ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর এগুলো সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ওয়াটার ইউকের হিসাব অনুযায়ী, একটি বৃহৎ ডেটা সেন্টার দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ গ্যালন পানি শুষতে পারে, যা প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের সমান। ভবিষ্যতে তাপদাহ দেখা দিলে সুপেয় পানির অধিকার রক্ষা কঠিন হবে।
স্থানীয় আশপাশের তাপমাত্রা ও পরিবেশেও পরিবর্তন আসছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নির্দেশ করে ডেটা সেন্টারগুলোর উত্তাপ নির্গমনের ফলে আশপাশের এলাকায় ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব তৈরি হয়। এটি স্থানীয় গড় তাপমাত্রা ২-৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়াতে পারে। সম্পদের বণ্টনে তৈরি হওয়া বৈষম্য আরো উদ্বেগের। যুক্তরাজ্য সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা তিন গুণ করার পরিকল্পনা করায় জমি ও বিদ্যুৎ শক্তির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের সামনে প্রশ্ন এখন একটিই। সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্ভার? প্রযুক্তির এ অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে উঠতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে সুবিশাল ‘হাইপারস্কেল’ ডেটা সেন্টারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে। অবিশ্বাস্য গতির প্রযুক্তিগত বিপ্লব বাস্তব জগতের প্রাকৃতিক সম্পদকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
[দ্য গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপিত]
জন হ্যারিস: গার্ডিয়ানের কলামিস্ট