স্মৃতিচারণ

আমাদের কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির সংখ্যা সাধারণত কতগুলো হতে পারে? জনসংখ্যার তুলনায় সেটির অবস্থান কী? উত্তর হচ্ছে, সাড়ে ১২ লাখ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা। অথচ প্রতি বছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করে ২২ লাখ তরুণ। এর মধ্যে বিসিএসে মোটামুটি দুই হাজার, বাকি অন্যান্য সব মিলিয়ে দেড় লাখের মতো কর্মসংস্থান হয়। তাহলে বাকিরা কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন? নকিয়া, বাজাজ, টয়োটা, ইউনিলিভার্সের

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির সংখ্যা সাধারণত কতগুলো হতে পারে? জনসংখ্যার তুলনায় সেটির অবস্থান কী? উত্তর হচ্ছে, সাড়ে ১২ লাখ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা। অথচ প্রতি বছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করে ২২ লাখ তরুণ। এর মধ্যে বিসিএসে মোটামুটি দুই হাজার, বাকি অন্যান্য সব মিলিয়ে দেড় লাখের মতো কর্মসংস্থান হয়। তাহলে বাকিরা কোথায় যাচ্ছেন বা যাবেন? নকিয়া, বাজাজ, টয়োটা, ইউনিলিভার্সের মতো বিদেশী কোম্পানিগুলোর পদস্থ কর্মকর্তাদের ৮০ শতাংশই বিদেশী। এর কারণ কী? এসব বিদেশী সকাল ৮টায় অফিসে আসেন আর রাত ১০টায় কাজ শেষ করেন, তার পরও তারা বাইরে থাকেন না, অফিসের মধ্যেই থাকেন। শুক্র-শনিবার বলতে তাদের কিছু নেই। আমাদের দেশে অবশ্য যারা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় শুক্র বা শনিবার নেই, সব দিনই তারা কাজ করছেন। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশ করার পর তাদের মধ্যে সেটি আর দেখা যায় না, এটিই স্বাভাবিক। অতএব, বিদেশীরা দখল করছে অনেক চাকরির জায়গা। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি মতে (১১ ডিসেম্নর ২০২৩), প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কেউ কাট নম্বর পাননি, নবম গ্রেডের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে (যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায়)। এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। চাকরির আবেদন পাওয়া যায় হাজার হাজার, লাখ লাখ কিন্তু প্রকৃত দক্ষতাসম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। অবস্থাটা হয়েছে জিপিএ-নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ফল। অথচ বেসরকারি খাতে দক্ষতাভিত্তিক চাকরির বাজারে বিদেশীরা এমন উচ্চ হারে ঢুকছেন যা দেশের চাকরির বাজার ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুকূল নয়। শিক্ষার সঙ্গে কর্মদক্ষতার সম্পর্কহীন শিক্ষার একটি প্রকট চিত্র ফুটে উঠেছে এখানে। আরো একটি বিষয় স্পষ্ট, সেটি হচ্ছে শিক্ষার মান। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিয়ে যারা বের হয়েছেন তারা বসে নেই। কোনো না কোনোভাবে তারা কাজ ম্যানেজ করে ফেলেন। পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রম ছাড়া সমাজ, প্রতিষ্ঠান, সরকার ও রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণাও তৈরি হয় না তাদের মধ্যে। চারদিকে এত রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অথচ দেশে রাজনৈতিক সমস্যা ও অস্থিরতার শেষ নেই। কী হচ্ছে তাহলে এসব সায়েন্স পড়ে? এমন আরো অনেক বিষয় রয়েছে যা শিক্ষার্থীরা পড়ছেন কিন্তু সেই বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করছেন না, আবার চাকরির বাজারেও প্রবেশ করতে পারছেন না। বিষয়গুলো আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

ইয়ুথ ম্যাটার্স নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ তরুণ এখন বিদেশে পাড়ি দিতে চায়। সংখ্যাটি কম শোনাচ্ছে নাকি বেশি? নির্ভর করছে কাদের ওপর জরিপটি চালানো হয়েছিল তার ওপর। হতে পারে গ্রাম ও শহর, দুদিকের তরুণদেরই খোঁজ নেয়া হয়েছিল। কেবল যদি শহরের তরুণদেরই জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তারা ৪২ শতাংশ নয়, তার চেয়েও বেশি সংখ্যক বলত তারা বিদেশে পাড়ি দিতে উন্মুখ। তার প্রধান কারণ হচ্ছে দেশে কাজ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে। বেকারত্ব অবশ্য গ্রামেই অধিক, শহরের তুলনায় দ্বিগুণ। কিন্তু গ্রামের মানুষের বিদেশে পাড়ি জমানোর সাহস ও সামর্থ্য শহরের মানুষের মতো অতটা নেই। তার পরও অনেকেই জমিজমা বিক্রি করে, ঘরবাড়ি বন্ধক রেখে বিদেশে যান। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জানাচ্ছে, গত তিন মাসে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় চার লাখ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর খবরেই বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বেকার এখন আট লাখ। এ মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ আছে। আমাদের দেশের যেসব তরুণ বিদেশে যান, তারা কিন্তু সেখানে প্রচুর পরিশ্রম করেন। যারা পড়াশোনা করতে যান, তারাও কিন্তু অর্থ উপার্জন করেন। কাজেই আমাদের শ্রমের কিন্তু অভাব নেই, অভাব হচ্ছে পুঁজির, অভাব হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনার আর আন্তরিকতার। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তরুণ যারা দেশে থাকেন তাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে বিসিএস অফিসার হওয়া, কিন্তু সেটি দুই লাখের বেশি পরীক্ষা দিলেও পদ হাজার দুয়েকের মতো। এখন বিসিএস কি একমাত্র চাকরি? তরুণরা তো অনেক উদ্যমী, সাহসী, পটেনশিয়াল; তারা নিজেরা যাতে কিছু করে অন্যদেরও চাকরি দিতে পারেন সেই প্রচেষ্টাটি কিন্তু অভিজ্ঞজনদের করে দিতে হবে এবং যারা এভাবে ওপরে উঠেছেন তাদেরও দিতে হবে। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা দেশের বিভিন্ন কলেজ থেকে স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের ৪২-৪৮ শতাংশ বেকার অবস্থায় আছে। ২০২১ সালে এ হার ছিল ৬৬ শতাংশ। সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনে রাজধানীর একটি হোটেলে গত ৮ ডিসেম্বর এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এবং বেকার অবস্থায় থাকাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি বিএ পাস করেছিলেন। ২৩ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে স্নাতক অর্জন করেছেন। লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে পাস করেছেন প্রায় ২১ শতাংশ। বেকারদের ১৬-১৭ শতাংশ পাস করেছেন ইসলামের ইতিহাস ও বাংলায়। তবে ইংরেজি, অর্থনীতি ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করাদের মধ্যে বেকারত্বের হার অনেক কম। সামাজিক বিজ্ঞান এবং ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় ১ শতাংশ বেকার রয়েছেন। দেশের ৬১টি কলেজের ১ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী এবং ৬১ জন অধ্যক্ষের সাক্ষাৎকার নিয়ে এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। প্রশ্ন সহজ থেকে সহজতর করা, উদারভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, যেকোনো উপায়ে জিপিএ ৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতা, প্রশ্নপত্র ফাসের চর্চা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে সংকুচিত করে ফেলাসহ আরো কিছু পদক্ষেপ এবং উদাসীনতা এ অবস্থার জন্য দায়ী। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় পাস মার্কস পাওয়া শিক্ষার্থী মাত্র ১০ শতাংশের আশপাশেই থেকেছে। যারা পরীক্ষায় অংশ নেন, তাদের অধিকাংশই জিপিএ ৫ কিংবা তার কাছাকাছি পাওয়া শিক্ষার্থী। 

বেকারত্বের অভিশাপ থেকে তরুণদের মুক্ত রাখার লক্ষ্যে সরকার ১৫ বছরে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে বেকারত্বের হার ৬ শতাংশ (২০০৯) থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বেকার যুবকদের হার ১০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ দশমিক শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ যুবকদের অনুপাত আগামী পাঁচ বছরে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে ক্ষমতাসীন দল। আগামী পাঁচ বছরে যুবকদের মধ্যে ৭৫০ কোটি টাকা যুব ঋণ বিতরণ ও ২ লাখ ৫০ হাজার যুবককে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেছে। এ ধরনের পরিকল্পনার কথা আমরা প্রায়ই শুনি কিন্তু কাজে ও বাস্তবে তার প্রতিফলন কতটা হয় সেটি আমরা উপরোক্ত পরিসংখ্যান থেকেই বুঝতে পারি। তার পরও পরিকল্পনা করার প্রয়োজন আছে। দেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ সরাসরি স্টার্টআপ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে রয়েছে ১ হাজার ২০০-এর বেশি উদ্যোক্তা যাদের বেশির ভাগই তরুণ, মেধাবী ও প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী। এ শিল্পের বিকাশে গত ১৩ বছরে ৯৪০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশী অর্থের বিনিয়োগ হয়েছে, তার পরও বলতে হয় এটি ছিল অপ্রতুল। গত এক যুগেরও বেশি সময়ে দেশে পাঁচ লাখের বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৭০ হাজার পুরুষ ও ৮ লাখ ৩০ হাজার নারী। (ডয়চে ভেলে, ২৭ আগস্ট ২০২৩), 

২০২৩ সালের নভেম্বরে গার্মেন্ট শ্রমিকরা তাদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের জন্য আন্দোলনে নামেন। তাদের সর্বনিম্ন মজুরি ধার্য করা হয় ১৬ হাজার টাকা/আঠার টাকা। এ মজুরিতে তারা সন্তুষ্ট নন এবং শ্রমিক নেতাসহ অন্য নেতারাও এটিকে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের চাপ দিয়েছে। এটি দেখে ফেসবুকে অনেক শিক্ষক লিখেছিলেন যে এইট পাস করে মাসিক বেতন ১৬ হাজার টাকা আর গ্র্যাজুয়েট হয়ে মাসিক বেতন ১২ হাজার টাকা। দেশে গার্মেন্ট শ্রমিকদের দামই বেশি। ঢাকায় একজন ড্রাইভারের বেতন ১৮-২০ হাজার টাকা। এখন এটি কি কেউ ইচ্ছা করেছে বা এর পেছনের কোনো ষড়যন্ত্র আছে? ড্রাইভার কোনো কিছু পাস নাও হতে পারেন আবার হতেও পারেন। যিনি গ্র্যাজুয়েট কিংবা মাস্টার্স করে এসেছেন তাকে তো আর কেউ ড্রাইভিংয়ের জন্য ডাকবে না। একইভাবে, গার্মেন্টেসে যারা কাজ করেন তাদের চাহিদা আছে অর্থাৎ তারা যে দক্ষতা অর্জন করেছেন সেটি দিয়ে দেশের বাইরে থেকে মুদ্রা আসছে। এ বাস্তব বিষয়গুলো নিয়ে কিন্তু আমাদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, ডিগ্রি নেয়ার বিষয় জড়িত। এগুলোর সমন্বয় কীভাবে হবে সেটি একটি বিরাট প্রশ্ন। কে করবে, কীভাবে করব, কোত্থেকে শুরু হবে তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। এসব নিয়ে আলোচনা হলে আমরা শুনি সরকারির বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা, কিন্তু সমস্যা যে কত গভীর এবং একটির সঙ্গে আরেকটি যে কীভাবে জড়িত সেটি আমরা খুব একটা ভেবে দেখছি কি, শুধু কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য পেশ করছি। এতে সমস্যা আরো জটিল হচ্ছে। 

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্যের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির মধ্যেই চলতি বছর বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের হার বাড়ার খবর দিয়েছে জাতিসংঘের শ্রমবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য বৃদ্ধি ও স্থবির উৎপাদনশীলতা মানুষের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কিছুটা কমে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ২০২৪ সালে অতিরিক্ত ২০ লাখ মানুষ চাকরিপ্রত্যাশীর তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক বেকারত্ব বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৩-এ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী শ্রমিকের সংখ্যা (প্রতিদিন ইউএস ২ দশমিক ১৬ ডলারের কম আয়) প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। উচ্চ ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে। উন্নত দেশগুলোয় চাকরি খোঁজার হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর দরিদ্র দেশগুলোয় এ হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি বৃহত্তর অসমতা সৃষ্টি করছে এবং সামাজিক সুবিচার অর্জনের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করছে। এ প্রেক্ষাপটে আমরা কোথায় অবস্থান করছি সেটি নিয়ে কথা বলা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। 

মাছুম বিল্লাহ: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক 

আরও