সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও লেনদেনের খবর উদ্বেগজনক। পার্কে এক প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ভিসির সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। বিষয়টি সত্যি কিনা এ নিয়ে দ্বিধা থাকলেও, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি এরই মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রগতির জন্য একাধিক সংস্কার কমিটি গঠন করলেও উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ কোনো কমিটি নেই। তবে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য গঠিত পরামর্শক কমিটি এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সমস্যা হলো শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণ। দলীয়করণ যুগ যুগ ধরে থাকলেও, প্রকাশ্যে টাকা লেনদেনের ঘটনা নতুন। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে কিছু ভিসি যোগ্যপ্রার্থীদের বাদ দিয়ে আত্মীয় বা পরিচিতদের নিয়োগ করতেন। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন ভিসিকে দায়ী সাব্যস্ত হওয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ভিসির বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, যেখানে অডিও ফাঁসসহ নিয়োগ-লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা নিজেও বিষয়টি জানেন এবং এ নিয়ে মন্তব্যও করেছেন। একজন অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ মানে আগামী ৩০–৩৫ বছর শিক্ষার্থীরা নেতিবাচক প্রভাবের মুখোমুখি হবেন, যার সঙ্গে জড়িত হতে পারে যৌন হয়রানি, দলবাজি ও কুশিক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় মূলত গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির স্থান। অযোগ্য শিক্ষকের কারণে এই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ৫৩টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ হাজার ৩৯১ জন শিক্ষক কর্মরত, যার ৫৪ শতাংশই পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো বিশ্ব র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে। গত বছর টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাংকিংয়ে বিশ্বের সেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো বাংলাদেশী বিশ্ববিদ্যালয় নেই, তবে পাকিস্তান ও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া জরুরি, যা বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের খ্যাতিমান শিক্ষকরা বাস্তবায়ন করতে পারেন। একই সঙ্গে, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি, যা উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করছে। প্রধান উপদেষ্টা বড় দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কার্যকর পরামর্শ দিতে পারেন।
উচ্চশিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে পরিবেশ ধ্বংস করে হাওর ও চলনবিল অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামো নির্মাণ সীমিত করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১৩০ জন ছাত্র ভর্তি। বর্তমান সরকার সাময়িক হলেও, এ সময় শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষার ক্ষত কমানো যায়।
নুরুল আমিন: শিল্পোদ্যোক্তা ও প্রাক্তন ছাত্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়