সুপারিশ

সংখ্যা-লিপি সংস্কার

বাংলায় আমরা নয়টি সংখ্যা নিম্নলিখিতভাবে লিখি—১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯,। শূন্য চিহ্ন ‘০’ তো সব ভাষায়, সব দেশে একই। বাকি সব সংখ্যা তো এই একক সংখ্যাগুলোর সমাহার। ইংরেজি ভাষায় (এবং অন্যান্য সব ভাষায়ই; তবে সহজ প্রকাশের জন্য এ সংখ্যা-লিপিকে ইংরেজি সংখ্যা হিসেবেই অভিহিত করব) সংখ্যা হচ্ছে নিম্নরূপ—১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯।

বাংলায় আমরা নয়টি সংখ্যা নিম্নলিখিতভাবে লিখি—১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯,। শূন্য চিহ্ন ‘০’ তো সব ভাষায়, সব দেশে একই। বাকি সব সংখ্যা তো এই একক সংখ্যাগুলোর সমাহার। ইংরেজি ভাষায় (এবং অন্যান্য সব ভাষায়ই; তবে সহজ প্রকাশের জন্য এ সংখ্যা-লিপিকে ইংরেজি সংখ্যা হিসেবেই অভিহিত করব) সংখ্যা হচ্ছে নিম্নরূপ—১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯।

বর্তমান বিশ্বে প্রায় সব দেশেই, সব ভাষায়ই ক্রমবর্ধমানভাবে বৈজ্ঞানিক, কারিগরি এবং সর্ববিধ গাণিতিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য ইংরেজি সংখ্যাকেই গ্রহণ করা হয়েছে। উচ্চারণে যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদি উচ্চারণই রক্ষিত। অর্থাৎ ‘এক’ বললে ‘১’ না লিখে লেখা হবে ১, পাঁচ বললে ‘৫’ না লিখে লেখা হবে ‘৫’ এবম্বিধ। লেখার সময় শুধু নয়টি সংখ্যার পরিবর্তন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একান্ত সামান্যই, করলে আমরা তাত্ক্ষণিকভাবেই সংখ্যা-লিপিতে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠতে পারি।

ইউরোপীয় সব ভাষায় তো আছেই, তবে কম্পিউটার, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, গাড়ির নম্বর, ফোন ও মোবাইল নম্বর, দোকানের ক্রয়-বিক্রয়ের হিসাব, আয়কর-ভ্যাট-কাস্টমসের বিবরণী, ব্যাংকিং, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, পাসপোর্ট-জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, এভিয়েশন-নেভিগেশন যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময়, সব ধরনের শুমারি, সংখ্যাতত্ত্ব সংরক্ষণ সর্বত্রই আজ আন্তর্জাতিকভাবে একই সংখ্যা চিহ্ন সাধারণত ব্যবহূত হচ্ছে। এমনকি ইউরোপ-আমেরিকাবহির্ভূত বনেদি সমৃদ্ধ ভাষাগুলোতে যেমন জাতিসংঘ স্বীকৃত চীনা ও আরবি, জাপানি, কোরিয়ান আর অধিকাংশ আঞ্চলিক ভাষায়ও যেমন ইন্দোনেশিয়ান, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি ভাষার বহুবিধ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে আমরা ক্রমবর্ধমান হারেই তাদের পুরনো আদি সংখ্যা-লিপির পরিবর্তে ইংরেজি সংখ্যা চিহ্নের প্রচলন দেখি। ভারতে তো এটা সর্বজনীন, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের বাংলায়ও আমরা ইংরেজি সংখ্যা-লিপির প্রচলন দেখি।

শুধু লেখার জন্য বাংলায় যদি আমরা সংখ্যার এ পরিবর্তিত রূপ গ্রহণ করি তাহলে আমরা বাংলা ভাষাকেই সমৃদ্ধতর, সহজতর ও অনায়াসলব্ধ করে তুলব। আমাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে, এমনকি দৈনন্দিন জনজীবনে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, যেখানে ইংরেজি সংখ্যা জ্ঞানদানের আয়োজন সীমিত, এটি একটি বিপ্লবাত্মক ইতিবাচক পরিবর্তন সূচনা করবে। ইংরেজি ও বাংলা দুই প্রকার সংখ্যা চিহ্ন শেখার প্রয়োজন হবে না এবং এটা কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে না। শুধু হিসাবভিত্তিক কারিগরি কাজ নয়, সব রকম কর্মকাণ্ডেই এটা সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রে, বিশেষ করে শিক্ষা ও কারিগরি ক্ষেত্রে, সম্পূর্ণ আধুনিক উন্নতিশীল দেশে রূপান্তর হওয়ার পথে। বিজ্ঞানসম্মত অগ্রগতির পদক্ষেপ, আর ‘ডিজিটালাইজেশন’ আজ এক স্লোগান নয়। দেশে তা এক প্রতিষ্ঠিত সত্য।

এমতাবস্থায় বাংলা সংখ্যা চিহ্নে এ প্রস্তাবিত পরিবর্তন অবশ্যই সংগত, সুবিবেচিত ও অভিপ্রেত হবে বলে মনে হয়।

 

ইনাম আহমদ চৌধুরী: অবসরপ্রাপ্ত সচিব, জাতিসংঘ কর্মকর্তা; সাবেক চেয়ারম্যান, প্রাইভেটাইজেশন কমিশন

সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, উপদেষ্টা পরিষদ

আরও