রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনর্বহাল করার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার ভোট কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোনো গোলযোগ দেখা যায়নি। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে অত্যন্ত পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি। সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাছাড়া ভোট কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ছিল সন্তোষজনক। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন বলেই মনে হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ভোটার ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখার জন্য সব দলই বিজয়ী হওয়ার আত্মপ্রত্যয় দেখান, কিন্তু হেরে গেলে ফলাফল মেনে নিতে চান না। অতীত ইতিহাসে আমরা সেটাই দেখে আসছি। তবে আশা করি এবার এর ব্যত্যয় হবে। নির্বাচনের আগে সব দলই যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছিলেন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিরেকে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে সন্তোষজনক ছিল।
সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সব দলকে এজন্য সাধুবাদ জানাই। আশা করি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার পর দলগুলো জনগণের রায় মেনে নিয়ে জনগণকে সম্মান জানাবেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেবেন না। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাররা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।
অনেক আবেগ, স্বপ্ন ও আশা নিয়ে ভোটাররা এবার ভোট দিয়েছেন। সবার একটাই চাওয়া, যে দলই ক্ষমতায় আসুক দেশে যেন শান্তি বজায় থাকে, দেশ যেন সামনে এগিয়ে যায়। সুতরাং বিজিত কোনো দল ফলাফল নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ভোটাররা অবশ্যই খুশি হবেন না। এজন্য বিজিত দলকে শান্ত থেকে ফলাফল মেনে নেয়ার প্রত্যাশা রইল।
অন্যদিকে জয়ী দলও যেন জেতার আনন্দে মাত্রাতিরিক্ত হট্টগোল করে আনন্দ-উৎসব মাটি না করে ফেলে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যে ভোটারদের ভোটে জয়ী হয়েছেন, আনন্দ উৎসবের নামে বেশি হইহুল্লোড় করে সে ভোটারদেরই যেন বিরক্তির কারণ না হন, সেটা মনে রাখতে হবে। ভোটযুদ্ধ মানেই কিন্তু চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী বিজয় নয়। বরং নতুন যুদ্ধের শুরু। নির্বাচনের পর দলের দায়িত্ব কেবল নেতাকর্মী বা সমর্থকদের ওপর বর্তাবে না, বরং পুরো জাতির ওপর বর্তাবে। সেটা সরকারি বা বিরোধী যে পক্ষই হোক না কেন। ভুলে গেলে চলবে না ২০২৬-এর জনগণ এখন অনেক সচেতন। দলগুলোর প্রতিটি কথা ও কাজ জনগণ বিচার করবে। সেটি বর্তমানের ভোটার হন বা আগামীর।
ড. শায়খ আহমদ: সহকারী অধ্যাপক (অ্যাডজান্ট ফ্যাকাল্টি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি