শ্রদ্ধাঞ্জলি

ড. সা’দত হুসাইন: একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ

সা’দত স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবশ্য আমার আগে আমার স্ত্রী দিলরুবার সঙ্গে তার দেখা হয়। দিলরুবা তখন মুগার মেমোরিয়াল লাইব্রে্রিরতে কাজ করে। একদিন এসে আমাকে বলল, বাংলাদেশ থেকে নতুন একজন ছাত্র এসেছেন, নাম সা’দত হুসাইন। রানু ভাবী (আরেক সিএসপি কর্মকর্তা ড. সাইফুল হকের স্ত্রী) তাকে বলেছে, তিনি সিএসপি অফিসার। আমরা সবাই তখন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবাহিত ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত আবাস—বাজওয়েল স্ট্রিটের ওয়ারেন হলে সপরিবারে থাকি। আমাদের তখনকার মুরব্বি তৌফিক আলী (পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত) থেকে জানলাম, ‘সা’দত সাহেব একটু রাশভারী ধরনের লোক।

সা’দত স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবশ্য আমার আগে আমার স্ত্রী দিলরুবার সঙ্গে তার দেখা হয়। দিলরুবা তখন মুগার মেমোরিয়াল লাইব্রে্রিরতে কাজ করে। একদিন এসে আমাকে বলল, বাংলাদেশ থেকে নতুন একজন ছাত্র এসেছেন, নাম সা’দত হুসাইন। রানু ভাবী (আরেক সিএসপি কর্মকর্তা ড. সাইফুল হকের স্ত্রী) তাকে বলেছে, তিনি সিএসপি অফিসার। আমরা সবাই তখন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবাহিত ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত আবাস—বাজওয়েল স্ট্রিটের ওয়ারেন হলে সপরিবারে থাকি। আমাদের তখনকার মুরব্বি তৌফিক আলী (পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত) থেকে জানলাম, ‘সা’দত সাহেব একটু রাশভারী ধরনের লোক।‘ যাক, একদিন দেখা হলো, ডিপার্টমেন্টে। সালাম দিলাম। জানলাম, তিনি আগেই কোর্সওয়ার্ক করে গেছেন। এবার এসেছেন থিসিসের কাজ করতে। এবার পরিবার দেশে রেখে একা এসেছেন। দিলরুবা একদিন বলল, সা’দত ভাই একা এসেছেন, ভাবী ঢাকায়। আমাদের বাসায় একদিন খেতে বলো। আমি সরকারি চাকরি করি, ঘরে-বাইরে নির্দেশিত হয়ে কাজ করি। স্যারকে আমন্ত্রণ জানালাম, তৌফিক আলী, আব্দুল্লাহ শিবলী (তুখোর ছাত্র), জাহিদ হোসেন (বিশ্বব্যাংক থেকে অবসরপ্রাপ্ত)-সহ আরো কয়েকজনের সঙ্গে। সাদ’ত স্যারের সঙ্গে মামুলি আলাপ হয় তার থিসিসের বিষয়বস্তু, আমার পড়াশোনার অগ্রগতি ইত্যাদি নিয়ে।

সিভিল সার্ভিসের রীতি অনুযায়ী আমি তাকে স্যার সম্বোধন করি। আমার চার বছরের ছেলে ফাহমিদ তা লক্ষ করে। পরে আরেকদিন স্যার আমাদের বাসায় এসেছেন। ফাহমিদ আমাকে বলল, ইয়োর টিচার। শুধু তাই নয়, সা’দত স্যারের কাছে গিয়ে বারবার টিচার, টিচার বলে এটা-সেটা জিজ্ঞেস করে। স্যার তাকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে তিনি আমার শিক্ষক নন। বলেন, আমরা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার ছেলে তা মানতে রাজি নয়। অবশেষে তিনি ক্ষান্ত দিয়ে ‘ওকে আই আম টিচার’ বলে আমার ছেলের সঙ্গে খেলায় যোগ দেন।

তারপর তিনি আগে ও আমি কিছুটা পরে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে আসি। এরপর মাঝেমধ্যে সরকারি সভায় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে। আবার তার সঙ্গে বেশ গভীর যোগাযোগ হলো তিনি যখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে এলেন ১৯৯৬ সালে। আমি তখন সেখানে প্রথম সচিব (শুল্কনীতি)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চেয়ারম্যান হয়ে এসে তিনি বেশকিছু পরিবর্তন আনলেন। আগে জরুরি কাজে সরাসরি আমরা চেয়ারম্যানের কাছে ফাইল নিয়ে যেতাম। তিনি নিয়ম করলেন, সবাইকে এমনকি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বোর্ডের সদস্যদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হবে। আরেকটা নিয়ম করলেন, অফিস থেকে কেউ বাসায় যাওয়ার আগে (এমনকি অফিস সময়ের পরও) তার পিএসকে জানাতে হবে এবং তার অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। কখনো কখনো অনুমতি পেতে অফিস সময়ের পর কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যেত।

নতুন নিয়মগুলো আমাদের খুব একটা পছন্দ হলো না। কিন্তু কী আর করা, কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন। একদিন ইন্টারকমে তার পিএসএর মাধ্যমে একটা ফাইল নিয়ে তখনই আসতে বললেন। বললেন, এটা আনতে এত দেরি হলো কেন? আমি বললাম, আমি কী করতে পারি? আমি তো সকালেই আপনার পিএসের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছি। এ রকম আরো বার দুয়েক একই ঘটনা। একদিন পিএসের কাছে স্যারের সঙ্গে দেখা করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইলাম। পিএস বলল, অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে না। স্যার মিটিংয়ে না থাকলে আপনাকে সরাসরি রুমে যেতে বলেছেন। আসলে সচিবালয়ের তুলনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু শাখার কাজ কিছুটা দ্রুতলয়ের, তিনি তা কিছুদিনের মধ্যেই অনুধাবন করেছিলেন।

একদিন অফিস শেষে মেয়ে খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে জেনে বাসায় চলে যাই। তাড়াহুড়ায় তার পিএসকে বলা হয়নি। বাসায় এসে স্যারের ফোন—‘আপনি আমার পিএসকে না জানিয়ে বাসায় চলে গেছেন। ওই ফাইলটা কোথায়?’ আমি তাকে বলি, ‘ফাইলটা আমি গতকালই আপনাকে পাঠিয়েছি এবং তা আপনার রুমেই আছে।’ আমি ফোনে থাকতেই তার পিএস বলল, ‘স্যার এই যে ফাইলটা।’ এবার আমি তাকে আমার বাসায় আসার কারণটা বলি।

পরদিন অফিসে আমার মেয়ের আঘাত গুরুতর কিনা, তিনি সে খোঁজ নিলেন। আমি দেখলাম, আজ কেন জানি তার মুড ভালো। আমি বললাম, স্যার অনুমতি দিলে একটা কথা বলি। তিনি বললেন, বলেন। আমি বললাম, স্যার আমি কর্মাসক্ত (ওয়ার্কহোলিক) মানুষ। দিনের কাজ দিনে তো করিই, পারলে কিছুটা আগামীদিনেরও কাজ করতে চেষ্টা করি। আমি কাজের প্রয়োজনে জাতীয় রাজস্ব এনবিআরের অফিসে রাত্রিবাসও করেছি। কাজ শেষ না করে আমি কখনই অফিস ছেড়ে যাই না। তাই এই যে অফিস ছুটির পর বাসায় যাওয়ার জন্য অনুমতি নেয়ার নিয়মটি আমার জন্য একটু আনফেয়ার। তিনি কিছু বললেন না। কিন্তু এর পর থেকে আমাকে আর কখনই অফিস ছাড়ার জন্য অনুমতি নিতে হয়নি। তবে তার কড়াকড়িতে কাজ হয়েছিল। তিনি যতদিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ছিলেন, প্রত্যেকবারই বোর্ড রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের খুব বেশি চেয়ারম্যান সম্পর্কে একথা বলা যাবে না।

একবার একজন আমদানিকারক বাণিজ্যিক এয়ারকন্ডিশনার এনে শিল্পে ব্যবহূত এয়ারকন্ডিশনারের রেয়াতি সুবিধার জন্য চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। তার সিনিয়র এক সিএসপি অফিসার (পরে অর্থমন্ত্রী) স্যারের কাছে এ ব্যাপারে সুপারিশ করেছিলেন। চট্টগ্রাম শুল্ক ভবনের মাধ্যমে পণ্য এসেছিল। আমাদের কাছে আবেদনটি এলে আমরা শুল্ক ভবনের মতামত চেয়ে পাঠাই। শুল্ক ভবনের মতামত ছিল, রেয়াতি সুবিধা এক্ষেত্রে প্রাপ্য নয়। আমরা ব্রাসেলস নোমেনক্লেচার উদ্ধৃত করে তাদের মতামতটি সমর্থন করে নথিটি চেয়ারম্যান বরাবর উপস্থাপন করি। তিনি নথিতে লেখেন, যেহেতু আমদানিকারক একজন গার্মেন্ট শিল্প মালিক এবং এসআরওতে রেয়াতি সুবিধার কথা বলা আছে, তাই এটা দেয়া যায়। আমরা আমদানিকারক নয়, বরং এয়ারকন্ডিশনারের ক্ষমতা (বিটিইউ) রেয়াতি সুবিধা নির্ধারণের ভিত্তি, এটা লিখে নথি পুনরায় উপস্থাপন করি। এভাবে বারবার ভিন্নমতসহ নথি উপস্থাপনের ফলে আমার সহকর্মী দ্বিতীয় সচিব ফিরোজ শাহ আলম (পরবর্তীতে বোর্ডের সদস্য) কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যায়। আমাকে বলে, স্যার মনে হয় সুবিধা দিতে চান। তিনি তো আদেশ দিয়েই দিয়েছেন। আমরা তামিল করলে আমাদের তো কোনো দায়িত্ব থাকবে না। আমি তাকে বলি, দেখো, স্যার কোনো অন্যায় সুবিধা দিতে চান বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া এ আমদানিকারকের সঙ্গেও তোমার কিংবা আমারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তাই ফাইল যতবারই চালাচালি হোক, আমরা সঠিক কাজটিই করব। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে একমত হন। এজন্য তিনি ফিরোজ কিংবা আমি কারোর প্রতিই বিরূপ হননি। মোটকথা তার উদ্দেশ্য সৎ এবং তার সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণের সুযোগ ছিল।         

যাহোক, একবার বাজেট প্রস্তুতিকালে এক রাতে আমি হূদরোগে আক্রান্ত হই। আমি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার কাজের অসুবিধা সম্পর্কে তিনি আমাকে একবারও বলেননি। কেবল আমারই পরামর্শে তখন এডিবিতে প্রেষণে কর্মরত আমার বন্ধু ড. জাহিদকে এনে বাজেটের বাকি কাজ সম্পন্ন করেন। আমি গুলশানের কার্ডিহোপ নামের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণ করি। প্রায় প্রতিদিনই অফিসের পর তিনি আমাকে দেখতে আসতেন। মাঝে মাঝে আমি ঘুমিয়ে থাকলে তিনি এসে দিলরুবাকে আমার চিকিৎসার অগ্রগতি জিজ্ঞেস করতেন। পরে ঘুম থেকে উঠলে দিলরুবা আমাকে বলত, ‘সা’দত ভাই এসেছিলেন তোমাকে দেখতে।’ এরপর আমার এনজিপ্লাস্টি হয়। সে সময়ও তিনি নিয়মিত আমার খোঁজ নিতেন এবং আমার পরিবারকে পূর্ণ সহানুভূতি ও সহায়তা দিয়েছেন। এজন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।

তার সঙ্গে কাজ করে আমার মনে হয়েছে, তিনি মনের ভাব প্রকাশ করতেন না। কিন্তু সবাইকে মূল্যায়ন করতেন। ইনকাম ট্যাক্স উইংয়ের সদস্য ইমদাদুল হক সাহেব অবসর গ্রহণের সময় একটি বিদায়ী সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘সৎ ও সজ্জন একই ব্যক্তির মধ্যে এ দুটি গুণের উপস্থিতি খুব দুর্লভ। যাদের মধ্যে আছে, ইমদাদুল হক সাহেব তাদের একজন। এজন্য আমি তাকে শ্রদ্ধা করি।’ ইমদাদুল হক স্যার আমাকে বলেছিলেন, তিনি সা’দত স্যারের মুখে নিজের সম্পর্কে এ প্রশংসা শুনে খানিকটা অবাক হয়েছিলেন।

একবার তার সঙ্গে আমি হংকংয়ে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের বার্ষিক সভায় যোগ দিই। প্লেনে পাশাপাশি সিটে বসে দীর্ঘ যাত্রাপথে আমাদের অনেক কথা হয়। কয়েক দিন আগেই জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে, এজন্য তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের কারো কারো বিষয়ে আলাপ করেছিলেন। বরিশালের হুইপ আ স ম ফিরোজের কথা এ মুহূর্তে মনে পড়ছে। সে সফরের দুটি বিশেষ ঘটনা আমার এখনো মনে আছে।

একদিন সভা শেষে আমরা কাউলুন এলাকায় বেড়াতে গেছি। স্যার আর আমি দুজনে পাশাপাশি হাঁটছি। উদ্দেশ্য পাশের দোকান থেকে পরিবারের সদস্যদের জন্য ছোটখাটো কিছু জিনিস কেনা। হঠাৎ দেখি স্যার পাশে নেই। খানিকটা পিছিয়ে এসে দেখি, এক মধ্যবয়সী নারী স্যারের হাত ধরে একটা ম্যাসাজ পারলারের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাটানি করছেন। আর স্যার কেবল নো, নো বলে চলেছেন। পরে আমাকে দেখে ওই নারী স্যারকে ছেড়ে দেন। স্যার খুব অপ্রস্তুত হয়ে আমাকে বললেন, দেখেন এরা কেমন বেহায়া আর বেয়াদব। রাস্তার লোকজনকে ধরে টানাটানি করে।

দ্বিতীয় ঘটনাটিও ছিল অপ্রত্যাশিত। একদিন সভা চলাকালে স্যার বললেন, হংকংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল তার সঙ্গে হোটেল রুমে দেখা করেছেন। আমাদের দুজনকে শনিবারে তার বাসায় মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কনসাল জেনারেল সম্ভবত সচিবের সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ থেকে সংবাদটি পেয়েছিলেন। বিদেশে সফররত সচিবের সঙ্গে দূতাবাসপ্রধানের দেখা করা তখন একটা সৌজন্যের অংশ ছিল।  দূতাবাসের গাড়ি আমাদের নিতে হোটেলে আসে। আমরা গাড়ি করে তার বাসায় যাই। তিনি আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। আমার কাছে তাকে কিছুটা অন্যমনস্ক মনে হলো। যাহোক, স্যার ও কনসাল জেনারেল এক সোফায় বসে আলাপ করছিলেন। তখন আমি সামনের টেবিলে রাখা একটা ছবির অ্যালবাম দেখছিলাম। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরো কয়েকজনের সঙ্গে আমাদের হোস্টের বেশ অন্তরঙ্গ একটা ছবি দেখলাম। ছবিতে বঙ্গবন্ধু লুঙ্গি পরে একটা চেয়ারে। বাকিরা মাটিতে বসে। এতক্ষণ পর আমাদের হোস্টের আসল পরিচয় জানতে পারি। তিনি ছিলেন মেজর নুর—বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের (পরে দণ্ডিত) একজন। এরই মধ্যে টেবিলে খাবার দেয়া হয়েছে। আমি ওয়াশরুমে হাত ধুতে গিয়ে স্যারকে বিষয়টা বলি। তিনি গম্ভীর হয়ে যান। টেবিলে সুদৃশ্য (সম্ভবত সুস্বাদুও) খাবার গ্রহণে আমাদের আর রুচি হয় না। লাঞ্চ শেষে হোস্ট চা, কফি অফার করলে আমরা তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কাজের কথা বলে দ্রুত নিষ্ক্রান্ত হই। পথে গাড়িতে স্যার কিছু বললেন না। হোটেলে ফিরে আমাকে বললেন, ‘আপনি আগে বলবেন না!’ আমি স্যারকে বললাম, ‘আপনিই তো আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। যেহেতু ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন সব আতিথেয়তার ব্যবস্থা করেছে, তাই দূতাবাসের সঙ্গে এখানে আসার আগে যোগাযোগের কোনো প্রয়োজন হয়নি। আমি অ্যালবাম দেখার পরই বিষয়টা জানতে পারি এবং আপনাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাই।’ আমরা দুজনেই বিব্রত বোধ করি। আগে বিষয়টা জানলে আমরা আমন্ত্রণটা পাস কাটাতে পারতাম।

কর্মজীবনে তিনি সর্বোচ্চ শিখরে আসীন হয়েছিলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিস্থিতির কারণে তার জানাজায় প্রত্যাশিত অনেক লোকের সমাগম না হলেও সমাহিত হওয়ার আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি গার্ড অব অনার পেয়েছেন। আরেকটি অভূতপূর্ব ও বিরল সন্মান তিনি পেয়েছেন। তা হলো, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরেকজন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিবের (ড. সা’দতের)  জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। ইহজীবনের মতো পরপারেও তিনি সম্মানের সঙ্গে থাকুন, এটাই কামনা। 

 

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান: সাবেক সচিব

আরও