্বসময় ক্ষমতা গ্রহণ করে পরবর্তীতে চীন ও নেপালের সাথে সম্পর্কের উদ্যোগ নিলে নেপালে ভারতীয় প্রভাব সাময়িক ক্ষুন্ন হয়। ১৯৭২ সালে রাজা মাহেন্দ্রর পুত্র বীরেন্দ্র বীর বিক্রম সাহা রাজা হলে ভারতের সাথে সম্পর্ক আবার মজবুত হয়। রাজা মাহেন্দ্র চীন-ভারতের সাথে ভারসাম্য করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। ‘ইন্দো- নেপাল বানিজ্য চুক্তি’ ও  ৬১ কিলোমিটার ‘চিকেন নেক’ ট্রানজিট চুক্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের সাথে বানিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। 

তবে নেপালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে ২০০৮ সালে যখন রাজতন্ত্র বিলুপ্ত ঘোষণা করে প্রজাতন্ত্রিক নেপাল ঘোষণা করা হয়। ভারতের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক নেপাল তার জন্য সুখকর হবে। ২০১৩ সালে নেপালি কংগ্রেসের বিজয় ভারতকে সেই বার্তায় দিচ্ছিল। নরেন্দ্র মোদি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ভারতপন্থি নেপালি কংগ্রেসের সুশীল কৈরালা। মোদিকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে উড়ে যান মি. কৈরালা। প্রায় ১৭ বছর পর কোন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদিও নেপাল সফল করেন। নেপালের সংসদে বক্তৃতা দিয়ে প্রতিবেশীর মনও জয় করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ২০১৫ এপ্রিলের ভূমিকম্প সব এলোমেলো করে দেয়। ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যর্থতায় সমালোচনার মুখে পড়ে কংগ্রেস সরকার। সে সময় ত্রাণ কূটনীতি নিয়ে নেপালের পাশে দাঁড়ান ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীন।

একই বছরে নেপালের নতুন সংবিধান রচনা নিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়ন শুরু হয় নেপালের। ভারতীয় জনগোষ্ঠীর সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ মদহেশিদের অভিযোগ করেন, নতুন সংবিধানে এমনভাবে প্রদেশের সীমানা ভাগ করা হয়েছে যাতে সাতটির মধ্যে ছয়টি প্রদেশে মদহেশিদের ক্ষমতায় আসার কোন সম্ভাবনা নেই। সংবিধানের বিরুদ্ধে ‘মদহেশীদের আন্দোলনের মুখে’ ভারত নেপালে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এরই মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর নতুন সংবিধান গৃহিত এবং ১০ অক্টোবর সংসদে নেপালি কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী হউন কমিনিউস্ট পার্টির কে পি শর্মা অলি। তখন জ্বালানি তেলের জন্য দেশজুড়ে হাহাকার। ভারতের অবরোধে বেকায়দায় পড়া কমিনিউস্ট প্রধানমন্ত্রীকে জ্বালানি তেল সরবরাহের করার প্রতিশ্রুতি দেয় চীন। অবরোধে ভুক্তভোগী নেপাল সরকার পরবর্তী বছর চীনের সাথে ট্রানজিট এন্ড ট্রান্সপোর্ট চুক্তি করে। যার মাধ্যমে চীনের চার সমুদ্র বন্দর ও তিন স্থল বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের সাথে বানিজ্য করার অনুমতি পায় নেপাল।

তবে নতুন সংবিধানের অধীনে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বামজোট ক্ষমতায় আসলে চীনের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় নেপালের। এই সম্পর্কের দৃঢ়তাকে নেপালকে ভারতের মুখোমুখি দাঁড়াতে সাহস যোগাচ্ছে। পরের বছর নেপাল বিমসটেকের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠিত জঙ্গি দমন মহড়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে সমসাময়িক সময়ে চীনের মহড়ায় যোগ দিলে কূটনৈতিক ধাক্কা খায় ভারত। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে কতক্ষণ সাহস দেখাতে পারবে নেপাল!

২০১৩-২০১৪ এর হিসাব মতে নেপাল তার মোট রফতানির ৬৬ শতাংশ করে ভারতে। নেপালের মোট বিনিয়োগের ৪০ শতাংশ ভারতীয় কোম্পানির। প্রতিবছর তিন হাজার নেপালি ছাত্র ভারতে পড়তে যায়। ভারতে নেপালি নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়না। তাছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত ভিসা চুক্তি ও মুক্ত বানিজ্য চুক্তি রয়েছে। ভারতে প্রায় ১৫ লক্ষ নেপালি কাজ করেন। আনঅফিশিয়ালি এই সংখ্যা ৭০ লাখ বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে নেপালে বাস করছে প্রায় ৬ লক্ষ ভারতীয়। মদহেশিরা ভারতীয়দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। এছাড়া সাংস্কৃতিকভাবেও নেপালে ভারতের প্রভাব রয়েছে। অনেক নেপালি বলিউড ও ভারতের টিভি শো’তে এসে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করে নেপালের বিখ্যাত গোর্খা রেজিমেন্টের ৪০ হাজার সদস্য। ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া ৮০ হাজার নেপালি এখনো অবসর ভাতা পান ভারত থেকে।  

তবে ১০ জুন যখন নেপালের পার্লামেন্টে নতুন মানচিত্র বিল উঠেছে তখন কেউই এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি। ভারতপন্থি বলে পরিচিত নেপালি কংগ্রেসের ৬৩ জন সংসদ সদস্যও পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া মদহেশিদের দল সদ্ভাবনা পার্টির কেউও এর বিপক্ষে ভোট দেয়নি। অথচ মদহেশিরা তরাই অঞ্চল নিয়ে ভারতীয় সমর্থনে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করছে বলে আলোচনা আছে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেপাল-ভারত সীমান্তের ১৫টি সীমান্ত পোস্টে সেনা মোতায়েন করেছে নেপাল। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এক ভারতীয়কে শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছে নেপালি পুলিশ। নেপালের সেনা প্রধান বিতর্কিত কালাপানি পরিদর্শনে গেছেন। ভারতের বিহার রাজ্যের সীমান্তে বাধ নির্মাণে বাধা দিয়েছে নেপাল। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রালয় সহজ শব্দে বিবৃতি দিলেও নেপালের নেতারা কঠিন শব্দে হুঙ্কার দিচ্ছেন। উভয় দেশ জানে কোন সংঘাত সৃষ্টি হলে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে চলমান বৃহৎ আকারের যোগাযোগ ও বাণিজ্য হুমকিতে পড়বে। কলকাতা বন্দর থেকে নেপালের দূরত্ব ৯৩৩ কি.মি অন্যদিকে চীনের নিকটতম সমুদ্রবন্দরের সাথে দূরত্ব ৩৩০০ কিলোমিটার। ফলে অতিমাত্রায় চীন নির্ভরও নেপালের পক্ষে সম্ভব না। এছাড়া কোন ধরনের সংঘর্ষ শুরু হলে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ৪০ হাজার গোর্খা সৈন্য নিয়ে বিপাকে পড়বে ভারত। ২০১৫ সাল থেকে নেপালের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ কয়েকটা ভুল করা ভারত তাই কৌশলে পা ফেলছে। নয়াদিল্লি বুঝতে পারছে দুই দশক আগের নেপাল আর আজকের নেপাল এক নয়। ফলে এই মুহূর্তে ‘অপেক্ষা করো পর্যবেক্ষণে থাকো’ নীতি ছাড়া অন্য কোন নীতি খোলা নেই নয়াদিল্লির সামনে।

নেপাল- ভারত সম্পর্কের অবনতিতে বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে চলমান বানিজ্যে ভারতের ভূখন্ড ব্যবহার করা হয়। ভারত- নেপাল- বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় রেল নির্মাণ প্রকল্প প্রায় চূড়ান্ত। এছাড়া ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আনতে আগ্রহী বাংলাদেশ। তাই দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিকামী দেশ হিসাবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা প্রতিবেশী দুই দেশ বিরোধ মিটিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সমুন্নত রাখুক।  

লেখক: শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও