[পূর্ব প্রকাশের পর]
গণিত ভাবনা ১৭: এ তীর্থে আসবে যদি ধীরে অতি পা ফেলো সুন্দরী
গণিত ভাবনা শিরোনামে যে লেখাগুলো লিখছি, তা অনেকে মনোযোগের সঙ্গে পড়ছেন বা লক্ষ করছেন। তারা এটাও নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন যে বাংলা কবিতা, গান, শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে গণিতের বিভিন্ন ধারণার সংযোগ নির্মাণ করার চেষ্টা করেছে লেখাগুলো। লেখাগুলো যেমন গণিত নিয়ে, তেমনি আমার দিক থেকে বাংলা কবিতা, গান, সাহিত্যকে নিয়ে একটা আলোচনারও চেষ্টা। কবিতা, গানের সঙ্গে গণিতকে মিলিয়ে হয়তো আগে বাংলায় কখনো লেখা হয়েছে। তবে তা আমার চোখে পড়েনি। এ রকম একটা লেখার চিন্তা আমার মাথায় প্রথম কীভাবে এল, তা বলার চেষ্টা করব এ পর্বে।
ইংরেজিতে কবিতা ও গণিতের সম্পর্ক নিয়ে বেশকিছু লেখা আছে, যদিও ঠিক যাকে বলে সাহিত্য আলোচনা তা বেশি ঘটেনি। তবুও এর কিছুটা প্রভাব আছে এ লেখাগুলো নির্মাণে। কিন্তু লেখাগুলো নিয়ে আমার প্রথম চিন্তার শুরু গত জুনে জার্মানির গোয়েটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা থেকে। একটা গবেষণা বৃত্তি পাওয়ার সুবাদে সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়। সে সময়ে আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল আল মাহমুদের সোনালী কাবিনের ‘এ তীর্থে আসবে যদি ধীরে অতি পা ফেলো সুন্দরী’ পঙিক্তটার কথা। সোনালী কাবিনের ওই অংশটা পাঠকের জন্য নিচে দেয়া হলো:
এ তীর্থে আসবে যদি ধীরে অতি পা ফেলো সুন্দরী,
মুকুন্দরামের রক্ত মিশে আছে এ-মাটির গায়,
ছিন্ন তালপত্র ধরে এসো সেই গ্রন্থ পাঠ করি
কত অশ্রু লেগে আছে এই জীর্ণ তালের পাতায় ।
সোনালী কাবিনের কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু মোটামুটি এ রকম। কবি তার প্রেয়সীকে বারবার প্রেমের আহ্বান জানাচ্ছেন। তার আহ্বানের প্রেক্ষাপটে আছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। কবি বারবার বাংলার সঙ্গে নিজেকে একাকার করে ভাবছেন। যেমন উপরের পঙিক্তগুলোয়। তীর্থ বলতে যেমন বোঝাচ্ছেন বাংলাকে, তেমনি বোঝাচ্ছেন কবির হূদয় ও বাসরকেও। কবি বলছেন বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতির সঙ্গে একাকার এই তীর্থ আসতে হবে অতি সতর্কতার সঙ্গে। এখানে গরিমার কোনো সুযোগ নেই।
গোয়েটিংগেন ইউনিভার্সিটি তেমনি গণিতের এক মহাতীর্থ। গণিতের জগতে গোয়েটিংগেন এমন ঐতিহ্য নির্মাণ করে গেছে, যার তুলনা মানবেতিহাসে বিরল। গণিতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন এমন অনেকেই গোয়েটিংগেনে পড়াশোনা ও শিক্ষকতা করেছেন। এদের মধ্যে আছেন গণিতের রাজপুত্র হিসেবে বিখ্যাত কার্ল ফ্রি?