আজ ২৫
মে
আমাদের
জাতীয়
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
১২২তম
জন্মজয়ন্তী।
এ
বছরেই
আবার
পালিত
হচ্ছে
আমাদের
জাতির
পিতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
জন্মশতবার্ষিকী।
বাঙালির
চেতনা
ও
মননে
এই
মহান
দুই
পুরুষের
আবির্ভাব
ছিল
বাংলার
আকাশে
ধূমকেতুর
মতো।
দুজনেই
ছিলেন
স্বাধীনতার
অগ্নিপুরুষ।
বাঙালি
উজ্জীবিত
হয়েছিল
এই
দুই
স্বাধীনতাকামী
মহান
পুরুষের
দ্বারা।
বাঙালির
জয়
হোক
বলে
যে
মুক্তির
কথা
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলাম
লিখেছিলেন,
বঙ্গবন্ধু
সেই
সাধকেই
পরিপূর্ণতা
দিলেন
জয়বাংলা
বলে।
দুজনেই
আজীবন
সংগ্রাম
করেছেন
সাম্রাজ্যবাদ,
সাম্প্রদায়িকতা
ও
পরাধীনতার
বিরুদ্ধে।
বলা
হয়ে
থাকে
সাহিত্যের
কবি
কাজী
নজরুল,
আর
রাজনীতির
কবি
বঙ্গবন্ধু।
পশ্চিমবঙ্গের
কাজী
নজরুল
ইসলাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে
২০১৮
সালের
বিশেষ
সমাবর্তনে
বঙ্গবন্ধু
কন্যা
মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী
বলেন,
‘বাংলাদেশের
জাতির
পিতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
যেমন
দেশের
শোষণপীড়িত
মানুষের
ভাগ্য
পরিবর্তনের
জন্য
সংগ্রাম,
আন্দোলন
করেছেন,
কারাবরণ
করেছেন,
আমাদের
স্বাধীনতা
এনে
দিয়েছেন,
ঠিক
তেমনি
নজরুলও
শোষিত-বঞ্চিত
মানুষের
কথা
লেখনীর
মধ্য
দিয়ে
তুলে
ধরেছেন।
আর
এ
কারণেই
কারাবরণ
করতে
হয়েছে।
তাই
একদিকে
বাংলা
সাহিত্যের
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলাম,
তেমনি
অন্যদিকে
রাজনীতির
কবি
শেখ
মুজিবুর
রহমান।’
কাজী নজরুল
ইসলাম
কবি
হিসেবে
সমধিক
পরিচিত
হলেও
ব্যক্তিগত
জীবনে
অবিভক্ত
বাংলার
রাজনীতির
সঙ্গে
প্রত্যক্ষভাবে
যুক্ত
ছিলেন।
এ
সময়
তিনি
অবিভক্ত
বাংলার
কংগ্রেসের
বিভিন্ন
অধিবেশনে
যেমন
মেদিনীপুর,
হুগলি,
কুমিল্লা,
ফরিদপুরসহ
অনেক
জায়গায়
অংশগ্রহণ
করেছেন।
এমনকি
১৯২৬
সালে
নির্বাচনেও
অংশ
নিয়েছেন।
যদিও
তিনি
ওই
নির্বাচনে
হেরে
গিয়েছিলেন।
কবি
কাজী
নজরুল
প্রত্যক্ষভাবে
১৯২৫
সালে
জাতীয়
কংগ্রেসের
প্রাদেশিক
রাজনীতিতে
আসেন।
তিনি
কৃষক-শ্রমিকশ্রেণীর
অধিকার
প্রতিষ্ঠার
আন্দোলনেও
যুক্ত
ছিলেন।
শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ
দল
গঠনে
সক্রিয়
ভূমিকা
পালন
করেন।
কবি কাজী
নজরুল
ইসলাম
পত্রিকা
সম্পাদনার
সঙ্গে
নিযুক্ত
হন
১৯২৫
সালে।
এ
সময়
তিনি
লাঙল
পত্রিকার
প্রধান
পরিচালক
নিযুক্ত
হন।
লাঙল পত্রিকার সম্পাদনা
থেকেই
কবি
নজরুলের
রাজনৈতিক
আদর্শ
প্রকাশের
উদ্যোগের
প্রমাণ
পাওয়া
যায়।
শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়ের
মুখপত্র
হিসেবে
এ
পত্রিকায়
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলাম
বহু
কবিতা
(সাম্যবাদী, কৃষাণের
গান,
সব্যসাচী,
শ্রমিকের
গান,
সর্ব্বহারা)
রচনা
করেছিলেন
এবং
সমাজতন্ত্রের
জয়গান
গেয়েছিলেন।
জনৈক
গবেষক
কাজী
নজরুলের
রাজনৈতিক
চেতনা
তুলে
ধরতে
গিয়ে
বলেছেন,
‘রাজনীতির
এই
ঘোরময়
মুহূর্তে
নজরুল
দর্শনগত
দিক
থেকে
কখনো
কমিউনিজমের
শরণাপন্ন,
আবার
কখনো
ধর্মনিরপেক্ষ
কংগ্রেসের।
তাঁর
চেতনায়
একদিকে
আলোড়িত
ছিল
পুঁজিবাদের
কশাঘাতে
বঞ্চিত
মানুষের
মুখ—সেখানে
তিনি
হয়েছেন
সাম্যবাদ
প্রতিষ্ঠার
দ্যোতক,
সেখানে
তাঁর
আশ্রয়
হয়েছে
সমাজতন্ত্র,
কর্মপদ্ধতি
হয়েছে
রাশিয়ার
বলশেভিক
বিপ্লব।’
(হাসানুর রশীদ,
কবি
নজরুলের
রাজনীতি
ও
দর্শন,
ভোরের
কাগজ,
২৮
আগস্ট
২০১৫)
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে
আমরা
কাজী
নজরুলের
রাজনৈতিক
দর্শনের
বেশ
মিল
লক্ষ
করি।
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
অগ্নিঝরা
কবিতা
ও
গান
আমাদের
মহান
মুক্তিযুদ্ধে
প্রেরণা
জুগিয়েছে।
হয়তোবা
কাজী
নজরুলের
দর্শন
বঙ্গবন্ধুকে
বেশ
টানত।
কবি
নজরুল
যেমন
শ্রেণীবৈষ্যমের
অবসান
চেয়েছেন,
বঙ্গবন্ধুও
ঠিক
তাই।
দুজনেই
চেয়েছেন
সমাজ
থেকে
শোষণ,
শাসন
ও
বঞ্চনার
অবসান
ঘটুক।
কাজী
নজরুল
ইসলামের
লেখা
থেকেই
বঙ্গবন্ধু
অনুপ্রেরণা
লাভ
করেন।
এ
কারণেই
কাজী
নজরুল
ইসলামের
‘বাংলার
জয়’
এবং
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
‘জয়
বাংলা’
এক
এবং
অভিন্ন।
নজরুল
গবেষক
মুহম্মদ
নূরুল
হুদা
যথার্থই
বলেছেন,
‘আসলে
বাঙালিত্বের
সংজ্ঞায়নের
প্রশ্নে
নজরুল
ও
বঙ্গবন্ধু
দুটি
সম্পূরক
সত্তা।
একজন
পূর্বসূরি,
অন্যজন
উত্তরসূরি।’
(মুহম্মদ নূরুল
হুদা
সম্পাদিত,
বিদ্রোহী
কবি
ও
বঙ্গবন্ধু)
কবিকে অসম্ভব
শ্রদ্ধাভরে
দেখতেন
বঙ্গবন্ধু।
১৯৭১
সালে
মহান
মুক্তিযুদ্ধের
মাধ্যমে
বাংলাদেশ
স্বাধীন
হওয়ার
পরই
বঙ্গবন্ধুর
প্রচেষ্টায়
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামকে
ঢাকায়
আনা
হয়।
১৯৭২
সালের
২০
মে
বঙ্গবন্ধু
তার
ব্যক্তিগত
প্রতিনিধি
হিসেবে
তদানীন্তন
আওয়ামী
লীগের
সাংস্কৃতিক
ও
সমাজসেবা
সম্পাদক
মোস্তফা
সারওয়ার
এবং
পূর্তমন্ত্রী
মতিউর
রহমানকে
কলকাতায়
পাঠান।
বঙ্গবন্ধুর
ইচ্ছা
ছিল
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামকে
তার
৭৩তম
জন্মবার্ষিকী
ঢাকায়
উদযাপন
করার।
বঙ্গবন্ধু
এ
প্রসঙ্গে
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামকে
একটি
চিঠি
দেন।
চিঠির
বিবরণে
লেখা
হয়:
‘আমি
আমার
বন্ধু
ও
সহকর্মী
জনাব
মতিউর
রহমান
এবং
আওয়ামী
লীগের
সাংস্কৃতিক
সম্পাদক
জনাব
মোস্তফা
সারওয়ারকে
আপনার
কাছে
পাঠাচ্ছি।
অনুগ্রহপূর্বক
আমার
আন্তরিক
শুভেচ্ছা
গ্রহণ
করবেন।
মুক্ত
স্বাধীন
ও
সার্বভৌম
বাংলাদেশের
জনগণ
ও
আমার
পক্ষে
আমি
আপনাকে
আমন্ত্রণ
জানাচ্ছি।
আপনার
জন্মবার্ষিকীতে
আপনার
আদর্শে
বাংলাদেশকে
সিক্ত
হতে
দিন।
আমরা
বাংলাদেশে
সাগ্রহে
আপনার
আগমনের
প্রতীক্ষা
করছি।
আমি
আশা
করি,
আপনি
অনুগ্রহ
করে
আসবেন।
জয়
বাংলা।’
বঙ্গবন্ধুর
চিঠির
বরাত
দিয়ে
ঢাকার
পত্রপত্রিকাগুলো
নিউজ
হেড
লাইন
করে।
১৯৭২
সালের
২১
মে
তারিখে
সংবাদ
লিখেছিল,
‘বাংলাদেশ
আপনার
জন্য
সাগ্রহে
অপেক্ষা
করছে,
বিদ্রোহী
কবির
কাছে
বঙ্গবন্ধুর
চিঠি।’
বাংলাদেশে কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
পদার্পণ
নিয়ে
আবেগ-উচ্ছ্বাসের
অভাব
ছিল
না।
দৈনিক
বাংলা
১৯৭২
সালের
২৪
মে
তারিখে
‘নজরুল
প্রেরণার
পথে’
শীর্ষক
এক
সম্পাদকীয়তে
মন্তব্য
করেছিল:
‘বাংলাদেশ
আজ
মুক্ত
স্বাধীন।
আমরা
ভাগ্যবান,
আজ
এই
স্বাধীন
স্বদেশে
কবি
এসেছেন
আমাদের
মাঝে।
তাকে
বরণ
করছি
আমরা
মুক্ত
হূদয়ে,
তার
কবিতার
শৃঙ্খলমুক্তির
অপার
আনন্দে।
এতদিন
নজরুলকে
আমরা
পেয়েছিলাম
খণ্ডিত
করে।
কায়েমি
স্বার্থচক্র
দীর্ঘ
দুই
যুগ
ধরে
তার
কবিতা
আর
গানের
পরিপূর্ণ
সৌরভ
থেকে
বঞ্চিত
রেখেছিল
বাংলাদেশের
মানুষকে।
আজ
সে
তিমির
হনন
করে
কবিকে
আমরা
তাঁর
পরিপূর্ণ
সত্তায়
বাঙ্ময়
করে
তোলার
সুযোগ
পেয়েছি।’
কবির
আগমনে
অত্যন্ত
আবেগ্লাপুত
ভাষায়
দৈনিক
বাংলার
ওই
সম্পাদকীয়তে
আরো
বলা
হয়েছিল,
‘আজ
থেকে
তেত্রিশ
বছর
আগে,
১৩৩৯
সালে
শেষবারের
মতো
বাংলাদেশে
এসেছিলেন
কবি।
জনপ্রিয়তার
শিখরে
তিনি
তখন।
ঢাকার
বুদ্ধিজীবী
সমাজ
এবং
নাগরিক
সাধারণ
ঐতিহাসিক
সংবর্ধনায়
বরণ
করেছিলেন
তাঁকে।
তিনি
ছিলেন
মুক্ত
বিহঙ্গ।
আবেগে,
পৌরুষে,
প্রাণের
বিভবে,
উদার
সতেজ
কণ্ঠের
বলশালিতায়
ছিলেন
উচ্ছল
দ্যুতিময়।
বাংলাদেশের
মানুষ
এবং
প্রকৃতির
সঙ্গে
জড়িয়ে
আছে
তার
কৈশোর
আর
যৌবনের
স্মৃতি।
তার
বহু
শ্রেষ্ঠ
কবিতার
জন্ম
এখানে।
এ
মাটির
সঙ্গে
সংযোগ
তার
নাড়ির।
তাকে
একটিবার
দেখার
জন্যে,
কবির
নিজের
গলায়
তার
কবিতা,
গান
শোনার
জন্যে
একদিন
বন্যার
স্রোতের
মতো
এখানকার
মানুষ
ভেঙে
পড়ত
তার
চারপাশে।
কবি কাজী
নজরুল
ইসলামের
ঢাকায়
আগমন
উপলক্ষে
১৯৭২
সালের
২৫
মে
তারিখের
দৈনিক
বাংলা
পত্রিকাটি
বঙ্গবন্ধুর
উক্তি
দিয়ে
সংবাদ
শিরোনাম
করেছিল।
উক্তিটি
ছিল
‘বাংলাদেশের
বিদগ্ধ
সমাজকে
কবির
সৃষ্টির
পূর্ণ
মূল্যায়নের
দায়িত্ব
নিতে
হবে।’
ঢাকায়
কবি
নজরুলের
আগমনের
দিনেই
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
তার
সহধর্মিণী
বেগম
ফজিলাতুন্নেছা
মুজিব
এবং
তদানীন্তন
তথ্যমন্ত্রী
মিজানুর
রহমান
চৌধুরীকে
নিয়ে
কবিকে
দেখতে
যান।
এ
সময়
কবির
পাশে
ছিলেন
তার
পূত্রবধূ।
বঙ্গবন্ধু
কবিকে
দেখতে
গেলে
সেখানে
এক
হূদয়স্পর্শী
দৃশ্যের
অবতারণা
হয়।
‘কবি
ও
বঙ্গবন্ধু:
এক
হূদয়স্পর্শী
দৃশ্য’
শীর্ষক
শিরোনামে
দৈনিক
বাংলা
পত্রিকা
মন্তব্য
করেছিল:
‘বঙ্গবন্ধু
গভীর
শ্রদ্ধাভরে
পুষ্পমাল্য
পরিয়ে
দিলেন
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামকে।
পরম
স্নেহে
বারবার
হাত
বুলিয়ে
দিতে
থাকলেন
কবির
মাথায়।
পিঠে।
সর্বাঙ্গে।
নির্বাক
কবি
অপলক
দৃষ্টি
মেলে
তাকিয়ে
রইলেন
বঙ্গবন্ধুর
দিকে।
হাত
বাড়িয়ে
বিড়
বিড়
করে
কী
যেন
বললেন
বঙ্গবন্ধুকে।
বাক্শক্তিহীন
সে
মুখের
ভাষা
বোঝা
গেল
না।
দুর্বোধ্য
সে
কটি
কথা।’
(দৈনিক বাংলা,
২৫
মে
১৯৭২)
কবি কাজী
নজরুল
ইসলামের
সঙ্গে
ঘনিষ্ঠতার
স্মৃতি
বঙ্গবন্ধুর
বহু
আগেই।
কবির
কণ্ঠে
গান
শুনেছিলেন
১৯৪১
সালের
দিকে
ফরিদপুর
ছাত্রলীগের
জেলা
কনফারেন্সে।
অসমাপ্ত
আত্মজীবনীতে
বঙ্গবন্ধু
লিখছেন,
‘ফরিদপুর
ছাত্রলীগের
জেলা
কনফারেন্স,
শিক্ষাবিদদের
আমন্ত্রণ
জানানো
হয়েছে।
তাঁরা
হলেন
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলাম,
হুমায়ুন
কবির,
ইব্রাহিম
খাঁ
সাহেব।
সে
সভা
আমাদের
করতে
দিল
না,
১৪৪
ধারা
জারি
করল।
কনফারেন্স
করলাম
হুমায়ুন
কবির
সাহেবের
বাড়িতে।
কাজী
নজরুল
ইসলাম
সাহেব
গান
শোনালেন’
(অসমাপ্ত আত্মজীবনী)।
বঙ্গবন্ধু কবি
নজরুল
ইসলামকে
ঢাকায়
এনেই
ক্ষান্ত
ছিলেন
না।
কবির
সুযোগ-সুবিধার
বিষয়টিও
চিন্তাভাবনার
ভেতর
রেখেছিলেন।
কবিকে
ঢাকায়
ধানমন্ডিতে
রাখার
ব্যবস্থা
এবং
আর্থিক
বরাদ্দের
বিষয়েও
বিবেচনাও
করেন।
বাংলাদেশ
কবিকে
মাসে
১
হাজার
টাকা
ভাতা
দেবে
শিরোনামে
দৈনিক
বাংলা
লিখেছিল:
‘গতকাল
বুধবার
(মে ১৯৭২)
বাংলাদেশ
সরকার
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামকে
মাসে
১
হাজার
টাকা
ভাতা
মঞ্জুর
করেছেন।
এখন
থেকে
তা
কার্যকরী
হবে।
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
গতকাল
বিকালে
কবি
নজরুলকে
তার
ধানমন্ডি
বাসভবনে
দেখে
আসার
পর
এই
সরকারি
সিদ্ধান্তের
কথা
ঘোষণা
করেন’
(দৈনিক বাংলা,
২৫
মে
১৯৭২)।
কবি কাজী
নজরুল
ইসলাম
সম্পর্কে
বঙ্গবন্ধু
অতি
উচ্চ
ধারণা
পোষণ
করতেন।
ঢাকায়
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
জন্মবার্ষিকী
উপলক্ষে
দেয়া
এক
বাণীতে
বঙ্গবন্ধু
বলেন,
‘কবি
নজরুল
বাংলার
বিদ্রোহী
আত্মা
ও
বাঙালির
স্বাধীন
ঐতিহাসিক
সত্তার
রূপকার।’
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
জন্মজয়ন্তীতে
বঙ্গবন্ধু
শুভেচ্ছা
জানাতে
গিয়ে
বিশ্বকবি
রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের
কবিতার
সেই
চিরচেনা
উপমা
‘আয়
চলে
আয়
রে
ধূমকেতু,
আঁধারে
বাঁধ
অগ্নি
সেতু,
দুর্দিনের
এই
দুর্গ
শিরে
উড়িয়ে
দে
তোর
বিজয়
কেতন!’
ব্যবহার
করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু
আরো
বলেছিলেন,
‘সাহিত্যে
সম্মানের
সুউচ্চ
শিখরে
নজরুলকে
পথ
করে
উঠতে
হয়নি,
পথ
তাকে
হাত
ধরে
ঊর্ধ্বে
তুলেছে।
মহা
অভ্যাগতের
মতো
তাঁর
আগমন
নন্দিত
হয়েছে।
সে
এসেছে
ঝড়ের
মাতম
তুলে,
বিজয়ীর
বেশে।’
কবি কাজী
নজরুল
ইসলামের
মূল্যায়ন
না
হওয়ায়
প্রায়
প্রতিটি
বাঙালির
মতো
বঙ্গবন্ধুরও
আক্ষেপ
ছিল।
নজরুলজয়ন্তীতে
দেয়া
বঙ্গবন্ধুর
বাণীতে
তার
সুস্পষ্ট
প্রমাণ
পাওয়া
যায়।
প্রকৃতপক্ষে
বঙ্গবন্ধু
ছিলেন
একজন
সাহিত্যপ্রেমিক।
কারাগারে
তার
প্রিয়
সঙ্গী
ছিল
বই।
তার
বক্তৃতা-বিবৃতিতে
উপমা
হিসেবে
ব্যবহার
করতেন
কবিগুরু
রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর
কিংবা
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
কবিতার
বিভিন্ন
চরণ।
বঙ্গবন্ধু
তার
প্রথম
মন্ত্রিসভার
বৈঠকেই
কবিগুরু
রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুরের
‘আমার
সোনার
বাংলা’
কবিতাটিকে
যেমন
জাতীয়
সংগীতে
রূপ
দিলেন,
ঠিক
তেমনি
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
‘চল
চল
চল’
কবিতাটিকেও
রণসংগীতের
মর্যাদা
দেন।
বিদ্রোহী কবি
কাজী
নজরুল
ইসলামের
নাতনি
খিলখিল
কাজী
বঙ্গবন্ধু
ও
কবি
নজরুল
ইসলামের
তুলনা
করতে
গিয়ে
একজনকে
বলেছেন
মহাকবি
এবং
অন্যজনকে
মহানেতা।
খিলখিল
কাজীর
ভাষায়,
‘এই
মহাকবি
ও
মহানেতা
দেশের
জন্য,
দেশের
মানুষের
কল্যাণে
ছিলেন
নিবেদিতপ্রাণ।
বিদ্রোহী
কবি
কাজী
নজরুল
এবং
জাতির
পিতা
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমান
এক
এবং
স্বতন্ত্র
ও
এককভাবে
বাঙালির
প্রাণে
আজীবন
স্পন্দিত
হতে
থাকবেন,
যার
ক্ষয়
নেই।’
ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম: অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক উপ-উপাচার্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়