রাষ্ট্রীয় দেনা

ঋণের বোঝা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্তির পথ কী?

প্রাচীনকালে আমাদের এ অঞ্চলে বিখ্যাত একজন চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ছিলেন, যার কথা এখানে গৃহীত হয়নি, হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে, আমেরিকা, কানাডা ইত্যাদি অঞ্চলে। কে এই দার্শনিক? আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন চার্বাক। তিনি ছিলেন নাস্তিক, চাক্ষুষ ছাড়া আর কিছুতেই তার বিশ্বাস ছিল না। অর্থনীতি ও ভোগ (কনজাম্পশন) ক্ষেত্রেও তার বিশেষ পরামর্শ বা উপদেশ ছিল।

প্রাচীনকালে আমাদের অঞ্চলে বিখ্যাত একজন চিন্তাবিদ দার্শনিক ছিলেন, যার কথা এখানে গৃহীত হয়নি, হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে, আমেরিকা, কানাডা ইত্যাদি অঞ্চলে। কে এই দার্শনিক? আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন চার্বাক। তিনি ছিলেন নাস্তিক, চাক্ষুষ ছাড়া আর কিছুতেই তার বিশ্বাস ছিল না। অর্থনীতি ভোগ (কনজাম্পশন) ক্ষেত্রেও তার বিশেষ পরামর্শ বা উপদেশ ছিল। উপদেশটি ছিল—‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ, যাবজ্জীবেৎ সুখং জীবেৎ এর অর্থ কী? ঋণ করে হলে ঘি সেবন করো, যতদিন বাঁচো সুখের মধ্যে বাঁচো। অর্থাৎ ভোগ করতে হবে। জীবনের স্বাদ নিতে হবে। এজন্য নিজের সামর্থ্য না থাকলে ঋণ করতে হবে। তার সেই বিখ্যাত উপদেশ আমাদের অঞ্চলে গৃহীত না হলেও পশ্চিমা বিশ্ব তা গ্রহণ করে লাভবান উন্নত। বিচার্য বিষয় হলো এখানে ঋণ (ক্রেডিট) দরকার হলে জীবনের জন্য ঋণ করতে হবে। ঋণ তাহলে কি সরকার করতে পারে? সরকার কি মানুষের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ঋণ করতে পারে? আবার ঋণের ইস্যুতে আমাদের দেশের এক বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন আতঙ্কিত হয়ে। তিনি এমন এক অর্থনীতিবিদ, যার কথা খবরের কাগজে প্রায় প্রতিদিন ছাপা হয় অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে। বিশ্বব্যাংকফেরত অর্থনীতিবিদ বছর দেড়েক আগে আশঙ্কার এক বাণী শোনান দেশবাসীকে। তিনি বলেন, ‘ছয় মাস পরে টাকা ছাপিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দিতে হবে (বণিক বার্তা: ২১--২০) কী মারাত্মক কথা! চার্বাক বলেছেন ঋণ করে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার কথা। আর আমাদের কালের অর্থনীতিবিদ বলেছেন সংসার চালানোর জন্য ঋণ করার কথা। এর অর্থ কভিডকালে এমন অবস্থা হবে যে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য সরকারকে ঋণ করতে হবে। তার ভবিষ্যদ্বাণীর পর দুর্দিনের, আতঙ্কের, অনিশ্চয়তার প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে। কিন্তু শুনিনি সরকার বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য ঋণ করেছে বা করছে। করুক বা না করুক, এখানে বিচার্য বিষয় অনেকগুলো। সরকার ঋণ করতে পারে কিনা, করলে কোত্থেকে করবেব্যাংক থেকে, সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে, না কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে? ঋণের ওপর সুদের বোঝা কেমন হবে? উল্টোদিকে ঋণ না করে সরকার কী করতে পারে? আয় বৃদ্ধি করতে পারে এবং হ্রাস করতে পারে, অর্থাৎ ঋণের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে পারে, উন্নয়নের কাজ কমাতে পারে, উপায়ান্তর না হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হ্রাস করতে পারে। বন্ধ করতে পারে। এসব প্রশ্ন যেমন সামনে আসবে, তেমনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ও আলোচনায় আসবে।

উপস্থিত ক্ষেত্রে দেখতে হবে সরকার ঋণ করতে পারে কিনা? করতে পারে মানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ ঋণ করছে। সবচেয়ে সফল দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত দেশ, তাদের নাগরিকরাও। ইদানীং সফল দেশ চীনের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ জিডিপির ২৮০ শতাংশ। বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত সরকারও হরেদরে ঋণ করে যাচ্ছে। প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ তো ঋণের ওপর ভাসছে। আর আমরা? আমরা স্বাধীনতার পর থেকেই ঋণ করছি। এখনো করছি। হরেদরে করছি কিনা, এটা বিচার্য বিষয় অবশ্যই। তবে ঋণ করছি, যা বাজেটে ঘোষিত। প্রতিটি বাজেটই ঋণনির্ভর, অর্থাৎ ঘাটতি বাজেট। আমরা ঋণ করি ব্যাংক থেকে বিল বন্ড বিক্রি করে। মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে। বিদেশেও সরকার ঋণ করে।

এসবের তথ্য প্রত্যেক বাজেটেই থাকে, বিস্তারিতভাবেই থাকে। সর্বসাম্প্রতিক তথ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় খবরের কাগজে। যেমন বণিক বার্তার একটি খবর, যার শিরোনামএক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে এক লাখ কোটিটাকার বেশি। শিরোনামের খবরটি থেকে দেখা যায়, ২০২১ সালের শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২১ সালে তা বেড়েছে লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। খবরটিতে দেখা যাচ্ছে, মোটামুটি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের সমানই আমাদের অভ্যন্তরীণ ঋণ। এর মধ্যে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। খবরটিতে আরো বলা হয়েছে রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতার কথা, সুদ পরিশোধে বাজেট বৃদ্ধির কথা এবং নিম্ন জিডিপি কর অনুপাতের ( শতাংশ) কথা। তবে এতে বলা হয়েছে, সরকারের জিডিপি ঋণ অনুপাত খুব বেশি নয়।

প্রতিবেদনটি পাঠ করে এবং বাস্তব অবস্থা অনুধাবন করে বলা যায়, অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিস্থিতি সংকটজনক অবস্থায় যায়নি। তবে তা ক্রমে বৃদ্ধির দিকে। ফলে ঋণের ওপর সুদের পরিমাণ ধীরে ধীরে বেশ বেড়ে যাচ্ছে, যাতে সবার উদ্বেগ বাড়ছে। ঋণ এভাবে বাড়লে ভবিষ্যতে সুদের বোঝা বাড়বে। আবার পুরনো বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সময় আসতে থাকলে সুদ আসল পরিশোধের জন্য প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে। মুশকিল হচ্ছে ঋণের বোঝা এত বেড়ে যাচ্ছে এবং বিপরীতে রাজস্ব সেভাবে বৃদ্ধি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উন্নয়ন (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) রাজস্ব বৃদ্ধির সমস্যা হলেই এডিপি কাটছাঁট করা হয় এবং এটি ঘটে প্রতি বছরই, একদম নিয়মিতভাবে। আরো মুশকিল হচ্ছে প্রায় প্রতিটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঋণের ওপর নির্ভরশীল। আয় বেশি হবে, খরচ কম হবে। উদ্বৃত্ত টাকা যাবে উন্নয়নের কাজে। এটাই আদর্শ অবস্থা, কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা রাজস্ব আয়ের টাকা দিয়ে এডিপি বাস্তবায়ন করতে পারছি না। ফলে এডিপি যত বড় হওয়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না। এখানে অবশ্য একটা ফাঁক আছে। এডিপির টাকা নয়ছয় হয়। বেশ বড় ধরনের নয়ছয়ই হয়। প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নানের মূল্যায়নের কথা স্মরণ করতে পারি। গত বছরের জানুয়ারির দিকে তিনি প্রকল্পে দুর্নীতির যে কথা বলেন, তা খবরের শিরোনাম হয়—‘প্রকল্পে দলগত দুর্নীতি হচ্ছে তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে এক ধরনের জোয়ার উঠে গেছে। প্রকল্পের কেনাকাটায় দলগত (টিমওয়ার্ক) দুর্নীতি হয় বলে আমার ধারণা। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুর্নীতি বেশি হয়। তিনি অন্য এক প্রসঙ্গে বলেন, ‘পূর্বপুরুষরা এত টাকা দেখেনি।দুর্নীতির কারণে চীন গুলি করে মানুষ মেরেছে। আমরা এমন কিছু করতে পারি না। এসবই পরিকল্পনামন্ত্রীর কথা। এমন কিছু করতে পারি না বলেই ঘটছে এসব কাণ্ড। কি রাজস্ব ব্যয় কি উন্নয়ন বাজেট, শুধু স্ফীতই হচ্ছে। টাকার কাজ -- টাকায় হচ্ছে। এসবের ওপর প্রায় প্রতিদিনই খবর ছাপা হচ্ছে। ফলে বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। হাজার কোটির হিসাব এখন বাদ, এখন বাজেটের হিসাব লাখে (ট্রিলিয়ন টাকায়) বাল্ব কেনা, বালিশ কেনা, চাদর কেনা, জানালার পর্দা কেনা থেকে শুরু করে রাজস্ব বাজেটের এমন কোনো আইটেম নেই, যেখানে অপচয় নেই, দুর্নীতি নেই। হাসপাতালের রোগীর খাবার বাইরে বিক্রি হয়। কয়েদিদের খাবার বিক্রি হয়। কত উদাহরণ। এর ফল হলো, বাজেট বড় হচ্ছে কিন্তু কাজ কম হচ্ছে। ব্যয়ের গুণগত মান নিকৃষ্ট পর্যায়ের। ধরনের খরচের বাহুল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজস্ব বাড়ানো যাচ্ছে না। পরিণতি একটাই। ঋণ করতে হয় সরকারকে। এভাবে ভবিষ্যৎ বংশধরদের বোঝা বাড়িয়ে যাচ্ছি আমরা। থেকে মুক্তির পথ কী? পথ রাজস্ব বাড়ানো, ব্যয়ের গুণগত মান বৃদ্ধি। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সম্পর্কে বলছেন, এটা ঠিক, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আমরা শুল্ক কর আদায় করতে পারছি না। কারণে বাজেটের ঘাটতি বড় হচ্ছে। তার কথা, যেকোনো ঋণই দায় তৈরি করে। সুদসহ ঋণ আমাদের পরিশোধ করতে হবে। কোনো দেশেই ঘাটতি বাজেট অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। পরিস্থতি চলতে থাকলে সংকট গভীর হবে। পরিকল্পনামন্ত্রীর মূল্যায়নের পর আমাদের আর কোনো কথা থাকতে পারে না।

তাহলে প্রশ্ন, রাজস্ব বাড়ানোর পথ কী? রাজস্বের টাকা কোথায় ব্যয় করা হবে? শুধু কি প্রশাসনের ব্যয় আর সুদ খাতেই রাজস্ব আয়ের টাকা ব্যয়িত হবে, নাকি ওই টাকার একটা বড় অংশ খরচ হবে উন্নয়নের কাজে? প্রথমেই বিবেচ্য হচ্ছে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়। হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জিডিপি-কর অনুপাত মাত্র শতাংশ। অথচ প্রতি বছর আমরা অনুপাত বৃদ্ধির কথা বলি। কত পরিকল্পনা করা হয়। বলা হয়, আমরা খুবই নিচু পর্যায়ে আছি এক্ষেত্রে। উন্নয়ন করতে হলে রাজস্ব বাড়াতেই হবে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। বরং দিন দিন আমাদের জিডিপি-কর অনুপাত কমছে। অথচ জিডিপির আকার অনেক বেড়েছে।

জিডিপিতে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ফসল, নতুন নতুন খাত, নতুন নতুন সেবা, মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছেএসবই সরকারের কথা। যদি তা সত্যি হয় তাহলে রাজস্ব বৃদ্ধির পথে সমস্যা কোথায়? ধরা যাক মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কথা। মাথাপিছু আয় বাড়ছে ঠিকই কিন্তু কার আয় বাড়ছে? মাথাপিছু আয়ের হিসাবে ধনী-দরিদ্র সবার আয়ের হিসাবই আছে। ধনীশ্রেষ্ঠ বাংলাদেশী যেমন আছে, সেখানে তেমনি আছে গরিব মানুষ, যাদের দিন কাটে কষ্টে। মুশকিল হচ্ছে এসব আয়ের গড় হিসাবই মাথাপিছু আয় (পারক্যাপিটা ইনকাম) এখানে যে চার কোটি লোক দুবেলা ভাত পায় না, তার হিসাবও আছে। এখানেই রাজস্ব বৃদ্ধির একটা কিন্তু আছে। দৃশ্যতই বোঝা যায়, যারা কর দিতে পারে তারা কর দেয় না অথবা দেয় কম। আর যাদের কর দেয়ার কথা নয়, তারা কর দিচ্ছে বেশি। ধনী, অতিধনী, ধনীশ্রেষ্ঠরা করের আওতায় খুব কম। তারা নানা ধরনের অজুহাতে কর অবকাশ পায়, কর রেয়াত পায়, সুদ ভর্তুকি, রফতানি প্রণোদনা ইত্যাদি পায়। কোম্পানির ওপর করহার প্রায় প্রতি বছরই কমানো হয়। এবারো দাবি উঠেছে কোম্পানির করহার আরো কমাতে হবে। অথচ হতভাগা মধ্যবিত্তের জন্য বলার কেউ নেই। এদিকে হিসাবে দেখা যায়, দেশে দুই লাখেরও বেশি কোম্পানি ফার্ম আছে, যেগুলোরেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মেরেজিস্ট্রিকৃত। তারা কর দেবে তো দূরের কথা, অধিকাংশেরই কোনো খবর নেই কারো কাছে। কভিড পরিস্থিতি রাজস্ব আয়কে আরো জটিল করেছে। কোম্পানিগুলো যত রকমের সুবিধা আছে সবই সরকারের কাছ থেকে নিয়েছে। কিন্তু সামাজিক দায়িত্ব পালন করেনি সিংহভাগ কোম্পানি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ। প্রতিবেশী ভারতে টাটা গ্রুপ, আজিম প্রেমজি, মুকেশ কোম্পানি থেকে শুরু করে শত শত ধনী লোক গরিবের সেবায় হাজার হাজার কোটি টাকা দান করেছে। গুরুদুয়ারাগুলো, মন্দিরগুলো ধনীদের টাকায় প্রতিদিন লাখ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষকে খাইয়েছে। এতে সরকারের ওপর বোঝা অনেকাংশে কমেছে। আমাদের এখানে বড় বড় ব্যবসায়ী কোম্পানি, অংশীদারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের কাছ থেকে শুধু নেয়ই, প্রতিদানে কিছু দেয় না। বরং উল্টো দেখা যায়, অনেক দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ী বিদেশে টাকা পাচার করে ব্যবসা করছেন। বাড়িঘর করছেন। এমনকি অনেক ঋণখেলাপিও কাজটি করেছেন। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত, বেওয়া-বিধবা, অবসরপ্রাপ্ত লোকজন, মুক্তিযোদ্ধারা সরকারকে অধিকতর পরিমাণে কর দিয়ে যাচ্ছেন। কীভাবে? কর ব্যবস্থায় সরকার এখন নির্ভরশীল পরোক্ষ করের ওপর, যার বোঝা পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। অথচ সমতা বিধানের জন্য অধিকতর কর আদায়ের স্বার্থে সরকারের নির্ভর করার কথা প্রত্যক্ষ করের ওপর। কিন্তু তা না করে সরকার নির্ভরশীল পরোক্ষ করের ওপর। উদাহরণ? যেমন ভ্যাট। ভ্যাট একটি পরোক্ষ কর। আবার তা কনজাম্পশন ট্যাক্সও। এক্ষেত্রে একজন ধনী লোক যে হারে কর দেয়, একজন গরিবও সেই হারে কর দেয়। অবিচারের কারণে বৈষম্য বাড়ছে। এর অর্থ হচ্ছে, কর দিচ্ছে গরিবরা সিংহভাগ আর ধনীরা পাচ্ছে কর অবকাশ, কর রেয়াতের সুবিধা, ভর্তুকির সুবিধা। অথচ যদি ধনী, অতিধনী, ধনীশ্রেষ্ঠ লাভজনক কোম্পানিগুলোকে করের আওতায় আনা যেত, শুল্ক কর যদি বাড়ানো যেত, ভ্যাটের টাকা যদি আদায় হতো তাহলে রাজস্ব বাড়ত, ঘাটতি কমত। সরকারের ঋণ করতে হতো কম। সুদ খরচ কমত। না, এসব হওয়ার নয়। 

 

. আর এম দেবনাথ: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক

আরও