নতুন বছর

মেরুকরণ ও সর্বজনীনতা

এখনো চলছে করোনা অতিমারী। এর মধ্যে শেষ হলো আরেকটা বছর। শুরু নতুন এক বছরের। চলমান অতিমারীর এ সময়ে তিনটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রথমত, যে দেশে পরীক্ষা করার সুযোগ আগে তৈরি হয়েছে এবং টিকা সরবরাহ বেশি করা হয়েছে, সে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। টিকাহীনতা ও টিকার সুযোগ বৈষম্য তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, সরকারের

এখনো চলছে করোনা অতিমারী। এর মধ্যে শেষ হলো আরেকটা বছর। শুরু নতুন এক বছরের। চলমান অতিমারীর এ সময়ে তিনটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রথমত, যে দেশে পরীক্ষা করার সুযোগ আগে তৈরি হয়েছে এবং টিকা সরবরাহ বেশি করা হয়েছে, সে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। টিকাহীনতা ও টিকার সুযোগ বৈষম্য তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, সরকারের রাজস্বগত সক্ষমতা। সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদানে অধিক সক্ষম দেশ দ্রুততার সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করতে পেরেছে। সীমিত সক্ষমতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর কভিডকালে এক ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। ফলে দেশের সঙ্গে দেশের বৈষম্য বেড়ে যেতে পারে। তৃতীয়ত, কভিড-১৯ দেশের অভ্যন্তরীণ মেরুকরণের প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত করেছে।

এ প্রেক্ষাপটে নতুন ধরনের কৌশল কী হবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। অতীত পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতিমারী কিংবা বিশ্বযুদ্ধ হোক, সব বিপর্যয়ের পরে নতুন মডেল আবির্ভূত হয়েছে। লক্ষ করেছি, মহামন্দার পরে মার্কিন রাষ্ট্র আরো বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে লর্ড বেভারিজ যুক্তরাজ্যে সামাজিক মডেল (সোস্যাল মডেল) চালু করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ইউরোপজুড়ে তা চালু হয়েছে। এসব দিক থেকে বাংলাদেশ বা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে কী ধরনের মডেল আসলে বাঞ্ছনীয়? কভিডকালে তথাকথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল বড় রকমের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। কভিডের আগে মধ্যবর্তী শ্রেণীগুলো বেশ বড় জনসংখ্যা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছিল। তারাই বেশি ছিল, দরিদ্র কম ছিল। কিন্তু কভিড এসে উচ্চমধ্যবিত্তকে মধ্যবিত্ত বানিয়েছে, মধ্যম মধ্যবিত্তকে নিম্নমধ্যবিত্তে ঠেলে দিয়েছে এবং নিম্নমধ্যবিত্ত দারিদ্র্যের কাতারে শামিল হয়েছে। বড় রকমের ধাক্কা দিয়েছে। অধিকাংশ মানুষই এখন পড়তির দিকে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল কাজে লাগবে না। ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন তখনই সার্থক হয় যখন অধিকাংশ মানুষ ওপরে থাকে এবং কিছুসংখ্যক নিচে থাকে। এ অবস্থায় বাড়ন্ত বৈষম্য থেকে উত্তরণ হতে হলে সর্বজনীন উন্নয়ন কৌশল দরকার। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা তথা প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বজনীনতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তেমনি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দরকার এবং তা হতে হবে পূর্ণ জীবন চক্রকালীন। বেকারদের জন্য বেকার ভাতা দরকার। পরিচর্যাকারী মায়ের মাতৃত্বকালীন ভাতা জরুরি। একই সঙ্গে সর্বজনীন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জরুরি দরকার। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় আবার জনমিতিক একটা পরিবর্তন ঘটছে। অর্থাৎ কর্মসংস্থানযোগ্য মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। জনমিতিক লভ্যাংশ থেকে সুযোগ নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। সেজন্যই সর্বজনীন উন্নয়নের জন্য একটি সর্বজনীন মডেলের দিকে যাওয়া দরকার।

বিশ্বব্যাপী নতুন মেরুকরণ ও নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে। প্রাক-কভিডকালে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা বিশ্বব্যাপী যে সমীকরণগুলো চিন্তা করা হচ্ছিল, তাতে ভারত সম্পর্কে একটা উচ্চাশা ছিল। চিন্তা করা হচ্ছিল ভারতের বিশাল বাজার; ভারত একটা অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। এ অঞ্চলে এবং বিশ্বে বড় রকমের ভূমিকা রাখবে। চীনের উত্থানের কারণে এ আলোচনা মূলত এসেছিল। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আটলান্টিক থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দিকে সরে আসছে। ফলে কৌশলগত ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন হয়েছে। মুশকিল হলো বর্তমানে ভারতের পারফরম্যান্স আশা করা হয়েছিল এবং সে লক্ষ্যেই নির্ধারণ করা হয়েছিল যে ভারত কভিডকাল থেকে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত পুনরুদ্ধারের দিকে যাবে। টিকা সরবরাহের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থান পাকাপোক্ত করবে। মনে করা হয়েছিল ভারত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় টিকা সরবরাহ করবে। বিপদের বন্ধু হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে। কিন্তু ভারতের অর্থনীতি সেই গতিতে এগোয়নি এবং টিকা নিয়ে তৈরি আশাবাদ পূরণ করতে পারেনি দেশটি।

অন্যদিকে চীন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বড় রকমের উল্লম্ফন ঘটাচ্ছে। বৈষম্য থাকলেও দেশটি অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটা ন্যায্যতা আনার চেষ্টা করছে। তার পরেও দেশটিকে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার করতে হবে। প্রথমত,  চীন দ্বিতীয় অর্থনৈতিক দেশ হলেও এখনো উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত। পরাশক্তি হতে হলে তার অবস্থানের বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত, একটা পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে হলে তার সফট পাওয়ার লাগে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা ফেরি করবে। মাওয়ের সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ থাকালেও বর্তমানের চীন সে ধরনের আদর্শগত বিষয়টি পরিষ্কার করতে পারেনি। চীনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে’র মাধ্যমে কৌশলগত একটা সাফল্যের পরিচয় দিলেও সফট পাওয়ার বিস্তৃত করার জন্য দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে আমলাতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক দক্ষতা দেখাতে হবে, তা পরিদৃষ্ট হচ্ছে না। মোটাদাগে বলা যেতে পারে পাশ্চাত্যবাদীরা ভারত নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও ভারতের সীমাবদ্ধতা কভিডকালে প্রকট হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চিড় ধরিয়েছে। গণতন্ত্রশীলতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। একটা বিষয় পরিষ্কার বলা যেতে পারে যে কেউ আর চীনের সঙ্গে ভারতকে তুলনা করবে না।

এ বছরটা শুরু হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। করোনাকালীন ভোগান্তিতে রিপাবলিকানদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। সাদা বর্ণের জনগণ ১৯৯৬ সালের নিবন্ধিত ভোটারের ৮৫ শতাংশ থেকে কমে ৬৯ শতাংশে নেমে এলেও সাদাবাদী রাজনীতি এখনো প্রকট। এখনো সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দেশব্যাপী আইন কংগ্রেস পাস করেনি। সাদা বর্ণ প্রধান রাজ্যগুলো বিভিন্ন ভোটাধিকার নিবারণকারী আইন পাস করে যাচ্ছে। পুঁজির আধিপত্য প্রবল। বিল্ড ব্যাক বেটার আইন পাস করতে হিমশিম খাচ্ছে। এত কিছুর মধ্যেও নির্বাচনে হেরে ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ হলেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্রে কেবল সংবিধান অনুসরণ করা হয়, কোনো ব্যক্তি বা স্বৈরশাসকের নির্দেশ নয়। অর্থাৎ চলমান পৃথিবীব্যাপী মেরুকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখতে হলে মধ্যপ্রাচ্য বা আফগানিস্তানের আলোকে ‘ওয়ার অন টেরর’ বা অনন্য নীতি কাজ করবে না। সংবিধানভিত্তিক কৌশল তথা গণতন্ত্রই একমাত্র সম্বল। সে লক্ষ্য থেকেই গণতন্ত্র সম্মেলন। এর প্রভাব এখনো পরিষ্কার নয়।

এবার আসা যাক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে সম্প্রতি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে বেশ কথাবার্তা হচ্ছে। সংগত কারণেই এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হচ্ছে। এখন দেশ ৫১ বছরে পা দিয়েছে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাও অপরিসীম। আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩৬ সাল নাগাদ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারে। এগিয়ে যেতে হলে দরকারি বা প্রয়োজনীয়, পর্যাপ্ত এবং টেকসই শর্ত পূরণ করা জরুরি। প্রয়োজনীয় শর্তগুলো কিছু নির্ধারিত চলক দিয়ে বলা যেতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশ একটি নিম্নমাত্রার দক্ষতা ফাঁদের (লো লেভেল স্কিল্ড ট্র্যাপ) মধ্যে আছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, যেখানে থেকে জনমিতিক লভ্যাংশ আসবে, ফাঁদটি সেখানে। এটি সবচেয়ে বেশি প্রকট যুবকদের মধ্যে। বিশেষ করে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে। অন্যদিকে বাংলাদেশকে দক্ষ জনবল আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শর্ত হলো জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগানো। কিন্তু জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা বাড়ানো দরকার। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যেমন পুনর্গঠন জরুরি, তেমনি সমাজ কাঠামোয় শ্রমের মর্যাদাও নিশ্চিত করা দরকার। বাংলাদেশে সব কাজকে সম্মান দেয়ার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, তড়িৎ মিস্ত্রি ইত্যাদি কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত জনবল দরকার আছে। সব কৌশলে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হলেও কেউ কিন্তু কারিগরি শিক্ষার দিকে যাচ্ছে না। কারণ সব কর্মই সম্মানের সমাজে এ মনোবৃত্তি তৈরি হয়নি। ন্যাশনাল ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশনসকে স্তরবিন্যাস করা হলেও সামাজিক আন্দোলন না হলে সামাজিক চেতনায় পরিবর্তন হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, কর্ম তৈরি না হলে তো আয় বাড়বে না। আয় না বাড়লে ভোগ বাড়বে না। ভোগ না বাড়লে একদিকে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়বে না, অর্থাৎ মানব পুঁজি বাড়বে না। তারাও বিনিয়োগও করতে পারবে না। দ্বিতীয় শর্ত হলো পুঁজি গঠন ত্বরান্বিত করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানো। প্রাক-কভিডকাল থেকে এক যুগ ধরে মোট দেশজ উৎপাদনে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ স্থবির আছে। অন্যদিকে পুঁজি পাচার হচ্ছে।

পুঁজির ক্ষেত্রে প্রধান নির্ধারণী দিক উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে কিনা। দ্বিতীয় নির্ধারণী চলক হলো পুঁজি বিনিয়োগের সঙ্গে আরো দ্রুত হারে প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো। তাহলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং ফল হিসেবে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়বে। কাজেই  উন্নয়ন কৌশলে এসব পরিষ্কার চলক নির্ধারণ করতে হবে। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সর্বজনীন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করলে শ্রমিকের দক্ষতা আরো বহুগুণে বাড়বে। জনমিতিক লভ্যাংশ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটাই অর্থনীতির মূল নিয়ামক কৌশল হতে হবে এবং সর্বজনীন পন্থায় যেতে হবে। এগুলোই প্রয়োজনীয় শর্ত।

দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত শর্ত। এটি নিশ্চিত করা না গেলে প্রয়োজনীয় শর্ত অভীষ্ট ফল আনবে না। রাজনৈতিক বন্দোবস্তও অর্থনৈতিক ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত। গত ৫০ বছর পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক চলকগুলোর হার বেড়েছে। কিন্তু সব বছরে আগের বছরের তুলনায় হার বাড়েনি। অর্থাৎ গতি বাড়েনি। মোটাদাগে ব্যতিক্রম কালটা হলো ১৯৯১ থেকে ২০০৫। উদাহরণস্বরূপ, এ সময়ে দারিদ্র্য কমেছে এবং দারিদ্র্য কমার হারও বেশি ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রাক-কভিডকাল পর্যন্ত সার্বিক দারিদ্র্য কমলেও দারিদ্র্য কমার হার কমেছে। অন্যদিকে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক ধরনের বি-শিল্পায়ন। আনুষ্ঠানিক খাতে তথা শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের প্রবণতা ঋণাত্মক। বি-শিল্পায়ন একটা বড় রকমের সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের বিশাল ব্যাপ্তি কাঠামোগত রূপান্তরের জন্য এক বিশাল বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

১৯৯১ থেকে ২০০৫—এ সময়ে ক্ষমতার একটা আদান-প্রদান ঘটেছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক বন্দোবস্ত জনগণের কাছে পুরোমাত্রায় দায়বদ্ধ না হলেও ক্ষমতার অদল-বদলের ব্যবস্থা চালু ছিল এবং এক ধরনের বৈধতা পেয়েছে। কাজেই রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিবর্তন দরকার একটা দরকারি পর্যাপ্ত শর্ত হিসেবে।

একইভাবে বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে কূটনীতিতে বড় রকমের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে। মূল কূটনৈতিক নীতি-কৌশল হিসেবে শান্তিপূর্ণ বঙ্গোপসাগর গড়ে তোলার অভীষ্ট নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে আবির্ভাব ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ অগ্রসরমাণ হবে। এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা নীতিকে উন্নয়ন এজেন্ডায় সন্নিবেশ করতে হবে। সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে ‘ডেভেলপমেন্ট ডাটারেন্স’ গড়ে তুলতে হবে। এগুলো সম্ভব হবে যদি গোষ্ঠীতন্ত্রের নয়, অধিকাংশ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বৈধতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা যায়। মৌলিকভাবে সবারই এখন আকাঙ্ক্ষা হলো পৃথিবীকে বাসযোগ্য করা। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং সেই পরিবর্তন সবুজবান্ধব হতে হবে।

 

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান, উন্নয়ন অন্বেষণ

আরও