অভিমত

শিল্প খাতে ধারাবাহিক নিম্ন প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান গুরুতর উদ্বেগের কারণ

একটি বিকাশমান বর্ধনশীল অর্থনীতির দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের একটি এই যে এর প্রবৃদ্ধির গতি ও প্রবণতা ক্রমান্বয়ে কৃষি থেকে শিল্পের দিকে ধাবিত হবে।

অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হারের বিবেচনায় শিল্প খাত কৃষির চেয়ে এগিয়ে থাকবে। মোটকথা, শিল্প খাতই হবে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ২০২০-২১ অর্থবছরের পর থেকে বাংলাদেশে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং নিচের দিকে নামতে নামতে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে তা ১ দশমিক ২৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কৃষির তুলনায় কমত বটেই—গড় জাতীয় প্রবৃদ্ধি হারের তুলনায়ও বেমানান রকম কম। মব ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার কারণে এ সময়ে অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে বটে। কিন্তু শিল্প খাতে তা কমেছে আরো করুণভাবে। এ—সংক্রান্ত বিশ্লেষণাত্মক মতামত এটিই বলে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার এতটা মন্থর না হলে জাতীয় গড় প্রবৃদ্ধির হার হয়তো এ সময়ে আরেকটু ওপরে থাকত। তবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এর চেয়েও অধিক ভয়ের বিষয় হচ্ছে, শিল্প খাতে বিরাজমান উল্লিখিত প্রবৃদ্ধি-মন্থরতা কাটিয়ে ওঠার কোনো লক্ষ্মণ বা উদ্যোগই এ মুহূর্তে একেবারেই চোখে পড়ছে না।

অন্যদিকে বিকাশমান অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কৃষি খাতে নিয়োজিত জনবলের ক্রমান্বয়ে শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং শিল্প খাতেরই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল ক্ষেত্র হয়ে ওঠা। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দিয়ে গবেষণা-প্রবন্ধের সর্বশেষ বিশ্লেষণ জানাচ্ছে, গত এক দশকের (২০১৬-২৬) ব্যবধানে শিল্পের তুলনায় বরং কৃষিতেই অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে (নাজমুস সাদাত খান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাঠামোগত পরিবর্তন, সানেম বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬)। বিষয়টি শুধু যে শিল্প খাতের জন্যই দুশ্চিন্তার বিষয় তাই নয়, একই সঙ্গে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি-সংক্রান্ত রাষ্ট্রের কর্মকৌশল ও কর্মসূচিকেও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। শেষোক্ত তথ্যটি এ ইঙ্গিতই প্রদান করছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দেশের সরকারগুলো মাঝেই যেসব সম্মোহন সৃষ্টিকারী কথাবার্তা বলছে, তার অধিকাংশই বাগাড়ম্বর ছাড়া আর কিছুই নয়। বস্তুত কৃষকের উদ্ভাবনধর্মী চিন্তাভাবনা ও তাদের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের কারণে কৃষিতে যেটুকু বহুমুখীকরণ ঘটেছে, এখন পর্যন্ত সেটিই মূলত দেশে বাড়তি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রধান ভরসা হয়ে আছে। সাম্প্রতিককালে অনেক শিক্ষিত তরুণ কৃষিতে যুক্ত হওয়ায় তাদের নানা উদ্ভাবনাময় কর্মকাণ্ডও সেখানে বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শিল্প খাতে বিরাজমান উল্লিখিত নিম্নপ্রবৃদ্ধির হার ও কর্মসংস্থানের নেতিবাচক ধারা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? সরল জবাব হচ্ছে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং সে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বাধাহীন গতিতে এগোতে পারে, সেজন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবকাঠামোগত ও আনুষঙ্গিক সেবাসহায়তাদি হয়রানিমুক্তভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু সেসব নিশ্চিত করার প্রয়োজনের কথা যত সহজে বলা গেল, এর কার্যকর বাস্তবায়ন মোটেও ততটা সহজ নয়। তার চেয়েও বড় কথা, এসব সেবাসহায়তা বণ্টনের বিষয়ে রাষ্ট্রের বিদ্যমান যে নীতিমালা (শিল্পনীতি, ঋণনীতি, কর ও শুল্কনীতি, প্রণোদনানীতি ইত্যাদি), তা মোটেও শিল্পের তথা উৎপাদন শিল্পের পক্ষে নয়। এ অবস্থায় উৎপাদন শিল্পের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ ওইসব নীতিকে যত দ্রুত সম্ভব এ শিল্পের অনুকূলে সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করা না গেলে এ খাতে সহসাই উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাহলে বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে এই যে শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি হারের উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বড় দাগে মূলত দুটি কাজ করতে হবে— এক. বিদ্যমান নীতিগুলোর সংস্কার ও সংশোধন এবং দুই. আনুষঙ্গিক অবকাঠামো ও সেবাসহায়তাদি নিশ্চিতকরণ।

ওপরে যে দুই ধরনের কাজের কথা বলা হলো, শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর দুটিই জরুরি। তা সত্ত্বেও স্পষ্টীকরণের জন্য বলা প্রয়োজন এর মধ্যে প্রথমটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট নীতিগুলোর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধন ব্যতীত দ্বিতীয়টির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কখনই সম্ভব নয়। সে কারণেই লক্ষ করা গেছে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ অনেকটা হঠাৎ করেই মুক্তবাজার ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের নীতি হিসেবে গ্রহণ করে শিল্পনীতিসহ বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট অন্যান্য নীতিকে সেবা খাতের প্রতি পক্ষপাতপূর্ণভাবে পুনর্গঠিত করার কারণে এরপর থেকে উৎপাদন শিল্প আর কখনই সেবা খাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠতে পারেনি। তারই অনিবার্য ও ধারাবাহিক ফলাফল হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশে নেমে আসা। এ অবস্থায় শিল্প বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট নীতিগুলোকে যদি অবিলম্বে সংশোধন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে উৎপাদন শিল্পের অনুকূলে ঢেলে সাজানো না হয়, তাহলে উল্লিখিত নিম্নপ্রবৃদ্ধির হারে কখনো-সখনো টুকটাক উন্নতি ঘটলেও বড় মাত্রার ও স্থায়ী আঙ্গিকের প্রবৃদ্ধি অর্জন কখনই সম্ভব হবে না। আর তা টেকসই তো হবেই না।

এমন পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে উচ্চতর টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারা নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে এর নীতিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে হবে, যার মধ্যে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকতে পারে সেবা কার্যক্রমকে শিল্প হিসেবে গণ্য না করা, বিশেষ বিশেষ খাতকে অনির্দিষ্ট সময় ধরে নগদ প্রণোদনাদান বন্ধ করে সব শিল্পকে সমসুবিধা দেয়া, শিল্পের জন্য প্রযোজ্য কর অব্যাহতি একইভাবে সেবা খাতকে না দেয়া, বৈদেশিক বিনিয়োগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সেবা খাতের পরিবর্তে উৎপাদনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার প্রদান, আমদানি-বিকল্প শিল্পকে উৎসাহ ও অগ্রাধিকারদান, কিছু শিল্পসহায়তা কার্যক্রমের দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্তকরণ (বর্তমানে শুধু ট্রেড লাইসেন্স মতো শিল্পসহায়তাই স্থানীয় সরকারের কাছে ন্যস্ত আছে), সেবা খাতের জন্য শিল্পের বাইরে ভিন্নতর নীতিমালা প্রণয়ন ইত্যাদি। এ নীতিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প অবকাঠামোগত সুবিধা ও অন্যান্য সেবাসহায়তাদির মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেখানে উৎপাদনশীলতার কাম্য স্তরকে টিকিয়ে রেখেও বর্ধিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। তদুপরি কৃষিভিত্তিক ও কৃষিসহায়ক শিল্পকে গুরুত্ব দিলে কৃষি খাতে কর্মরত নিয়মিত শ্রমিক ও ছদ্ম বেকারদের একটি বড় অংশ ক্রমান্বয়ে শিল্প খাতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এর বাইরে বিশেষ বিবেচনায় আনা দরকার নারীর কর্মসংস্থানের বিষয়টিকে। বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা খুবই কম। এ অবস্থায় এ শিল্পের বাইরে নারীকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার ও উদ্যোক্তা উভয় পক্ষেরই ভাবা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিবেচনার জন্য বলি—অভিজ্ঞতা বলে, কর্মক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি নিবেদিতচিত্ত ও নিষ্ঠাবান। ফলে উদ্যোক্তারা যদি নারীদের বর্ধিত সংখ্যায় নিয়োগদান করেন, তাহলে সেটি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা উভয়কেই বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক কর্মসূচিও এতে বহুলাংশে সহায়তা পাবে। এ সবকিছুকে ছাপিয়ে সরকার ও উদ্যোক্তা উভয়ের পক্ষ থেকেই সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে যে ব্যবস্থাটি করা দরকার তা হচ্ছে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যক্তির কর্মযোগ্যতা উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ উৎপাদনশীলতা অর্জনেও বিশেষভাবে সহায়ক হবে। বস্তুত নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যাপকায়নই হতে পারে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের অন্যতম পূর্বশর্ত।

সব মিলিয়ে বলব মানসম্পন্ন উপকরণের সরবরাহ বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির সংযোজন, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ ইত্যাদি কর্মকৌশল আরোপের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বর্ধিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি উভয়েরই ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এর পরও স্বীকৃত বাস্তবতা ও যৌক্তিক প্রত্যাশা হচ্ছে শিল্পই হবে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল ক্ষেত্র। সেজন্য উৎপাদন শিল্পে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ যত বেশি নিশ্চিত করা যাবে, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানও ততই বাড়বে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় নীতিগুলোকে উৎপাদন শিল্পের অনুগামী করে ঢেলে সাজাতে না পারলে উক্ত বিনিয়োগ কিছুতেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এবং সে বর্ধিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ও কর্মসংস্থান কোনোটিই বাড়বে না। শিল্প খাতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতার দিকে তাকালেই সেটি বোঝা যায় এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরাও তা ভালোই বোঝেন। কিন্তু সেটি বুঝেও তারা যে তা করেন না, অর্থাৎ নীতিকাঠামো সংস্কারে উদ্যোগী হন না, তার কারণ সম্ভবত রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উৎপাদন শিল্পের উদ্যোক্তাদের চেয়ে সেবা খাতের সুবিধাভোগীরাই অধিক প্রভাবশালী।

কিন্তু দেশে মৌলিক শিল্পের ভিত্তিসম্পন্ন একটি টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রের শিল্প এবং বিনিয়োগ নীতিকে অবশ্যই উৎপাদন শিল্পের অনুগামী করে সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস করতে হবে এবং সেটি করার মাধ্যমেই কেবল শিল্প খাতে উচ্চতর প্রবৃদ্ধির হার ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। তবে তা করার জন্য এ কাজের সঙ্গে সরাসরি যারা যুক্ত, তারা এটি মন থেকে চান কিনা, বস্তুত তার ওপরই নির্ভর করছে এ সংশোধন ও পুনর্বিন্যাসের কাজটি যথাযথভাবে হবে কিনা, সে বিষয়টি। এ—সংক্রান্ত কাগজপত্র ও দলিলাদি হয়তো আমলারাই প্রণয়ন করবেন। কিন্তু মূল সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। ফলে এ নীতি সংশোধন-সংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে রাজনীতিকরা প্রস্তুত আছেন কিনা, সে বিষয়টিই এখানে সর্বাগ্রে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। জানা দরকার, সিদ্ধান্তটি তারা কার পক্ষে নিতে চান— উৎপাদন শিল্পের পরিশ্রমী উদ্যোক্তার পক্ষে নাকি সহজ মুনাফায় অভ্যস্ত সেবা খাতের বণিকের পক্ষে? বস্তুত এ সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতিধারা প্রবল হবে নাকি আগের মতোই মন্থর থেকে যাবে, সে বিষয়টি। আমরা অবশ্যই একটি গতিশীল, দক্ষ ও উচ্চ উৎপাদনশীলতা সম্পন্ন বিশ্বমানের শিল্প খাত দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

আবু তাহের খান: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়

আরও